“ইন্টারস্টেলার”, বাস্তবতা আর বাস্তবসম্মত কল্পনার অভূতপূর্ব রসায়ন।

Film-Instellar-2014-545

মুভিঃ ইন্টারস্টেলার
ডিরেক্টরঃ ক্রিস্টোফার নোলান
শ্রেষ্ঠাংশেঃ ম্যাথু মেকোনাহে, এনা হ্যাথওয়ে, জেসিকা চাসটেইন, স্যার মাইকেল কেইন

 

আমরা মানুষ জাতি সবসময়ই নতুনত্বে অভিভূত হই। মুভিতেও নতুনত্ব আসছে। স্বভাবতই আমাদের অভিভূত হওয়াই উচিৎ। আমাদের সেই ট্রেন্ড থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ যেখানে কোন সিনেমা দেখার একমাত্র উদ্দেশ্যই থাকে বিনোদন। আমি বলছিনা বিনোদন থাকবে না। বিনোদন অবশ্যই প্রধান বিষয়। আমার তর্ক হচ্ছে বিনোদনই কেন একমাত্র বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে? কথাগুলো এইজন্য বলছি অনেকের ইন্টারস্টেলার নিয়ে প্রধান অভিযোগই হচ্ছে এটির প্লট দুর্বোধ্য, সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কখনই না। একটি মুভি দেখার আগে প্রত্যেকেরই মুভির প্লট সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিৎ। সবার সব মুভি ভাল লাগবে এটা কখনই সম্ভব না। আমি রোমান্স জনরা খুব একটা পছন্দ করি না। এখন যদি আমি দ্যা নোটবুক এর প্লট না পড়েই হলে মুভিটা দেখে বের হয়ে কান্নাকাটি করি “পুরা টাকাটা পানিতে ফেলে দিলাম”, সেক্ষেত্রে দোষ আমারই, কোনভাবেই মুভির না। তো যারা এখনো ইন্টারস্টেলার দেখেন নি তাদের প্রতি আমার একটা অনুরোধ থাকবে মুভিটি দেখার আগে কয়েকটা বিষয় সম্পর্কে ন্যূনতম নলেজ রেখে মুভিটি দেখতে যাবেন। আমি নীচে ব্যাপারগুলো অল্প কথায় একটু বলার চেষ্টা করছি যদিও রিভিউতে এসব ব্যাপার নিয়ে লেখা অপ্রাসঙ্গিক।


ওয়ার্ম-হোলঃ 
ওয়ার্ম-হোলের আরেকটি নাম হচ্ছে আইন্সটাইন-রোসেন ব্রিজ। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটি দুইটি মাধ্যমের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। সেই দুইটি মাধ্যম হচ্ছে দুইটি আলাদা স্পেস-টাইম। আরো সহজ করে বলতে গেলে দুইটা আলাদা স্পেস-টাইম এর মধ্যকার শর্টকাট রাস্তা হচ্ছে এই ওয়ার্ম-হোল। অর্থাৎ আপনি একটি ওয়ার্ম-হোলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্পেসটাইমে প্রবেশ করবেন।

Capture

ওয়ারম-হোল যেভাবে কাজ করে

Interstellar-wormhole

ইন্টারস্টেলারে ওয়ার্ম-হোলের কাল্পনিক গঠন


ব্ল্যাক-হোলঃ
ব্ল্যাক-হোল হচ্ছে এমন একটি প্রচন্ড মহাকর্ষীয় বল যেটির মধ্য থেকে বাস্তবিক কোন কিছুই এমনকি আলোও বের হতে পারে না। যার কারণে আমরা এটিকে দেখতে পারি না। যদিও এর চারপাশে একটি গোলাকার বলয় লক্ষ্য করা যায়। এটি মুলত ব্ল্যাকহোলের সারফেস ক্রস করার সময় বাহ্যিক বস্তুর সাথে এটির ঘর্ষণের ফলে গঠিত হয়। ব্ল্যাকহোল এর অভ্যন্তরে কি থাকতে পারে কিংবা এর ভিতর প্রবেশ করা বস্তুর কি হয় এসব এখনো পরিস্কারভাবে জানা সম্ভব হয় নি।

 

interstellar

ইন্টারস্টেলারে ব্ল্যাক-হোলের কাল্পনিক গঠন


গ্র্যাভিটেশনাল টাইম ডিলেশনঃ
ক্লাসিকাল মেকানিক্সে আমরা শুধু একটি বস্তুকে তিনটি মাত্রায় বিবেচনা করে থাকি। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা। সেখানে সময়কে ধ্রুবক বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু আসলে সময় বস্তুভেদে সবসময় ধ্রুবক থাকে না। বস্তুর গতি যদি আলোর কাছাকাছি হয় কিংবা বস্তু যদি প্রচন্ড গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স‌ের মধ্যে থাকে তবে একটি বস্তুর সাপেক্ষে আরেকটি বস্তুর সময়ের তারতম্য ঘটে। যেমন- পৃথিবীর চেয়ে অনেক গুণ বেশি গ্রেভিটেশনাল ফোর্স‌ের কোন গ্রহে কোন এস্ট্রোনাট যদি ভ্রমণ করেন তবে সেখানকার কয়েক ঘন্টা পৃথিবীর কয়েক বছরেরও সমান হতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই সময় পৃথিবীর সাপেক্ষে ধীরে চলবে। অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি স্পেসে কয়েক মাস কাটানোর পর পৃথিবীতে এসে দেখলেন যে পৃথিবীতে কয়েক যুগ পেড়িয়ে গেছে। এখান থেকে আমরা মোটামুটি চতুর্থ এবং পঞ্চম মাত্রার একটি ধারণা পাই (টাইম, গ্র্যাভিটি)।

 

blackholes_singularity

ব্ল্যাক-হোলের কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি


গ্র্যাভিটেশনাল সিঙ্গুলারিটিঃ 
যখন শুধুমাত্র কোঅরডিনেট সিস্টেম ( দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ) দিয়ে কোন একটি গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ডকে মেজার করা সম্ভব হয় না, থিয়োরিটিকালি যখন কোন গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ডের মাত্রাগুলো ইনফাইনাইট, সেই অবস্থাকে সিঙ্গুলারিটি বলে। একটি ওয়ান ডাইমেনশনাল পয়েন্ট কে যদি আমরা দৈর্ঘ্যে বর্ধিত করি একটি লাইন পাব এবং পরবর্তীতে লাইনটিকে একইভাবে প্রস্থে বর্ধিত করে একটি বর্গ পাই যেটি টু ডাইমেনশনাল। আবার অনেকগুলো বর্গকে একটির উপর আরেকটি রেখে আমরা একটি ঘনক পাব যেটি থ্রি ডাইমেনশনাল। এভাবে যদি আমরা ডাইমেনশন বাড়াতে থাকি, হায়ার ডাইমেনশনে, উদাহরণস্বরূপ পঞ্চম ডাইমেনশনে আমরা এই ঘনকগুলোকে টাইম এর এস্পেক্টে আলাদা আলাদা করে ভাগ করতে পারব। সিঙ্গুলারিটিতে অর্থাৎ যখন ডাইমেনশন থিয়োরিটিকালি ইনফাইনাইট তখন এটি একটি হায়ার ডাইমেনশনাল “টেসারাক্ট” এ পরিণত হয়। আপাতত যেটাকে আমরা ধরে নিচ্ছি একটি হায়ার ডাইমেনশনাল ঘনক। ধারণা করা হয় বিগ ব্যাং এর আগে সিঙ্গুলারিটি ছিল। এছাড়াও নক্ষত্রের এক্সটিংশনের পর যে ব্ল্যাকহোল তৈরি হয় এর কেন্দ্রেও সিঙ্গুলারিটি তৈরি হতে পারে।

 

অনেক সায়েন্টিফিক আলোচনা হল। এখন একটু মুভির প্লট নিয়ে কথা বলি। নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য প্ল্যানেটে পরিণত হবে। চরম খাদ্যাভাব মানুষের বিজ্ঞান চর্চা, মহাকাশ অভিযানের মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোকে পরিণত করবে বিলাসিতায়। গল্পের প্রটাগনিস্ট, প্রাক্তন নাসা পাইলট কুপার এটা মেনে নিতে পারে না। তার বিশ্বাস মানব সভ্যতা এই প্ল্যানেট এ সৃষ্টি হওয়ার অর্থ এই না যে এখানেই তাদেরকে বিলীন হতে হবে। তার এই ধারণা আরো গাঢ় হয় যখন সে একটি বাইনারি মেসেজ রিসিভ করে এমন একটি উপায়ে যেটির ব্যাখ্যা পার্থিব উপায়ে দেয়া সম্ভব নয়। সেই মেসেজের সূত্র ধরে সে নাসার একটি আন্ডারগ্রাউন্ড টিমের সন্ধান পায় যাদের দৃঢ় বিশ্বাস “কেউ” তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। “তারাই” কুপারকে এখানে লিড করেছে। এছাড়া শনি গ্রহের কাছাকাছি একটি ওয়ার্ম-হোল আবিষ্কার করে ওই টিমের টিম লিডার প্রফেসর ব্যান্ড যেটি মানুষের অন্য বসবাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে।


interstellar_202014creditglobalsat

কুপার চরিত্রটিকে বাস্তবিক রুপ দিয়েছে ম্যাথু মেকোনাহে। সে একাধারে একজন ইঞ্জিনিয়ার, প্রাক্তন নাসা পাইলট এবং একজন করমনিষ্ঠ কৃষক। যেখানে মানুষের খাদ্যের মৌলিক চাহিদাটুকু আজ হুমকির মুখে সেখানে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা নাসা পাইলট সমাজে কোন গুরুত্ব বহন করে না। একজন দায়িত্ববান পিতা হিসেবে সে তার পরিবারকে প্রোভাইড করাটাকেই প্রাধান্য দেয়। কিন্তু একটা সময় সে বুঝতে পারে যে এভাবে আর পৃথিবীতে মানুষ বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।
ম্যাথু মেকোনাহে এই ক্যারেক্টারে কেমন করেছে সেটিতে পরে আসছি, প্রথমে বলতে হয় এই ক্যারেক্টারকে সে ফিল করতে পেরেছে কিনা। আমার উত্তর শতভাগ হ্যাঁ। কিন্তু এটি তার সেরা পারফরমেন্স না। ইমোশনাল সিনগুলোতে সে সবটা দিতে চেয়েছে কিন্তু সবসময় সেটা ক্লিক করেনি। কিছু কিছু যায়গায় ওভারসেচুরেটেড আবার কিছু যায়গায় একেবারেই প্লেইন মনে হয়েছে। মোটের উপর সে ভাল করেছে কিন্তু আরো ভাল আশা করেছিলাম তার কাছ থেকে।


interstellar_3

কুপারের মেয়ে “মারফ” চরিত্রে মেকেঞ্জি ফয় ছিল অসাধারণ। মারফ তার পিতার মতই এডভেঞ্চার প্রেমী। যখনই কুপার মারফের সাথে সিন শেয়ার করছিল তখনই মারফ সিনটা কেঁড়ে নিচ্ছিল। বাবা মেয়ের সৌহার্দপূর্ণ এই সম্পর্ক মুভিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মুভির বিল্ড আপে এটি একটি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। আমি এই ক্যারেক্টারে এতটাই ইনভেস্টেড ছিলাম সে সময়টাতে বাকিদের পারফরমেন্স আমার চোখেই পড়ছিল না তখন।
পরবর্তীতে বয়স্ক মারফ ক্যারেক্টারটি চিত্রায়িত করে জেসিকা চাস্টেইন। এত বড় বড় তারকার ভীরে একমাত্র জেসিকাই তার নামের সদ্ব্যবহার করেছে। পিচ পারফেক্ট অভিনয় করেছে সে। শী ওয়াজ দ্যা বেস্ট।


637071_602i

প্রফেসর ব্র্যান্ড চরিত্রে স্যার মাইকেল কেইন বেশ ভাল করেছেন। প্রফেসর ব্র্যান্ড হচ্ছেন সেই ব্যাক্তি যিনি মানুষের এই অবশ্যম্ভাবী বিলুপ্তি প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলেন এবং এর থেকে কীভাবে মানব জাতিকে রক্ষা করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করছেন। ক্যারেকটারের গ্রেভিটি অনুযায়ী উনার কাস্টিং ছিল চমৎকার।

 

প্রফেসর ব্র্যান্ড এর মেয়ে এমিলিয়া ব্র্যান্ড চরিত্রে এনা হ্যাথওয়ে আমাকে হতাশ করেছে। কুপারের সফরসঙ্গীদের মধ্যে সেই একামত্র বায়োলজিস্ট যে পটেনশিয়ালি ইনহ্যাবিটেবল প্ল্যানেট এর ডাটা এনালাইজ করে সেটি মনুষ্য বসবাসের উপযোগী কিনা সেটি যাচাই করবে। কুপার এর পর এই ক্যারেক্টারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু সেটা মুভি দেখে অনুভূত হয় নি। কেন এমনটা হয়েছে আমি বুঝে উঠতে পারি নি। এনা হ্যাথওয়ে একজন টেলেন্টেড এক্ট্রেস এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এখানে সে তার সবটার কাছাকাছিও দিতে পারে নি। অনেকের সাথে আমার মতের মিল নাও থাকতে পারে কিন্তু আমার কাছে ওকে একদমই ভাল লাগেনি।


542c270774ed87dd423a3073_anne=hathaway-interstellar

বাকি চরিত্রগুলোতে অন্যান্য কাস্ট মেম্বাররা ভাল করেছেন। তবে টম কুপার (কুপারে ছেলে) চরিত্রটি এতটাই আন্ডারডেভেলপড ছিল যে কেসি এফ্লেক(বয়স্ক টম) কিংবা টিমথি(টিনেজার কুপার) এর বেশি কিছু করার ছিল না।

 

মুভির গল্প ছিল অসাধারণ। বর্তমান সময়ে এত ইউনিক, এম্বিশাস গল্পের দেখা মিলে না। নোলান তার নামের সাথে আরো একটি মডার্ন এপিক যুক্ত করলেন। গল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল এটিকে পর্দায় রুপ দেয়া। যেটি মনে হয় না আরও নিখুঁত করা সম্ভব ছিল। বলছিনা গল্পটি ফ্ললেস ছিল। কিন্তু ওয়াও, এটি একটি জার্নি ছিল। কিছু প্রশ্নের হয়ত উত্তর পাওয়া যায়নি, কিছু জিনিস হয়ত পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পায় নি। এ সব কিছুই মেনে নেয়া যায় কারণ তিনি নতুন কিছু করেছেন।
যেটিতে আমার অভিযোগ আছে সেটি হচ্ছে মুভির স্ক্রিনপ্লে। জনাথন নোলানের উপস্থিতি টের পাই নি তেমন। যে কয়টি ডায়লগ মুভিটির ট্রেলারে ছিল সেগুলোই যেন মুভিতে আবার নতুন করে শুনলাম।

 

মুভিটির মেকিং ছিল স্পেক্টেকুলার। এখানে নোলান সাহেব কোন ফাঁক ফোকর রাখেন নি। ওয়ার্ম-হোল, ব্ল্যাকহোল, স্পেস-টাইম রিপ্রেজেন্টেশন ভিজুয়ালি যেমন ছিল অসাধারণ তেমনি ছিল নির্ভুল। সি জি আই এর ব্যাবহার ছিল মিনিমাম যার কারণে দর্শক বাস্তবিক অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হবেন না। স্পেসের শটগুলো ছিল আনম্যাচড। সত্যিকার অর্থে আমি চিন্তা করছি নোলান তার পরবর্তী প্রজেক্টগুলোকে আর কোন উচ্চতায় নিয়ে যাবে!

 

মুভির স্কোর নিয়ে একটু কথা না বললেই নয়। আমি যখন হলে বসে মুভিটি দেখছিলাম মুভির কয়েকটা সময়ে স্কোরের ওভারলেপিং এর কারণে আমার ডায়লগ বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে বাসায় এসে আমি ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখলাম। ব্যাপারটি নোলান একনলেজ করেন এবং এর উপর মন্তব্যও করেছেন। যদিও আমি তার সাথে একটু দ্বিমত পোষণ করছি এই ব্যাপারটি নিয়ে তার কথাটুকু আমি এখানে তুলে ধরলাম। তিনি বলেনঃ


“There are particular moments in this film where I decided to use dialogue as a sound effect, so sometimes it’s mixed slightly underneath

the other sound effects or in the other sound effects to emphasize how loud the surrounding noise is. It’s not that nobody has ever done
these things before, but it’s a little unconventional for a Hollywood movie.”

 

মুভিতে সবসময় আমরা সব কথাবার্তা পারফেক্টলি শুনতে পাই ওই অবস্থা কিংবা এনভায়রনমেন্ট বিবেচনায় না এনেই। এমনটা কিন্তু বাস্তবে সম্ভব নয়। কথাটিতে যুক্তি আছে সত্য। কিন্তু সেভাবে চিন্তা করলে আমরা মুভিতে সবসময় বেস্ট এঙ্গেল থেকে শট নেয়ার চিন্তা করি যাতে দর্শক ব্যাপারটি ক্লিয়ারলি এবং সুন্দরভাবে দেখতে পায়। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা সবসময় সবকিছুকে ক্লিয়ার এঙ্গেলে অবলোকন করতে পারি? তাহলে কি বাস্তবসম্মত করতে গিয়ে কোন সিনের অর্ধেকটা কেটে দিয়ে কিংবা আংশিক কোন সিন মুভিতে জুড়ে দিতে হবে? ওই সমস্যাটুকু ছাড়া স্কোর ছিল দারুণ। এমন ফিল আসতে বাধ্য আমিও তাদের মত একজন নভোচারী মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি। হানস জিমার আরেকটি দারুণ কাজ করেছেন।

 

এই মুভিটি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কয়েকশ ব্লগ পোস্ট করতে হবে। এত কিছু ঘটেছে এই ২ ঘন্টা ৪৯ মিনিটে। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় নি মুভিটি এত বিশাল দৈর্ঘ্যের। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন নিঃশ্বাস ফেলার উপক্রম নেই। রেস্পেক্ট টু ক্রিস্টোফার নোলান। এডিটিং এ লি স্মিথ এর আর কি বা করার ছিল? আমি এই মুভির ৪ ঘন্টার ভার্শন দেখতেও রাজি আছি। মুভিটিতে তখন হয়ত পৃথিবী কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছিল সেটির আরও বিস্তারিত চিত্র দেখা সম্ভব হত। মানুষ হয়ত এই মুভিটি থেকে পৃথিবী রক্ষায় আরও সচেতন হতে পারত।

 

কেমন ছিল ইন্টারস্টেলার? আরো একটি নোলান এপিক সাই-ফাই ফিল্ম নাকি একটি মাস্টারপিস? সেটি হয়ত নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাবে আরও ৬০/৭০ বছর পর। তবে আমার কাছে এটি একটি এপিক সাই-ফাই ফিল্ম যেটির স্বাদ রুমে বসে ল্যাপটপে কিংবা টিভিতে আস্বাদন করা অসম্ভব। যারা এখনও ইন্টারস্টেলার হলে গিয়ে দেখেন নি তারা এখনই দেখে আসুন কারণ মুভিটি ল্যাপটপ কিংবা টিভিতে শতভাগ কেন, সিকিভাগও উপভোগ করা সম্ভব নয়।

 

রিভিউয়ার রেটিংঃ ৮/১০

 

[ইন্টারস্টেলারের ব্লু-রে রিলিজের সাথে সাথে মুভিটির স্পয়লার রিভিউ করার চেষ্টা করবো। তখন এই মুভিটির সায়েন্টিফফিক কমপ্লেক্সিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।]

 

 

 

 

 

Interstellar (2014)
Interstellar poster Rating: 9.4/10 (7,757 votes)
Director: Christopher Nolan
Writer: Jonathan Nolan, Christopher Nolan
Stars: Matthew McConaughey, Anne Hathaway, Wes Bentley, Jessica Chastain
Runtime: 169 min
Rated: PG-13
Genre: Adventure, Sci-Fi
Released: 07 Nov 2014
Plot: A group of explorers make use of a newly discovered wormhole to surpass the limitations on human space travel and conquer the vast distances involved in an interstellar voyage.

(Visited 1,410 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

    রিভিউয়ের উদ্দেশ্য হইলো, একজন দর্শকের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মুভিটা কেমন লেগেছে সেটা প্রকাশ করা। ফিল্মমেকারের পক্ষ থেকে দর্শকদের নিকট মুভিটার ফ্যাক্ট এক্সপ্লেইন করা নয়। রিভিউতে সায়েন্টিফিক থিওরি ডিসকাস করায় লেখাতে মাইনাস। 😀

    সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট এক্সপ্লেনেশন বাদে লেখার বাকি অংশগুলো পড়ে মুভিটার জন্য আগ্রহ এমনিতে কয়েকগুন বেড়ে গেলো। এমনিতেই যে নাম এটে দেয়া আছে ডিরেক্টরের স্থানে, সাউন্ড স্কোরারের স্থানে, স্ক্রিনপ্লেয়ারের স্থানে। রিভিউটা পরে এবং সেই নামগুলোর ওজনে মুভিটা দেখার জন্য সেইভাবে মন আকুপাকু করছে।

    ফিল্মিক বিশ্লেষণের জন্য প্লাস টু, সায়েন্টিফিক এক্সপ্লেনেশনের জন্য মাইনাস ওয়ান। তাহলে গ্রস স্কোর হলো প্লাস ওয়ান। 😀 😀 😀

    • ধন্যবাদ। অনেস্টলি আমিও সায়েন্টিফিক টার্ম‌গুলো রিভিউতে এড করতে চাই নি। কিন্তু এই মুভি দেখে মানুষ উল্টা পালটা না বুইঝা কথা বলতেছে প্রচুর যেটা আমার ভাল লাগে নি। যেটা সমস্যা সেটার সমালোচনা না করে যেখানে কোন সমস্যা নাই সেটা নিয়ে লাফালাফি। 🙂

    • আইম্যান আইম্যান says:

      লিমু, সায়েন্টিফিক এক্সপ্লানেশন দেয়ার একটাই কারন ওয়ার্মহোল,ব্ল্যাকহোলের বেসিক না জেনে মুভিটা দেখলে দর্শক এটাকে ওভার রেটেড বস্তা পচা মুভি ছাড়াই আর কিছুই বলবেনা। সায়েন্টিফিক টার্ম‌গুলো সম্পর্কে মিনিমাম আইডিয়া নিয়েই মুভিটা দেখতে যাওয়া উচিত সবার। 🙂

    • এক্সাক্টলি এই কারণেই আমি ওইসব টার্মের ব্যাখ্যা দিয়েছি @সাইদ ভাই

  2. মুভিটির স্পয়লার রিভিউ এর অপেক্ষায় রইলাম। আমি যে রিভিউ খুঁজছি তা হল ব্লাকহোল-ওয়ার্মহোল নিয়ে নয়, বরং মুভির প্ল্যান এ আর প্ল্যান বি নিয়ে। অবশ্য এ মুভির রিভিউ লেখা সহজ নয়। আপনার সাহস আছে বটে।

  3. আইম্যান আইম্যান says:

    মুভিটা দেখার পর কিছুটা পড়াশুনা করছ মনে হচ্ছে। এই মুভি দেখার জন্য কিছু সায়েন্টিফিক টার্মের বেসিক জেনে মুভিটা দেখা উচিত। সে হিসেবে তোমার রিভিউটা অনেক তথ্য সম্বলিত এবং জ্ঞান সমৃদ্ধ। মুভিটা আমার কেমন লেগেছে সেটা সিনেমা হল থেকে বের হয়েই তোমাকে বলছি। 🙂
    তোমার মতের সাথে আমার কিছু অমিল আছে… একজন বিজ্ঞানী যে কিনা বর্তমানে শিক্ষিত কৃষক আর কিছুই না সে তার চরিত্রে এটাই সাবলীল ছিল যে বুঝাই যাচ্ছিল না সে অভিনয় করতেছে। ম্যাথু ম্যাকোনাহে তার চরিত্রের সাথে আর কতটা সাবলীল হলে তুমি আশাহত হইতা না ? 😀 আর ব্র্যান্ডের চরিত্রে খানিকটা মেলোড্রামাটিক ছাপ থাকলেও সেটা আমার কাছে যথেষ্ট গ্রহনযোগ্য ছিল… অ্যান হ্যাথওয়েকে নিয়ে এভাবে বইল না, আমি তারে ভালা পাই 😉 তবে ছোট মার্ফ (ম্যাকেঞ্জি ফয় আর বড় মার্ফ (জেসিকা চ্যাস্টেইন) নিয়ে তোমার সাথে পুরোপুরি একমত। পিচ্চি মার্ফ আর কুপার এর অভিনয় সব দর্শককেই ইমোশনাল করে দিছে আমি নিশ্চিত। 🙂

    ফিরোজ, সব মিলিয়ে তোমার রিভিউ ভাল লেগেছে 🙂

  4. আপনার মনের ভাবনাগুলো খুব সহজেই আমাদের জানাতে পেরেছেন, সেদিক থেকে আসলেই চমৎকার লেখাটি। তবে আপনি চিত্রনাট্যের সংলাপ নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন তা আমার মতে নোলানের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। নোলানের সমালোচকদের একটি সাধারণ অভিযোগ হল তার ছবিতে তার চরিত্রগুলোর ভারী ডায়লগগুলোই প্লটকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ফলে তার ছবিগুলোতে ভিজ্যুয়ালি কোনওপ্রকার কাহিনী বলার লক্ষণ দেখা যায় না। তার সমালোচকদের জবাব দিতেই হয়তো তিনি চিত্রনাট্যের সংলাপ বিশেষ ভারী না করে ভিজ্যুয়ালের ওপর জোর দিয়েছেন। যদিও তার ক্যামেরা বরাবরের মতই নিরামিষ ছিল। তিনি হয়তো এখনি সেটা শোধরাতে আগ্রহী নন।

    আর আপনি সাউন্ড ইফেক্টের যে সমালোচনা করেছেন, আপনার যুক্তি হিসেবে তা ঠিক আছে। কিন্তু নোলান সাহেবের যুক্তিতেও আমার কোনও আপত্তি নেই। এমন তো কোনও শর্ত নেই যে তিনি তার ছবিতে সাউন্ড ইফেক্ট নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলে তাকে ক্যামেরা এংগেল নিয়েও পরীক্ষা চালাতে হবে। এই বছরের গডজিলা মুভিতে ক্যামেরা এংগেলকে বাস্তবসম্মত করার জন্য অনেক একশন দৃশ্য চরিত্রগগুলোর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখানো হয়েছে। যা সাধারণ গডজিলা ভক্তরা হজম করতে পারেনি। আমার কাছে সেই এপ্রোচ বেশ চমৎকার লেগেছিল।

    সেই সাথে আমিও ম্যাককনাহে সম্পর্কে আপনার ধারণারএকদমই একমত না। যদিও ম্যাকেঞ্জি ফয় আর জেসিকা চ্যাস্টেইন সম্পর্কে কোনও দ্বিমত নেই। হ্যাথাওয়েকে বেশি ভালোও লাগেনি, খারাপও লাগেনি।

    • যাই হোক আমি আমার নিজের মতামত ব্যাক্ত করেছি মাত্র। “ডালাস বায়ারস ক্লাবে” কিংবা “ট্রু ডিটেকটিভ” এ ম্যাকোনাহে যেমন পারফর্ম করেছিল ইন্টারস্টেলারে আমার সেটা মনে হয় নি। ধন্যবাদ সুন্দর কমেন্টির জন্য 🙂

  5. Tom says:

    People from any other background except science are likely to feel disquieted by this movie.They may find lots of indistinct concepts in this movie. May be Nolan is fond to proliferating his hater!

  6. Anita Khan says:

    কোনাহের অভিনয় দেখে আমার কান্না পায়। যখন বৃদ্ধা মার্ফ বলে, ‘Because my dad prmused me’ ওই সিন কুপার যে এক্সপ্রেশন দেয় আমার হলের মধ্যেই চোখে পানি চলে আসে। একদম পারফেক্ট ছিল। প্রতিটা মুহুর্ত ওকে দেখে ফিল হচ্ছিল তার মেয়ের জন্য তার বুক ছটফট করছে। তাকে নভোচারির কাজ প্লাস বাবার ফিলিং একি টাইমে ফেস এ ফুটাতে হইসে। আর এনা হেদারওয়ে কে আমি ঠিক খেয়াল করি নাই :p সুন্দর রিভিউ।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন