অনন্য অভিনেতা ‘টম হ্যাংকস’ : সেরা দশ লিড রোল
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

টম হ্যাংকস একটা মিশন নিয়ে সিনেমা জগতে এসেছিলেন । তিনি একটা সিনেমার পর আরেকটা সিনেমা বেছে নিয়েছেন এমনভাবে যেন প্রত্যেকটি সিনেমায় তাকে একেবারেই ইউনিক চরিত্রে অভিনয় করতে হয় । নিজের অভিনয় দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ তিনি ঘটিয়েছেন এবং হাতিয়ে নিয়েছেন অভিনয়ের জন্য দুটি অস্কার । পর্দায় যতক্ষণ তাকে দেখা যায় ততক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় । তার অভিনীত সিনেমাগুলো জীবনধর্মী এবং অনুপ্রেরণামূলক । রহস্য ও থ্রিলার মুভিতেও তিনি অভিনয় করেছেন, তবে ততটা সফল হননি । তার অভিনীত গ্রেট একেকটি সিনেমা একশো টা মোটিভেশনাল স্পিচ এর চে ভালো কাজ করে । এখানে শুধু লিড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সিনেমাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে । উল্টাদিক থেকে শুরু করলাম-

১০। Sully (2016) (IMDB-7.5)

সত্য ঘটনার উপরে নির্মিত এই সিনেমাটি । ক্যাপ্টেন সালি ১৫৫ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে বিমান উড়ানোর পর একটা দুর্ঘটনা ঘটে । পরবর্তীতে এমেরিকার হাডসন নদীর উপর প্রথবারের মত যাত্রীবাহী কোন বিমানকে ল্যান্ড করানো হয় । এই মিরাকেল সালির ক্যারিয়ার ও জীবনে প্রভাব ফেলে ।

 

৯। Larry Crowne (2011) ( IMDB-6.1)

ল্যারির হঠাৎ চাকরি চলে যায় । সিঙ্গেল মধ্য বয়স্ক ল্যারি ডিগ্রি ছাড়া কোন ভালো জব পাবে না । তাই সে আবার কলেজে ভর্তি হয় । সেখানে সে দেখা পায় একটা স্কুটি বাইক গ্রুপের এবং জীবন নিয়ে হতাশ জুলিয়া রবার্টসের । টম হ্যাংকসের নিজের ডিরেক্ট করা এই মুভি মন ভালো করে দেয় । বিশেষ করে স্পেশাল কারো সাথে যদি মুভিটি দেখেন ।

 

 

৮। Angles and Demons (2009) (IMDB-6.7)

সিম্বোলজিস্ট রবার্ট ল্যাংডন এক প্রাচীন ব্রাদারহুড ইলুমিনাটির খোঁজ পান । তারা ষড়যন্ত্র করে রোমান ক্যাথলিক চার্চকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য । তা ঠেকানোর জন্য ল্যাংডনের জার্নি শুরু হয় । টান টান উত্তেজনায় ভরা এ সিনেমা শুধু থ্রিলার প্রেমীদের জন্য ।

 

৭। The Da Vinci Code(2006) (IMDB- 6.6)

এই মুভি নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা রয়েছে । অনেকে বলেছেন মুভিটি শুধু উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে কিন্তু তার সুরাহা করতে পারে নি । ড্যান ব্রাউনের বেস্টসেলারের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এ মুভি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে খ্রিষ্টান ধর্মকে । এতসব মাথায় না নিয়ে কেউ যদি একটি থ্রিলার মুভি দেখতে চান তাহলে এটি একটি ভালো অপশন ।

 

৬। The Green Mile (1999) IMDB- 8.5)

একটা কারাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পল এজকম্ব । সেই কারাগারে ঘটে যায় কিছু অদ্ভুত ঘটনা । রহস্যে ঘেরা সিনেমার গল্পটি লিখেছেন স্টিভেন কিং । অসাধারণ প্লট, অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি । বিশাল দেহাকৃতির একজন কালো মানুষ যখন একটা প্রিজন সেলে আসে তখন সিনেমায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় । দর্শককে মুহূর্তে মুহূর্তে অবাক করে আগাতে থাকে সিনেমার কাহিনী ।

 

৫। Road to Perdition (2002) (IMDB- 7.7)

মাইক সলিভান একজন মাফিয়া হিটম্যান । তার স্ত্রী নিহত হলে তার সন্তানকে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান এবং সন্তানকে নিয়ে প্রতিশোধ নেন । মাফিয়া মুভি যাদের ভালো লাগে তাদের জন্য আদর্শ এই সিনেমাটি । মাইক সলিভানের আসল রূপ যখন জানতে পারে তার ছেলে তখন থেকেই সিনেমার পট পরিবর্তন হয় । পরবর্তীতে বাবা ছেলের একত্রে বিপদসংকুল সময়ের চিত্রায়ন অসাধারনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ডিরেক্টর স্যাম ম্যানডেস ।

 

৪। Saving Private Ryan (1998) (IMDB- 8.6)

আমার দেখা যুদ্ধের সিনেমার মধ্যে এটাই সেরা । অসাধারণ ফ্রেমিং, সিনেমাটোগ্রাফি । ক্যাপ্টেন জন মিলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হ্যাংকস । রায়ান নামক একজন সৈনিকের তিনজন ভাই যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেলে ইউ এস সরকারের উদ্দেশ্য হয় রায়ানকে যেভাবেই হোক বাঁচানো । শেষ পর্যন্ত বাঁচবে কি প্রাইভেট রায়ান? সিনেমার সবগুলো চরিত্রই যথেষ্ট শক্তিশালী । আর ডিরেক্টর স্টিভেন স্পিলবার্গ তার জীবনের সেরা একটি কাজ দেখিয়েছেন এই সিনেমার মাধ্যমে ।

 

৩। Cast Away (2000) (IMDB- 7.8)

সময় ধরে কাজ করা যার অভ্যাস, ফেডএক্স এ জব করা চাক নোলান্ড প্লেইন ক্রাশ করে একটা দ্বীপে আটকা পড়েন । একজন রেগুলার মানুষ হঠাৎ একটা দ্বীপে একাকী বাস করতে শুরু করেন । বাস করেন বছরের পর বছর । কেমন তার দিনগুলা? চাক কি পারবেন তার প্রিয় মানুষজনদের সাথে আবার মিলিত হতে? সেই গল্পই দেখুন এই সিনেমাতে ।

 

২। Forrest Gump (1994) (IMDB- 8.8)

ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় মানুষকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে তা এ সিনেমা দেখলে বোঝা যাবে । একের পর এক সাপ্রাইজ নিয়ে হাজির হয় সিনেমার মূল চরিত্র ফরেস্ট । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা রকম চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দর্শকে মুগ্ধ করে এই সিনেমা । ছোটবেলায় পা খোঁড়া থাকলেও ফরেস্ট নিজেকে স্পোর্টসম্যান হিসেবে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায় । সহজ সরল চরিত্রে অভিনয় করে হ্যাংকস এখানে অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন শতভাগ ।

 

১। The Terminal (2004) (IMDB- 7.3)

ভিক্টর নভোরস্কি, ইস্টার্ন ইউরোপের একটি দেশ থেকে আমেরিকায় আসেন ঘুরতে । কিন্তু তার দেশে যুদ্ধ লেগে যায় সেদিনই । এমন অবস্থায় এয়ারপোর্ট অথরিটি তাকে আমেরিকার মাটিতে পা রাখতে দিবে না, আর সে দেশে ফিরে যেতেও পারে না । এয়ারপোর্ট টার্মিনালে তাকে আটকে থাকতে হয় দিনের পর দিন । এমতাবস্থায় একজন ফ্লাইট এটেনডেন্ট নারীর সাথে তার পরিচয় হয় । শুরু হয় অসম এক প্রেম । ইংরেজি ভাষা না জানা ভিক্টর কিভাবে তার দিনাতিপাত করে তাই যথেষ্ট হাস্যরসের মাধ্যমে দেখিয়েছেন ডিরেক্টর স্টিভেন স্পিলবার্গ ।

 

এক থেকে ছয় সিনেমাগুলো গ্রেট ক্যাটাগরির । এগুলো দেখা আবশ্যক । বাকিগুলো নির্ভর করবে আপনার সময় আছে কিনা তার উপর । ছুটিছাটায় দেখে ফেলতে পারেন সবগুলো । আশা করি টম হ্যাংকস হতাশ করবেন না ।

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ATO Consultant says:

    The Da Vinci Code, আসলে বেস্টসেলার বইটি না পড়ে এই সিনেমাটি দেখলে কোন উত্তেজনা পাওয়া যাবেনা । মূল গল্পটি টান টান উত্তেজনার আর খুবই বিশদ বিবরণের । এটা ৩ ঘণ্টায় সেলুলয়েডে বন্দি করা কঠিন । তাই যে আগে বইটি পড়ে নিবে সে খুব সহজেই বুঝতে পারবে কি ঘটছে । কিন্তু আগে থেকে গল্প জানার একটা খারাপ দিক আছে, অনেকটা উত্তেজনায় পানি ঢেলে দেয়ার মত ।

    প্রিয় তারকাকে নিয়ে লিখলেন ভালো লাগলো । ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন