মুভির মধ্যে UNCUT, UNRATED & EXTENDED এর অর্থ এবং ফিল্ম RATING এর সাথে তার সম্পর্ক
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

মূল লেখক: স্বাধীন আহমেদ।

প্রথম প্রকাশিতঃ December 28, 2014, ফেসবুকে বাংলা সাবটাইটেল নামক পেজে।

আমাদের মাঝে অনেকেই ফিল্মের রেটিং-প্রথার সাথে পরিচিত, আবার অনেকেই পরিচিত না। সে যাই হোক, কিছু সাধারণ প্রশ্ন মানুষের মনে আসতেই পারে। বিশেষ করে আপনি যদি হলিউড ছবির নিয়মিত দর্শক হন তাহলে তো কথাই নেই।

 

আজ থেকে পাচ-ছয় বছর আগে আমার মনেও এরকম কিছু প্রশ্ন এসেছিল। কিছু মুভি বিশ্লেষণ করে মোটামুটি এরকম সিদ্ধান্ত নিলাম যে বিখ্যাত ছবিগুলোতে কোন Nudity আর Violence থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই মনে করলাম যে এরাই তো ভালো। কত সুন্দর আমাদের কথা বিবেচনা করে বিব্রতকর পরিস্থিতির হাত থেকে আমাদের রেহাই দিচ্ছে। যেমন Pirates of the Caribbean Series, Mission Impossible Series, Lord of the Rings Series etc. পরে লক্ষ্য করলাম যে বিখ্যাত এই ছবিগুলোর সবই তথাকথিত বিগ-বাজেট ফিল্ম। এগুলোতে ভায়োলেন্স, নগ্নতা ছাড়াও উচ্চ পর্যায়ের গালিগালাজও থাকে না (FUCK, COCK-SUCKER ETC.) । আমি কিছুটা ধাধায় পড়ে গেলাম। কেননা গালিগালাজ না থাকার কারণ আমার কাছে স্পষ্ট হল না। তারপর চিন্তা করলাম যে এবার কিছু খবরাখবর নেয়া দরকার। অত:পর ইন্টারনেট এ হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। অনেক ঘাটাঘাটির পর আমি যা জানতে পেরেছি তা আমাকে গত পাচ ছয় বছর যাবত অনেক সহযোগিতা করেছে। আশা করি আপনাদেরও করবে।

 

Movie RatingMovie Rating

 

মুভি মুক্তির ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একটি হল Sensor System ও অপরটি Rating System। আমাদের দেশে সেন্সর ব্যবহার করে একটি মুভিকে এমন বানানো হয় যাতে যতদূর সম্ভব তা সকল বয়সী দর্শকের জন্য Appropriate হয়। আর রেটিং সিস্টেম এর মাধ্যমে কোন চলচ্চিত্রকে বিশ্লেষণ করে Authority সিদ্ধান্ত নেয় যে মুভিটা কোন বয়সী দর্শক এর জন্য উপযোগী। এক্ষেত্রে হলিউডে পাঁচটি রেটিং রয়েছে : 

 

• G (General Audiences)

 

• PG (Parental Guidance)

 

• PG-13 (Parental Guidanceis suggested in the case of children under the age of 13)

 

• R (A parent or adult guardian to be present)

 

• NC-17 (No one under the age of 17 is permitted)

 

এগুলোর মধ্যে পিজি-১৩ ও R Rating সবচেয়ে জনপ্রিয়। PG মানে Parental Guidance.আর PG-13 মানে হল ১৩ বছরের নিচে যদি কেউ এই সিনেমা দেখতে চায় তবে তার সাথে একজন অভিভাবক লাগবে যার বয়স ১৮ এর বেশি। আর R অর্থ রেস্ট্রিক্টেড। এই মুভি দেখতে হলে আপনার বয়স যদি ১৭ এর কম হয় তাহলেই আপনার সাথে একজন অভিভাবক লাগবে যার বয়স ১৮ বা তার অধিক। এখন আপনি বুঝতেই পারছেন যে কোন মুভি যদি অনেক বড় বাজেট এর হয় এবং রেটিং হয় R তবে দর্শক কত কমে যাবে ফলে ফ্লপ খাওয়ার সম্ভাবনা কত বেড়ে যাবে।

 

PG 13PG 13

 

সব বিগ বাজেট ফিল্মই যে পিজি-১৩ তা নয়। কম হলেও দু-একটা ব্যতিক্রম আছে। কিছু মুভির Speciality ই থাকে এর R-Rating. তখন তাদের টার্গেটই থাকে R-Rating পাওয়া। এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একশন বা কমেডি ফিল্ম হয়ে থাকে। যেমন Die Hard Series. এই সিরিজের ১ম তিনটা মুভিই ছিল R-Rated. কিন্তু চার নম্বরটা পিজি-১৩ হওয়ায় অনেক ফ্যান এর বিরোধিতা করে। ফলে এসব ফিল্মের ক্ষেত্রে হয় উল্টো। এগুলো R-Rated থেকে পিজি-১৩ করলেই বরং দর্শক কমে যাওয়ার ভয় থাকে। যেমন The Expendables 2 পিজি-১৩ করার কথা ছিল। কিন্তু ১ম মুভিটা R-Rated হওয়ায় তারা প্রায় জোর করেই R-Rate আদায় করে নেয় (হাল্কা একটু ভায়োলেন্স ছাড়া মুভিতে আর কিছুই ছিল না)। এখন যেহেতু দর্শক বুঝতে পেরেছে যে R-Rating ছাড়াও Expendables দেখে মজা পাওয়া যাবে তাই Expendables 3 এর রেটিং PG-13 করা হয়েছে। আরো কিছু R-Rated সিরিজ এর উদাহরণ- The Matrix Series, The Hangover Series, Lethal Weapon Series etc. আবার কিছু বিখ্যাত পরিচালক R-Rated ছাড়া মুভিই বানান না। কেননা তা না হলে তাদের মুভির সিগনেচার থিমই নষ্ট হয়ে যায়। এদের মাঝে আছেন Martin Scorsese, Quentin Tarantino, Paul Verhoeven, David Lynch, David Cronenberg প্রমুখ। কাজেই দর্শকেরা তাদের পিজি-১৩ রেটিং তেমন পছন্দ করে না। Martin Scorsese এর Hugo ফ্লপ খাওয়ার পেছনে এটাই বড় কারণ।

 

R RatingR Rating

 

PG-13 & R রেটিং দুটির বড় পার্থক্যগুলো হল:-

  • PROFANITY & NUDITY :

PG-13 এ আপনি Fuck শব্দটা মাত্র একবার ব্যবহার করতে পারবেন তাও আবার কোন সেক্সুয়াল রেফারেন্স ছাড়া, যেমন Fuck Off, I’m fucked ইত্যাদি। PG-13 এ বহুল প্রচলিত গালি হল Son of a Bitch. আপনি PG-13 এ কোন নারীবক্ষ দেখাতে পারবেন না। তবে Nudity ছাড়া সেক্স সিন দেখানো যাবে। (পিজি-১৩ এর সেক্স সিন বা নগ্নতা কদ্দূর যেতে পারে তা দেখতে আপনি জেমস বন্ডের মুভিগুলো বা Adam Sandler এর জঘন্য কমেডিগুলো দেখতে পারেন)। অপরদিকে R Rating এ ভাষা ও Nudity দুটির ক্ষেত্রেই পূর্ণ স্বাধীনতা আছে,শুধু শরীরের নিম্নাংশের অংগটি (নারী ও পুরুষ উভয়ই) স্পষ্টভাবে দেখানো যাবে না।

  • VIOLENCE :

আরেকটি পার্থক্য হল ভায়োলেন্স। বিগ বাজেট এর PG-13 এ রক্তের কোন বালাই থাকে না। অপরদিকে R রেটিং এ ভায়োলেন্স প্রায় যত ইচ্ছা দেখানো যায়। ভারতেও রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সেগুলো কিছুটা ভিন্ন। কিন্তু আমেরিকার রেটিং এর প্রধান সমস্যা হল যে প্রতিষ্ঠান রেটিং কন্ট্রোল করে (MPAA- Motion Pictures Association of America)তারা কোন স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয় (যদিও তারা নিজেদের তাই মনে করে)। এটি আসলে বড় স্টুডিওগুলোর সম্মিলিত একটি প্রতিষ্ঠান (যেমন Warner Bros. Paramount Pictures, 20th Century Fox etc). ফলে কখনো কখনো রেটিং এর ক্ষেত্রে পার্শিয়ালিটি দেখা যায়। যেমন সবচেয়ে বিতর্কিত রেটিং ছিল Titanic এর, যেখানে নারীবক্ষ দেখানো সত্ত্বেও রেটিং ছিল PG-13. আবার The King’s Speech মুভিটায় কোন ভায়োলেন্স ও নগ্নতা না থাকার পরও একে R-Rating দেয়া হয়। একটি দৃশ্যে তোতলামি ঠিক করার জন্য Fuck বলার অনুশীলন করতে গিয়ে ২০ বারেরও বেশি Fuck বলেন কলিন ফার্থ। টাইটানিক এর ক্ষেত্রে নগ্নতার বিষয়টিকে যদি শিল্পের মর্যাদা দেয়া যায়, তবে এই বিষয়টাও Consider করা যেত।

 

আসলে কোন মুভি যদি Independent Film হয় (সহজ কথায় কোন মুভির প্রযোজনায় যদি বড় কোন স্টুডিও না থাকে, তবে তাই Independent Film. এগুলো সাধারণত স্বল্প বাজেট এর হয়।) তখন এগুলোর সাথে এরকম Partiality করা হয়। আর এই মুভিগুলোর মূল উদ্দেশ্য থাকে পুরষ্কার জেতা, ব্যবসা করা নয়। ফলে তারা এই ব্যাপারে বেশি উচ্চবাচ্যও করে না।

 

★SOME TERMS BASED ON RATINGS

 

• Uncut :

 

আনকাট বিষয়টা হল – কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক মুভির টার্গে থাকে PG-13 রেটিং পাওয়া। কিন্তু MPAA কে দেখানোর পর তারা বলে যে মুভিটাকে PG-13 বানানোর জন্য কিছু সিন কাজ করতে হবে, নয়তো রেটিং হবে R. তখন পরিচালক বাধ্য হয়ে কিছু সিন কাট করে (সেক্স সিন, ভায়োলেন্স, নগ্নতা) হলে মুক্তি দেয়। পরে যখন ডিভিডি বের করে তখন Uncut ভার্সন বের করে।

 

• Unrated :

 

কোন মুভি রেটিং এর জন্য MPAA এর কাছে দেয়ার আগে যে অবস্থায় থাকে তাই আনরেটেড। সেই অবস্থায় কোন মুভির Trailer বের করা হলে সেখানে লেখা থাকে This film has not been rated yet.

 

• Extended :

 

কোন মুভি যখন ডিভিডি আকারে বের হয়, তখন এর পেছনে ডিরেক্টররা কিছু সময় ব্যয় করে। মুভি মুক্তির সময় কিছু দৃশ্য নানা কারণে কেটে বাদ দেয়া হয় ( রেটিং এর কারণে, Running Time বা সময়ের কারণে, স্টুডিওর লোকজনের চাপের কারণে)। কাজেই ডিভিডি বা ব্লু রে প্রিন্ট বের করলে সেটাকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য ওই বাদ দেয়া সিনগুলোকে আবার জোড়া দেয়া হয় বা Deleted Scenes নামে আলাদা ফিচার আকারে ডিভিডির সাথে বের করা হয়। কিন্তু আরেকটা জঘন্য বিষয় হল, অনেক সময় একই মুভির চার পাচটা অল্টারনেট এন্ডিং থাকে। কেননা Ending পছন্দ না হওয়ায় পরিচালক কখনো কখনো এন্ডিং চেঞ্জ করেন। তখন বিরক্তিকর এক পরিস্থিতি দেখা যায়। যেমন 1408 মুভিটার পাচটা ভিন্ন ভিন্ন এন্ডিং আছে। আবার মাঝে মাঝে এটা ভালোও লাগে। ক্লাসিক সায়েন্স ফিকশন Blade Runner এর পাচটা ভার্সন আছে। এই মুভি যতবার যতভাবে দেখুন, ততবারই ভাল লাগবে।

 

• Red-Band & Green-Band Trailer :

 

যেসব মুভি R-Rated বা তার উপরে, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় রেড ব্যান্ড ট্রেইলার দেখানো হয়। এসব ট্রেইলারেও ভায়োলেন্স, নগ্নতা ইত্যাদি থাকে। আর সবার জন্য উপযোগী ট্রেইলারগুলোকে গ্রিন-ব্যান্ড ট্রেইলার বলে। কোন ট্রেইলার এর শুরুতে MPAA যে কথাগুলো লিখে দেয় তার ব্যাকগ্রাউন্ড কালার দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন তা রেড না গ্রিন-ব্যান্ড ট্রেইলার।

 

• Director’s Cut:

 

স্টুডিওর চাপে বা মুভির Duration কমানোর জন্য বা কাহিনীর প্রয়োজনে বা রেটিং এর জন্য যেসব দৃশ্য অপ্রয়োজনীয় মনে করে কেটে বাদ দেয়া হয়, সেগুলোই জোড়া দিয়ে Extended Version বানানো হয়। আবার ডিরেক্টর অনেক সময় কিছু দৃশ্য রাখতে চান বা চেঞ্জ করতে চান না কিন্তু প্রডিউসারদের চাপে সেগুলো কেটে দিতে হয় বা নতুন করে শুটিং করে চেঞ্জ করে দিতে হয়। তারপর মুভি যখন ডিভিডিতে বের হয়, তখন ডিরেক্টর তার যেসব দৃশ্য রেখে মুভিটা বানানোর কথা ছিল, সেগুলো জোড়া দিয়ে মুভির একটি অন্য ভার্সন তৈরি করেন। এটাকে সচরাচর Director’s Cut বলা হয়। কিন্তু যদি ডিরেক্টর শুধু দৃশ্য জোড়া দেন, মানে কোনো দৃশ্য পরিবর্তন না করে শুধু যেকোন দুইটা সিন এর মাঝে আরেকটা লাগিয়ে দেন, তবে সেটাকে অনেক সময় Extended বা আনকাট বলা হয়। কিন্তু সিন যদি পরিবর্তন করেন, মানে কোনও একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যকে অন্য ভংগিমায় প্রদর্শন করেন, তবে তাকে Director’s Cut-ই বলা হয়। বেশিরভাগ সময় ডিরেক্টর ছবির এন্ডিং চেঞ্জ করে থাকেন।

 

Director's CutDirector’s Cut

 

মানে, এক্সটেনডেড কিন্তু আনকাট বা আনরেটেড এর মত ডেফিনিটভ কোনও টার্ম না। আনরেটেডকেও আপনি এক্সটেনডেড ভার্সন বলতে পারেন আবার আনকাটকেও আপনি এক্সটেনডেড ভার্সন বলতে পারেন।

 

আনরেটেড শুধুমাত্র রেটিং এর উপর নির্ভরশীল। অনেক মুভি MPAA এর কাছে দাখিল করা হয় না। সেই মুভিগুলোকে আনরেটেড আখ্যা দেয়া হয়। কিন্তু আনকাট কিন্তু পুরাই আলাদা জিনিস। কোনো মুভি শুধুমাত্র ডিভিডি বের করলে তবেই সেখানে আনকাট ভার্সন দেয়া হয়ে থাকে। যদি আনকাট ভার্সন এর সাথে রেটিং এর সম্পর্ক থাকে, তাহলে ডিভিডিতে কিন্তু এই আনকাট ভার্সনকে আনরেটেডও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু আমি যে আনরেটেড ভার্সন এর কথা বলেছি সেটা ডিভিডির আনরেটেড ভার্সন না। যেসব মুভি আনরেটেড অবস্থাতেই, মানে MPAA এর কাছে দাখিল না করেই হলে মুক্তি দেয়া হয়, সেই মুভিগুলোর কথা বলেছি।

 

 

• NC-17 RATING:

 

এই রেটিং নিয়ে যত কম বলা যায় তত ভালো। এই রেটিং নিয়ে খুবই অল্প কিছু মুভি বের হয়েছে। যেহেতু ১৭ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী কেউ এই মুভি দেখতেই পারবে না তাই কোন স্টুডিও এরকম মুভি বানাতে আগ্রহী না। পর্ন মুভি যদি MPAA এর কাছে রেটিং এর জন্য দাখিল করা হত তবে এর রেটিং হত NC-17 ! আর কিছু বলার দরকার আছে বলে মনে হয় না।

 

NC 17NC 17

 

এই রেটিং পাওয়া মুভির মাঝে ভাল ও বিখ্যাত একটি মুভি হল The Dreamers. এটি অস্কারপ্রাপ্ত Bernardo Bertolucci র ছবি এবং Eva Green এর সব ভক্তই এই ছবি দেখেছেন।

 

• G & PG Rating:

 

Genaral AudiencesGenaral Audiences

 

G রেটিং এর অর্থ General Audience মানে সবাই এটি দেখতে পারবে। আর PGর ক্ষেত্রে দশ বছরের নিচের দর্শকদের অভিভাবক এর প্রয়োজন হবে। দু’ একটি এনিমেটেড ফিল্ম ছাড়া এই দুই রেটিং তেমন ব্যবহার করা হয় না। কেননা সাধারণ দর্শক মনে করে এগুলো বাচ্চাদের ছবি।

 

PGPG

 

আশা করি আপনাদের অনেকেরই উপরের কথাগুলো পরার পর এসব রেটিং ও টার্ম সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা হয়েছে। পরবর্তিতে মুভি দেখার ক্ষেত্রে এগুলো হয়ত আপনাদের জন্য সহায়ক হবে।

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন