Arrival: সূচনার শুরুতে (With Explanation)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ফ্রেঞ্চ ডিরেক্টর জর্জ মেলিস ১৯০২ সালে তৈরি করেন ইতিহাসের প্রথম সাই-ফাই চলচ্চিত্র “লা ভয়্যাজ ডান লা ল্যুন”, যা ছিল প্রখ্যাত সাই-ফাই ঔপন্যাসিক জুল ভার্নের দুইটি বইয়ের অবলম্বনে তৈরি। সেই চলচ্চিত্র থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য সাই-ফাই চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। “লা ভয়েজ ডান লা ল্যুন”-এর অ্যালিয়েন বা এক্সট্রাটেরিস্টিইয়াল লিভিংস দের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য অ্যালিয়েন বেজড মুভি, রচিত হয়েছে বই। অথবা তৈরি হয়েছে স্পেস ভয়্যাজের অসংখ্য মুভি।

 

স্পেস ভয়্যাজ আর অ্যালিয়েন নির্ভর করা মুভি বলতে প্রথমেই মাথায় আসে স্পিলবার্গের ‘E.T.’, রিডলি স্কটের ‘Alien’, স্ট্যানলি কুব্রিকের ‘2001: A Space Odyssey’, রবার্ট জেমেকিসের ‘Contact’ আর অবশ্যই জর্জ লুকাসের ‘Star Wars’ সাগা। এখন যতোই স্পেস সাইফাই মুভি তৈরি হোক না কেন, এই বিখ্যাত মুভিগুলো থেকে কিছু না কিছু অনুপ্রেরণা থাকেই সেগুলোতে।

 

২০১৬ সালে অন্য বছরের তুলনায় সাই-ফাই ফিল্ম এসেছে কম। তাদের মাঝে আবার খুব বেশি ভালোও হয়েছে আরো কম। কানাডিয়ান পরিচালক ডেনিস ভিলন্যুয়েভের পরিচালনায় এ বছরের অন্যতম আলোচিত মুভি ছিল ‘Arrival’। শুধুমাত্র সাই-ফাই এর ট্যাগ মুছে বছরের অন্যতম সেরা একটা মুভির ট্যাগ কেড়ে নিয়েছে এই মুভি বছরের শেষের দিকে এসে।

 

একজন সন্তানহারা মার স্মৃতিতে বারবার ফিরে আসে তার মেয়ের জীবনের ছবিগুলো। খ্যাতনামা ভাষাবিদ সেই মা ড. লুইস ব্যাংকস এর কাছে হঠাতই আমন্ত্রণ আসে, পৃথিবীতে আসা অ্যালিয়েনদের মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করতে তাদের ভাষা বুঝতে ও তৈরিতে সাহায্য করার। কিন্তু এই অ্যালিয়েনদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে গিয়ে বারবার তার মেয়ের কথা মনে আসছে, যেন এই অ্যালিয়েনদের ঘটনার সাথে তার মেয়ের কোনো যোগসূত্র আছে।

 

ড. লুইস ব্যাংকসের চরিত্রে অভিনয় করেন অ্যামি অ্যাডামস। তার চেয়ে ভালো আর কেউ হয়তোবা এই চরিত্রে করতে পারতো না। তার মা হিসেবে সামান্য অংশগুলোতেও তার মমতাময়ী মা হিসেবে অভিনয় বেশ নজড় কাড়ে, তার পুরো মুভির অন্য অংশ থেকেও। তার চরিত্রের মাঝে সহজেই ২০১৩ সালের ‘গ্রাভিটি’ মুভির সান্দ্রা বুলোকের চরিত্র বা ২০১৫ এর ‘দ্য মার্শান’ এর ম্যাট ড্যামনের চরিত্রের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া খুব অসম্ভব না। যদিও ঐ দুইটি চরিত্রের মতো এই মুভিতে অ্যামিকে স্পেসে যেতে হয় নি, কিন্তু অ্যালিয়েন মাদারশিপে তার কাজ, বা তার কাজের প্রতি তার আলাদা আসক্তির সাথে স্পেস বেজড সাই-ফাই হওয়ায় কিছুটা মিল মনে হয়।

 

 

 

পুরো মুভির প্রাণ অ্যামি অ্যাডামস, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গোল্ডেন গ্লোব, বাফটায় সেরা অভিনেত্রির নমিনেশন পেলেও, পাননি অস্কারে। মুভিটি দেখার আগ পর্যন্ত এই ব্যাপারে মনে একটা খচখচানি থাকলেও, এখন সেটা দূর হয়েছে। কারণ, মুভিটির প্রায় পুরোটাই অ্যামি টানলেও, বা অ্যামি তার পুরোটা দিলেও, মুভিটি ছিল স্টোরি বেজড। যেখানে প্রধান এবং মূল চরিত্র ড. লুইস ব্যাংকস হলেও, অ্যামির এই পার্ফর্ম্যান্স এই মুভির ক্ষেত্রে অ্যাওয়ার্ড উইনিং না।

 

চাইনিজ আমেরিকান সাই-ফাই লেখক টেড চিয়াং এর ছোটোগল্প ‘Story of Your Life’ নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত কাজে চিন্তা চলছিল। ভিলন্যুয়েভ এর ‘Prisoners’ মুভির জন্যে প্রোডাকশন পিছিয়ে গেলেও, তার হাতেই আসে এই মুভি পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। তার সিগন্যাচার স্টাইল গুলোর পরেও, মুভিতে তার অনুপ্রেরণা গুলো ভালোই চোখে পড়ে। ‘Interstellar’, ‘Contact’, ‘2001: A Space Odyssey’ থেকে বেশ অনেক অনুপ্রেরণা তিনি নিয়েছেন। অ্যালিয়েনরা পৃথিবীতে আসলেও, স্পেস এর অনুভূতী দিতে অ্যান্টি-গ্রাভিটি, ডাইমেনশন চেঞ্জ এর মতো ব্যাপার-স্যাপার অ্যালিয়েন ভেসেল বা মাদারশিপের মাঝে রেখেছেন তিনি।

 

মুভিটি দেখার সময় মনে হতে পারে, ভালো সাইফাই, তাই বলে অস্কারে সেরা মুভির নমিনেশন ডিজার্ভ করে কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর একসময় নিজেই পাবেন। যতোটা সহ টিপিক্যাল সাইফাই মুভি বা ‘The Day the Earth Stood Still’ এর মিল খুঁজে পান না কেনো, অনেক দিক থেকেই এই মুভি বেস্ট পিকচার নমিনেশন ডিজার্ভ করে। তাছাড়া কাহিনীটা যতোটা সহজ মনে হচ্ছে, তা না। দেখার সময় সামনে আগালেই আরো বেশ অনেক ধরণের সাইফাই ফিল্মের কথা মনে আসবেই।

 

অ্যামি অ্যাডামসের সাথে ছিলেন জেরেমি রেনার আর ফরেস্ট হুইটেকার। অ্যামি অ্যাডামস এর ছায়ায় জেরেমি রেনারকে তার মতো করে না পেলেও, ফরেস্ট হুইটেকার ছিলেন তার মতোই প্রাণবন্ত আর একজন চিন্তাশীল আর্মি অফিসার হিসাবে পার্ফেক্ট কাস্ট।

 

 

ভিজ্যুয়াল এফেক্ট অস্কারে রিকগনেশন না পেলেও, প্রোডাকশন  ডিজাইন ঠিকই পেয়েছে নমিনেশন। স্পেসশিপের ভিতরের সেট ডিজাইন আসলেই অনবদ্য ছিল। অ্যালিয়েনদের সাথে কথোপোকথনের সময়ে, দুই লাইফ ফর্মের মাঝে স্বচ্ছ দেয়ালে ছবি আঁকা আর তার পিছনে হিউম্যানদের দাঁড়ানোর স্থানে কালো অন্ধকার স্থান যেন এক মুভি থিয়েটারকে মনে করিয়ে দেয়। যেখানে আমরা দর্শকরা যেমন কানেক্টেড হই মুভির সাথে, অভিনেতাদের সাথে; মুভিতেও যেন ঠিক একই ভাবে, কিন্তু দুই পক্ষই কানেক্টেড হচ্ছে একে অপরের সাথে।

 

 

 

মুভির সিনেমটোগ্রাফিও ছিল দুর্দান্ত। সাইফাই ফিল্মের ক্যামেরার কাজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঘটনাটা দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে। শুধুমাত্র স্পেসশিপের ভিতরটা দেখানো বাদেও, সবখানেই প্রেজেন্টশন ছিল দর্শকদের কাছে পুরোটা তুলে ধরার জন্যে।

 

মুভির ফিনিশিং নিয়ে সামান্য হতাশ। সেটা কাহিনীর জন্যে নয়। পুরো মুভিতে আগ্রহ ক্রিয়েট করে মনে হচ্ছিল ফিনিশিংটা যেন একদমই হঠাৎ করে শেষ করে দেয়া হলো। কাহিনী শেষের দিকে এসে বা একদম ক্রেডিট সিন শুরু হতেও ক্রিস্টোফার নোলানের কাজের সামান্য স্বাদ পেলেও, মুভির শেষ দৃশ্য কেমন জানি দৃশ্যের মাঝপথে এসে থেমে গেল।

 

বছরের অন্যতম সেরা মুভি অবশ্যই। আর সাই-ফাই ফিল্ম হিসেবেও সেরা মুভিগুলোর একটি। কে জানে, ডেভিড ভিলন্যুয়েভ যেমন অনেক মুভি থেকে টেনেছেন তার অনুপ্রেরণা, এই মুভিও হয়তো একদিন ভবিষ্যতের কোনো এক পরিচালককে অনুপ্রেরিত করছে!

 

 

Arrival
Year: 2016

Based on: “Story of Your Life” by by Ted Chiang
Screenplay by: Eric Heisserer
Directed by: Denis Villeneuve

Cast: Amy Adams, Jeremy Renner, Forest Whitaker, Michael Stuhlbarg, Tzi Ma

Genre: Science Fiction, Mystery, Drama

 

IMDb Rating: 8.2/10
My Rating: 8.5/10
Rotten Tomatoes: 94% Fresh
Box office: $174.4 million/$47 million

 

Accolades:
1. 89 Academy Awards: Nomination for Best Picture, Director Denis Villeneuve, Adapted Screenplay, Sound Editing (Sylvain Bellemare), Sound Mixing (Claude La Haye and Bernard Gariépy Strobl), Cinematography (Bradford Young), Film Editing (Joe Walker), Production Design (Paul Hotte and Patrice Vermette)

2. 74th Golden Globes: Nominated for Best Actress (Motion Picture – Drama), Original Score (Jóhann Jóhannsson)

3. 70th BAFTA Awards (Pending): Nomination for Best Film, Actress in a Leading Role, Direction, Adapted Screenplay, Cinematography, Editing, Film Music, Sound, Special Visual Effects (Louis Morin)

 

 

Chapter 2: Explanation (Spoiler)

 

মেয়েটার স্মৃতি দেখানোটা আমাদের জন্যে ট্রিক।
পুরো মুভিটাই কিন্তু আসলে লুইস ব্যাংকসের ন্যারেটিভ বলা যায়। সে শুরু করছে তার মেয়ের স্মৃতি দিয়ে, কিন্তু পরে দেখালো যে আসলে সেটা ছিল ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড।

 

একদম প্রথমের সিনগুলা বাদে, তারপরে প্রথমবার মেয়েটার সিন বা স্মৃতি দেখায় লুইস অ্যালিয়েনদের ভাষা শিখার পরে। অর্থাৎ যখন সে ভাষা শিখার মাধ্যমে ঐ ভাষার মাধ্যমে চিন্তা করতে শিখলো। আর ঐ ভাষাটার মাধ্যমে চিন্তা করা মানে টাইমকে একটা তলের মতো সামনে দেখার মতো।

 

অ্যালিয়েনদের কাছে মানুষকে প্রোভাইড করার মতো এই একটা টুলই ছিল। তিন হাজার পরে হেল্প চাইবে, তখন যাতে মানুষ হেল্প করে, কিন্তু সেটা আগে থেকে জেনে নিজেদের অ্যালিয়েনদের জন্যে ডেভেলপ করার জন্যে না। গিভ অ্যান্ড টেক সিচুয়েশন। Non-zero sum game.

 

এখন, মেয়েটাকে কেনো দেখালো। শুধুমাত্র আমাদের ট্রিক করার জন্যে না। ব্যাপারটাই লুপ। লুইস ব্যাংক্স জানতে পারে, এটা তার মেয়ে, সে মারা যাবে, সেটাও তার মেয়ে জন্মের বহু আগেই। এই সিনেমার মেইন গল্পের নাম ‘Story of You life’, যে লাইনটা প্রথমের সিনগুলার একখানে বলে। ব্যাপারটা স্মৃতির ‘প্রিডেস্টিনেশন’ এর মতো হয়ে গেল।

 

প্রিডেস্টিনেশন মুভিতে যেমন একজন ডিরেক্টলি লুপে ছিল, এইখানে স্মৃতিতে লুপে আটকিয়েছে। প্রথমে লুইস ব্যাংক ভাষা শিখে ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড দেখলো, দেন তার মেয়ে জন্ম নিল, দেন সে মারা গেল; তারপরে এই স্মৃতি ফিরে গেল পিছনে; অ্যান্ড দ্য লুপ গোজ অন।

 

একদম মেইন  পয়েন্টাই এইখানে। হুমায়ুন আহমেদের অনেক উপন্যাসের একদম লাস্টের দিকে গিয়ে যেমন দেখা যায়, গল্পের থিম আসলে পাশের একজনকে নিয়া ছিল, বা সংশপ্তক নাটকে সংশপ্তক কে, সেটা দেখালো একদম শেষে গিয়া, ‘Arrival’ এর উদ্দেশ্যই এই মেয়েটার স্মৃতি; আর সেটা লুইস ব্যাংকসের কাছে আসা নিয়েই। আর সে জন্যেই মুভির নাম ‘Arrival’।

Arrival (2016)
Arrival poster Rating: 8.3/10 (113,438 votes)
Director: Denis Villeneuve
Writer: Eric Heisserer (screenplay), Ted Chiang (based on the story "Story of Your Life" written by)
Stars: Amy Adams, Jeremy Renner, Forest Whitaker, Michael Stuhlbarg
Runtime: 116 min
Rated: PG-13
Genre: Drama, Mystery, Sci-Fi
Released: 11 Nov 2016
Plot: When 12 mysterious spacecraft appear around the world, linguistics professor Louise Banks is tasked with interpreting the language of the apparent alien visitors.

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. JobayerRAJ100 JobayerRAJ100 says:

    মুভিটা নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম, তাই ভালো লাগেনি…
    ব্যাক্তিগত রেটিং: 6/10.

  2. যতটা আশা নিয়ে দেখতে বসা, তত টাই হতাশ …

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন