Léon: The Professional: সেন্টিমেন্ট ও একশন এর মিশেল

মুভির জেনারে যদি সেন্টিমেন্টাল মুভিও লেখি, তাতে ভুল হবে না বরং ঠিকই হবে।
পুরা মুভিই সেন্টিমেন্টে ভরা।
মুভিটার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নাই, অন্যান্য হাই-রেটেড মুভির মতো। কিন্তু তারপরও এক অসাধারণ সৃষ্টি এই মুভিটা।
কাহিনি এক সাধারণ হিটম্যানকে নিয়ে, যে নিজেকে “Cleaner” হিসেবে বলতে পছন্দ করে। কারণ তার কাজ খুবই পরিচ্ছন্ন এবং রেপুটেটেড। তার নাম Léon (Reno)।  যে ফ্ল্যাটে থাকে, তার পাশের ফ্ল্যাটে থাকে ১২ বছর বয়সী মাথিল্ডা (Portman)। যার বাবা একজন ড্রাগ ডিলার। খুবই অসুখী পরিবারে জন্ম মাথিল্ডার। পরিবারে বন্ধু বলতে ছোটো ভাই। মাথিল্ডার সাথে কথা বলতে বলতে একটা ছোটোখাট বন্ধুত্বের  সম্পর্ক হয় লিয়নের। ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এসোসিয়েশনের অফিসার এডিক্টেড স্ট্যানশফিল্ড (Oldman) তদন্ত করতে আসে মাথিল্ডার বাসায়। এর কয়েকদিন পর একটা দূর্ঘটনা ঘটে, যে কারণ মাথিল্ডাকে নিজের কাছে রাখে লিওন। বাকিটা মুভিতেই দেখবেন।
প্রথমে যার কথা বলতে হয়, তিনি ফেবারিট ওল্ডম্যান না, জন রেনো। ফ্রেঞ্চ এই অভিনেতার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। ওনার প্রতিভার তুলনায় আন্ডাররেটেডই বলা যায়। মুভিতে লিয়ন চরিত্রে পুরা ঢুকে গেছিল। অবশ্য শুধু রেনো না, ওল্ডম্যান আর নাটালিয়া পোর্টম্যানও ঢুকে গেছিল নিজ নিজ চরিত্রে।
চরিত্রটা ছিল মেলানো মেশানো। সাধারণ  কড়া ভাবে হিটম্যান না, বরং একটু অন্যরকম। যার একোটা ব্যাকগ্রাউণ্ড আছে, যার মানসিকাতা এখনো মানুষের মতোই আছে, যে এখনো অনেক কিছুর প্রতি কেয়ার করে। এমনই একটা চরিত্র এই লিওন। জন রেনো অতি ভালো অভিনয় করেছেন। তার উচ্চারণ, হাটার স্টাইল, হাসি, আর একশনের সময় একশন, কিছুরই কমতি ছিল না।

মুভির একটি দৃশ্যে সিনেমা হলে লিয়ন (রেনো)।

মুভির একটি দৃশ্যে সিনেমা হলে লিয়ন (রেনো)।

 

আসা যাক পোর্টম্যানের কথায়। আজকের সেরা অভিনেত্রীদের একজন নাটালিয়া পোর্টম্যান এর প্রথম মুভি এই  Léon: The Professional। কিন্তু কোনো প্রমাণ আছে? মূহুর্তের জন্য মনে হলো না, এর বয়স ১২ বরং মনে হচ্ছিল আজকেরই অস্কারজয়ী ৩৩ বছর বয়সী অভিনেত্রী। বয়সের তুলনায় অতিমাত্রায় ভালো ও ম্যাচিওর অভিনয় করেছে। অভিনয় আসলে সবার মাঝেই থাকে, কেউ বের করতে পারে কেউ পারে না; কথাটা আবারো প্রমাণিত হলো। যখন লিওনকে বলে, “I think I’m in love with you!”, তখন কি যে একটাএক্সপ্রেশন দিছে, অনেক বয়স্ক-ভেটেরান এক্ট্রেসও অমন পারবে না।

 

সবার শেষে ওল্ডম্যান। Boss was boos, is boss, will be a boss। মুভি কাল্ট হয়, ডায়লগ কাল্ট হয়, কিন্তু চরিত্র সহজে কাল্ট হয় না। ওল্ডম্যানের অনেক চরিত্রই কাল্ট চরিত্র হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। আসলে, এই মুভিতে ওল্ডম্যানের পুরা প্যাকেজই একটা জিনিস। অভিনয়, হাঁঁটা, এক্সপ্রেসন, ডায়লগ। কি করে নাই সে!
বিশেষভাবে “Yes, at your service.”, বা শেষ মূহুর্তে তা অন্ধকার থেকে হেঁটে আসা এখন অনেক প্রচলিত। তার বলা “I want everyone. “EV-ERY-ONE!!” এখন শুধু মুভি না, গেমের ভিডিওতেও ব্যবহার হয়। তার ডায়লগের বেশিরভাগই তিনি নিজে বানিয়েছেন। যেমন  “I haven’t got time for this Mickey Mouse bullshit!”; অথবা “Death is whimsical today”। সাথে ওল্ডম্যানের শেষ ডায়লগটা এবং ঐ সময়ের এক্সপ্রেশনটা ও অনেক ব্যবহৃত হয় এখন।  দুনিয়ায় সব এক্টরের রিপলেসমেন্ট পাওয়া যায়, কিন্তু কয়েকজনের না। এর মাঝে Oldman বিশেষভাবে দ্রষ্টব্য।

 

স্ট্যানশফিল্ড চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেন Gary Oldman.

স্ট্যানশফিল্ড চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেন Gary Oldman.

 

Oldman এর অভিনয় করা এই Stansfield চরিত্র টা কতটা ভালো বা ভয়ংকর, তার উদাহরণ, সকল ভিলেনের লিস্টেই টপ টেন বা টপ ফাইভে এই নামটা পাবেনই।

 

যেটা সবার প্রথমেই বলছলাম, এটা একটা সেন্টিমেন্টাল মুভি। একজন হিটম্যানের জীবনের কিছু সেন্টিমেন্ট আর ভালোবাসার গল্প। ৪০-৪৫ বছর বয়সী একজনের সাথে ১২ বছরের একটা মেয়ের ভালোবাসার গল্প। লিয়ন আর মাথিল্ডার কান্ডকারখানা দেখে যেমন হাসি আসছে, তেমনি খারাপও লাগছে, তাদের স্ট্রাগলের সময়ে।

 

leon-the-professional

পরিচালককে ব্যাপক ধন্যবাদ দিতে হয়ে এই কাহিনি লেখা ও পরিচালনার জন্য। মুভিটা অসাধারণ লেভেল হওয়ার পিছনে তিন লিড এক্টরের পরই পরিচালক লুক বেসনের  নাম বলতে হয়। খুবই নরমাল কাহিনিকে একটু ভিন্ন মাত্রা দিয়ে পরিবেশন আর চার্টের মতো এক টোনের কাহিনিকে বাড়িয়ে পরের লেভেলে নেওয়া; খুবই অসাধারণ কাজ। বলা হয় এই মুভিটি তারই আগের একটা ফ্রেঞ্চ মুভি  ‘La Femme Nikita” থেকে নেওয়া প্লট, যে মুভিতে রেনো একই ধরণের একটা চরিত্র (Victor) করেছিল।
পরিচালককে চিনতে চাইলে বলব Taken সিরিজের এর প্রযোজক তিনি।
এবং Oldman ও Bruce Willis এর “The Fifth Element” এর পরিচালক।

 

মুভির আরেকটা সৌন্দর্য ছিল মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। অন্য লেভেলের মিউজিক সবসময়ই একটা আলাদা সঙ্গ দিয়েছে। সাথে শেষ লিয়ন-স্টানশফিল্ড এনকাউন্টারে সব শব্দ বাদ দিয়ে শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর ব্যাপারটা জাস্ট অসাধারণ।
শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই না, ক্রেডিট সিনের “Shape of my heart” গানটাও অনেক সুন্দর।

 

সেটের পিছনে ওল্ডম্যান ও পোর্টম্যান।

সেটের পিছনে ওল্ডম্যান ও পোর্টম্যান।

 

সবচেয়ে ভালো লাগে ফিনিশিং টা, একেবারে লাস্ট ডায়লগে কেমন জানি একটা অনুভূতি। মন খারাপও লাগে না, আবার ভালোও লাগে না। শিল্পীর আঁকা ছবির ফিনিশিং টাচের মতোই একটা টাচ।

 

মুভিটার সিক্যুয়েল তৈরিরও কথা ছিলি, পোর্টম্যানের বয়স বেশি হলে। কিন্তু লুক বেসন প্রোডাকশন কোম্পানির সাথে পাট চুকিয়ে ফেলায় আর হয় নি, সএটা আমাদের দুর্ভাগ্য।
মুভিটির এক্সটেন্ডেড ভার্সন আছে, যেখানে প্রথম ঘন্টার পর কিছু এক্সটেন্ডেশন আছে।

 

অন্য লেভেলের এই মুভি দেখার জন্য যথেষ্ট সময় নিয়ে দেখতে বসুন। ভেঙে ভেঙে দেখলে ভালো লাগবে না। একবারে পুরোটা দেখলে ভালো লাগবে অবশ্যই।

 

Léon: The Professional
Year: 1994
Country: France, USA
Language: English
Directed & Written by: Luc Besson
Cast: Jean Reno, Gary Oldman, Natalie Portman, Danny Aiello

 

Genre: Crime, Action, Drama
IMDb Rating: 8.6/10; #26
My Rating: 10/10; #Top_50  
Box Office: 45 million/16 million

Léon: The Professional (1994)
Léon: The Professional poster Rating: 8.6/10 (558,973 votes)
Director: Luc Besson
Writer: Luc Besson
Stars: Jean Reno, Gary Oldman, Natalie Portman, Danny Aiello
Runtime: 110 min
Rated: R
Genre: Crime, Drama, Thriller
Released: 18 Nov 1994
Plot: Mathilda, a 12-year-old girl, who is reluctantly taken in by Léon, a professional assassin, after her family is murdered. Léon and Mathilda form an unusual relationship, as she becomes his protégée and learns the assassin's trade.

(Visited 92 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন