মন্‌সুন ওয়েডিং (২০০১)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

1

 

 

উচ্চমধ্যবিত্ত পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবার। মেয়ের বিয়ে। চারপাশে বেশ একটা উৎসবের মেজাজ। তাকে কেন্দ্র করেই একমুঠো ছোট ছোট গল্প। আরও সঠিক করে বলতে গেলে অনেকগুলো গাঁদাফুলকে নিপুণ করে গাঁথা মালাবিশেষ।

 

অনেকদিন বাদে একটা নির্দিষ্ট ইভেন্টকে কেন্দ্র করে দেশ বিদেশ থেকে পরিবারের সকলের একত্রিত হওয়া। সেখানে চেনা হাসিঠাট্টা থাকে। থাকে রোজকার যাপনগুলোর ভাঁজে ভাঁজে মুড়ে রাখা চেনা অভিমান, ভালোবাসা আর হলুদ হয়ে যাওয়া পুরনো যন্ত্রণাগুলো।

 

সময়টা থার্ড মিলেনিয়াম। ভুবনায়ন আর বাপ-পিতেমোর আমল থেকে মেনে চলা পারিবারিক মূল্যবোধের টানাপোড়েন। যৌনতার বিষয়ে ‘কোনদিকে যাই’ ট্রানজিশন স্টেট। যেন তারই প্রতীকীস্বরূপ দেখা যায় টেলিভিশনের টক শো — সিনেমাতে সেন্সরশিপের এক্তিয়ার।

 

 

3

 

 

চিত্রনাট্য অসামান্য না হলেও হতাশাজনক কখনোই নয়। অপ্রয়োজনীয় বাণী বিতরন নেই। আমি আমি জানি জানি’র আদেখলামোও নেই। বরং যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত এবং কিছু জায়গায় তো ধারালোই বলা চলে।
— ইউ থিংক জাস্ট বিকজ ইউ ওয়ার হ্যান্ডলুম অ্যান্ড স্পিক ইন হিন্দি দ্যাট ইউ রিপ্রেসেন্ট দ্যা কমন ম্যান? ওয়েল ইউ ডোন্ট।
বা…
— ইন মাই ওপিনিয়ন ইউ পাঞ্জাবিজ্‌ আর ওয়ে টু অস্টেনটেশাস।
— ইন মাই ওপিনিয়ন ইউ বেঙ্গলিজ্‌ আর ওয়ে টু প্রিটেনশাস।
অথবা…
— কিতনা লাগেগা?
— টু ল্যাকস্‌, এক্সাটলি অ্যান্ড অ্যাপ্রক্সিমেটলি!

 

 

4

 

 

অভিনয়ের প্রসঙ্গে; প্রত্যেকেই যে যথাযথ কিংবা ফাটিয়ে দিয়েছেন এমন দাবী হয়তো পরিচালিকাও করেন না। তবে অন্তত আমার নজরে  ‘ভয়াবহ বিচ্যুতি হয়ে পড়েছে’  জাতীয় কিছু আসেনি। নাসিরুদ্দিন তো রয়েছেনই। এছাড়া অসম্ভব ভালো লেগেছে বিজয় রাজকে। খুব দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি এই কেতাবহুল ঢক্কা-নিনাদময় হিন্দি সিনেমা বলয়ে মুষ্টিমেয় জাত অভিনেতাদের মধ্যে উনি একদম ওপরের সারিতে থাকবেন।

 

টেকনিক্যাল বিষয়ে প্রথাগত শিক্ষা নেই তাই তা নিয়ে বাড়তি কথা বলাটা উচিত হবে না। তবে সিনেমাটোগ্রাফি মন্দ লাগেনি আর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বিশেষ ভালো লেগেছে।

 

মীরা নায়ারের সিনেমাতে সাধারনভাবে উঠে আসে পরিচিত অথচ অস্বস্তিকর ইস্যুগুলো। আর সব কারন বাদ দিলেও সেগুলো ভালো লাগে অন্তত টিপিক্যাল বলিউডি ন্যাকামি, অসহ্য নাটুকেপনা আর ভন্ডামিবিহীন হওয়ার জন্যেই। মন্‌সুন ওয়েডিং’ও তার ব্যাতিক্রম নয়। এবং যেটা বিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে সেটা তাঁর ক্ষুদ্র খুঁটিনাটির পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। হয়ত বলাটা প্রগলভতা হয়ে যাবে তবুও অনস্বীকার্য কিছু কিছু দৃশ্য হায়াও মিয়াজাকির মাস্টারপিসগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।

 

সম্ভবত সত্যজিতের অপরাজিত’র পর এইটেই গোল্ডেন লায়ন জিতে নেওয়া দ্বিতীয় এবং অদ্যাবধি শেষ ভারতীয় ছবি। তবে পরিচালিকার নিজের কাজগুলোর মধ্যেই দাঁড়িপাল্লা ঝোলালে ভালোলাগার বাটখারাতে লাস্ট ল্যাপে সালাম বোম্বে’কে স্লাইট এগিয়ে রাখব।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন