Toni Erdmann: বাবা-মেয়ের অম্ল-মধুর সম্পর্ক (Oscar Nominated Foreign Film)

দরজায় পোস্টম্যান দাঁড়ানো। বের হয়ে এলো বয়স্ক এক লোক। বলল তার ভাই টনি এর্ডমান নাকি অর্ডার করেছে। ভাইকে ডাকলো সে ভিতরে গিয়ে। ভাই বেড়িয়ে এতেই আপনার একটু খটকা লাগবে, ‘এই লোকের নামে মুভির নাম?’ আরেকটা খটকা লাগবে পরিচিত চেহারা দেখে। কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পাবেন, টনি এর্ডমান আর তাই ভাই একই ব্যাক্তি। নকল দাঁত আর সানগ্লাস লাগিয়ে অদ্ভুতভাবে কথা বলে মানুষকে প্রাংক করা যার শখ।

 

অদ্ভুত একটা অনুভূতি নিয়ে শুরু হবে এই মুভি দেখা। একবার হতাশ, তারপর একটা অ্যাটেনশন, যে এই বুড়ো হিপ্পি আসলে  কী করতে চাইছে। আসলে এই হিপ্পি চাইছে তার মেয়ে ইনেসকে তার বোরিং লাইফ থেকে বের করে এনে জীবনের মজার দিকগুলো উপভোগ করাতে। মেয়ে পুরোপুরি বাবার উলটো। ক্যারিয়ার ডিপেন্ডেড লাইফ, আগ্রহহীন, ফরমাল।

 

MV5BYWIxYzlhMjEtOTZmMS00YTYzLTg4OTktYzUzZWM1ZmE4NzM1XkEyXkFqcGdeQXVyNDkzNTM2ODg@._V1_SX1777_CR0,0,1777,960_AL_

 

বাবা-মেয়ের অদ্ভূত সম্পর্ককে মজার ছলে তুলে ধরেছেন পরিচালক ম্যারেন অ্যাডে ‘Toni Erdmann’ মুভিতে তার লেখা গল্প থেকেই। বিউটি অ্যান্ড বিস্টের মতো কিন্তু এখানে শুধু বাবা-আর মেয়ে, এমন দেখতে গল্পের হিপ্পি বাবা তার মেয়েকে যেখানে শেখাতে চায়, এই জীবনে করার আরো বাকি আছে অনেক কিছু, সব অফিসের প্রেজেন্টেশন আর ক্যারিয়ার বাড়ালেই চলছে না।  একজন বয়স্ক পিয়ানো টিচার, যে কিনা টনি এর্ডমানের মেকাপে ‘লাইফ কোচ’ এর নাম নিয়ে আসলেই মেয়েকে লাইফের কোচিং করাতে চান, অথবা কোনো কোম্পানির কর্মকর্তা সেজে মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াতে চান কিংবা শুধু ঠাট্টা করার জন্যে বারে গিয়ে অন্য নারীদের দামী ওয়াইন প্রস্তাব করেন আর মেয়ের সাথে মজার চরম লেভেলে পৌঁছতে তার টনি এর্ডমান চরিত্রকে বাস্তবে আনতে আসল লিমুজিন গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে বেড়ান।

 

এই বাবা উইনফ্রেড কনরাডি এর চরিত্রে অভিনয় করেন অস্ট্রিয়ান অভিনেতা পিটার শিমোনিশেক আর মেয়ে ইনেস কনরাডি চরিত্রে সান্দা উলার।

 

বস্তুত, বাবা তার মেয়েকে শেখাতে চান না আসলে। শেখাতে চান আমাদের। বাবা উইনিফ্রেড তার টনি এর্ডমান নামক ফানি গাই হিসেবে মেয়েকে তার বোরিং লাইফ থেকে বের করে আনতে চান, তার শুন্য জীবনে একটু নতুন কিছু যোগ করতে চান। আর আস্তে আস্তে মেয়ের মাঝ থেকে বাবার মতো একজন ‘এর্ডমান’ বের হয়ে আসতে থাকে।

 

MV5BNDk2NjAzMDYtZjQ5Ni00NzJmLTk5NjAtNTliNzZiM2QyNzI1XkEyXkFqcGdeQXVyNDkzNTM2ODg@._V1_SX1777_CR0,0,1777,961_AL_

 

মূল চরিত্রে পিটার শিমোনিশেক এর অভিনয় ছিল তুখোড়। কমেডি বা শুনতে যতোটা ‘ফাদার-গার্ল: আ ফান জয়রাইড’ মনে হচ্ছে, জার্মান হিউমার ততোটা না হলেও, এনার অভিনয় এর হিউমার দেখে মজা পেইয়েছি বেশ। আর ইনেস কনরাডি চরিত্রে সান্দ্রা উলার এর অভিনয়ও দারুণ লেগেছে। বিশেষ করে তার নিজের গলায় শেষে এসে গাওয়া হুইটনি হিউস্টোনের ‘Greatest Love of All’ এর গানটা আর সেই দৃশ্যে তার অভিনয় ছিল চমৎকার।

 

MV5BYjc0MDAwMTUtNzM2Mi00MGIyLWE5M2ItYzMwZDliNDlmZTAxXkEyXkFqcGdeQXVyNDkzNTM2ODg@._V1_SX1777_CR0,0,1777,960_AL_

 

মুভিতে ছোটো ছোটো অনেক ক্ষেত্র আলাদা করে বলা যায়, যেগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপার তুলে এনেছে। যেমন, ভিজিটে আসা অন্য কোম্পানির কর্মকর্তার সামনে যেন নিজেদের সম্মান ক্ষুণ্ম না হয় সেজন্যে শ্রমিককে বরখাস্ত করে দেয়া, অফিস প্রেজেন্টেশন এর টিপটপ ফরম্যাটের জন্যে অতিরিক্ত প্রাক্টিস করা কিংবা উইকলি বোরিং ফ্রেন্ডলি হ্যাংআউট বড়ো হোটেলে। আসলে এগুলো আমাদেরও সাধারণ অনেককিছুর প্রতিফলন। সবই কেমন যেন মেকি মেকি। এরই মাঝ থেকেও যে আসল কিছু বের করে আনা যায়, সেটাই দেখানো হয়েছে।

 

মুভির দুইটি নেগেটভ দিকের একটা, মুভিটা অ’ফুলি লং। পৌনে তিন ঘন্টা অনেক বেশি লম্বা এই স্টোরির তুলনায়। দুই-সোয়া দুই ঘন্টাতেই শেষ করা যেত। আরেকটা হচ্ছে, অদরকারি কয়েকটা অবসেন্স সিনের প্রয়োজন ছিল না। তবে শেষের ন্যাকেড পার্টির ব্যাপারটা আসলে ফানি আর মেয়ের বাবার শিক্ষা নেবার পরিপূর্ণতার জন্যে ঠিক ছিল অবশ্য।

 

কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়া, শুধুমাত্র বাবা-মেয়ের একসাথে পারফর্ম একটা গানের এই মুভি কিছুটা বোরিং হতে পারে। কিন্তু আনওয়াচেবল নয়। হিউমার আর স্টোরি বিল্ডআপ বুঝতে পারলে ভালোই লাগবে সবার আশা করি।

 

Toni Erdmann
Year: 2016
Origin/Language: German-Austrian/German

Written & Directed by: Maren Ade
Cast: Peter Simonischek, Sandra Hüller

Genre: Comedy, Drama

IMDb Rating: 7.4/10
My Rating: 8/10
Metacritic: 94%
Box office: $8.3 million/$3.2 million

Rate: R

 

Accolades:

1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Foreign Language Film
2. 74th Golden Globes: Nominated for Best Foreign Language Film
3. 70th BAFTA Awards (Pending): Nomination for Best Film Not in the English Language
4. 29th European Film Awards: Won for Best Film, Director, Screenwriter, Actor and Actress

Error:

(Visited 332 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. খুব হাসির মুভি, সিনেমাহলে গিয়ে দেখেছি, হাসি আর অস্বাধারন কিছু ফিলসফি।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন