007 SPECTRE (2015): Bland, James Bland

ইদানিং নতুন জেমস বন্ড মুভিগুলো যতই দেখছি, ততই হতাশ হচ্ছি। নতুন ছবিগুলো যেন পাল্লা দিয়ে বন্ডকে কারিশমাহীন এক ব্লান্ট ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে দেখানোর প্রতিযোগিতা করছে। সেই জেমস ব্ল্যান্ড সিরিজের লেটেস্ট এন্ট্রি হলো SPECTRE.article_post_width_james_bond_spectre

ড্যানিয়েল ক্রেইগ অ্যাকশন হিরো হিসেবে ভালোই, বেশ মাচো। কিন্তু জেমস বন্ড হিসেবে একেবারেই কাষ্ঠল তিনি। সুপার কুলনেস, সেন্স অফ হিউমার আর স্লিক-সুয়াভ যে গুণগুলো উপন্যাস আর পুরনো বন্ড মুভিগুলোয় বন্ডের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে ফুটে উঠে তাকে “দি স্পাই” বানিয়েছিলো, তার সবই অস্কারজয়ী পরিচালকের হাতে পড়ে ধূলায় মিশে গেছে। রক্ত-মাংসের মানুষ বানানোর চেষ্টায় বন্ড এখন আর বন্ড নেই। বরং বন্ড মুভিগুলো এখন যত না বন্ড লাগে, তার চেয়ে বেশি বন্ড লাগে এখন ‘মিশন ইম্পসিবল’-কে। অবশ্য শুধু স্যাম মেন্ডেসকেই দোষ দেই কেন, তার আগে থেকেই তো শুরু হয়েছিলো বন্ড চরিত্রের অধঃপতন।

 

যাহোক, স্পেক্টার-এর কথায় আসি। কাহিনী খুবই স্বল্প। বিশাল একটা টুইস্ট আছে, কিন্তু রিসাইকেল করা প্লট দেখতে দেখতে সেটাও তেমন ধাক্কা দিতে পারেনি। কাহিনী মোটামুটি এই- ০০ প্রোগ্রামকে বাতিল করার চিন্তা করছে সরকার (পরিচিত ঠেকছে?)। এম প্রাণপণে চেষ্টা করছে সেটা যাতে না হয়, আর সরকার চাইছে ০০ প্রোগ্রামের বদলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারির ব্যবস্থা চালু করতে। বন্ড এদিকে উপরের নির্দেশ অমান্য করে ব্যক্তিগত (ঠিক পুরোপুরি ব্যক্তিগতও না) মিশনে আছে, যেটা অবশ্যই ডিজাস্টারে মোড় নেয়। এক পর্যায়ে বন্ড মুখোমুখি হয় এক গুপ্ত সংগঠনের, যাদের নাম SPECTRE এবং যাদের উদ্দেশ্য ঠিক পরিষ্কার না (অন্তত আগে যদি না তাদের দেখে থাকেন পুরনো ছবিতে)। পুরনো এক শত্রুর মেয়েকে বাঁচাতে সেই মেয়েকে সাথে করে বন্ড যথারীতি ওপরের নির্দেশ আবারও অমান্য করে নামে SPECTRE-এর প্রধান ফ্র্যাঞ্জ ওবারহাউজারের খোঁজে, যাকে ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা’ (যদি না পুরনো ছবিগুলো দেখে থাকেন…)।

 

মোটামুটি পুরো ছবিটাই বলে দিলাম। শুধু কিছু কাঠখোট্টা ডায়লগ, কার চেজ আর মারামারি বসিয়ে দিন আর হিন্দি-বাংলা সিরিয়ালের ফর্মুলায় ‘পূর্বে যা দেখেছেন’ সেসব পৌনে এক ঘণ্টা বসিয়ে দিন, পেয়ে যাবেন স্যাম মেন্ডেজ পরিচালিত, ড্যানিয়েল ক্রেইগ ও ক্রিস্তফ ওয়াল্টজ অভিনীত লেটেস্ট বন্ড মুভি। ও হ্যাঁ, সঙ্গে স্যাম স্মিথের মত নাকি কণ্ঠের গায়কিওয়ালা লোকের গলায় ‘তুমি ছাড়া বাঁচি না… ও বন্ধু তুমি কই, কই রে/এ প্রাণ বুঝি যায় রে’ লিরিক্সের গানও লাগিয়ে দিন (যেটা এমনিতে শুনতে খারাপ না, কিন্তু তাই বলে বন্ড থিম?)

screenshot_007_spectre1

 

একটু পজিটিভ কথা বলি এবার। দুর্দান্ত অ্যাকশন সিন আছে, বিশেষ করে ওপেনিংয়ের দিয়া দি মুয়ের্তোসের সিনটা। spectre-waltz-youtube-screenshot-622x340ক্রিস্তফ ওয়াল্টজের উপস্থিতি যতক্ষণ ছিলো, ততক্ষণ পর্দা আলো করে রেখেছিলেন তিনি, তবে তার চরম অপচয় হয়েছে এখানে। আর বলা যায় অ্যান্ড্রু স্কটের কথা। মরিয়ার্টির মত মারাত্মক উন্মাদ রোলের পর এখানে তার স্বাভাবিক মেজাজের সরকারি কর্মকর্তা ম্যাক্স ডেনবিগকে দেখতে বেশ মজা লেগেছে। শুধু দুঃখ, জুডি ডেঞ্চের সাথে তার মেন্টাল শোডাউন দেখা গেলো না। আর পজিটিভ কিছু নেই।

Screen-Shot-2015-10-05-at-09.58.14

 

নেগেটিভের কথায় আসি আবার। ওই যে, রিসাইকেল করা প্লট। নতুন এম, কিউ, মানিপেনির দিকে প্রায় কোনো নজর না দিয়ে হাজারবার আগের ছবিগুলোতে কারা মরেছে, সেই ভেসপার, লা শিফ, গ্রীন, সিলভা, এম-কে নিয়ে টানাটানি। মনিকা বেলুচ্চি ছিলো স্রেফ পোস্টার গার্ল- পাঁচ মিনিট বন্ডের শয্যাসঙ্গিনী হওয়া ছাড়া আর কিছুতেই দেখা যায়নি তাকে। লেয়া সেদুকে প্রথম দিকে ভালোই লাগছিলো অবলা বন্ডগার্ল না হওয়ার জন্য, কিন্তু পরের দিকে বন্ড আর তার মাঝে জেনুইন ভালোবাসার সম্পর্ক হঠাৎ দিয়ে দেয়াটা খুবই ফোর্সড লেগেছে। এটা বন্ডের জন্য যেমন আউট অফ ক্যারেক্টার, তেমনি বিরক্তিকরও। ম্যাডেলিনকে জোর করে ভেসপার নাম্বার টু বানানোর চেষ্টা ছিলো এটা নাকি বুঝলাম না। ডেনবিগের স্টোরিলাইন হয়ে গেছে কিংসম্যানের মত। এত বড় টুইস্টের আধার হওয়া সত্ত্বেও ক্রিস্তফ ওয়াল্টজের চরম অপচয় হয়েছে সামান্য স্ক্রিনটাইম, অস্পষ্ট মোটিভ আর রিসাইকেলড এলিমেন্টের জন্য। এম চরিত্রে র‍্যালফ ফাইন্সের মত অসাধারণ অভিনেতাও কেমন যেন খেই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মনে হলো, অবশ্য জুডি ডেঞ্চের মত লেজেন্ডারি এম-এর পরে আসাটা বিশাল একটা চ্যালেঞ্জও বটে। আর পুরনো বন্ড মুভি বানানোর চেষ্টায় কিছু কিছু হিউমার ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো, সবই মুখ থুবড়ে পড়েছে অতিরিক্ত সিরিয়াস আর কাঠখোট্টা-কারিশমাহীন এই বন্ডে।

 

যখন বন্ড থেকে ইন্সপায়ারড অন্য মুভিগুলো সফলভাবে বন্ডের ফ্লেভার ধরে ফেলে আর বন্ড হারিয়ে ফেলে স্বরূপকে, তখন do yourselves a favour. Watch those Sean Connery golds and pray for someone who understands Bond enough to make a true and truly British Bond movie, not some bland shit about a machine with a licence to kill.

 

 

Spectre (2015)
Spectre poster Rating: 7.4/10 (41,273 votes)
Director: Sam Mendes
Writer: John Logan (screenplay), Neal Purvis (screenplay), Robert Wade (screenplay), Jez Butterworth (screenplay), John Logan (story), Neal Purvis (story), Robert Wade (story), Ian Fleming (characters)
Stars: Daniel Craig, Christoph Waltz, Léa Seydoux, Ralph Fiennes
Runtime: 148 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure, Thriller
Released: 06 Nov 2015
Plot: A cryptic message from Bond's past sends him on a trail to uncover a sinister organization. While M battles political forces to keep the secret service alive, Bond peels back the layers of deceit to reveal the terrible truth behind SPECTRE.

(Visited 102 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ভাই, অাপনি তামিল মুভি দেখতে পারেন।

  2. Amlan Chakma says:

    ঠিক বলেছেন বন্ডে আগের সেই সাদ আর নেয়

  3. অনেকের কাছে শন কনারির পর ড্যানিয়েল ক্রেইগ ই সেরা বন্ড ।আর ড্যানিয়েল ক্রেইগ হচ্ছে একমাত্র বন্ড যে ইয়ান ফ্লেমিং এর কল্পিত বন্ড ইমেজের সঙ্গে মিল আছে ।

    • শুধু চেহারাতেই তো হবে না…

    • আমি শুধু চেহারার কথা মাথায় রেখে বলেনি, যদিও চেহারা একটা গুরুত্বপূর্ণ ,বন্ডের জন্য, নীচের ছবিটি ইয়ান ফ্লেমিং এর আঁকা, মিলিয়ে নিয়েন ।শন কনারিকে কাস্ট করা ইয়ান ফ্লেমিং এরই ভালো লাগেনি ।কেউ বলবে না রজার মূর একজন ভালো বন্ড । পিয়ার্স ব্রুসনানের বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের আগে ভাবতে হত ,বন্ড, হান সোলো নয়।বাকি থাকলো ক্রেইগ । https://upload.wikimedia.org/wikipedia/en/c/c5/Fleming007impression.jpg

    • Anirban Mukherjee ড্যানিয়েল ক্রেইগ একেবারেই স্টোয়িক। তার মধ্যে কোনো ক্যারিসমা নেই। চেহারায় একটামাত্র এক্সপ্রেশন এনে শুধু মারামারি করা জেসন স্টেইটহ্যামও পারে। আর এই চেহারা অনুযায়ী তো জুড ল হচ্ছে ডেফিনিট বন্ড 😀

    • তাহলে বেলের ব্যাটম্যান অভিনয়ও ফালতু ।বন্ডকে ইয়ান ভিক্টোরিয়ান কালের মানুষের আদলে তৈরি করেছিলেন ,যার চরিত্রটি কাজ সম্পর্কে একমুখী, কঠিন এবং কোনও হাসি ঠাট্টা বা ইয়াঙকি কালচারকে পাত্তা দেবে না,সেই হিসাবে দেখা উচিত । observer.com/2006/11/new-bonds-stormy-virility-trumps-connery-and-moore/

    • ড্যানিয়েল ক্রেইগের বন্ড পোর্ট্রেয়াল দেখলে মনে হয় সে খুবই টায়ার্ড। আর এখানে ব্যাটম্যান আসছে কোত্থেকে?

  4. ক্রেগের লুক ভালো লাগছে তবে কাহেনী নিয়ে ততোটা,,,, , মনে হচ্ছে আগের গল্প তুলনামূলক বেটার ছিলো।

  5. কেউ কি ফুল HD এর লিকং দিতে পারেন?

  6. Kitty Ibtida says:

    ei movie ta amr kache faltu legeche. r anek long time mone hoyeche. bt theme song ta valo legeche

  7. সহমত । প্রযুক্তির দিক দিয়ে উন্নতি হলেও মানুষকে আনন্দ দানের ক্ষেত্রে বন্ড সিরিজ ইদানিং পিছিয়ে পরছে । জেমস বন্ডের লাস্ট ৩ টা সিকুয়েল এর চেয়ে আমার কাছে Kingsman টা অনেক ভাল মনে হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন