নিভে যাওয়া উজ্জ্বল নক্ষত্র

Johir-Raihan-1422534817

জাতিগত দিক দিয়ে বাঙ্গালী জাতির ভাগ্য খুবই খারাপ। এতো বাজে ভাগ্য নিয়ে পূর্বে কোন জাতি জন্ম নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কেননা এ যাবত কালে জন্ম নেয়া এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে অধিকাংশই অকালে প্রাণ খুইয়েছেন। এই প্রতিভাবান লোক গুলো যখনই তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা মাত্র শুরু করেছিল তখনই হারিয়ে গেছে পৃথিবীর অতল গহ্বরে। চলে গেছে না ফেরার দেশে। এই কথা গুলো দেশের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব থেকে শুরু করে সকল স্তরের ব্যাক্তিত্বের বেলায় সত্য। তবে সবচেয়ে করুন ব্যাপার হল, অধিকাংশ প্রতিভাবান ব্যাক্তিত্ব যারা মাত্র তাদের প্রতিভার ছাপ রাখতে শুরু করেছিলেন, তাঁদেরকে হারানুর জন্য দায়ী আমরা বাঙ্গালী জাতি নিজেরাই। হয়ত আমরা তাঁদের নিশংস ভাবে হত্যা করেছি নয়ত অবহেলা করে নষ্ট করেছি তাঁদের প্রতিভা।  তাঁরা যদি অকালে প্রাণ না হারিয়ে তাঁদের পূর্ণ জীবন যাপন করতে পারতেন তাহলে আজকে হয়ত পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান আরো অনেক উপরে থাকতো। বিভিন্ন শাখায় এগিয়ে যেতে পারতাম আরো অনেক দূর। তেমনি একজন হারিয়ে যাওয়া প্রতিভা হলেন শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় জহির রায়হান। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং একজন মুক্তিযুদ্ধা। অর্থের অভাব এবং বিভিন্ন বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে নির্মান করেছেন ‘জীবন থেকে নেয়া’ এর মত চলচ্চিত্র, লিখেছেন অসাধারণ কিছু বই। ১৯৭২ সালে যদি তিনি অকালে হারিয়ে না জেতেন তাহলে হয়ত বাংলা চলচ্চিত্রের অবস্থা এরকম হত না। হয়ত নির্মান হত আরো অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র। লিখতেন আরো কালজয়ী কিছু বই। কিন্তু তিনি না থাকায় এসব কিছুই হল না। অভাগা বাঙ্গালী জাতিও পেল না অসামান্য কিছু সৃষ্টি। “জহির রায়হান নেই” এই কথাটি শুনলেই বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে।
হারিয়ে যাওয়া এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জন্মদিন আজকে। প্রিয় জহির রায়হান যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন।

jahir-raihan

<3 শুভ জন্মদিন <3

(Visited 41 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. কারন মৌলবাদী ও ধমর্ অন্ধ অন্যতম কারন।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন