কাঠখোট্টা একজনের প্রিয় কিছু রোমান্টিক ছবি (পর্ব ১)

রোমান্টিক ছবি আমার তেমন পছন্দ না, তাই তেমন একটা দেখিও না। বিশেষ করে যখন নানা মেইনস্ট্রিম হলিউডি ক্লিশের রোমান্টিক কমেডি আর নিকোলাস স্পার্কস নামের এক বিষের একই কাহিনীর ভয়াবহ ন্যাকামির একগাদা মাথা ধরানো মেলোড্রামা The Notebook, A Walk (yuck) to Remember (আমি আমার জীবনের মূল্যবান দেড় ঘণ্টা ফেরত চাই), The Best of Me, The Lucky One, Dear John, Safe Haven, Nights in Rodanthe, Message in a Bottle, The Longest Ride ইত্যাদি ইত্যাদি নাম নিয়ে প্রতিবছর বের হয়, যেখানে কাহিনীর বালাই নেই, থাকে শুধু আবেগের উৎকট প্রকাশ (“If you’re a bird, I’m a bird”, “You should be kissed every minute, every second of everyday” or something- seriously?!?), তখন রোমান্টিক জনরাটার ওপরেই ঘৃণা ধরে যায়। তবে এসবের বাইরেও প্রচুর ছবি আছে বলে বেঁচে গেছি আমি, কারণ সেগুলো আছে বলেই এই জনরাটা এখনও দেখা হয় আমার। তেমনই কিছু ছবি শেয়ার করছি আজকে। অত্যধিক ন্যাকামিতে অতিষ্ঠরা তো বটেই, বাকিদেরও ভাল লাগবে এগুলো।

 

364aa649c7cb17346ca4d80cd4efc4f4

Amélie (2001):  চলচ্চিত্রপ্রেমী মানেই এই ছবিটা দেখা হয়েছে আপনার। সিনেমার ইতিহাসে অদ্রে ততু অভিনীত এই ফ্রেঞ্চ ছবিটা ক্লাসিক হয়ে আছে এর অন্যরকম গল্প, হিউমার আর ভিজ্যুয়াল ও ন্যারেটিভ স্টাইলের জন্য। প্যারিসের বাসিন্দা আমেলি খুবই লাজুক স্বভাবের এক ওয়েইট্রেস। নিউরোটিক পরিবারে বড় হওয়ার প্রভাব একা থাকতে পছন্দ করা আমেলির ওপর ভালোভাবেই পড়েছে। প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার দিনে আমেলি তার বাথরুমের দেয়ালের এক টাইলসের ফাঁকে খুঁজে পায় একটা পুরনো বক্স, যাতে আছে কার যেন ছোটবেলার অনেক স্মৃতি। আমেলি তখন সেই লোকের সন্ধানে নামে বাক্সটা ফিরিয়ে দেবে বলে। ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে পেয়ে বাক্সের মালিকের আনন্দ দেখে আমেলি তখন সিদ্ধান্ত নেয় আশপাশের মানুষকে সে খুশি করবে। আনন্দের অভিযানে নেমে আমেলি খুঁজে পায় নিজের ভালোবাসাকেও।

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1L1UNQt

 

MV5BMjAzOTgyOTU4OF5BMl5BanBnXkFtZTcwNDYxMjcxNg@@._V1_SX640_SY720_

 

Like Crazy (2011): লাইক ক্রেজি একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট রোমান্টিক ড্রামা। ব্রিটিশ ছাত্রী অ্যানা অ্যামেরিকায় পড়তে এসে প্রেমে পড়ে অ্যামেরিকান জেকবের। প্রেমের টানে অ্যামেরিকায় ছুটির সময়েও থাকতে গিয়ে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ এর মাঝে শেষ করে ফেলে সে। এরপর বাড়িতে গিয়ে আবার অ্যামেরিকায় ফিরতে গেলে এয়ারপোর্টে আটকে দেয়া হয় তাকে, পরে পাঠিয়ে দেয়া হয় ইংল্যান্ডে। জেকবও অনেক চেষ্টা করে তাকে অ্যামেরিকায় আনার, কিন্তু কড়াকড়ি ইমিগ্রেশন পলিসির জন্য আর আসতে পারে না অ্যানা। এদিকে পরে জেকব কয়েকবার ইংল্যান্ডে গেলেও মাঝখানের আটলান্টিক মহাসাগরের দূরত্ব ধীরে ধীরে তাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝেও আটলান্টিকের দূরত্ব সৃষ্টি করে দেয়। ফেলিসিটি জোন্স, অ্যান্টন ইয়েলচিন ও জেনিফার লরেন্স অভিনীত এই ছবিতে লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে অসাধারণভাবে।

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1Im0Aez

 

 

il_fullxfull.361921598_45hs

Gone With the Wind (1939): হলিউড ক্লাসিক এই ছবিটা যত না রোমান্টিক, তার চেয়েও বেশি ড্রামা। বড়লোকের আহ্লাদী মেয়ে স্কারলেটকে পাওয়ার জন্য যখন তার দরজার সামনে ছেলেদের লাইন পড়েছে, তখন স্কারলেট লালায়িত হচ্ছে এমন একজনের জন্য, যাকে সে কখনোই পাবে না। স্কারলেটের জন্য বেশ বিব্রতকর এক ঘটনার সাক্ষী হয় এক ধুরন্ধর লোক রেট বাটলার, যে ঘটনায় বেশ মজা নিচ্ছে বোঝা যায়। এর মাঝে শুরু হয় অ্যামেরিকার গৃহযুদ্ধ। বেঁচে থাকার তাগিদেই বদলে যেতে হয় স্কারলেটকে। দুবার বিয়েও করে সে, কিন্তু বোঝাই যায়, সুখী হতে পারেনা সে। এদিকে বারবার তার দেখা হতে থাকে রেটের সাথে, দুজনের মাঝে এক ধরনের লাভ/হেট রিলেশনশিপ হতে থাকে। কিন্তু স্কারলেট কি আসলেই বদলে গেছে? আসলেই কি সুখী হতে পারবে? Rhett probably doesn’t give a damn, but you’ll do.

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1SqDpaf

 

french_poster_punch-drunk_love_big

Punch-Drunk Love (2002): অ্যাডাম স্যান্ডলার কি ভালো ছবি ইচ্ছা করেই করে না, নাকি পায় না, জানি না। তবে ভাল পরিচালক আর ভাল ছবি পেলে তার থেকেও যে অস্কার কোয়ালিটির অভিনয় বের হতে পারে, পল থমাস অ্যান্ডারসনের কিছুটা অদ্ভুত এই অফবিট রোমান্টিক কমেডি-ড্রামাটাই তার প্রমাণ। ব্যারি ইগান একজন (মনে হয়) পাইকারি ব্যবসায়ী। লাজুক আর একাকী ব্যারি তার একগাদা বোনের খোঁটা খেয়ে খেয়ে আরও বেশি চুপচাপ হয়ে গেছে। তার পরিচয় হয় এক ইংরেজ মহিলা লিনার সাথে। একাকিত্ব কাটাতে গিয়ে একদিন ব্যারি এক ফোন সেক্স লাইনে ফোন করে। সেখান থেকে ব্যারির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিয়ে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা মাস্তান পাঠায় ব্যারিকে খুঁজতে। এদিকে ব্যারি বুঝতে পারে লিনাকে সে ভালোবেসে ফেলেছে। দুদিক সামাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে।

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1Fo88Lw

 

maxresdefault

Love Actually (2003): সব রোমান্টিক কমেডির বাপ হচ্ছে ব্রিটিশ এই ক্রিসমাস রোমান্টিক কমেডি মুভিটা। বড়দিনের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে লন্ডনের নানা বাসিন্দার জালের মত ছড়ানো ভালোবাসার গল্প নিয়ে রিচার্ড কার্টিস তৈরি করেছেন এই অল-স্টার ছবি। কেউ সেখানে প্রেমে পড়ে, কেউ প্রেম থেকে পড়ে যায়, কেউ রঙিন হাওয়ায় ওড়ে, আবার কেউবা প্রেমভাগ্যের সন্ধানে উড়ে যায় অন্য কোনো দেশে। লিয়াম নিসন, কলিন ফার্থ, হিউ গ্র্যান্ট, এমা থমসন, বিল নাইয়ি, কিরা নাইটলি, মার্টিন ফ্রিম্যান, লরা লিনি, রদ্রিগো সান্তোরো, অ্যালান রিকম্যান, রোয়ান অ্যাটকিনসন, বিলি বব থর্নটন, চুইটেল এজিওফোর, অ্যান্ড্রু লিঙ্কন- কে নেই এখানে? হেভিওয়েট অভিনেতাদের সাথে জুটি বেঁধেছেন লাইটওয়েটরাও। সবরকম ভালোবাসাই দেখানো হয়েছে এখানে। ভালোবেসে সবার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় না বটে, কিন্তু দুনিয়ার মারামারি-হানাহানি দেখে যখন মন বিষণ্ন হয়ে যায়, তখন লাভ অ্যাকচুয়ালি মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা আছে… সবখানেই।

 

এই ছবিটা নকল করে হলিউড বেশ কয়েকটা ট্র্যাশ বানিয়েছে- Valentine’s Day, New Year’s Eve. বলিউডি নকলও আছে- Salaam-E-Ishq. তবে সবচেয়ে জঘন্য হলো, আমাদের দেশেও এটার হুবহু, ক্যারেক্টার-টু-ক্যারেক্টার নকল আছে- ভালোবাসি তাই। শেষে আবার লেখা “গল্প ও পরিচালনায়: শিহাব শাহীন”! কোথাও লেখা নেই বিদেশি চলচ্চিত্র অবলম্বনে। সেগুলোর কোনোটাই কিন্তু অরিজিনালটার ধারে-কাছেও আসতে পারেনি।

নির্ঝর রুথ আপুর লেখা চমৎকার একটি রিভিউ: http://bioscopeblog.net/nirjhar-ruth/15761

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1JZOD2o

 

The-Great-Gatsby-Alternative-Poster

The Great Gatsby (2013): বিশের দশক, অর্থাৎ জ্যাজ যুগে অ্যামেরিকা তখন সরগরম। গ্রেট ডিপ্রেশনপূর্ব সময়ে যখন চোরাচালানি আর অন্যান্য ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠছে ব্যবসায়ীরা, সেই গ্ল্যামারাস সময়েই কেউ হয়ত সেই গ্ল্যামারকেই আশ্রয় করছে হারানো ভালোবাসাকে ফিরে পেতে। কিন্তু টাকা হলেই ভালোবাসা কেনা যায় না, সেজন্য ভালোবাসার মানুষটার একটা হৃদয়ও থাকা চাই, নইলে তাকে পেতে এত অর্থ উপার্জন হয়ে পড়ে একেবারেই মূল্যহীন। তবে গ্যাটসবি কিন্তু আশায় বুক বাঁধে, ডেইজি ফিরে আসবে তার কাছে। গ্যাটসবি আর বিবাহিত ডেইজির এই অধ্যায়ে নিমরাজি হয়েই ঢুকে পড়ে নিক। কী আবিষ্কার করে সে?

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1N5rgo3

 

sabrina-audrey-hepburn-humphrey-bogart

Sabrina (1954): রোমান হলিডের দৌলতে অড্রি হেপবার্ন তখন কোটি মানুষের হৃদয়ের রানী। পরের বছর তার বিপরীতে এই রোমান্টিক কমেডিতে দেখা যায় স্ক্রিন লেজেন্ড হামফ্রি বোগার্টকে। বিশাল বড়লোকের বাড়ির ড্রাইভারের মেয়ে সাবরিনা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে মনিবের ছোট ছেলে প্লেবয় ডেভিডের। রান্নার ওপর কোর্স করতে প্যারিস গিয়ে প্লেইন জেইন সাবরিনা ফিরে আসে অপ্সরীরূপে। ডেভিড তখন তার প্রেমে পড়ে যায়। সাবরিনার সব স্বপ্নই যখন সত্যি হতে যাচ্ছে, তখন মানসিকতায় উন্নত হয়ে ওঠা সাবরিনা নিজেকে আবিষ্কার করে ডেভিডের গুরুগম্ভীর বড় ভাই লাইনাসের প্রতি ঝুঁকে পড়তে।

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1J5z6zl

 

31b66162b875da75b73ba1cee0229d8c

Atonement (2007): বড় বোনের প্রেমিকের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দুটো জীবন তছনছ করে দেয় ১৩ বছরের ব্রায়োনি। বড় হয়ে ভুল বুঝতে পারার পর শুরু হয় তার আত্মদহন আর প্রায়শ্চিত্তের পালা। আর শেষে যা হয়, তার জন্য প্রস্তুত থাকবেন না কেউই। অ্যাটোনমেন্ট আপনাকে প্রথমে আশায় বুক বাঁধাবে, তারপর কাঁদাবে আর তারপর আপনার মনে হবে আপনার হৃদয় বলে যেন কখনোই কিছু ছিল না, আর কখনও যেন সুখী হতে পারবেন না আপনি।

ফুল রিভিউ: http://bioscopeblog.net/fireboltphoenix/32829

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1d3xx6x

 

Moulin_Rouge

 

Moulin Rouge! (2001): হলিউডের বলিউডি ছবি হলো এটা। কাহিনী মোটামুটি সাধারণ- হতাশাগ্রস্ত এক দরিদ্র লেখক ক্রিশ্চিয়ান প্যারিসের ক্যাবারে থিয়েটার ম্যুলান রুঝে গিয়ে প্রেমে পড়ে নর্তকী সাতিনের (দুই অর্থেই সে নর্তকী)। এদিকে সাতিনকে পেতে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে এক ডিউক। ছবির মূল আবেদন হলো এর চোখ ধাঁধানো আর্ট ডিরেকশন আর কস্টিউমসমৃদ্ধ গানগুলো। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯০০ সালের হলেও গানগুলো কিন্তু হালের। সাথে ইউয়ান ম্যাকগ্রেগরের নিষ্পাপ চেহারা আর অপূর্ব কণ্ঠ তো আছেই (নিকোল কিডম্যানও অবশ্য খারাপ না)!

ডাউনলোড লিঙ্ক: http://bit.ly/1d3xB6i

 

(চলবে)

(Visited 503 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. *** নীতিমালা ভঙ্গ করায় কমেন্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। [বায়োস্কোপ কর্তৃপক্ষ]

    • আপনার শব্দচয়ন আর ভাষার ব্যবহার খুবই ভালো লাগল। রুচিশীল সুন্দর মন্তব্য ও বাল্যবিবাহকে সমর্থন দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। রুচি আর মতের অমিল হতেই পারে, তাই বলে কি ভাষা এমন করতে হবে? আমার আগের একটা লেখায় তো সুন্দর ভাষায় কমেন্ট করেছিলেন আপনি, সেটা সামান্য একটা মুভি অপছন্দ লাগায় এত রূঢ় রূপ নিলো! আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

    • LOL .. I wasn’t serious in my comment .. I wanted to tell you that you cant say Yakk for a film like A walk to remember … Most of the people love this film .. You better say it was disappointing or you didn’t like it but Yakk is not an appropriate word to describe a film like this ..

      And About my comment .. well, dnt take it seriously .. its a friendly comment, nothing else 😀

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন