Fantastic Beast: A Whole New World!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আচ্ছা, কখনো কী চিন্তা করেছেন, একেক দেশের পণ্য একেক রকম কেন? কেনো আলদা দেশের টেকনোলজি আলাদা? আমেরিকা যে টেকনোলজি ব্যবহার করে তাদের মহাকাশযানে, রাশিয়া করে নিজেদের টা। আবার জাপানের গাড়ি আর ইউরোপের গাড়ির মাঝে এতো তফাৎ কেনো? কারণ সবসময়ই বড় দেশগুলো প্রতিযোগিতায় আছে, অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্যে। আর আলাদা সভ্যতার আলাদা চিহ্ন তো থাকেই। বাংলাদেশের রিকশা আপনি আমেরিকায় পাবেন না। আবার ইউরোপের স্ট্যান্ডার্ডের বিল্ডিং স্ট্র্যাকচার না আমেরিকায়।

 

ভাবছেন, জাদুমন্ত্রের হ্যারি পটার ইউনিভার্সের সিনেমার রিভিউতে এসে এই টেকনোলজি নিয়ে বকবক করছি কেন? আচ্ছা, হ্যারি পটার বইয়ে আমরা কী দেখেছি? ইংল্যান্ডের যাদুকর সমাজ। সাথে একবার বুলগেরিয়ান আর ফ্রেঞ্চ। মাঝে মাঝে কথায় উঠে এসেছে মিশরের কথা। কিন্তু সবখানে যে এই যাদুসমাজ সমানভাবে ছড়িয়ে আছে, মাগলস বা না-যাদুকর সমাজের মতোই পুরো বিশ্বের চোখের আড়ালে প্রতিটা দেশে যে যাদুকর সমাজ আছে, সেটা কিন্তু হ্যারি পটারের সাতটা বইয়ে সরাসরি কখনোই বলা হয় না।

 

‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট’-এ আমরা এই দুনিয়াটাই দেখতে পাই। জেকে রোলিং এর মোহনীয় জাদু দুনিয়ার শুধুমাত্র একটা জায়গায় আমরা আটকা ছিলাম। কিন্তু এবার একদমই এক নতুন দুনিয়া, নতুন এক যাদুকরী দুনিয়া চোখের সামনে উঠে এলো। আনলেন সেই জেকে রোলিং-ই আর সেই ডেভিড ইয়েটস-ই।

 

হ্যারি পটারের কাহিনীর প্রায় সত্তর বছর পূর্বে। এক ভয়াবহ কালো যাদুকর এর অরাজকতায় বিশ্বব্যাপী যাদুসমাজ সঙ্কিত মাগলস বা না-যাদুকর দের কাছে নিজেদের প্রকাশ পাওয়া আর তাদের সাথে যুদ্ধ বেঁধে যাবার ভয়ে। এমনই সময় ইংল্যান্ড থেকে মিনিস্ট্রি অব ম্যাজিকের এক কর্মকর্তা নিউট স্ক্যাম্যান্ডার তার এক অদ্ভুত বাক্স নিয়ে নিয়ে পা রাখে নিউ ইয়র্কে। এসেই চোখে পড়ে এক মাগলের আর ধরা পরে আমেরিকার ম্যাজিক মিনিস্টি MACUSA এর এক এক্স-অরোর টিনা গোল্ডস্টেইনের হাতে। কিন্তু তার বাক্সের চেয়েও ভয়াবহ এক বিপদ অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। নিজেকে বাঁচিয়ে নিউট স্ক্যামান্ডার মাগলদের আর একই সাথে নিজেদের রক্ষা করতে বেড়িয়ে পরে।

 

প্রথমে বলসিলাম, ‘যথা দেশে যদাচার’। একেক দেশের একেক টেকনোলজি, একেক নিয়ম। এমনই ভাবে দেখা যায় প্রথম থেকেই আমাদের পরিচিত ইংল্যান্ডের যাদুসমাজের মতো হলেও অনেকাংশেই আলাদা আমেরিকান যাদুসমাজ। তাদের যাদুর ব্যবহার আলাদা, তাদের বসবাসের ব্যবস্থা আলাদা, তাদের আইন আলাদা, আলাদা তাদের কথাবার্তাও। এখানে আমেরিকান রা মাগলস বলে না, তারা বলে ‘নো-ম্যাজ’। আমেরিকান প্রেডিডেন্সিয়াল সিস্টেমের মতোই আমেরিকান ম্যাজিক মিনিস্ট্রির প্রধান একজন প্রেসিডেন্ট।

 

সাধারণ ব্রিটিশ-আমেরিকান তুলনার মতোই এখানেই একটা তুলনা চোখে পড়ে খুব স্বাভবিকভাবেই। এই ব্যাপারটাই সবার প্রথমে এই সিনেমাতে ভালো লাগে, যে হ্যারি পটারের সাত বছরের দুনিয়ার বাইরে এক বিরাট দুনিয়া আছে, সেটাই বেশ ভালো করে সবার সামনে দেখানোর চেষ্টা করা এই সিনেমাতে। আমেরিকা ছাড়াও অনেকগুলো দেশের যাদুসমাজকে একবারে রিপ্রেজেন্ট করে দেয়া হয় একটা দৃশ্যে। সামনের মুভিগুলোতে সম্ভবত অন্যান্য দেশের যাদুসমাজ দেখানো হবে।

 

নিউট স্ক্যামান্ডার কে হ্যারি পটার এর সাতটা বই বা আটটা সিনেমা, কোনোখানেই সরাসরি দেখা যায় না। হ্যারির একটা টেক্সটবুক ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট অ্যান্ড হয়্যার টু ফাইন্ড দেম’ বই এর লেখক আর বিখ্যাত যাদুকর হিসেবে অবশ্য বেশ অনেকবার নাম উঠে আসে তার বইয়ে। এই বইটিই জেকে রোলিং একদম হ্যারি পটার ইউনিভার্সের টেক্সট বইয়ের আদলে প্রকাশ করেন ২০০১ সালে। এই সিনেমা সেই বইয়ের নামানুসারেই শুধু, কারণ বইটি ছিল হ্যারির টেক্সট বইয়ের আদলে। হ্যারি, রন আর হারমিওনির হ্যান্ডনোটও ছিল সেই বইয়ে।

 

maxresdefault

নিউট স্ক্যামান্ডার হিসেবে এডি রেডমাইনি যে দারুণ কাস্টিং, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দারুণ প্রতিভাবান এই অভিনেতা খামখেয়ালি, অন্তর্মূখী স্বভাবের এক যাদুকর হিসেবে নিজের মতোই দারুণ অভিনয় করেছেন। হিউমারের সাথে তার ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট’-দের প্রতি মমতা আর তার ব্রিফকেস কেড়ে নেবার সময়ে ‘Do not hurt them!’ বলে চিৎকার করার দৃশ্যে আসলেই সেইরকম ধরণের অনুভূতীই হচ্ছিল।

 

আমেরিকান ম্যাজিক মিনিস্ট্রি এর এক্স-অরোর (গোয়েন্দা) টিনা গোল্ডস্টেইন হিসেবে ছিলেন ক্যাথেরিন ওয়াটারসন। পুরো মুভিতে একমাত্র এনাকেই খুব একটা ভালো লাগে নি। কিন্তু তার বোন কুইনির চরিত্রে অ্যালিসন সিউডল এর অভিনয় ভালো লেগেছে। আমেরিকান নো-ম্যাজ জেকব কোলেস্কি হিসেবে ড্যান ফ্যাগলার ছিলেন হিউমেরাস এবং প্রাণবন্ত। এনাকে প্রথমে না বোঝা গেল পরে মূল চরিত্র হিসেবে দারুণভাবে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

fantastic-beasts-witches

 

FANTASTIC BEASTS AND WHERE TO FIND THEM

 

এজরা মিলার ছিলেন এক নো-ম্যাজ অনাথের চরিত্রে। খুবই কম সংলাপে কী যে স্ট্রং অ্যাক্টিং ছিল, বলার বাহিরে। তার সাথে কলিন ফ্যারেলও খুবই ভয়াবহ অভিনয় করেছেন। অত্যন্ত মাত্রায় চালাক আর প্রচন্ড স্ট্রং এক আমেরিকান মিনিস্ট্রির যাদুকর হিসেবে তার অভিনয় দারুণ ছিল। অল্প সময়ে ছিলেন জন ভয়েট, সামান্থা মর্টন। রন পেরেলম্যানের গবলিন চেহারা দেখে দারুণ মজা পেয়েছি।

 

কোথাও আলবাস ডাম্বলডোরকে দেখা না গেলেও, তাকে যে সামনের মুভিগুলোতে দেখা যাবে, সেটা বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে না দেখা গেলও দেখা গেছে তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং শত্রু বনে যাওয়া গ্রিন্ডেলওয়াল্ডকে। যে গ্রিন্ডেনওয়াল্ডকে হ্যারি পটারের সপ্তম বইতে বলা হয় ভোল্ডেমর্টের চেয়েও ভয়াবহ যাদুকর হিসেবে। এবং সত্যিই খুবই কম সময়ে সাধারণ লুকেও তাকে যেভাবে দেখানো হলো, তার কাছে ভোল্ডেমর্টকে আসলেই শিশু মনে হয়েছে। এর কথাই প্রথমে বলেছিলাম, যে কালোযাদুকরের কারণে সকল যাদু সমাজ টতস্থ। এনার ব্যাপারে জানতে পারবেন সিনেমাতেই, আমি আর কিছু বলবো না।

 

‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট’-দের নিয়েই তো বলা হলো না! হ্যারি পটারের বইতে অল্প কিছু যাদুকরী প্রাণী দেখানো হয়, মুভিতে আরো কম। এখানে অনেকগুলো দারুণ প্রানী দেখানো হয়েছে। অনেক ক্রিটিক সমালোচনা করেছেন, আসলেই এই প্রাণীগুলো ফ্যান্টাসিক কিনা, এই নিয়ে। কিন্তু এগুলো তো যাদুকরী, তাই অবশ্যই তারা ফ্যান্টাস্টিক। আর যাদুকরী প্রানীদের সম্বন্ধে আসলে যাদুকরেরাও তেমন কিছু জানে না, তাদের জানানোর জন্যেই নিউট স্ক্যামান্ডার গবেষণা করছেন, এমনটাই দেখানো হয় এখানে।

 

NE60rI1lFOfA99_2_b

 

গল্পের মাঝে অনেক হিউমারের মাঝেও ছিল দুর্দান্ত ডার্ক টোন। ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট এর নামের আড়ালে যে বেশ বড় কিছু আসছে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ইয়ং-অ্যাডাল্ট ফিকশন নাই আর। খুবই ডার্ক এলিমেন্ট আনা হচ্ছে গল্পে। এর পাশাপাশি ছিল অনেক ইমোশনাল কয়েকটি দৃশ্য। নিউট স্ক্যামান্ডার এর যে বেশ বড় একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, সেটার খুব ভালো টিজ করা হয়েছে। লেস্ট্র্যাঞ্জ ফ্যামিলিকেও তুলে আনা হয়েছে হালকাভাবে।

 

সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইন বরাবরের মতোই সুন্দর। সেই মনমাতানো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে ছিল অসাধারণ ভিজ্যুয়াল এফেক্টের কাজ। অস্কারে সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন আর সেরা কস্টিউম ডিজাইন এর নমিনেশন পেলেও ভিজ্যুয়াল এফেক্টে কেনো নমিনেশন পেলো না, বোঝা গেল না। ও হ্যাঁ, মাগলদের কাছে যাদুকরদের হাস্যকর আলখেল্লা বলে পরিচিত সেই জামা দেখা গেলও আবারো। ১৯২৬ সালের হিসেবে সাধারণ মানুষ আর যাদুকর; উভয়েরই কস্টিউম ডিজাইন ছিল দারুণ।

 

হ্যারি পটার এর সিনেমা নিয়ে সবার অভিযোগ, কোনো সিনেমাই বই এর সম্পূর্ণটা ব্যবহার করতে পারেনি। অনেক বই লাভারও তাই মেনে নিতে পারে না মুভিগুলোকে। তবে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট’ সকলেরই ভালো লাগবে আশা করি। কারণ প্রথমত অরিজিনাল গল্প। আর তারপরে, এক নতুন কালো অধ্যায় যে আসছে সামনে, সেটা অসাধারণ হবে, সেটা বোঝা যাচ্ছে।

 

Fantastic Beasts and Where to Find Them
Year: 2016

 

IMDb Rating: 7.6/10
My Rating: 8/10
Rotten Tomatoes: 73% Fresh

 

Directed by: David Yates
Written by: J. K. Rowling
Cast: Eddie Redmayne, Katherine Waterston, Dan Fogler, Alison Sudol, Ezra Miller, Colin Farrell, Samantha Morton, Jon Voight, Ron Perlman

Genre: Fantasy, Adventure

 

Accolades:
1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Production Design (Stuart Craig & Anna Pinnock), Costume Design (Colleen Atwood)
2. 70th BAFTA Awards (Pending): Nomination for Outstanding British Film , Best Costume Design, Production Design, Special Visual Effects, Sound

Error:

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আসছে সোনালী, লিখছে INSTANT,
    শব্দবুলির ভাণ্ডারে স্বাগত VISITANT… 🙂

    Like, Share, Spread SHABDOBULI: https://www.facebook.com/shabdobuli/

    শব্দবুলির ভাণ্ডার, কথা হোক স্পষ্ট এবার।।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন