বিখ্যাত পরিচালকদের কিছু অনির্মিত চলচ্চিত্র-২য় পর্ব

অসাধারণ সব নির্মাতার হাত ধরে চলচ্চিত্র ইতিহাসে এযাবত কালে প্রচুর কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মান হয়েছে। এখনও হচ্ছে। তবে এরকম অসংখ্য চলচ্চিত্র আছে যেগুলো বিভিন্ন কারণে আলো মুখ দেখেনি। কিছু কিছু স্ক্রিপ্ট আড়ালে রয়ে গেছে আর কিছু কিছু যথেষ্ট অর্থের অভাবে নির্মান হয় নি। বিখ্যাত নির্মাতাদের এই চলচ্চিত্র গুলো যদি নির্মান হত হয়তো চলচ্চিত্র প্রেমিরা পেত অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র সাথে সমৃদ্ধ হত চলচ্চিত্র জগত। ইন্টারনেট ঘেটে এরকমই কিছু অনির্মিত চলচ্চিত্রের তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক পোস্টের আজ দ্বিতীয় পর্ব।

To-the-White-Sea
৬। To the White Sea (Coen Bros.):-  ‘O Brother, Where Art Thou?’ বিরাট সফলতার পরে কোয়েন ব্রাদার্স তাদের পরবর্তি প্রজেক্ট হিসেবে জেমস ডিক্যে নামক একজন লেখকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভায়োল্যান্ট এক ইভেন্ট নিয়ে লেখা ‘টু দ্যা হোয়াইট সি’ নামক এক উপন্যাস এডাপ্ট করে মুভি নির্মানে পরিকল্পনা করেন। মুভির প্রধান চরিত্রে থাকতো ব্র্যাড পিট । কোয়েন ব্রাদার্স মুভিটি টোকিওতে সুট করার পরিকল্পনা করেন। যাতে খরচ হত প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এরকম একটি এক্সপেরিমেন্টাল এবং ভায়োল্যান্ট মুভির জন্য কোন স্টুডিওই এতবড় এমাউন্ট এর রিস্ক নিতে রাজি হয় নি। যার ফলে কোয়েন ব্রাদার্স প্রজেক্টটি ছেড়ে দেয়।

৭। The Idiot (Andrei Tarkovsky) :- আন্দ্রেই তারকোভস্কি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন যিনি অসাধারণ সব চলচ্চিত্র নির্মানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রকে নিয়ে গেছেন অন্য কে পর্যায়ে। উনার ইচ্ছা ছিল চলচ্চিত্র নির্মান শিল্পকে সাহিত্যের লেভেলে উন্নিত করা। তাই তিনি বিখ্যাত লেখকদের বিখ্যাত সব সৃষ্টিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় তিনি বিখ্যাত লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কি’র অমর সৃষ্টি দ্যা ‘ইডিয়ট’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মানের চিন্তা করেন। সুটিং এর সব আয়োজন করা হলেও রাশিয়ান সরকার তা অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়। এরপর তারকোভস্কিও তা নিয়ে আগান নি। এবং আরেকটি সম্ভাব্য অসাধারণ চলচ্চিত্র যোগ হয় অনির্মিত চলচ্চিত্রের তালিকায়।

leannostromo

৮। Nostromo (David Lean):- লরেন্স অফ এরাবিয়া এর পরিচালিক ডেভিড লিন এর শেষ চলচ্চিত্র ছিল অ্যা প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া। এটি ১৯৮৩ সালে অস্কারে ১১ টি শাখায় নমিনেশন পেয়েছিল মুভিটি। লরেন্স অফ এরাবিয়া, এ ব্রিজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই, ডা. জিবাগো ইত্যাদি চলচ্চিত্র নির্মানে মাধ্যমে নিজেকে তিনি অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। নিজের পর্যায়কে আরেকটু উন্নত করার জন্য “জোসেফ কনরাড” এর “নস্টোমো” উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মানে সিদ্ধান্ত নেন। মারলন ব্রান্ডো, ইসাবেলা রুসোলিনিদের মত বিখ্যাত তারকাদের বিভিন্ন রোলের জন্য সাইনও করিয়েছিলেন। স্টিভেন স্পিলবার্গ ছিলেন মুভির প্রযোজক হিসেবে। স্পিলবার্গ স্ক্রিপ্ট পড়ে ডেভিড লিন কে স্ক্রিপ্টে কিছু পরিবর্তনের কথা বলেন কিন্তু লিন এতে কোন প্রকার কর্ণপাত করেন নি। স্পিলবার্গ এই প্রজেক্ট ছেড়ে চলে যান। যার ফলে ফান্ডিং ভেঙ্গে পড়ে এবং কাজ থেমে যায়। সিডিউল কনফ্লিক্ট এর কারণে স্ক্রিপ্ট ও তৈরী হচ্ছিল না। ডেভিড লিন নিজে একবার এর স্ক্রিপ্ট লেখার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেননি।
একসময় স্ক্রিপ্ট এবং সুটিং সিডিউল তৈরী হয় কিন্তু সুটিং শুরু হওয়ার ছয় সপ্তাহ আগেই মৃত্যু বরণ করেন ডেভিড লিন। আর চলচ্চিত্রটি রয়ে যায় অনির্মিত।

KubrickNapoleon

৯। Napoleon (Stanley Kubrick):- বিখ্যাত এবং মাস্টার পরিচালক স্ট্যানলি কুব্রিক তখন ২০০১ এ স্পেস ওডিসি নির্মাণ করে তার ক্যারিয়ার এর উচ্চ শিখরে। তিনি এবং তার রিসার্চ টিম নেপোলিয়ান বোনাপার্ট এর জীবনীকে চলচ্চিত্রে রূপদান করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি স্কিপ্ট লেখা হল, লোকেশন নির্ধারণ করা হল এমনকি চলচ্চিত্রে প্রডাকশনে অংশগ্রহন করার জন্য রোমানিয়ান সৈন্যরা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে স্ট্যানলি কুব্রিক তার এই অসাধারণ কাজটি পর্দায় আনতে পারেন নি।
248510

১০ । Leningrad: The 900 Days (Sergio Leone):- ইতিহাস বিখ্যাত পরিচালক সার্জিও লিওন তার চার ঘন্টার এপিক গ্যাংস্টার মুভি ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন আমেরিকা’ এর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে হ্যারিসন স্যালিসব্যারি এর লেখা নন-ফিকশন বই ‘দ্যা ৯০০ ডেইসঃ দ্যা সিজ অফ ল্যালিনগ্রাদ’ এর উপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত এই মুভিটিতে অভিনেতা হিসেবে রবার্ট ডি নিরো এর থাকার কথা ছিল। মুভিটি তৈরীতে খরচ হত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার যা তিনি সাত বছর সময় লাগিয়ে (১৯৮৯ সালে) জমিয়েছিলেন। সব কিছু তৈরী। আগামী বছরই শুরু হবে মুভির সুটিং কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মুভির কন্ট্রাক্ট সাইন করার মাত্র দুই দিন আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান বিখ্যাত এই পরিচালক।

kaleidoscope

১১। Kaleidoscope (Alfred Hitchcock):- ১৯৬০ সালে আলফ্রেড হিচকক তার বিখ্যাত ‘সাইকো’ মুভিটির মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ঐ মুভিতে ব্যবহারিত ভায়োল্যান্স, স্টরি টেলিং পদ্ধতি তৎকালীন সময়ের জন্য অনেকটা এডভান্স ছিল। এই ধারাবাহিকতায় আলফ্রেড হিচকক ‘সাইকো’ এর চেয়ে অত্যাধিক বেশি ভায়োল্যান্স, মার্ডার সাথে রেপ, নেক্রোফিলিয়া এবং আরো অনেক কিছু রেখে একটি মুভি নির্মানে পরিকল্পনা করেন। মুভির গল্পটা এগুত একজন সাইকো গে বডি বিল্ডার কে ধরে যে পানি দেখলেই তার মধ্যে প্রবৃত্তি জেগে ঊঠত। হিচকক এই মুভির সব কিছু তৈরী করে অল্প কিছু সাইলেন্ট ফুটেজ শুট করলেও অতিরিক্ত ভায়োল্যান্স এর কারণে স্টুডিও এবং তার প্রিয় বন্ধু বিখ্যাত লেখক এবং পরিচালক Francois Truffaut এর বাঁধার কারণে তিনি আর এই মুভিটি নিয়ে আগাননি।

(Visited 104 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আকর্ষণীয় ডিজাইনের চশমা ও সানগ্লাস ঘরে বসে পেতে চাইলে ক্লিক করুন ড্রিমারস অনলাইন শপ

    ফেসবুক পেজ থেকে বেছে নিন পছন্দের চশমা বা সানগ্লাস আর অর্ডার করুন ফেসবুক থেকেই। সরাসরি পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়। পন্য হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন।
    পেজটিতে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ ।

    ভিসিট করুন https://www.facebook.com/dreamersdreambd

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন