আমরা যদি নিজের গল্প না বলি তাহলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
হংকং এর মানুষ নিজেরাই জানে না তারা আসলে কী? চীনের অংশ নাকি অন্য কিছু? ১৯৯৭ হ্যান্ডওভারের ২০ বছরের মাথায় এতটা পরিবর্তন হয়ে যাবে তা হয়ত কেউ ভাবেনি।
আপনিই দেখেন,
Wolf Warriors 2,Operation Red Sea,Monster Hunt 2,Journey to the West,The Mermaid ইত্যাদি ইত্যাদি সিনেমা আপনি না দেখে থাকলেও এগুলোর নাম শুনেছেন। বিভিন্ন জায়গায় এগুলো নিয়ে পড়েছেন কিন্তু আপনি কী Beyond the Mist,Trivisa,Ten Years,Port of Call এর নাম শুনেছেন? এগুলোর নাম খুব মানুষ শুনেছেন উপরের গুলোর তুলনায়। কারণ এখন মার্কেট ডমিনেট করছে মেইনল্যান্ড চীন। তাদের সিনেমাই শিরোনামে আসছে।

Wolf Warrior 2 (2017.China) মুভির একটি দৃশ।

এবার একটু পুরনো দিনে যাওয়া যাক। আপনি কয়টি মেইনল্যান্ড চীনের সিনেমার নাম বলতে পারবেন? ১০ টি বলতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। আর বললেই হয়তো ঝ্যাং ইমুর আর্ট সিনেমার নাম বলতে পারবেন,এর বাহিরে আর কতটুকু? কিন্তু হংকং? আপনি নাম না জেনে থাকলেও ছোটবেলায় জ্যাকি চ্যান,সাম্মো হাংদের সিনেমা দেখেছেন। Drunken Master,Snake in the Eagle’s Shadow,Police Story,Shaolin Soccer এগুলো সিনেমা কে দেখেনি বলেন। মার্কেট টা খুব বড় ব্যবধানে পরিবর্তন হয়ে গেছে। শুধু যে চীনের উন্নতি হয়েছে তা নয়,হংকং এর হয়েছে লক্ষণীয় অবনতি।

Police Story (1985.Hong Kong) মুভিতে ভয়ঙ্কর এক স্টান্ট জ্যাকি চ্যান নিজেই করছেন।

এই মার্কেট উথান পতনে অনেকেই চীন মেইনল্যান্ডের মার্কেট ধরে ফেলেছেন।
জ্যাকি চ্যান তো HKFF কে দেয়া ইন্টার্ভিউয়ে বলেই ফেললেন,
“হংকং সিনেমাই চাইনিজ সিনেমা”। স্টিফেন চাও কোন অথেনটিক হংকং সিনেমা বানাননি এক যুগের বেশি সময় ধরে। এই মেগা স্টারদের ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পরেও কিছু ব্যক্তি আছেন যারা এখনো এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে ফিল করেন। তাদের কাছে মার্কেট টা তুচ্ছ জিনিস,তাদেরই একজন ক্রিস্টোফার ডয়েল। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফার তা আমি বলবো না,বললে পাগলামি হবে কিন্তু তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফারদের একজন তা সহজে বলা যায়।
জন্ম অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। হংকং এর বংশভুত ও নন কিন্তু হংকং টাকে তিনি দেখেছেন অন্য নজরে। যা আমরা,অথবা হংকং এর কেউও হয়তো দেখেনি। তিনি হংকং কে অন্য নজরে আমাদের দেখিয়েছেন তার সিনেমাটোগ্রাফির জাদুতে।

ক্রিস্টোফার ডয়েলের অনবদ্য সিনেমাটোগ্রাফির কিছু উদাহরণ:

মুভি- In the Mood for Love
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Ashes of Time (1994)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Ashes of Time (1994)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Fallen Angels (1995)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Fallen Angels (1995)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Fallen Angels (1995)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- Days of Being Wild (1990)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি- In the Mood for Love (2000)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

মুভি: Happy Together (1997)
পরিচালক: ওং কার-ওয়াই

মুভি- Ruined Heart (2014)
পরিচালকঃ খাভন

মুভি- Temptress Moon (1996)
পরিচালকঃ চেন কেইজ

মুভি- Hero (2002)
পরিচালকঃ ঝ্যাং ইমু

মুভি- Dumpling (2004)
পরিচালকঃ ফ্রুট চ্যান

মুভি- Ashes of Time (1994)
পরিচালকঃ ওং কার-ওয়াই

সেই ক্রিস্টোফার ডয়েল সাম্প্রতিক সময় SCMP কে দেয়া ইন্টারভিউতে বলেন,
“মার্কেট পরিবর্তন হয়েছে,ফিল্ম হচ্ছে ব্যবসা,এখানে অনেক টাকা খরচ হয়,সেগুলো থেকে আয় করতে হয়, সব কিছু মার্কেটিং। কিন্তু আমি ওসব নিয়ে পরোয়া করি না। আমরা যদি চুপ হয়ে থাকি,আমরা যদি নিজ ভাষায় কথা না বলি,আমরা যদি নিজের জায়গায় আনন্দ না করি,আমরা যদি নিজের জায়গাকে ব্যবহার না করি, আমরা যদি নিজের গল্প না বলি তাহলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আর আমি চাই না এটা হোক। এইজন্য আমি হংকংয়ে সিনেমা বানানো বন্ধ করবো না” 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন