Vertigo – সাইকো থ্রিলারের প্রবাদ-পুরুষের এক কালজয়ী সৃষ্টি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Title: Vertigo (1958)
IMDb Rating: 8.5
পচা টমেটুঃ 98% Fresh

Alfred Hitchcock, মুভি লাভাররা একনামেই যাকে চিনেন। ব্রিটিশ এই ফিল্মমেকারকে সবচেয়ে influential ফিল্মমেকারদের মধ্যে একজন ধরা হয়। সাসপেন্স এবং সাইকোলজিকাল থ্রিলার জনার দু’টির যে পরিমাণ উন্নতি তিনি এককভাবে করেছেন, সেটা অন্য কেউ করতে পারেনি। ক্যামেরাওয়ার্ক, লাইটিং, স্টোরি টেলিং, এডিটিং এর অজস্র টেকনিক তার হাত ধরেই এসেছে হলিউডে। তারই এক মাস্টারপিস এই মুভিটি। বিভিন্ন Best films ever লিস্টে এই মুভির অবস্থান সবসময়ই দেখা গেছে।

Vertigo শব্দের অর্থ হল মাথা ঘোরা, বমি-বমি ভাব আর ভারসাম্যহীনতার সমন্বিত এক অনুভূতি। যেকোন ধরণের মুভমেন্টই ভার্টিগো’র কারণ হতে পারে। উচ্চতাও এর মধ্যে একটা হতে পারে। এই ফিল্মের মূল চরিত্র পুলিশ ডিটেক্টিভ John “Scottie” Ferguson (অভিনয় করেছেন James Stewart), acrophobia (উচ্চতাভীতি) এর ভুক্তভোগী। এই ফোবিয়া’র জন্য তাকে বাধ্য হয়ে তাড়াতাড়ি রিটায়ার করতে হয়। একদিন কলেজ লাইফের পরিচিত একজন, যে এখন একজন ধনী জাহাজ-নির্মাতা তাকে অনুরোধ করে তার স্ত্রী Madeleine (অভিনয়ে Kim Novak) এর গতিবিধির উপর নজর রাখতে। কেননা তার বিশ্বাস তার স্ত্রীর উপর এক মৃত আত্মীয়ের প্রেতাত্মা ভর করেছে, যার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। Scottie নিমরাজি হয়, কিন্তু পরদিন থেকে সে Madeleine এর গতিবিধির উপর নজর রাখা শুরু করে, বোঝার চেষ্টা করে যে আসলে হচ্ছে কি।

মুভির স্ক্রিনপ্লে ফ্রেঞ্চ উপন্যাস The Living and the Dead (D’entre les morts) এর একটি এডাপ্টেশন। এটা এডাপ্ট করার অনুমতি পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। স্ক্রিনপ্লে লেখার ক্রেডিট দুইজনের মধ্যে কাকে দেয়া হবে এটা নিয়ে কিছুটা ঝামেলা হলেও শেষে দু’জনকেই ক্রেডিট দেয়া হয়।

এই মুভিতে “vertigo” ফুটিয়ে তুলতে হিচকক একটা স্পেশাল ক্যামেরা ইফেক্ট ব্যবহার করেন- যেটার নাম Dolly Zoom। এটি হল এমন একটা ইফেক্ট, যেখানে মূল subject টার উপর লেন্স জুম করছে, আবার একই সাথে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল পিছনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে (অথবা উল্টোটা)। ডিটেইলস এখানে। এই মুভি দিয়েই এই ইফেক্টটা জনপ্রিয় হয়। এতটাই জনপ্রিয় হয় যে একে “Hitchcock Zoom”, “Vertigo Effect”, “Hitchcock Shot”, “Vertigo Shot” ও বলা হয়।

ফিল্মটার বেশিরভাগ শুটিং স্টুডিওতেই করা হয়। হিচকক স্টুডিওতেই কাজ করা প্রেফার করতেন কারন সেখানে পরিবেশের উপর তার নিয়ন্ত্রণ থাকত। স্যান ফ্র্যান্সিস্কো’র রাস্তায় কিছু শুটিং করা হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি চার্চে একটি সিকুয়েন্স ফিল্ম করা হয়।

মুভিটা প্রথমে সাদা-কালোতে রিলিজ পেলেও পরে অনেকবার একে রিমাস্টার করা হয় এবং এর অডিও, ভিডিওকে অনেক উন্নত করা হয়। হোম মিডিয়াতেও একে রিলিজ করা হয়।

এই ফিল্মের এত প্রশংসা, এত খ্যাতি, কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল প্রথম যখন রিলিজ পায়, রিঅ্যাকশন ছিল মিক্সড। অনেকেই বলেন যে মুভিটা অনেক বড় ছিল, স্লো ছিল। আবার কয়েকজন প্রশংসাও করেন। ইউএস বক্স অফিসে এটা ৩.২ মিলিয়ন ডলার গ্রস করে, যা হিচককের আগের মুভিগুলোর চেয়ে বেশ কম। হিচকক আর কি বলবেন, এখন যত দোষ হিরো ঘোষ। ৫০ বছর বয়সী নায়ক আর ২৫ বছর বয়সী নায়িকার প্রেম পাবলিকের হজম হয়নি- আপাতত এই বললেন। কিন্তু ১৯৮৩ এ রি-রিলিজ এর পর এটা দারুণ সাফল্য পায়। ১৯৯৩ এর রিমাস্টার্ড ভার্সন রিলিজও ব্যাপক সাফল্য পায়। এর পরে একের পর এক সম্মাননা আসতে থাকে। British Film Institute এর লিস্টে এটি Greatest Film Ever এর স্বীকৃতি পায় Citizen Kane কে পিছনে ফেলে, American Film Institute এর লিস্টে এটি নাম্বার ১ মিস্ট্রি ফিল্ম।

মুভিটা দেখতে যেয়ে আমার কাছে একটাই সমস্যা লেগেছে- generation gap। সেইসময়ের ইফেক্টের স্ট্যান্ডার্ড আর এখনকার স্ট্যান্ডার্ড তো আর এক না। কিছু কিছু সিন দেখতে যেয়ে ব্যাকডেটেড লেগেছে, কিন্তু তখনই মনে পড়েছে, এটা ৫৪ বছর আগের ফিল্ম। কাহিনীটা কিছু কিছু জায়গায় স্লো, তবে সেটা নিয়ে এমন অভিযোগ করার কিছু নাই, সাইকো থ্রিলার তো এমনই হয়।

থ্রিলার ফ্যানদের এটা মিস করা মোটেও ঠিক হবে না। সো, যারা দেখেননি, এখনই দেখে ফেলেন
720p Torrent:
http://thepiratebay.se/torrent/6659419

কিছু ছবিঃ

Acrophobia এর শুরু

A brassiere that works on the principle of cantilever bridge….Not bad :/

Nightmare

খ্যাক খ্যাক খ্যাক…..

 

 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন