বি.এ. পাস (২০১২) : হয়নি, হয়নি, ফেল্!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ব্রাহ্মন নমন (খাসা লেগেছে আমার) দেখে অনুলা নাভলেকরের ওপর ভয়ানক ক্রাশ খেয়ে তো হামলে পড়া গেল গুগলের ওপর। তারপর তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল আর আইএমডিবি তোলপাড় করে (তোলপাড়ের তেমন কিছুই নেই যদিও; দুর্ভাগ্য গুগলের, তাঁর সম্বন্ধে এত কম জানে!) তুমুল উৎসাহে নামিয়ে ফেল্লাম  বি.এ. পাস। মানে এ পর্যন্ত তাঁর সবেধন বলতে এ দুটিই নীলমণি কিনা।

তারপর?

তারপর সে কি কান্ড রে মশায়, সে কি ছাই লিখে বোঝাবার!

ও হ্যাঁ মূল প্রসঙ্গে ঢোকার আগেঃ  বি.এ. পাস এর সাথে কিন্তু অনুলার দূর দূর তক কোন সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ, তিনি মিনিট খানেকের মতো স্ক্রিন প্রেজেন্স দিয়েছেন। বিবর্ণ দুখী রোলে কতিপয় সেকেন্ডস নিক্তি মেপে প্রয়োজনমাফিক ফুঁপিয়েছেন। ব্ব্যস। ওই অব্দি। হতভাগা পরিচালক!

স্পয়লারের তোয়াক্কা না রেখে এগিয়ে যাওয়া যাক কি বলেন?

mukesh 4

তো  যে কথা বলছিলাম, মুকেশ আপাত সদাশিব (হ্যাঁ, আপাত, কারন তার থেকেও নাকি হাল্কা দু-চারটে ফুলকি বেরোতে পারে! তবে সে সব কথা ক্রমশ প্রকাশ্য) ক্যাবলা গোছের এক লাল্টুস নব্যযুবক। বাপ-মা মারা যাওয়ার পর (সে অবশ্য মনে করে মা-বাপের মারা যাওয়াটা ঠিক কোন দুর্ঘটনা বা মৃত্যু ফিত্যু নয়, উহা ধোঁকা! স্রেফ, কে যে ধোঁকাটি দিল সেইটেই যা বুঝতে বাকি। এমন প্রতিভাধর দার্শনিক সম্পদ যদি অনার্স পড়ার সুযোগ না পায় তবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে গালি দেবে না লোকে?) খুব একটা ইচ্ছে না থাকলেও, মফঃস্বলের (আজ্ঞে তেমনটাই তো বোধ হল। নাকি ছোটা শ্যহর? কে জানে বাবা!) বাড়িতে দুই বোনকে রেখে, সে ‘বুয়াজির’ বোঝা হয়ে দিল্লি চলে আসে। কাছেপিঠেই এক কলেজে পাস কোর্সে ভর্তি হয়। সে কি ঘ্যাম কলেজ রে ভাই, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অমন সর্বাঙ্গীণ সুন্দর রূপের কথা এমসিআই এর গোচরে এলে নির্ঘাত মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করে দিত। এই না, সিরিয়াসলি। তবে কলেজ যে প্রাইভেট নয় তা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারন যে বাড়িতে বেচারার দুই বেলা খাওয়াই জোটে না ঠিক করে তারা বিপুল ডোনেশন থোড়াই জোগাবে! কোন অলপ্পেয়ে বলে র‍্যা সরকারি কলেজগুলোর সর্বিক মানের অবনতি ঘোটছে?

হেনকালে বুয়াজির বাড়িতে প্রমীলাবাহিনীর এক জটলা (নারী কল্যাণকর সমিতির মিটিং টাইপ) থেকে পাওয়া গেল এ নাটকের থুড়ি ফিল্মের দ্বিতীয় কুশীলবকে। তাঁর নাম সারিকা। প্রথম থেকেই তাঁর গলাটা ভারি চেনা চেনা ঠেকছিল। মাঝে একবার মনেও হল, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে দিয়ে ডাব করায়নি তো? কিছু পরেই অবিশ্যি সব সন্দেহ হল নিরসন। আরে এ মক্কেলরে আমি চক দে ইন্ডিয়াতে দ্যাখসি না! যাই হোক, ক্রমে ক্রমে জানা গেল তিনি আসলে এক উচ্চকোটির রূপোপজীবিনী চক্রের দালাল। বেশ বড় চাঁই। এরপর যা হয় আর কি…  মানে যা হওয়া উচিত আর কি…  মানে ঐ… তাই হল। ভদ্রমহিলা এমন আলাভোলা প্রায়ান্ধকার ভবিষ্যতের ছেলেটিকে বেশ করে বুঝিয়ে দিলেন এ ধান্দার রকমসকম। এদিকে টাকার অভাবে বোনদুটিকে হোমে পাঠাতে হয়েছে। শিব্রাম হলে হয়ত বলতেন ‘সে হোমও কিছু কম বন্য নয়।’  ফলে তাদের সেখান থেকে দিল্লিতে নিজের কাছে নিয়ে আসা আশু প্রয়োজন। কিন্তু এনে তো আর বুয়াজির বাড়িতে তোলা যায় না। অগত্যা মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই না হলেই নয়। তা পয়সাকড়িও তো অ্যাদ্দিনে নেহাত মন্দ জমেনি।

এমন সময় পরিচালকের হৃদ্যতায় ঘটনাপ্রবাহ ঠিক সেই খাতে বয়ে গেল যাতে করে মুকেশ তার পারের দুয়ানি সারিকার কাছে গচ্ছিত রাখতে আসতে বাধ্য হয়। এবং ঠিক সেই ব্রাহ্মমুহূর্তেই, যাকে বলে কহানি মে ট্যুইস্ট! ঠিক তাল বুঝে ঘরে ঢোকে সারিকার হাজব্যান্ড! ওত পেতে ছিল আর কি। ইক্কেরে কট রেড হ্যান্ডেড! মুকেশকে মৃদু প্রহার,যৎকিঞ্চিত তিরস্কার করা হইলে পর অর্ধচন্দ্র প্রদানে অনীহা দেখিয়ে উহার সামনেই কি না স্ত্রী কে…! অ্যা ম্যা গো ছিঃ! ভারতীয় সংস্কৃতিলালিত কোন পুরুষ এ দৃশ্য সইতে পারে? ঈসশশশ…। মুকেশও তাই জবজবে লজ্জা আর ঘেন্নায় মাখামাখি হয়ে পালিয়ে বাঁচল কোনক্রমে। না ভুল বললাম। বাঁচবে ক্যামনে? টাকা তো সব সারিকার সিন্দুকে। তদুপরি বাড়িতে মুখ দেখাবার জো নেইকো। তবে সে এখন খাবে কি? থাকবে কোথায়?

এইরে; যাঃ। মহা ভুল করে ফেলেচি তো। জনি ভাইয়ের কথাই যে বলিনি আপনাদের। আরে তাইতো। হ্যাঁ, জনি হচ্চে প্রোটাগনিস্টের পাতানো ভাই। শিক্ষাগুরুও বলতে পারেন। মুকেশের আমাদের ভারি শখ ছিল কিনা দাবা খেলার। কাসপারভের মুভসের ওপর বই (টাইটেলে যদিও ‘কাসপ্রভ’ লেখা!) পড়ে পড়ে খেলা শিখত। আর তার সেই ভার্চুয়াল একলব্য জীবনে রিয়াল দ্রোণাচার্য হয়ে দেখা দিয়েছিলেন জনি। লোক খারাপ নন, তবে দোষের মধ্যে ট্যাঁকখালির জমিদার হয়েও খালি খালি মরিশাস যাবার জন্য ছোঁক ছোঁক করেন। বেডরুমের (বেডরুম বলাটা কি ঠিক হল? সাকুল্যে একটিই রুম ছিল যেন মনে হল) দরজার কপাটে ওখানের সী বিচের ছবি সেঁটে রেখেছেন। সারিকার কাছে রতিক্রীড়া শেখার ঠিক পিঠোপিঠি কালে যুগপৎ এঁর থেকে দাবা শিক্ষা পেয়েছেন মুকেশ। উল্লেখ্য, সেই শিক্ষাকালের প্রোগ্রেস রিপোর্ট অবশ্য একপক্ষের মুখ দিয়েই বেরিয়েছে কেবল। জনি পক্ষের।  ”বহত জলদি মে র‍্যহতে হো বাচ্চে, গ্যয়া তুমহারা রানি!”  বা  ”কুছ কুছ শিখ্‌ গ্যয়া, কুছ আভিভি বাকি হ্যায়।”  বাব্বা! রূপকার্থের কি অসামান্য প্রয়োগ। ভাবা যায়! তা তাঁর মতো অমন চেনাশোনা লোক থাকতে মুকেশের অমন ভাবিত হয়ে পড়াটা কিন্তু বাড়বাড়ি, সে আপনি যাই বলুন আর তাই বলুন। মানে রাত্তিরবেলা… দেদার ফাঁকা মেট্রো… অথচ সিটে বসল না একবারও! হয়তো বা মন ভার করলে নিতম্বে ব্যাথা করে।

mukesh 1

mukesh 5

কিন্তু তা হলেও কি শান্তি আছে! কাম ধান্দার সারে কে সারে কন্টাক্টস কে যেন মন্তর পড়ে বন্ধ করে দিয়েছে। যেচে ফোন করলে জবাব আসে… চিনিনেকো! বেচারা পেশিহীন মুখচোরা ছেলে, একমাত্র এ কাজ ছাড়া আর কোন কাজ, সত্যিই তো – না পারবে করতে না করতে জানে। ফলে এযাবৎ তাকে শান্তিগোপালের স্যাম্পল মনে হলেও দেখা গেল সে ব্যাটাও হুঙ্কার ছাড়তে পারে! এবং দিনে দিনে পরিস্থিতি যে অসহ্য হয়ে উঠেছিল তাতে করে সে যে শীঘ্রই একদিন ফলকাটা ছুরি নিয়ে সারিকার ফ্ল্যাটে হানা দেবে সে আর আশ্চর্য কী। তারপর আর এক প্রস্থ হুটোপাটির শেষে জানা গেল সে টাকা নাকি জনি ভাইয়া মেরে দিয়েছে। লে হালুয়া!

উফফ্‌ পাঠক, শেষ দৃশ্যের মুকেশকে যদি দেখতেন! সে জিনিস চোখে দেখা যায় না। আহ্‌। ফিল্মের বাজেট মাত্র দু কোটি বলে হাতে ডাইল্যুটেড আলতা মেখে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে (হ্যাঁ, ছুরির কোপটা যথাস্থানেই পড়েছিল কি না)। বোন ফোন করে জানাচ্ছে যে তারা হোমে টিকতে না পেরে দিল্লি স্টেশনে আসিয়া দন্ডায়মান। সামনে পুলিশ। পিছনে পুলিশ। ডাইনে পুলিশ। বাঁয়ে পুলিশ। রে ভগোয়ান !

নিরুপায় মুকেশ ঝাঁপ দিল এক মাল্টিস্টোরিড এর ছাদ থেকে।

আমি রুমালটা চোখের জলেই কেচে নিলাম।

mukesh 6

সিনেমা যদি এমন তুখোড় গুনগত মান ও তুমুল মর্মন্তুদ কাহিনীভিত্তিক হয় তবে তার সুচিপত্রে তিন পাতা ব্যাপী প্রাপ্ত পুরষ্কার প্রদর্শনীই বা না থাকবে কেন?

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন