Interstellar: আলোকবর্ষ দূরে

((‪#‎Spoiler_less_Review‬))

 

“Do not go gentle into that good night,
Old age should burn and rave at close of day;
Rage, rage against the dying of the light.”

 

(‘Interstellar’ is an adjective term, meaning situated or occurring between the stars)

 

“Sometimes waiting worth”, কথাটা খুব ভালো যায় মুভিটার সাথে। The Dark Knight Rises রিলিজের আগে থেকেই সবাই এক্সাইটেড “নোলান ব্রাদার্স আবার সাই-ফাই বানাইতেছে!” অপেক্ষা সার্থক।

 

মুভি দেখছি আরো আগেই, কিন্তু কনসেপ্ট নিয়ে পড়াশুনার কারণে লিখতে দেরি হলো। “কনসেপ্ট নিয়ে পড়াশুনা?” নিশ্চয়ই ভাবছেন? হ্যাঁ। ক্রিস্টোফার নোলান এমনিতেই পারফেকশনিস্ট হিসেবে খ্যাত, একটা সাই-ফাই বানাচ্ছে, সেটাতে আরো রাখবে, সে তো স্বাভাবিক! আর জোনাথন নোলানতো চার বছর ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয়ে রিলেটিভিটি ফিজিক্সেই পড়াশুনা করে ফেলেছে! তো এতো সাধনার মুভির ঘটনা কি, নিশ্চয়ই ভাবছেন? চলুন একটু প্লটটা দেখি।

 

ভবিষ্যতের কোনো সময়। বিশ্বজুড়ে ফসল ধ্বংস ও না ফলায়, মানুষ আবারো ফার্মিং সিভিলাইজেসনে ঝুঁকে পড়ে। ফরমার নাসা পাইলট কুপারও (ম্যাথু) প্রায় দশ বছর যাবত ফার্মিং করছে। এমনই এক সময়, যে কোনো এক ভাবে তার দেখা হয় নাসার লোকজনের সাথে এবং কুপারের সাবেক নাসা কলিগ, প্রফেসর ব্রান্ডের (কেইন) সাথে। সে কুপারকে বলে কিছু অজানা কথা, যা সাধারণ মানুষের মনে ভয় জাগাতে পারে। সে কুপারকে আমণত্রণ জানায় নাসার এক অভিযাত্রায় কুপারকে টিম লিড করতে। এটা মেনে নিতে পারে না কুপারের মেয়ে মার্ফি। তারপরও নিজের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে রাজি হয় কুপার, আবারো মহাকাশে যাওয়ার।
কি কারণ, কিভাবে এটা আমি বলব না, কারণ রিভিউটা আসলে যারা দেখেননি তারা যেন দেখতে বসে এক্সাইটমেন্ট না হারান। তাছাড়া উত্তরগুলো এবং পরবর্তীতে সকল কনসেপ্টের ব্যাখ্যা মুভিতে খুব সুন্দর করে দেওয়া আছে।

Christopher Nolan এর সাথে অসাধারণ কাজ ছিল Johnathon Noaln এর।

Noaln Brothers

 

নোলান প্রথমবার প্রোডাকশন হাউজ থেকে অফার পেলেন। এতোদিন নিজ দায়িত্বে মানুষকে মুভি উপহার দিয়েছেন। এবার প্যারামাউন্ট নোলানকে অফার করে ডিরেক্ট করার। মূলত লিজেন্ড স্পিলবার্গের ডিরেক্ট করার কথা ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তিনি তার “Dreamworks Production” প্যারামাউন্ট থেকে ডিজনিতে শিফট করেন। জন নোলান আরো আগে থেকেই স্পিলবার্গের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখছিলেন। প্যারামাউন্ট তাই মুহূর্ত. চিন্তা না করে নোলানকে অফার করে মুভি ডিরেক্ট করার।

 

মুভির স্বপ্ন টা আসলে ছিল মুভির সায়েন্টিফিক কনসালটেন্ট কিপ থর্নের। তিনি এই বিশ্বের সেরা একজন পদার্থবিদ। তিনি স্টিফেন হকিং এর কলিগ ও খুব কাছের বন্ধু। তার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল Gravitational Physics, Relativity, Aerodynamix, Aerospace নিয়ে একটা মুভি করার। তিনি ও এই মুভিতে তার সাথে কাজ করা আরেক প্রফেসর লিন্ডা অবস্ট এর আগে সাই-ফাই মুভি “Contact” এও কাজ করেছেন। এবং সেটাতেও ম্যাথু ম্যাককনেহিও ছিল। যাই হোক থর্ন আর অবস্ট এর আগ্রহ দেখে স্পিলবার্গ ডিরেক্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। পরের ঘটনা বলেছি আগেই। থর্ন সর্বাত্মকভাব মুভিতে পিওর কনসেপ্ট ব্যবহার করেছেন।

 

নোলান নিজে প্রচুর কল্পনা ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “সবাইই নিজের ছোটবেলার কল্পনা চোখের সামনে দেখতে ভালোবাসে। তা আগেও করেছি। এবং এই ফিল্মের মাধ্যমে আরো হল।” তাই তিনি প্রচুর ট্রিবিউট রেখেছেন মুভিতে। লিস্ট দিয়ে স্পয়লার করব না। একটা শুধু বলা যায়, একটা ক্লু: এমেলিয়া এয়ারহার্ট ছিলেন প্রথম নারী পাইলট, আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া। মিল খুঁজে পান কিনা দেখুন কোনো, এই মুভিতে।

 

আমি খুব খুশি নোলান ডিরেক্ট করায়। কেননা, স্পিলবার্গ করলে এনাদার জাস্ট এন্টারটেইনিং মুভি হতো, পারফেক্ট মুভি না।

 

জন নোলান প্রচুর পড়াশুনা করে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, বিন্দুমাত্র খুঁত না রাখার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। সচেতন ছিলেন বৈজ্ঞানিক ব্যাপারে। দুই ভাই আর থর্ন প্রতিটা ব্যাখ্যা দুই-তিনবার করে আলোচনা করে, মানুষের সামনে উপভোগ্য করার চেষ্টা করেছেন। যেমন, নরমাল নন-রোটেটিং ব্ল্যাকহোল না দেখিয়ে রোটেটিং ব্ল্যাকহোল এর কনসেপ্ট ব্যবহার করা হয়, যেন সেটা দৃশ্যমান হয়। এই কারণে কাহিনির পরের অংশের কনসেপ্টও চেঞ্জ করতে হয় ভারসাম্য রাখার জন্য। এছাড়া 5D, এরোডাইনামিক্স, রিলেটিভিটি ও মোস্ট ইম্পোরটেন্টলি, গ্রাভিটি নিয়ে সবাইই সচেতন ছিল। এছাড়া ছোটোখাটো বৈজ্ঞানিক ব্যাপারতো ছিলই, যেমন ব্ল্যাকহোল এর 2D-3D, বৃত্ত-গোলক কনসেপ্ট। তাই যা দেখবেন, সবই পিওর।
এই কনসেপ্ট নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে কি-কেন-কিভাবে, তার ব্যাখ্যা সবই দিতে পারতাম, কিন্তু আগেই বলেছি, এটা স্পয়লার লেস রিভিউ।
বিশ্বখ্যাত জাপানী বিজ্ঞানি ও সাই-ফাই লেখক মিচিও কাকু, যিনি নিজেও এই ধরণের এক্যুরেসি নিয়ে সচেতন হয়ে লেখেন, তিনি হিউজ প্রশংসা করেন এই মুভির। বলেন, “This is the thing, man was waiting for years, to see some real thing.”

 

Blackhole in "Interstellar".

Blackhole in “Interstellar”.

নোলানের অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল ম্যাথু ম্যাককনেহি কে নিয়ে কাজ করার। ম্যাথু স্ক্রিপ্ট পড়ে মুহূর্তে রাজি হন আর হ্যাথাওয়ে TDKR শ্যুটিং এর সময়ই রাজি হন। জেসিকা চ্যাস্টেইন কাজ শুরুর কিছুদিন আগে রাজি হন। তিনি বলেন, “It was an honor for me to work with mr. Nolan. And it was pleasure too, cause work with him was fun.”
শুধু অভিনেতাদেরই সুযোগ দেননি। ঐতিহাসিক ভাবে দুই রাইভাল প্রোডাকশন হাউজ Warner Brothers Inc. আর Paramount কে একসাথে কাজ করানোর কীর্তিও এই নোলানেরই।

 

শুধু সাইন্টিফিক না, সব দিকেই একুরেট থাকার চেষ্টা করেছেন। মুভির জন্য ৫০০ একর ভুট্টার ক্ষেত চাষ করা হয়। এই ব্যাপারে একটা মজার ঘটনা আছে। জেসিকা এই ঘটনাটা বলেন, “He was so accurate, that he made 500 acres cornfields, And after shooting, he sold every crops! So, we made extra profit!”

 

ভিজ্যুয়াল এফেক্টে অস্কার ও বাফটা জয় করেছে ‘Interstellar’। ভিজ্যুয়াল এফেক্ট কোম্পানি Double Negative, যারা ‘Inception’ ও ‘The Dark Knight Rises’ এও কাজ করেছে, তারা বলে, “For this type of movie, we needed much more effecting. But the way Nolan thought, we didn’t need something more than ‘The Dark Knight Rises’.” বুঝতেই পারছেন, তাহলে এইদিকে কি ডিভোশন ছিল সবার যে, লিস্ট এফেক্ট ব্যবহার করে লিডিং এওয়ার্ড জয়। আর অস্কারেও এই ক্যাটাগরিতে এগিয়ে আছে Interstellar। সাধুবাদ জানাতে হয় সিনেমাটোগ্রাফার Hoyte van Hoytema কে। কেননা এজন্য তার হেল্পও প্রয়োজন ছিল। কেননা, এফেক্টসমূহ থ্রিডি লাইটনিং এর মাধ্যমে সরাসরি ক্যাপচার করা হয়। CGI এর সর্বনিম্ন ব্যবহার করার জন্য এখানেই নোলানের সার্থকতা। প্রোডাকশন ব্যবহার করে এফেক্ট করা, কোনো এক্সট্রা সাহায্য না নিয়ে। তারপরো বেস্ট এফেক্ট পাবেন আপনারা। বরফ আর পানির দৃশ্যগুলো সরাসরি আইসল্যান্ড আর সমুদ্রে ধারণ করা হয়েছে।

 

দুর্দান্ত একটা মুভি হওয়ার পরও অস্কারে শুধুমাত্র ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, সাউন্ড এডিটিং, মিক্সিং, প্রোডাকশন ও মিউজিক এ নমিনেশন পেয়েছে মুভিটি। ম্যাথু ম্যাককনেহির দুর্দান্ত অভিনয় ছিল। তার কান্নার সময়টা আমারো খুব খারাপ লাগছিল। এতো চমৎকার অভিনয়, মনে হচ্ছিল আসলেই কোনো মানুষের জীবন সামনাসামনি দেখছি। তারপরও ভালো লাগছে, এই চমৎকার মুভি দেখতে পেরে। আপনাদের একটা কথা বলতে পারি, যত বড় স্ক্রিনে দেখবেন, তত মজা পাবেন মুভি দেখে। ম্যাথু আর কেইন একসাথে ছিল খুব কমসময়। কিন্তু আলাদা ফ্রেমেও পাল্লা দিয়ে অভিনয় করছে। চ্যাস্টেইন এই দুই সিনিয়রের সাথে প্রতিযোগিতায় নামছিল বলতে গেলে। আর হ্যাথাওয়ে তো চমৎকার। কাস্টিং এর জন্য আরেকটা ধন্যবাদ। কবিতাটা অসাধারণ সুন্দর ছিল, কেইনের কণ্ঠে তা পূর্ণতা পেয়েছে।

 

কমেডিও ছিল কিছু! নরমাল রোবট এ না গিয়ে নোলান quadrangler রোবট কনসেপ্ট ব্যবহার করে, যা আরো ইউনিক। এই রোবট গুলো বেশ কমেডিক, স্পেশালি লাস্টে রিপেয়ারের সময় বেশ মজা পেয়েছিলাম।
তবে রোবট হলেও, রোবট দুইটা হেভি ভ্যালুয়েবল মুভির কাহিনিতে।

 

মুভির আরেকটা খুব ভালো ব্যাপার, মুভির টাইমলাইন এর ঠিক মাঝে সাসপেন্সন পয়েন্টে তিন দিকের কাহিনি লিংক করা, আর তখনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এই সময়টা আমি জাস্ট হাঁ করে দেখছি।

 

জেসিকা চ্যাস্টেইন নোলানের মুভি দেখার সময় দর্শকদের এই অবস্থা সম্পর্কে বলেন, “Audience are always exited, what’s Nolan giving us, and when they saw, they just watching stunned, eating popcorn, and watch, opening the mouth!”

 

ফিনিশিং নিয়া কোনো কথা হবে না। পেইন্টার যেমন ছবি আঁকা শেষ হলে ফিনিশিং টাচ দেয়, তেমন ফিনিশিং টাচ দেওয়া হয়েছে।

 

দুই বছরের অপেক্ষা সার্থক মুভির ভারসাম্যের জন্য। আর সবকিছুর জন্য দায়ী নোলান ব্রাদার্স। মানুষকে তারা নিজেদের কল্পনা বাস্তবায়িত করে দেখান। আর নিজেদের পছন্দ টা বের করতে পারেন দেখেই আমরা গত পনের বছর মাস্টারপিস পেয়ে আসছি।

 

আর এভাবেই তৈরি হল সায়েন্স ফিকশন মাস্টারপিস “Interstellar”।

Interstellar 

Year: 2014

Directed by: Christopher Nolan

Written by: Jonathan Nolan & Christopher Nolan

Cast: Matthew McConaughey, Anne Hathaway, Jessica Chastain, Bill Irwin, Ellen Burstyn, Michael Caine

Genre: Epic Science-Fiction

Interstellar (2014)
Interstellar poster Rating: 9.4/10 (7,757 votes)
Director: Christopher Nolan
Writer: Jonathan Nolan, Christopher Nolan
Stars: Matthew McConaughey, Anne Hathaway, Wes Bentley, Jessica Chastain
Runtime: 169 min
Rated: PG-13
Genre: Adventure, Sci-Fi
Released: 07 Nov 2014
Plot: A group of explorers make use of a newly discovered wormhole to surpass the limitations on human space travel and conquer the vast distances involved in an interstellar voyage.

(Visited 289 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন