Fantastic Four (2015): কেন এমন বাঁশ? (স্পয়লার ফ্রি)

মুভিটা রিলিজের আগেই বোঝা যাচ্ছিলো এটা ফ্লপ খেতে যাচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে। কিন্তু ক্রিটিকসেও যে এটা এত ভয়াবহভাবে ডুমড হবে (pun intended), সেটা অনেকের মত আমিও ভাবিনি। গতকাল রটেন টোমাটোসে ঐতিহাসিকভাবে ৯% পাওয়া মুভিটা দেখার “সৌভাগ্য” হলো আমার। মুভিটা সবাই যত ভয়াবহ খারাপ বলছে, এত্ত ভয়ংকর খারাপ না হলেও যথেষ্টই এবং খুবই খারাপ। মুভিটা যত বেশি খারাপ রিভিউ পাচ্ছিলো, আমার তত আগ্রহ হচ্ছিলো দেখার জন্য যে, কত বড় ফাক-আপ হয়েছে যে ৯% পাওয়া লাগবে এটার এবং মুভি রিলিজের দিন পরিচালক টুইটারে এক রকমের মাফ চেয়েই বসবেন। আমার কাছে যেগুলো মনে হয়েছে মুভিটাকে ডুবিয়েছে-

 

১। মুভির রানিং টাইম ছিলো দেড় ঘণ্টা মাত্র। একটা কমিকবুক মুভি দেড় ঘণ্টা হয় কীভাবে? এটাই মুভিটাকে ডুবানোর অন্যতম মূল কারণ। এটার সূত্র ধরেই বাকি বেশিরভাগ ঝামেলাগুলো হয়েছে।

 

২। কমিকবুক মুভি অন্য জনরা এক্সপ্লোর করলেও সেটার মধ্যে কমিকবুক ফ্লেভার থাকা উচিত। বিশেষ করে ফ্যান্টাস্টিক ফোরের আলাদা ঐতিহ্য আছে মার্ভেলের প্রথম পরিবার হিসেবে। ফ্যান্টাস্টিক ফোরের কমিকগুলো বেশি ফেমাস সেগুলো আল্ট্রা-কমিকবুক বলেই। সেখানে মুভিটাকে শুধুমাত্র একটা ইন্ডি সাই-ফাই করার চেষ্টা করেছে দেখলাম। শেষের কিছুক্ষণ দেখে মনে হয়েছে এতক্ষণে মেকারদের বোধোদয় হয়েছে এটা একটা সুপারহিরো মুভি, তখন তারা ঠেসে সব ঢোকানোর চেষ্টা করেছে।

 

৩। ফ্যান্টাস্টিক ফোর একটা মোটামুটি হাসিখুশি কমিক সিরিজ। সেটাকে এমন ভয়াবহ ডার্ক আর গ্রিটি করার কোনো মানে ছিলো না। হিউমার প্রায় নেই বললেই চলে। বেশ ডাল হয়ে গেছে। ডিসির পার্মানেন্ট ডিপ্রেশনের ট্রিটমেন্ট কি দিতেই হবে?

 

৪। কাস্ট খুবই ভালো ছিলো, ইয়াং কিন্তু এফেক্টিভ সব অ্যাক্টর। কিন্তু তাদের মাঝে কোনোই কেমিস্ট্রি ছিলো না। চারজন বলা যায় চলেছে চারজনের মত। তারা মার্ভেলের সবচেয়ে পুরনো ফ্যামিলি। টিমও না, ফ্যামিলি। সেখানে তারা ছিলো কোল্ড আর ডিসট্যান্ট। প্রোমোশনাল ইন্টারভিউগুলোতেও তাদের কেমিস্ট্রির অভাব দৃষ্টিকটুভাবে চোখে পড়েছে।

 

৫। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট নেই-ই বলা যায়। পুরো ছবি একদিক দিয়ে শুধু রিড রিচার্ডসের ওপর ফোকাস করেছে। বেনের সাথে বড় হয়ে পাওয়ার পেয়ে যাওয়ার আগে তার ফ্রেন্ডশিপ এক্সপ্লোর করা হয়নি ঠিকমত। জনির ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে শুধু একটা ড্র্যাগ রেসের সিন। স্যু-র তো কিছুই নেই অ্যাডপ্টেড হওয়ার একটা ডায়লগ ছাড়া। এটা একটা অরিজিন স্টোরি। এখানে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে মাস্ট। সেখানে সেটার পেছনে কোনো সময়ই দেয়া হয়নি। স্যু-র কাজকর্মে ধারাবাহিকতা নেই, কেমন যেন ছন্নছাড়া। জনিকে ফাজিলের চেয়ে গুণ্ডা লেগেছে বেশি, সেটুকুও তাও দুই মিনিট। রিডকেও কেমন যেন ফাঁকা মনে হয়েছে। বেনকে তো দেখাই যায় না। সেখানে বেনের প্রতি রিডের এত টান কেন, থিং হওয়ার পর বেনের অভিমান- এসবের সাথে দর্শককে রিলেট করার জন্য বেনের সাথে (থিং হওয়ার আগে) দর্শকদের ঠিকমত পরিচয় তো করাতে হবে। বেন যে আগে ছিলো রিডের এক রকমের বডিগার্ড+অত্যন্ত কোমলমনা বিশ্বস্ত বন্ধু- এই ছবি দেখলে কেউ সেটা জানতেই পারবে না। কোনো ক্যারেক্টারকেই এখানে ক্যারেক্টার হওয়ার সময় দেয়া হয়নি। এজন্য এত ভালো ভালো অভিনেতাদের নিয়েও ছবিটা দাঁড়াতে পারেনি। ছবিটা দেখার পরে আমার কেট মারাকে খারাপ লেগেছে (হাউজ অফ কার্ডস দেখে আমি তার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম)। বাকিদের তেমন বেমানান লাগেনি। বর্ণবাদী মন্তব্যকারীদের ভুল প্রমাণ করে মাইকেল বি জর্ডান বাজে রাইটিং আর বাজে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যেই বেশ ভালো করেছে, মুভির বেস্ট পার্ট ছিলো সে। এ প্রসঙ্গে প্রথম দুটো ফ্যান্টাস্টিক ফোরের অনেস্ট ট্রেইলারের একটা কথা বলতেই হয়- “Make a Mexican woman put on a blonde wig and blue contacts to play Sue Storm and no one bats an eye. Cast a black guy as The Human Torch and everyone loses their minds!”

জেমি বেল মানুষরূপে খুব সুন্দর করতে পারতো, যদি তাকে সময় দেয়া হতো। মাইলস টেলার ফাঁকা একটা রোলে যা পেরেছে করেছে, স্ক্রিনটাইম বলতে গেলে তারই কিছু ছিলো। কাউকে যদি কারো মিসকাস্ট মনে হয়ে থাকে, তাহলে বাজে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর ক্যারেক্টার রাইটিংকেই (যদি কিছু থেকে থাকে) আমি দোষ দেবো।

 

৬। কী-অ্যাক্টরদের বেখাপ্পা স্ক্রিনটাইম। দেড় ঘন্টার ছবিতে জনির আবির্ভাবই ঘটেছে বিশ মিনিটের পরে। এছাড়া জেমি বেল দেড় মিনিট মাইলস টেলারের পাশে তার ডায়লগ এক-দুইবার রিপিট করে সুইচ টেপাটিপি আর “ভালো থাকিস মামা” জাতীয় ১৫-২০ সেকেন্ডের দুটো ডায়লগ দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য উধাও হয়ে যায়। এরপর প্ল্যানেট জিরোতে যাওয়ার আগে “এত রাতে? আসতেছি, দাঁড়া”, ব্যস। সোজা কথায় থিং হওয়ার আগে বেন আর রিডের ফ্রেন্ডশিপ দেখানোর মত টাইম, সিন- কোনোটাই দেয়নি। কেন ফ্রেন্ডশিপ দেখানোর কথা এতবার বলছি? পাওয়ার আসার পর সেটা তাদের মধ্যে খুব জরুরি একটা ফ্যাক্টর থাকে (যেটাও মোটামুটি আনএক্সপ্লোরড ছিলো)।

 

৭। অত্যন্ত দুর্বল ভিলেন। কোত্থেকে সে হুট করে কেন পৃথিবী ধ্বংস করতে নিলো, পৃথিবীর ওপর কেন তার এত রাগ, সেসব দর্শকদের কনভিন্স করানোর কোনো চেষ্টাই ছিলো না। তার মোটিভ ভালো ছিলো না, একেবারেই উইক। সোজা কথায় ইন্সট্যান্ট নুডলস আধাকাঁচা অবস্থায় খাওয়ালে বদহজম হলে যা হয় আরকি, দর্শকদের সেভাবে হঠাৎ করেই জোর করে তার মোটিভ গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

 

৮। সিজি শুনেছি খুব একটা ভালো না (আমি টিসিরিপে দেখেছি কিনা, তাই ‘শুনেছি’ শব্দটা ব্যবহার করলাম)। রিডের স্ট্রেচিং দেখে কিছুটা ঘেন্না লেগেছে।

 

৯। ট্রেইলারের ৩০-৪০% মুভিতে নেই।

 

১০। মুভিটার প্রথম আধাঘণ্টা খুব একটা খারাপ ছিলো না, কিন্তু শেষ আধাঘণ্টা ছিলো একেবারেই ক্লাস্টারফাক। পাওয়ার পেয়ে যাওয়ার পর থেকে পতন শুরু হয়েছে মুভিটার বলে আমার মনে হয়েছে। হঠাৎ করে কোত্থেকে কী হয়ে গেলো, সেটা হুড়মুড় করে শেষ করার চেষ্টায় একসাথে সব তাড়াতাড়ি দেখাতে গিয়ে হযবরল হয়ে গিয়েছে। সেটাই হচ্ছে মুভিটাকে ডুবানোর মূল কারণ। জঘন্য ক্লাইম্যাক্স ফাইট। সবকিছু তাড়াহুড়া করে একসাথে আবারও গেলানোর চেষ্টা। যেখানে ক্যারেক্টারগুলোর সাথেই পরিচয় করানোর সময় দেয়া হয়নি আমাদের, সেখানে হঠাৎ করে সবকিছু কয়েক মিনিটের মাঝে একসাথে খাওয়ানোর ফল হচ্ছে একটা ম্যাসিভ বদহজম, যেটার নাম হচ্ছে ফ্যান্টাস্টিক ফোর।

 

১১। মুভিটার কোনো আগামাথা নেই। এটাকে মুভির চাইতে ট্রেইলারই মনে হয়েছে আমার বেশি। একগাদা আলাদা আলাদা টুকরা জোড়া দিয়ে জোড়াতালি করে মুভি দাঁড় করিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা ঠিক একটা ভালো মুভি হয়ে ওঠেনি।

 

 

আমার রেটিং: ৪/১০ – এই চার দিয়েছি প্রথম আধাঘণ্টার জন্য। মুভিটা বুঝেছিলাম বাঁশ খাবে, তবে ভেবেছিলাম খেলে খাবে বক্স অফিসে, ক্রিটিকসে অত একটা না। ট্রেইলার দেখে বেশ ভালোই মনে হয়েছিলো। ভেবেছিলাম অন্য রকম কিছু করতে যাচ্ছে। সেই অন্য রকমটা এত বাজেভাবে এক্সিকিউট করবে ভাবিনি। এখন তারা মার্ভেলের কাছে যেহেতু বেচার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সিক্যুয়েলের কাজ শুরু করেছে, তাই আমি বলবো যে কোনো মূল্যে এই ভুলগুলো শোধরাক। অবিলম্বে হার্ডকোর পপকর্ণ ডিরেক্টর নিক (ইভেন মাইকেল বে-ও বেটার হবে এই জগাখিচুড়ি থেকে), কাস্টদের একসাথে এক-দুই মাস ভ্যাকেশনে পাঠাক কেমিস্ট্রি বিল্ডআপের জন্য, রাইটিং ভালো করুক, টোন একটু হালকা করুক, কিছুটা হিউমার থাকুক। সবচেয়ে ভালো হয় কাস্ট একই রেখে যদি মার্ভেলের কাছে বেচে দেয়। তাহলে রিবুটও হবে না, আবার ভালো ছবিও পাওয়া যাবে। এটার চাইতে খারাপ মুভি অন্তত হবে না।

 

মার্ভেলের বিশাল ভক্ত আমি, কারণ তাদের ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে এটা আসলেই কমিকবুক মুভি। হ্যাঁ, এটা ফক্স মার্ভেল, কিন্তু তবুও এত জঘন্য ছবি তাদের কাছ থেকে এক্সপেক্ট করিনি আমি। এটার কাছে ২০০৫ আর ২০০৭ সালের ফ্যান্টাস্টিক ফোর দুটো হচ্ছে মাস্টারপিস। আর হ্যাঁ, এটাকে স্পয়লার ধরলেও ধরতে পারেন- এই মুভিতে স্ট্যান লির ক্যামিও নেই।

 

Fantastic Four (2015)
Fantastic Four poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Josh Trank
Writer: Simon Kinberg (screenplay), Jeremy Slater (screenplay), Josh Trank (screenplay), Stan Lee (characters), Jack Kirby (characters)
Stars: Miles Teller, Michael B. Jordan, Kate Mara, Jamie Bell
Runtime: 106 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi
Released: 7 Aug 2015
Plot: Four young outsiders teleport to an alternate and dangerous universe which alters their physical form in shocking ways. The four must learn to harness their new abilities and work together to save Earth from a former friend turned enemy.

(Visited 151 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. একেবারে ফালতু মুভি,,,!! আমার সময় টাই লস,,,।

  2. The way everything is going, we may see black batman in a few years. Hollywood is ruining the good things in the name of equality. I still can’t get over the female ghostbusters!

  3. Raju Ahmed says:

    পুরাই ফালতু চিত্রনাট্য।মারভেলের সব থেকে বাজে ছবি এটা।

    • Momen Hasan says:

      এইটা মারভেল এর না ফক্স এর..!!

    • কমিক হচ্ছে মার্ভেলের, কিন্তু ৯০ এর দশকে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর তারা ফক্সের কাছে ফ্যান্টাস্টিক ফোর আর এক্স-মেনের ফিল্ম রাইটস বেচে দেয়। ওই মুভিগুলোর সাথে আসল মার্ভেলের যোগাযোগ খুব কমই থাকে।

    • Momen Hasan says:

      X-men and Fantastic four এই মুভি গুলা তে মারভেল এর তাকানো ছাড়া কিচ্ছু করার থাকেনা…বাট আমি ফক্স এর কাছে থেকে বেশি কিছু এক্সপেক্ট করি..আগে স্পাইডার মেন সনি কাছে ছিল বাট এখন মারভেল নিয়া নিচে…!!!

  4. Anonymous says:

    খুব ভাল লখছেন দাদা

  5. হুদাই সময় নষ্ট। কাহিনী বইলা কিছু নাই… তেনারা আসলে কাহিনী খুইজাই পায় নাই.. সিনেমা শুরুই করছে পিচ্চকাল থিকা ১ ঘন্টা ৩২ সিনেমায় ১৫ -২০ মিনিট ধইরা পিচ্চ কালের হিস্টরি….. কাহিনী না পাইলে ১ ঘন্টার মুভি বানাইতি…. পুরা ডিলা মুভি… ঘুমায় গেছিলাম প্রায়… পুরাই বিরক্ত..

  6. Thats what happens when u change a superheros original ethnicity for the fucking sake of racial equality..

    • “বর্ণবাদী মন্তব্যকারীদের ভুল প্রমাণ করে মাইকেল বি জর্ডান বেশ ভালো করেছে, মুভির বেস্ট পার্ট ছিলো সে।” Trust me on this, mate. There were 99 reasons the movie sucked, but the change of ethnicity wasn’t fucking one.

    • well, from the reviews i have seen..he also sucked totally..and by the way its all about ur preference..if u have no problem seeing Superman/Batman as a Black guy, good for u..for me, originality matters..

  7. এইটার থেকে ফালতু মুভি খুব কম দেখছি

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন