Star Wars Episode VII: The Force Awakens – একেই বলে স্বরূপে প্রত্যাবর্তন

ফ্র্যাঞ্চাইজ জগতে এতদিনে যদি এই তথ্যটা এস্টাব্লিশড না হয়ে থাকে, তাহলে এই ছবির পর সবার পরিষ্কার হয়ে যাওয়া উচিত যে, জে জে এব্রামস হচ্ছেন ডুবন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজের রক্ষাকর্তা। মিশন ইম্পসিবল, স্টার ট্রেকের পর স্টার ওয়ার্স সিরিজে তার সাফল্য এলেও অবশ্য এটা ভুলে যাওয়া যায় না, টিভি সিরিজের বেলায় একগাদা সিরিজকে ডুবন্ত টাইটানিক তিনিই বানিয়েছেন সেগুলো ছেড়ে গিয়ে (লস্ট, ফ্রিঞ্জ, অ্যালকাট্রাজ ইত্যাদি)। তবে তার স্টার ওয়ার্স এন্ট্রিটা এতই ভালো হয়েছে, যে সেটা আপাতত ভুলে যাই, আর ভুলে যাই এই ছবিটাতে ব্যাপক হারে ‘আ নিউ হোপ’-এর ছায়া আছে।

 

সাই-ফাই অ্যাডভেঞ্চার ব্লকবাস্টার ছবির অন্যতম পথিকৃৎ এবং সিনেমাজগতের অন্যতম মাইলস্টোন ছিলো স্টার ওয়ার্সের সূচনা। পরে প্রিক্যুয়েল ট্রিলজি মুখে তিক্ত স্বাদ এনে দিলে মুভি সিরিজটার ফোর্সে ভালোমতই ডিস্টার্বেন্স টের পাওয়া যায়। দশ বছর পর স্টার ওয়ার্সের নতুন ছবি ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ তার টাইটেলের মান রেখেই জাগিয়ে তুলতে পেরেছে ফোর্সকে, আর এনে দিয়েছে ত্রিশ বছর আগে পাওয়া সেই স্বাদ। অসাধারণ অ্যাকশন আর থ্রিল, দারুণ সিজি, চমৎকার কাস্টিং আর অভিনয় আর নতুন-পুরনো চরিত্রের ফাটাফাটি মিশেল- সব মিলিয়ে পূর্ণশক্তিতেই জেগে উঠেছে ফোর্স।

 

star-wars_-the-force-awakens-10

‘রিটার্ন অভ দ্য জেডাই’-য়ে আমরা দেখেছিলাম রেবেলদের এম্পায়ারের বিরূদ্ধে জয়ী হতে। কিন্তু ত্রিশ বছর পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অশুভ শক্তি। ফার্স্ট অর্ডার নামের নতুন এই গোষ্ঠী আবারও ডার্ক সাইডকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। এর নেতা হলো মাস্টার স্নোক, যে আসলে কী, সেটা এই ছবিতে খুব পরিষ্কার করে না বলা হলেও তাকে বলা যায় অরিজিনাল ট্রিলজির এম্পেরর এবং মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের থ্যানোসের মিশেল। তার হয়ে কলকাঠি নাড়ছে ডার্থ ভেডারের মতই দেখতে আরেক শক্তিশালী সিথ লর্ড, যার নাম কাইলো রেন। সে যে কে, সেটাই এই ছবির সবচেয়ে বড় টুইস্টের একটা।

 

20141128-star-wars-force-awakens-screenshots-hr-001

ছবির শুরুতেই জানিয়ে দেয়া হয় নিখোঁজ হয়েছে লুক। লেইয়া এখন আর প্রিন্সেস নেই, সে এখন জেনারেল। সে এবং তার ফার্স্ট অর্ডারবিরোধী রেজিস্টেন্স বাহিনী লুকের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় তাদের সাহায্য করতে জ্যাকু নামক এক গ্রহে এক পো ড্যামেরন নামক এক রেজিস্টেন্স পাইলটের হাতে আসে লুকের অবস্থানের ম্যাপ। কিন্তু ফার্স্ট অর্ডারের স্টর্মট্রুপার বাহিনী তার কাছে চলে আসায় সে ম্যাপটা তার ড্রয়েড BB-8 -এর কাছে দিয়ে অনেকটা প্রথম ছবির মতই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে বলে। এদিকে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বোধোদয় হয় ফিন নামের এক ট্রুপারের। অর্ডারের কাছে ধরা পরা পো-কে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। উদ্দেশ্য হলো BB-8 কে বের করে রেজিস্টেন্স বেসের কাছে ম্যাপ নিয়ে যাওয়া।

 

star-wars_-the-force-awakens-25

star-wars_-the-force-awakens-21

download

এদিকে BB-8 চলে আসে এক স্ক্যাভেঞ্জারের কাছে, নাম তার রে। দুঃসাহসী মেয়ে রে একাই থাকে জ্যাকুতে। কেউ নেই তার। জ্যাকুতে পো-র শিপ ক্র্যাশ করার পর তাকে না পেয়ে ফিন একসময় দেখা পায় রে-র, যখন রে প্রাণপণ চেষ্টা করছে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী প্ল্যাট যাতে BB-8 কে নিতে না পারে। BB-8কে চিনতে পারে ফিন (পো তাকে বর্ণনা দিয়েছিলো)। যখন ফার্স্ট অর্ডার চলে আসে BB-8কে নিতে, তখন পালাতে হয় দুজনকেই, মিলেনিয়াম ফ্যালকনে চড়ে। শুরু হয় তাদের অভিযান।

 

20141128-star-wars-force-awakens-screenshots-hr-003

এর পর থেকে আর কিছু বলা মানেই স্পয়লার। তাই চলে আসা যাক ব্যক্তিগত মতামতে। আগেই বলেছি, ‘আ নিউ হোপ’-এর ছায়া এখানে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান, কিন্তু ছবিটা এতই এঞ্জয়েবল লেগেছে আমার, যে সেটা তেমন একটা টের পেতে দেয়া হয়নি। নতুন জেনারেশনের তিন হিরো রে, পো আর ফিনের মাঝে অবশ্য আগের লুক, লেইয়া আর হানকে খুঁজে লাভ নেই, চরিত্রগুলো একেবারেই নতুন। তবে যদি ছায়া খুঁজতে চান, তাহলে রে একাই যথেষ্ট। তার একার মাঝেই লুক, লেইয়া আর হান আছে এবং একই সাথে সে স্বতন্ত্র ও অসাধারণ শক্তিশালী এক চরিত্র। হারমায়োনির পর রে-কে দিয়ে আরেকজন দারুণ তরুণী রোল মডেল দাঁড় করিয়েছেন নির্মাতারা। রে চরিত্রে অভিনয়কারী ডেইজি রিডলির চেহারার সাথে কিরা নাইটলির যেমন দারুণ মিল আছে, তেমনি এখানে তার চরিত্র ও অভিনয় মনে করিয়ে দিয়েছে পাইরেটস অভ দি ক্যারিবিয়ান আমলের কিরা নাইটলিকে। ফিন চরিত্রের মাধ্যমে আমরা প্রথমবারের মত ট্রুপারদের একটা ইনসাইট পেয়েছি। প্রথমে বেকুবমতো হলেও পোস্টার আর প্রোমোতে তার হাতে লাইটসেবারটাই বলে দেয় তার চরিত্রটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে পরে। পো-কে এই ছবিতে তেমন একটা দেখা যায়নি, তবে পরের ছবিগুলোতে তার চরিত্র বিস্তার লাভ করবে বোঝা যাচ্ছে। আর BB-8 বেশ সক্ষম হয়েছে ছবিতে C-3PO আর R2-D2-র দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘোচাতে। BB-8 will give the minions a run for their money when it comes to us nerds, mark my words.

 

এবার আসি ভিলেনপর্বে। ডার্থ ভেডারের মতই দেখতে কাইলো রেন, তবে তার চরিত্রটা বেশ হাস্যকর রকমের ইমো লেগেছে আমার। ইমো কাইলো রেনকে নিয়ে দারুণ ট্রোল হচ্ছে ইন্টারনেটে, বাই দ্য ওয়ে। তাকে আমার খুব একটা স্ট্রং লাগেনি, যদিও অ্যাডাম ড্রাইভারের অভিনয় বেশ ভালো ছিলো। ভেডারকে ছাড়িয়ে যাওয়া অবশ্য প্রায় অসম্ভব। আমার বেশ পছন্দ হয়েছে জেনারেল হাক্সকে। প্রথমে তাকে সাইডকিক মনে হলেও কাইলোর ওপর তার বেশ দাপট আছে। ঠাণ্ডা আর নিষ্ঠুর চেহারার হাক্সের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন ডোনাল গ্লিসন, যাকে এতদিন নাইস গাই চরিত্রেই দেখা গেছে। তবে ক্যাপ্টেন ফ্যাজমা চরিত্রের এত প্রোমোশন করলেও গুয়েন্ডোলাইন ক্রিস্টি ঢাকা পড়ে গেছেন গৌণ চরিত্রের আড়ালে। লুপিটা নিয়ঙ্গোর মোশন ক্যাপচার রোল মাজ কানাটা সামান্য ইয়োডার মত হলেও আহামরি কিছু না। দারুণ দারুণ সব ক্যামিও-ও আছে, যেমন ড্যানিয়েল ক্রেইগের স্টর্মট্রুপার।

 

star-wars_-the-force-awakens-35

দারুণ একটা থ্রিল রাইড পেতে এখনই দেখতে যান ছবিটা। আর যদি না দেখেন এখনও, তাহলে ইন্টারনেট থেকে সাবধান, ’cause the net is dark and full of spoilers. আর নস্টালজিক ইমোশনাল হতে ট্রেইলারে হানের “Chewie, we’re home” কথাটাই যথেষ্ট।

 

ছবিটা দেখার পর এই তিনটা ফেক টুইটার আইডি অবশ্যই ঘুরে আসবেন- Emo Kylo Ren*Spoiler-filled name*Very Lonely Luke. সলিড কমেডি গোল্ড।

 

 

Star Wars: The Force Awakens (2015)
Star Wars: The Force Awakens poster Rating: 8.9/10 (77,178 votes)
Director: J.J. Abrams
Writer: Lawrence Kasdan, J.J. Abrams, Michael Arndt
Stars: Harrison Ford, Mark Hamill, Carrie Fisher, Adam Driver
Runtime: 135 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure, Fantasy
Released: 18 Dec 2015
Plot: Three decades after the defeat of the Galactic Empire, a new threat arises. The First Order attempts to rule the galaxy and only a rag-tag group of heroes can stop them, along with the help of the Resistance.

(Visited 171 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পেঙ্গুইন পেঙ্গুইন says:

    স্টার ওয়ার্সের অরিজিনাল আর প্রিক্যুয়েল দুই ট্রিলজি কিন্তু একটা আরেকটার মিরর অপোজিট। নিউ হোপ হয়ে গেছে ফ্যান্টম মেনাস এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাক এর মিরর অ্যাটাক অফ দা ক্লোনস আর রিটার্ন অফ জেডাই আর রিভেঞ্জ অফ সিথ… বাই দা ওয়ে মাস্টার স্নোককে নিয়ে একটা স্পেকুলেশন দখলাম সেদিন রেডিটে। স্নোক আসলে ডার্থ প্লেগুসিস ডার্থ সিডিয়াস ওরফে এমপেরর প্যালপ্যাটিনের মাস্টার। আর স্বাদু রিভিউ ছিল

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন