দ্যা রিচ্যুয়াল (২০১৮): বছরের সারপ্রাইজিং সাইকো হরর থ্রিলার! 

মেঘলা আকাশ , একটু পর পর ঝুম বৃষ্টি , সবুজ বনের ভেতর দিয়ে কাদামাটির পথ আর আর একদল হারিয়ে যাওয়া ট্রাভেলার । নেটফ্লিক্সের আরেকটি মাথা নষ্ট করা হরর মুভি। কয়েকটি সাইটে ভালো রিভিউ দেখে ছবিটি দেখতে বসা এন্ড গেস হোয়াট? প্রথমে খুব শান্ত ভাবে শুরু হলেও মাথা নষ্ট করার জন্য খুব বেশি সময় নেবেনা ছবিটি। তাই রিচ্যুয়াল ছবিটি অপ্রত্যাশিত ভাবেই ভালো লেগে যায় । একটা কথা বলে নেওয়া দরকার, রিচ্যুয়াল মুভিটি ভয়ে কাঁপিয়ে দেওয়া কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর টাইপ হরর মুভি না । কিছুটা স্টিফেন কিংসের সুপারন্যাচারাল হররের মতো। তাই যদি IT, 1922 ছবিগুলো ভালো লেগে থাকে তবে নিঃসন্দেহে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে ‘দ্যা রিচ্যুয়াল’ আপনার জন্য সারপ্রাইজ গিফট ।

ছবিটির গল্প নেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ রাইটার এডাম নেভিলের সারা জাগানো বই “দ্যা রিচ্যুয়াল” থেকে । ছবির বেশ কয়েকটি ভালো দিকের মধ্যে একটি হলো মুভির কোথাও জোর করে ভয় লাগানোর চেষ্টা করা হয়নি। যারা ইতিমধ্যে জেমস ওয়ানের কনজুরিং কিংবা ইনসিডিয়াস জগতের সাথে পরিচিত তাঁরা খুব সহজেই বুঝতে পারার কথা বর্তমানের হরর মুভিগুলোতে কিভাবে মাত্রাতিরিক্ত জাম্প স্কেয়ার মুডে ফেইক ভয় দেখিয়ে দর্শকদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলে। এছবিতে এরকম কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি একেবারেই নেই ।

ছোটবেলায় ঈশপের সেই দুই বন্ধু আর ভালুকের গল্পটি মনে আছে তো ? সাহায্য না করেই ভাল্লুকের ভয়ে বন্ধুকে ফেলে গাছে চড়ে বসে দুই বন্ধুর একজন । আর অপরজন অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে কি করা যায় । সেই গল্পের ছায়া থেকেই দ্য রিচ্যুয়াল ছবিটির প্রথম দৃশ্যের ক্লাইমেক্স। শপিং করতে এসে দুই বন্ধুর বিপদে পড়ার মাধ্যমে গল্পের শুরু হয় । তার কিছুদিন পর চার বন্ধু মিলে বন্ধু মিলে সুইডেনের একটি ফরেস্টে হাইকিং করতে যায়। মাঝপথে তাদের একজন ইঞ্জুরড হলে তারা শর্টকাট যাওয়ার জন্য একটি জংগলের মধ্যে দিয়ে রওনা দেয় । জঙ্গলে ঢোকার পর পরই তাদের সাথে ঘটতে থাকে একের পর এক সুপারন্যাচারাল ঘটনা। এক পর্যায়ে আপনিও সামিল হবেন ৪ হাইকারের সাথে অতিপ্রাকৃত রহস্যের সমাধান করতে ।

পুরো মুভি জুড়ে প্রচুর সাস্পেন্স এবং থ্রিল থাকায় ছবিটির দর্শকদের মনে সবসময় এক্সাইটমেন্ট কাজ করবে ।ছবিটিতে দারুনভাবে হরর ব্যাপারটির সাথে সুপারন্যচারাল ইমাজিনেশনের সংযোগ করা হয়েছে । একই সাথে ভয় এবং অতিপ্রাকৃত বা অবাস্তব স্মৃতি কে এক সুতায় গাথার কষ্টসাধ্য কাজটি পরিচালক ডেভিড ব্রাকনার মুন্সিয়ানার সাথেই দেখিয়েছেন ।ছবিটি এই পরিচালকের সেরা কাজ। ছবিতে আরেকটি ভালো লাগার ব্যাপার আছে । রাতের দৃশ্যের সাথে দিনের দৃশ্য গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ । সধারনতহরর ছবিতে রাতের দৃশ্যগুলোই বেশি প্রাধান্য পায় দিনের তুলনায়, তবে ‘দ্যারিচ্যুয়াল’ ছবিটিতে একই সাথে রাতে ভয় আর দিনে থ্রিলের অনুভুতি পাবেন । পুরো ছবিটি রোমানিয়ায় একটি পর্যটন স্পটে শুটিং হয়েছিলো । ছবিতে তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে দারুন সিনেমাটোগ্রাফির দিকটিও বার বার চোখে লাগবে। তবে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং অভিনয় আরো ভালো করা যেত। তার পরও ‘দ্যারিচ্যুয়াল’ এর হরর আবেদন আপনার ভালো লাগবে, আর আপনি ট্রাভেলার হলেতো কথাই নেই । সময় করে দেখে নিতে পারেন এই হরর থ্রিলারটি ।

সময় : ১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট
কাস্ট : রাফি স্প্যাল , আরশের আলী ,জেমস কলার
পারসোনাল রেটিংঃ 7.5

Error: No API key provided.

(Visited 1,228 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন