টাইটানিক।

সিনেমাটি দেখেছিলাম যখন হলিউডে মুক্তি পায় তার মাসখানেকের মধ্যেই।
বাংলাদেশ সরকার তখন সিনেমাটি বাংলাদেশে প্রদর্শনের অনুমতি দেয়ায় অনেক সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হয়। তখন সিনেমা দেখতে টিকিট ছিলো ডিসিতে ১৩-১৫ টাকা। কিন্তু টাইটানিকের জন্য টিকিটের দাম নির্ধারন করা হয় ডিসিতে ৫০ টাকা। অবশেষে ৫০ টাকা টিকিট কেটেই সিনেমাটা দেখলাম।

আমার কাছে সিনেমাটির একটি ঐতিহাসিক ঘটনার চিত্রায়িত রুপ হিসেবে মনে হয়েছে। একটি বিশাল জাহাজ দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ বেঁচে থাকার জন্য হাতের কাছে খরকুটো যা পেয়েছেন তা আকড়িয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। দৃশ্যটির কথা মনে হলে আজও মনটা স্তব্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। তাছাড়াও সিনেমাটিতে প্রেমের একটি সুন্দর আবহ তৈরী করা হয়েছে। সিনেমায় চোখ ধাধানো আলোকসজ্জা এবং জাহাজের অভ্যান্তরের বিলাসবহুল দৃশ্যগুলি চমৎকারভাবে চিত্রয়িত করা হয়েছে। এক কথায় “অসাধারণ একটি মুভি।”..

সিনেমাটিতে নাম ভূমিকা একটি সাজানো গোছানো জাহাজকে চিত্রায়িত করা হয়েছে যা ইতিহাসে ডুবে যাওয়া টাইটানিক নামক জাহাজটিকে বুঝানো হয়েছে। জেমস ক্যমেরনের পরিচালনায় এবং নায়ক চরিত্রে লিওনার্দো ডি-ক্যপ্রিও এবং নায়িকা চরিত্রে কেট উইনশ্লেট অভিনয় করেছেন।এছাড়া অনেক কলাকুশলী অভিনয় করেছেন যাদের নাম আমার জানা নেই।

জীবনে বেঁচে থাকার অকৃত্তিম চেষ্টা এবং রোমান্টিক প্রেমের দৃশ্যগুলি নিয়ে চমৎকার একটি মুভি। সবচাইতে করুণ দৃশ্য হচ্ছে যখন জাহাজটি ডুবে যাচ্ছিল তখন মানুষ বেচেঁ থাকার জন্য এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছিল। জাহাজটি যখন পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল তখন নায়ক একটি কাঠের টুকরো ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিল। তখন নায়িকাকে কাছের টুকরোটির উপর বসিয়ে নিজে আটলান্টিকের হিমশীতল জলে কাঠের টুকরোটিকে ভাসিয়ে রাখার প্রাণপন চেষ্টা করছিল। একসময় নায়ক ঠান্ডায় মারা যায়। নায়িকা বেঁচে থাকে। পরে উদ্ধারকারি জাহাজ বা হেলিকপ্টার এসে জীবিতদের উদ্ধার করে।
(আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এজন্য যে মুভি রিভিউ ইতিপূর্বে লিখি নাই। এটাই আমার মুভি বিষয়ক প্রথম লেখা)

(Visited 262 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন