Manchester by the Sea: A Classic for the Future
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

একটি শহরের গল্প। সমুদ্রের পাশের যে ছোটো শহরে লুকিয়ে আছে অনেক হাসি, চাপা কান্না, বেদনা। একজন মানুষের ইতিহাস, তার পরিবার। এমনই এক শহর ‘ম্যানচেস্টার-বাই-দ্য-সি’ এর গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ‘Manchester by the Sea’।

 

এক অদ্ভুত চরিত্রের কেয়ারটেকার লি চ্যান্ডলার। যে তার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং এর সব কাজ করে দেয় নীরবে কিন্তু কখনো কারো সাথে সোসালাইজ করে না, কেউ কিছু বললে গায়েও তেমন নেয় না। পুষে থাকা ঝাঁজটা মেটায় বারে গিয়ে, বিয়ার খেয়ে মাতাল হয়ে। কখনো দেখেছেন কাউকে বিয়ার খেয়ে মাতাল হতে? লি চ্যান্ডলার বিয়ার খেয়েই মাতাল হয়ে পরে, তার নেশাও এটাই। হঠাৎ-ই ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বহুদিন বাদে অনেকদিনের জন্যে ফেরত যেতে হয় হোমটাউন ‘ম্যানচেস্টার-বাই-দ্য-সি’ তে। কিছুদিনের জন্যে দায়িত্ব নিতে হয় একসময়ের আদরের ভাতিজা প্যাট্রিককে, গুছিয়ে দিতে হয় তাকে এই পিতামাতাহীন দুনিয়ায়। আর হোমটাউনে ফিরে আস্তে আস্তে লি এর অদ্ভুত চরিত্রের কারণ বেরিয়ে আসতে থাকে।

 

আন্ডাররেটেড ক্লাসি অ্যাক্টরদের নামের তালিকা করলে সবার প্রথমেই হয়তোবা ছোটো অ্যাফ্লেক ক্যাসির নাম উঠে আসবে। কী অসাধারণ অভিনয় করল এই মুভিতে সে! ফ্ল্যাশব্যাকে হাসিখুশি এক লি চ্যান্ডলার আর ফ্ল্যাশব্যাকের এপাশে এক অনুভূতিহীন জ্যানিটরের মাঝে কোনোটাতেই তার অভিনয়ের কমতি ছিল না। ডায়লগ ডেলিভারি কিংবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, সোসালাইজ করতে না পেরে চুপচাপ থাকা, এরই মাঝে আবার চরিত্রটা থেকে হিউমার বের করে আনা; খুবই মাস্টারক্লাস অ্যাক্টিং ছিল তার। স্পেশালি এক ঘন্টা উনিশ মিনিটের পরের ষাট সেকেন্ডে তার এক্সপ্রেশন ছিল ভয়াবহ, কাহিনীর সাথে মিলিয়ে। এই মূহুর্তে দর্শকদের মাঝে কেমন অনুভূতী হবে জানি না, কিন্তু পুরোটা সময় লি চ্যান্ডলারের পার্স্পেক্টিভে মুভি দেখতে দেখতে এই মূহুর্তে আমারও কেমন জানি ধাক্কা লাগে তাকে দেখে। এর আগে ‘অ্যাসাসিনেশন অব জেসি জেমস বাই কাওয়ার্ড রবার্ট ফোর্ড’-এর জন্যে অস্কার নমিনেশন পাবার পর থেকেই ক্যাসি অ্যাফ্লেকের ক্লাসি অ্যাক্টিং নিয়ে বেশ হাইপ ওঠে, সে একটা অস্কার ডিজার্ভ করে এমন কথাও শোনা যায়। এই মুভির জন্যে আসলেই সে বছরের সেরা অভিনেতা আমার কাছে, অস্কার বাদ দিলাম। গোল্ডেন গ্লোবে ক্যাসি অ্যাফ্লেক সেরা অভিনেতার পুরষ্কার পেলেও, অস্কারে ‘ফেন্সেস’ এর জন্যে ডেনজেল ওয়াশিংটন যে দারুন ‘রাম্বল’ ক্রিয়েট করবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

MV5BNGZkZTZlYmMtNWU4OS00OWJkLWJjYjktZjcxZmFhNTY2M2M3XkEyXkFqcGdeQXVyMjc2NTc3NDA@._V1_SY1000_SX1500_AL_

 

 

দুর্দান্ত চিত্রনাট্য রচনা করেন পরিচালক কেনেথ লোনারগ্যান। এর আগে দুবার চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার নমিনেশন পাওয়া লোনারগ্যান এবার নমিনেশন পেয়েছেন সেরা চিত্রনাট্য সহ সেরা পরিচালক হিসেবেও। খুব অল্প মুভিতেও খুব দারুণ কাজ দেখানো
পরিচালকদের মাঝে অন্যতম তিনি। এর আগে ২০০০ সালের ‘ইউ ক্যান কাউন্ট অন মি’ চলচ্চিত্রের মতোই এবারও তিনি বরফে আচ্ছাদিত শহরের মাঝে এক পরিবারের গল্প তুলে ধরলেন। সংলাপ গুলো ছিল দারুণ স্মার্ট, শোনার সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কানে লাগে। ড্রামা কাহিনীতেও ছিল পর্যাপ্ত হিউমার, কমেডি, ছিলনা কোনো বোরিংনেস, বরঞ্চ ছিল সাদাকালো যুগের ক্লাসিক মুভির মতোন অনুভূতি। ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে গল্পের  ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে ঠান্ডা শহরের অনভূতিহীন লি চ্যান্ডলারের জীবনের আগের উষ্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন খুব ভালোভাবে। দুই প্রধান চরিত্রের মাঝেই এক পরিবার আর এক শহরের গল্প তুলে ধরেন তিনি।

 

দুই প্রধান চরিত্রের আরেকজন লি চ্যান্ডলারের ভাতিজা প্যাট্রিক চ্যান্ডলার। কমিক ক্যারেক্টার বলাও ঠিক হবে না, কিন্তু তার অনেক কাজকর্মও মুভির হিউমারগুলো তুলে এনেছে। তবে সবার উপর, এক ফাদারফিগার আর ছোটোবেলায় হারিয়ে ফেলা কাছের চাচাকে টিনএজ বয়সে এসে খুঁজে ফেরা এই চরিত্রে লুকাস হেজেস খুব ভালো অভিনয় করেছে। সময়ে অসময়ে চাচাকে ডিফেন্ড করা, সব হারিয়ে তাকে নিয়ে থাকা আর সাথে পরিবারের পুরোনো নৌকা, যে নৌকায় একসাথে চাচাকে নিয়ে ঘুরতে যেত, সেই নৌকার প্রতি এক পুরনো আবেগ; সব মিলিয়ে আমাদের মাঝেরই একই বয়সের এক ছেলের চরিত্র ছিল প্যাট্রিক চ্যান্ডলার।

 

MV5BMGMxMjNhOWItYzUwMi00YzI3LTg4MjItYjU3Y2Q4NGU0NTNiL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

 
অল্প সময়ে লি চ্যান্ডলারের এক্স-ওয়াইফ র‍্যান্ডি হিসেবে ছিলেন আমার দেখা অন্যতম ট্যালেন্টেড অভিনেত্রী মিশেল উইলিয়ামস। খুবই অল্প সময়ে থেকেও অস্কারে নমিনেশন? এমন প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আপনার জন্যে রয়েছে তার শেষ দুই মিনিটের পারফর্ম্যান্স। ই দৃশ্যে অবাক হয়ে তাকে দেখবো না ক্যাসিকে দেখবো, এই অবস্থায় ছিলাম। মুভির সবচেয়ে সেরা দৃশ্য ছিল র‍্যান্ডি আর লি চ্যান্ডলারের শেষের কথোপকথনের দৃশ্যটি।

 

ক্লাসিক স্টাইলের এই মুভিতে ছিল ক্লাসিক মুভিগুলোর মতো মনমাতানো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর অদ্ভুত সুন্দর অনেকগুলো গান। কাহিনীর সাথে পিছনে এই মিউজিকগুলো শুনে মনে হচ্ছিল যেন আমিই উপস্থিত আছি ঐ শহরের রাস্তায়, যেমনটা অনুভূত হয় অনেক ক্লাসিক মুভির সময়ে।

 

MV5BNjZhYjZkMzEtMjIxYi00N2I1LWFkMGUtZjlkOTMxZmY2NTQyL2ltYWdlXkEyXkFqcGdeQXVyMDc2NTEzMw@@._V1_SY1000_SX1500_AL_

 

 

বরফজমা শীতের শহরের অনুভুতিহীন এক মানুষের গল্প ‘Manchester by the Sea’।  ক্লাসিক স্টাইলের চলচ্চিত্র হয়তোবা ভবিষ্যতের মানুষেরা দেখছে ক্লাসিক ট্যাগ দিয়ে!

 

 

Manchester by the Sea
Year: 2016

Written & Directed by: Kenneth Lonergan
Cast: Casey Affleck, Michelle Williams, Kyle Chandler, Gretchen Mol, Lucas Hedges

Genre: Drama, Comedy

 

 

IMDb Rating: 8.3/10
My Rating: 10/10
Rotten Tomaotes: 96%
Box office     $42.6 million/$8.5 million

 

 

Accolades:

1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Picture, Director, Actor (Affleck), Supporting Actor (Hedges), Supporting Actress (Williams), Original Screenplay

2. 74th Golden Globes: Won for  Best Actor (Motion Picture – Drama)
Nominated for Best Picture, Director, Supporting Actress (for Williams), Screenplay

3. 70th BAFTA Awards (Pending): Nomination for Best Film, Direction, Actor in a Leading Role, Actress in a Supporting Role, Original Screenplay

Manchester by the Sea (2016)
Manchester by the Sea poster Rating: 8.4/10 (21,582 votes)
Director: Kenneth Lonergan
Writer: Kenneth Lonergan
Stars: Casey Affleck, Ben O'Brien, Kyle Chandler, Richard Donelly
Runtime: 137 min
Rated: R
Genre: Drama
Released: 16 Dec 2016
Plot: An uncle is asked to take care of his teenage nephew after the boy's father dies.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন