Bridge of Spies: একটি শিল্পকর্ম
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

সাল ১৯৫৭। ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। ফেডারেল এজেন্টরা অনেকদিন তদন্তের পর গ্রেফতার করে রুডলফ অ্যাবেল নামে এক সোভিয়েত গুপ্তচরকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তারা, তাদের চিন্তা হচ্ছে যেভাবে হোক অ্যাবেল এর কাছ থেকে তথ্য আদায় করা বা তাকে নিজেদের পাশে নিয়ে আসা। এই লক্ষ্যে অ্যাবেল এর জন্য নিয়োগ করা হয় এক দক্ষ আইনজীবি জেমস ডনোভানকে। কিন্তু বীমা-উকিল হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা ডনোভান প্রথমে অনেকদিন পরে ক্রিমিন্যাল ল’ইয়ার হিসেবে কাজ করতে না চাইলেও কাজ শুরু করেন। এবং দারুণ দূরদর্শীতার কারণে তিনি অ্যাবেলকে মৃত্যুদন্ড থেকে বাঁচিয়ে, শুধুমাত্র কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করেন।

 

 

দূরদর্শীতাটা কী ছিল, সেটা বলা মানেই আরো কিছু কাহিনী লিখে ফেলা, যেটা আমি চাচ্ছি না। টম হ্যাংক্স এর আরেকটা দুর্দান্ত শিল্পকর্ম সম্পূর্ণভাবে উপভোগের জন্য আর কিছু না জানাই ভালো।

 

 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই মুভিতে রুডলফ অ্যাবেল হিসেবে ব্রিটিশ অভিনেতা মার্ক রাইল্যান্স ভয়াবহ অভিনয় করেছেন। অস্কার তার প্রাপ্য ছিল। তিনি পেয়েছেন। পুরো গল্পটা তাকে কেন্দ্র করে হলেও তাকে দেখানো হয়েছে তুলনায় খুবই অল্প সময়। কিন্তু সেইটুকেই এতো সুন্দর একটা অভিনয় করেছেন, একটা স্থায়ী দাগ কেটে গেছে আমার মনে। তার একদম শান্তভাবে পুরো মুভি করে যাওয়া আর মাঝে মাঝে “উড ইট হেল্প?” ডায়লগ দেওয়া অভিনয়, আমার দেখা সেরা অভিনয়ের টপ লিস্টে অবশ্যই তিনি জায়গা পাবে।

 

 

নাম ভূমিকায় টম হ্যাংক্স এর অভিনয় এতো সাধারণভাবে ভয়াবহ ছিল, সেটা নিজে চোখে না দেখলে কল্পনা করাও অসম্ভব। হ্যাংক্সের অন্যতম সেরা পার্ফর্ম্যান্স তো অবশ্যই এটি। তবে নাম ভূমিকায় কেনো বললাম? মুভির নাম হচ্ছে ‘ব্রিজ অব স্পাইস’, তাহলে টম হ্যাংক্স কীভাবে নাম ভূমিকায় অভিনয় করলো? হ্যাঁ, এখানেই মুভির নাম দিয়েও দুর্দান্ত খেলা দেখিয়েছেন জনাব স্পিলবার্গ।

 

Tom Hanks is Brooklyn lawyer James Donovan and Mark Rylance is Rudolf Abel, a Soviet spy arrested in the U.S. in the dramatic thriller BRIDGE OF SPIES, directed by Steven Spielberg.

Tom Hanks is Brooklyn lawyer James Donovan and Mark Rylance is Rudolf Abel

 

 

কিংবদন্তী স্পিলবার্গকে নিয়ে আর কী বলা যায় নতুন করে। মহাকাব্য লেখা তার শখ বলা যেতেই পারে। মহাকাব্যিক ‘লিংকন’ এর চার বছর পর তিনি আবার আরেকটা মহাকাব্য রচনা করলেন। ‘লিংকন’ এনে দিয়েছিল স্যার ডে লুইসকে তৃতীয় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড। আর ঠিক পরের পরিচালনাতেই স্পিলবার্গ সাহেব মার্ক রাইল্যান্সকে শেষ বয়সে এনে দিলেন অস্কারের সম্মাননা। স্পিলবার্গ একটু বেশিই গ্রেট! মাত্র চল্লিশ মিলিয়ন ডলারে এই মুভি তৈরি, এটা ভাবাই যায়না! অথচ কী অসাধারণ ছিল!

 

 

 

স্ক্রিনপ্লে দুর্দান্ত গতির সাথে সাজানো গোছানো। হবেই বা না কেনো। এখানে আছে জোয়েল আর ইথান কোয়েন এর মতো ভয়াবহ দুইজন মানুষ। সাথে ছিলেন ব্রিটিশ প্লেরাইটার ম্যাট চারম্যান। সত্য ঘটনাকে সাম্ন্য নাটকীয়তা দান করেছেন তারা। এছাড়া ডনোভান-অ্যাবেলের মাঝে সম্পর্ক, ডনোভানের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেখানোর জন্য ডায়লগ বেজ না করে, তাকে দিয়া অবজার্ভেশোন করানো বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চিন্তাভাবনা আর মাঝ দিয়ে জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপালবিকের একটা সুবিধাজনক সুযোগের সুতো টানা, এগুলো দুর্দান্তভাবে আলাদা আলাদাভাবে সাজিয়ে সামনে রেখে একটি প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা। কোয়েন ব্রার্দার্সের ফরম্যাটই এমন। আলাদা আলদাভাবে কাহিনী দেখিয়ে হঠাৎ মিলিয়ে দেওয়া। এটা খুব ভালো লাগে দেখতে। তাছাড়া দুই দেশের ট্রেনের থেকে বাইরের দৃশ্য দেখাটা কাল্পনিক হলেও এই ব্যাপারটা অত্যন্ত ভালো দুইটি সিঙ্কড দৃশ্য ছিল।

 

 

ক্যামেরার পরিচালনায় ছিলেন পোলিশ সিনেমাটোগ্রাফার ইয়ানুস কামিজস্কি। স্পিলবার্গের দীর্ঘদিনে বন্ধু তিনি, আরেকবার তার গ্রেটনেস দেখিয়ে দিলেন। শুধু স্পিলবার্গের মুভিতে কাজ করেই তিনি পেয়েছেন এই মুভির জন্য সহ সাত বার অস্কার নমিনেশন, যার মাঝে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ আর ‘শিন্ডলার লিস্ট’ এর জন্য ঘরে মূর্তিটা নিয়েও গেছেন।

 

 

thumb2-bridge-of-spies-poster-thriller-movie-biography

 

 

 

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটা বেশ সুন্দর। শেষ দৃশ্য শেষ হয়ে এতো দুর্দান্ত সিংক করে তখন, অত্যন্ত সুন্দর লাগে পুরো মুভি শেষ করে শুনতে।

 

 

আরেকজনের কথা বলা উচিৎ। জেমস ডনোভান এর স্ত্রী মেরি চরিত্র অ্যামি রায়ানের কথা। অল্প সময়ে টম হ্যাংক্সের স্ত্রী হিসেবে খুবই ভালো পার্ফর্ম্যান্স ছিল।

 

 

৮৮ তম অস্কারে বেস্ট পিকচার, স্ক্রিনপ্লে সহ ছয়টা নমিনেশন পেলেও, শুধু মাত্র সাপোর্টিং অ্যাক্টর হিসেবে মার্ক রাইল্যান্সই ঘরে সোনার মূর্তি নিয়ে যেতে পেরেছেন।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের কাহিনী বা তাদের বিভিন্ন কাহিনী কিনা, এইসব নিয়ে কথা বলার চেয়ে আমি শিল্পকর্মটা দেখতেই বেশি পছন্দ করবো। তাছাড়া এটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। ক্রেডিট সিনের আগে কিছু টেক্সট আছে। সেগুলো থেকে আরো কিছু দারুন তথ্য জানতে পারবেন। বিশেষ করে জেমস ডনোভানকে বুঝানোর জন্য দারুণ একটা তথ্য আছে।

 

 

সব মিলিয়ে একটা ভয়াবহ, দুর্দান্ত, একটি অসামান্য একটা মুভি নয় এটি। এটি একটা শিল্পকর্ম ছিল।

 

 

 

Bridge of Spies
Year: 2015

 

Cast: Tom Hanks, Mark Rylance, Amy Ryan

 

Written by: Joel & Ethan Coen, Matt Charman
Directed by: Steven Spielberg

 

Genre: Historical Drama, Legal Thriller

 

 
IMDb Rating: 7.6
My Rating: 10/10
Rotten Tomatoes: 91% Fresh
Box Office: 165.5 Million/40 Million (in US Dollar)

 

 

 

Accolades:
1. 88th Academy Award: Won for best supporting actor. Nominated for best picture, original screenplay, original score, cinematography, production design, sound mixing

2. 69th British Academy Film Award: Won for best supporting actor. Nominated for best picture, direction, original screenplay, film music, cinematography, editing, production design, sound

 

 

Bridge of Spies (2015)
Bridge of Spies poster Rating: 7.6/10 (193,602 votes)
Director: Steven Spielberg
Writer: Matt Charman, Ethan Coen, Joel Coen
Stars: Mark Rylance, Domenick Lombardozzi, Victor Verhaeghe, Mark Fichera
Runtime: 142 min
Rated: PG-13
Genre: Drama, History, Thriller
Released: 16 Oct 2015
Plot: During the Cold War, an American lawyer is recruited to defend an arrested Soviet spy in court, and then help the CIA facilitate an exchange of the spy for the Soviet captured American U2 spy plane pilot, Francis Gary Powers.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন