জন্মদিনের বিশেষ পোস্টঃ কিয়েনু রিভস এর ট্রেজিক জীবন

দ্যা ম্যাট্রিক্স দেখে বুঝার পর থেকে আমি কিয়েনু রিভস এর ফ্যান। খুবই পছন্দের একজন অভিনেতা। কিন্তু এখন থেকে উনি আমার পছন্দের একজন ব্যাক্তিত্বও হয়ে গেলেন। উনার সম্পর্কে  higherperspectives.com নামের এক ওয়েবসাইট একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছিল। আর্টিকেলটা পড়ে মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
keanu
সিনেমাতে সুপার অভিনেতা হলেও উনার বাস্তব জীবনটা ছিল খুবই কঠিন এবং কষ্টে পরিপূর্ণ। উনার বয়স এখন ৫০। জীবনের এই  পঞ্চাশ বছর অনেক কষ্ট এবং ট্রাজেডির স্বীকার হয়েছেন। যখন উনার বয়স তিন বছর উনার বাবা উনাদের পরিবার ছেড়ে চলে যায়। যার ফলে উনাকে প্রচুর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। কিয়েনু তার শৈবল কালে লেখাপড়ার উদেশ্যে চারটি ভিন্ন হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে ছিলেন কিন্তু ডিস্লেক্সিয়া (এক ধরনের রোগ যার ফলে পড়তে সমস্যা হয়) এর কারণে তিনি বাধ্য হয়ে কোন প্রকার সার্টিফিকেশন ছাড়াই লেখা পড়ার পর্ব চুকিয়ে দিয়েছিলেন।

এরপর উনার বয়স যখন ২৩ বছর তখন উনাকে হারাতে হয়েছিল তার সবচেয়ে কাছের এবং প্রিয় বন্ধুটিকে। যে ড্রাগ ওভারডোজে মৃত্যু বরণ করেছিলেন। কিয়েনুর ভাষায় তার বন্ধুটি খুবই ভাল মানুষ এবং ভাল একজন অভিনেতা ছিলেন যাকে তিনি প্রায়ই মিস করেন।

পরবর্তিতে ১৯৯৮ সালে কিয়েনুর সাক্ষাত হয় জেনিফার স্যাম নামে একজনে সাথে। আস্তে আস্তে  দুজনের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। যার ফলে  ১৯৯৯ সালের দিকে জেনিফার তার গর্ভে তাদের এক সন্তান ধারন করে। ৮ মাস পরে জেনিফার একটি সন্তান জন্মও দেয়, কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, জন্ম নেয়া সন্তানটি ছিল মৃত। এতে তারা দুজনই শোকে কাতর হয়ে পরে। এ ঘটনার পরে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কটি আর টিকে নি। বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের। তাদের এই বিচ্ছেদের ঠিক ১৮ মাস পরে এক মর্মান্তিক গাড়ী দূর্ঘটনায় জেনিফার মৃত্যু বরন করেন।

২০০৬ সালের এক সাক্ষাতকারে তার কষ্টের কথা গুলো বর্ননা করতে গিয়ে বলেন,” দুঃখ কষ্ট কখনই শেষ হয় না, শুধু মাত্র তাদের রূপ বদলায়।”

জীবনে এতো গুলো ট্রাজেডির মুখমুখী হলেও তাকে আটকাতে পারেনি এই ট্রাজেডি। সব সময় তিনি সামনে এগিয়ে চলেছেন, হয়েছেন একজন একজন বিশাল ধনী এবং ভক্তদের উপহার দিয়েছেন অসাধারণ সব মুভি।

প্রচুর সস্পদের মালিক হলেও সম্পদ নিয়ে উনার চিন্তা ভাবনা উনাকে উনার ট্রেজিক জীবনের দুঃখ কষ্ট ভুলতে সাহায্য করে। কিয়েনু তার সম্পদের অধিকাংশই চ্যারিটিতে ব্যায় করেন। এজন্য হলিউডের তার খ্যাতিও রয়েছে। তিনি দ্যা ম্যাট্রিক্স ট্রিলজিতে অভিনয় করে প্রায় ১১৪ মিলিয়ন ডলায় আয় করেছিলেন যা মধ্যে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারই তিনি দান করে দিয়েছিলেন দ্যা ম্যাট্রিক্স মুভির ম্যাক আপ এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট স্টাফদের।

তিনি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও তিনি সাবওয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। চিন্তা করে দেখুন মানুষ কতটা সাধারণ জীবন যাপন করলে এতো ধনী হয়েও সাবওয়ে ট্রেনে যাতায়াত করেন।

সাধারণ জীবন যাপন করা অসাধারণ এই লোকটির আজ জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন এন্ড লাভ ইউ ভেরি মাচ ম্যান <3

একজন মানুষ বিলাসিতা করার সুযোগ পেয়েও কতটা সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতে পারে  নিচের এই ৪৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি দেখলে বুঝবেন।
>> https://m.youtube.com/watch?v=EMB1EOnUwX8

আর্টিক্যাল লিংকঃ- http://higherperspectives.com/keanu-reeves-life/

(Visited 107 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Humm. . . onek agei kisota jenesilam. Ter life ta bisadey vorpur. Onek unlucky ekjon manush. Amio ter fan.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন