গাভঃ ইরানী নিউ ওয়েভের আলোকবর্তিকা যে সিনেমা

দারিউশ মেহেরজুই- ইরানী এই পরিচালকের একটা ছবি দেখেই তার ভীষণ ভক্ত হয়ে যাই- Gaav (The cow). ১৯৬৯ সালে ছবিটি যখন বানানো হয় তখন ইরানে চলছে শাহের শাসন। ইরানী সিনেমা দেশটির পশ্চিমা প্রভুদের পদলেহী সরকারের নিয়মাবলীতে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা, ঠিক তখনই মেহেরজুই বানালেন 'গাভ'- প্রতীকবাদ ও অধিবাস্তবতার এক অদ্ভুত মিশেল, যাতে ইরানী সংস্কৃতির জোর প্রভাব স্পষ্ট। সিনেমাটির প্রতীকি ও বিপ্লবী গুরুত্ব আপাতদৃষ্টিতে কর্তৃপক্ষের নজরে না পড়ায় প্রথমে উন্মুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে ইরানে এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় দীর্ঘসময়ের জন্য।

the cow

ছবিটির কাহিনী একই সংগে হাস্যকর ও মর্মান্তিক। ইরানের এক প্রত্যন্ত গ্রামের পটভূমিতে চিত্রিত কাহিনীতে হাসান ও তার পোষ্য গরুটির সম্পর্ক সর্বজনবিদিত (শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' এর কথা মনে করুন)। তাই প্রাণপ্রিয় এই প্রাণীটি আচমকা মারা গেলে গ্রামবাসী প্রথমে তাকে এ খবর জানাতে দ্বিধান্বিত হয়। হাসান ঘটনাক্রমে টের পেলে শুরু হয় তার আশ্চর্য রূপান্তর। নিজেকেই তার পোষ্য গরুটি ভাবতে শুরু করে হাসান। হাসানের এই রূপান্তর দারুণ দক্ষতায় তুলে ধরেন মেহরজুই। এই রূপান্তর অনেকটা কাফকার উপন্যাসে গ্রেগর সামসার কথা করিয়ে দেয়। দুটোতেই মূল চরিত্র এক ভয়াবহ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায়, পরিণতিও প্রায় একই রকম ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

ভিজ্যুয়াল স্টাইল, গল্পকথন, অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি- সব মিলিয়ে মুভিটি একটি সিনেমাটিক মাস্টারপিস। এই ছবি দিয়েই ইরানী নিউ ওয়েভ সিনেমার সূচনা হয় বলে মনে করা হয়।

(Visited 169 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন