ফ্রান্‌জ কাফকা’র অপূর্ব সৃষ্টি . . . THE TRIAL
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

পূর্বকথা

Josef K wakes up in the morning and finds the police in his room. They tell him that he is on trial but nobody tells him what he is accused of. In order to find out about the reason of this accusation and to protest his innocence, he tries to look behind the facade of the judicial system. But since this remains fruitless, there seems to be no chance for him to escape from this Kafkaesque nightmare. IMDb Link

কিছু বাজে কথা

(এই অংশটুকু না পড়লেও হবে।) ফ্রান্‌জ কাফকা!! এ আবার কে?? আপনার মনে কি এমন কোন প্রশ্ন উদয় হয়েছে?? এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। উনি কোন পরিচালক বা অভিনেতা নন। উনি একজন লেখক। উনার সাথে আমার পরিচয় কিভাবে হল তা শুরু থেকেই বলি। আমার পিসি কেনার আগে আমি অনেক গল্পের বই পড়তাম, বিশেষ করে সেবা প্রকাশনীর বই। হয়ত অনেকেই আছেন সেবার ফ্যান। আমিও তাদের মধ্যে একজন। সেবা থেকে প্রতি মাসে প্রকাশিত ‘রহস্যপত্রিকা’ এর নিয়মিত পাঠক আমি। সেখানে বিভিন্ন রকম গল্প ছাপা হয়। একবার দেখলাম ‘ক্ষুধাশিল্পী’ নামে একটি অনুবাদ গল্প ছাপা হয়েছে। নামটা আকর্ষণ করল আমাকে।পড়েও খুব ভালো লাগল গল্পটা। এমন ব্যাতিক্রমধর্মী গল্প কখনও আগে পড়িনি!! ক্ষুধা যে শিল্পের পর্যায়ে পড়ে,তা তখনই প্রথম জানলাম। জানলাম একজন ক্ষুধাশিল্পী সম্পর্কে। কেমন তার আত্নত্যাগ!! একজন ক্ষুধার্ত মানুষ দেখলে আমাদের এখন হয়ত অত মায়া জাগে না,দেখে দেখে আমরা অভ্যস্ত!! কিন্তু একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যে কত কষ্টে থাকে,তার চেয়ে ভালো তা কেউ জানে না। যাই হোক!! তখন লেখকের নাম জানলাম, ফ্রান্‌জ কাফকা। তার একটা গল্পই (The Hunger Artist) আমাকে তার ফ্যান করে দিল।পরে নেটে খোঁজখবর নিয়ে দেখি আমি না জানলে কি হবে, তিনি একজন স্বনামধন্য লেখক। এডগার অ্যালান পো’র কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়ে তার বই অনেক খুঁজেছি,কিন্তু পাই নি। তবে ২০১১ সালে অনীশ দাস অপু তাকে নিয়ে একটা সমগ্র লিখেন, তাই আমি তার বই হাতে পাই। তাই আমি ভেবেছিলাম, ফ্রান্‌জ কাফকা’র বই মনে হয় আমি পাব না।অন্তত এই দেশে পাব না। Dennis Lehane এর বইগুলো অনুবাদ করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে অনুরোধ করেছি। তিনি বললেন সময় পেলে করবেন। ভাবলাম ,ফ্রান্‌জ কাফকা’র বই না পেলে কাউকে আবার অনুরোধ করার চেষ্টা করব। কিন্তু, আমি অবাক হলাম (যদিও অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই,তাও!!) যখন এবার বইমেলার প্রথম দিন গিয়ে কাফকার বই পেলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে।কিন্তু হাড্ডিসার সেই বই (Metamorphosis) পড়ে চাহিদা আরো বেড়ে গেল। তাও নিজেকে প্রবোধ দিলাম, ভবিষ্যতে কেউ আরও অনুবাদ করলে তখন কিনব।কিন্তু কিছুদিন পরেই পত্রিকায় দেখলাম,’ফ্রান্‌জ কাফকার গল্প সমগ্র’ নামে বই আসবে,পাঠক সমাবেশ থেকে। আর দেরি না করে পরেরদিনই চলে গেলাম বইমেলায়। সর্বপ্রথম সেই স্টলে গেলাম। বইটা দেখলাম। হৃদয়টা যেন জুড়িয়ে গেল!!! কিন্তু এত সুখ যে আমার কপালে নেই,তা কি জানতাম!! বই হাতে নেওয়ার আগেই দাম জিজ্ঞাসা করলাম। বলল,’৯০০ টাকা!!’

জোস্‌ কোন মুভি দেখলে ডায়লগ দিতাম ‘একি হেরিলাম’!!!  সেদিন বললাম ‘একি শুনিলাম!!’ একে তো গরিব মানুষ,আবার স্টুডেন্ট। এবং অবিবাহিত+বেকার!! এত টাকা আসিবার কোন উপায় নেই!!! তাও আশা করলাম,আমার কান আমাকে হয়ত ধোঁকা দিয়েছে।আবার জিজ্ঞাসা করলাম। বুঝলাম কান আমাকে ধোঁকা দেয় নি!! আর কি!! ভগ্নহৃদয়ে ফিরে আসলাম।বইটা হাতে নিয়েও দেখিনি,হয়ত অভিমানে বা দুঃখে!! এত দাম হবে ভাবিনি।তাও হাল না ছেড়ে এক বন্ধুকে বললাম তার যদি টাকা থাকে তাহলে সে যেন বইটা কিনে। দুধের স্বাদ ঘোলে তো মিটানোই যায়!!

বাসায় এসেই নেটে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ফ্রান্‌জ কাফকা আর কি কি বই লিখেছে। জানতে পারলাম তাকে নিয়ে একটা বই সময় প্রকাশন থেকে বের হয়েছে।এখনও খোঁজ নেওয়া হয়নি সেই বইটি এখনও বিক্রি করে কিনা!! তারপর জানতে পারলাম তার একটি গল্প/উপন্যাস থেকে একটি মুভি নির্মিত হয়েছে, Orson Welles এর পরিচালনায়। আর কি লাগে!! বই নাহয় না পেলাম,মুভি তো আছে!! মুভি নিয়ে লেখা দেখুন মূলকথায়।

ফ্রান্‌জ কাফকা’র বিখ্যাত রচনা The Trial. এই গল্পকে উপজীব্য করে ১৯৬৩ এবং ১৯৯৩ সালে দুটি মুভি রিলিজ হয় একই নামে। Orson Welles পরিচালনা করেছেন ১৯৬৩ সালের মুভিটি।মুভিটি সাদা-কালো। আইএমডিবি রেটিং – ৭.৮। ১৯৯৩ সালের মুভিটি পুরিচালনা করেছেন David Hugh Jones । রঙ্গিন হলেও মুভির রেটিং- ৫.৯। দুটি মুভিতে যেহেতু একই কাহিনী,সেহেতু আমি দেখার জন্য প্রথমটিকেই বেছে নিয়েছি। কেউ সাদা-কালো দেখতে না চাইলে দ্বিতীয় মুভিটি দেখতে পারেন।

67064

                                                  

                                                

মূলকথা

পূর্বকথায়  ১৯৬৩ সালের মুভি নিয়ে আইএমডিবি তে যে রিভিউ দেওয়া হয়েছে তা লিখেছি। মুভির কাহিনী হয়ত কিছুটা বুঝতে পারছেন।রিভিউ পড়েই এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব হয়!! Arrested and prosecuted. But for what he doesn’t know!! এবার শুরু হোক রিভিউ। এক রিভিউ এ দুই মুভি!! কি মজা!! ১৯৬৩ সালের The Trial মুভিতে অভিনয় করেছেন Anthony Perkins , Orson Welles , Romy Schneider প্রমুখ।এই মুভির বাজেট ছিল ১.৩ মিলিয়ন ডলার। মুভির শুরুতেই একটি গল্প দেখানো হয়। বলা যায় শোনানো হয়। গল্পটি নিম্নরূপ;

“আইনের দরজার সামনে একজন প্রহরী থাকে।তার কাজ হল কেউ যেন সেই দরজা দিয়ে ঢুকতে না পারে। একবার এক লোক তার দেশ থেকে আসে সেখানে প্রবেশ করার জন্য।কিন্তু প্রহরী তাকে ঢুকতে মানা করে। প্রহরীর হুকুম ব্যতীত সে প্রবেশ করতে পারবে না।তখন লোকটি তার প্রবেশাধিকারের জন্য ভিক্ষা চায়।সে জিজ্ঞাসা করে সে যদি কিছু সময় পরে আসে তাহলে কি সে ঢুকতে পারবে?প্রহরী তখন তাকে বলে এটা সম্ভব এবং বলে তার ক্ষমতা সবচেয়ে কম। এই দরজার ভিতরে আরো অনেক দরজা রয়েছে।প্রতি দরজার প্রহরীর ক্ষমতা, তার আগের দরজার প্রহরী চেয়ে বেশি।লোকটি এক সময় ঢুকতে পারবে সে আশায় দরজার বাইরে অপেক্ষা করে।বছরের পর বছর সে অপেক্ষা করে।সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যখন সে মৃতপ্রায় তখন সে প্রহরীকে ইশারা করে।সে একটা প্রশ্ন করবে ভেবেছিল,কিন্তু বছরের পর বছর সে প্রশ্নটি নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখে। শেষ সময়ে এসে সে প্রশ্নটি করে যেতে চায়। তাই প্রহরীকে এই আহবান। প্রহরী তাকে জিজ্ঞাসা করে সে এখন কি চায়??তখন লোকটি প্রশ্ন করে।সব মানুষ আইন লাভের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে,তাহলে এত বছরেও আর কেউ কেন প্রবেশাধিকার চাইতে এলো না?? লোকটি তার শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। তাই প্রহরী তার কানের কাছে গিয়ে চিৎকার করে বলে, সে (লোকটি) ব্যতীত আর কেউ প্রবেশাধিকার অর্জন করেনি।এই দরজাটি একমাত্র তার জন্যই বানানো হয়েছিল।এখন সে এই দরজাটি বন্ধ করে দিবে। উক্ত যুক্তিটি স্বপ্নের মত, বলা যায় দুঃস্বপ্নের মত।”

এর পরে শুরু হয় আসল কাহিনী। জোসেফ কে. একদিন মাঝরাতে  জেগে উঠে।তার ঘুম ভাঙ্গার কারণ দুজন পুলিশ অফিসার।তাকে জানানো হয় যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।কিন্তু কি কারণে সেটা তারা বলতে নারাজ।জোসেফ বুঝতে পারে না তার সাথে কি হচ্ছে। কোন বিষয়ে তাকে চার্জ করা হল এটাও সে  জানতে পারে না।সে একটু একগুঁয়ে প্রকৃতির।সে যতই কথা বলছে,ততই পেঁচিয়ে যাচ্ছে। বলা যায়, পুলিশরা পেঁচাচ্ছে।কিন্তু কেন?? হঠাৎ করে সব কিছু তার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে কেন!! সে তার বাড়ির মালিক মিসেস গ্রুবাক এবং তার প্রতিবেশী মিস বার্স্টনারকে জানায়। বার্স্টনার জোসেফকে এসব বিষয়ে তাকে জড়াতে মানা করে।মাথায় এই সব যন্ত্রণা নিয়ে জোসেফ অফিসে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে,বলা নেই কওয়া নেই, তার টিনএজ কাজিন এসেছে। সে তার সাথে দেখা না করেই তাকে বিদায় করে দেয়।এরপর সে তার বাসায় যাওয়ার পথে আবিষ্কার করে মিস বার্স্টনার বাসা ছেড়ে দিয়েছেন।কারণটা তার কাছে ঠিক স্পষ্ট হয় না। এরপর সে এক থিয়েটারে অপেরা উপভোগ করার সময় এক পুলিশ ইন্সপেকটর তাকে কোর্টরুমে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে জোসেফ কিছুটা পাগলামির সাথে বলে তাকে শুধু শুধু এই কেসে জড়ানো হচ্ছে। সে জানে না এর কারণ কি। আদালত,ম্যাজিস্ট্রেট সবার সাথেই সে বিরূপ আচরণ করে।তারপর সেখান থেকে সে বেরিয়ে আসে।ঘটনা পালাক্রমে শুধু পেঁচিয়েই যাচ্ছে। এরপর তা চাচা আসে তার সাথে দেখা করতে।তাকে নিয়ে যায় উকিলের কাছে।উকিলের নাম হাসলার।উকিলের স্ত্রীর স্বভাব ভালো না।নাম লেনি। যেকোন পুরুষের সাথে প্রেমে জড়াতে চায়,বিশেষ করে আসামীদের সাথে। তার সাথে জোসেফ এমনই এক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও আরও কিছু বেখাপ্পা ঘটনা রয়েছে কোর্টরুমের প্রহরীর স্ত্রী এবং হাসলারের বাসায় লুকায়িত এক পুরুষ নিয়ে। জোসেফ যখন বুঝতে পারে হাসলারকে দিয়ে তার উপকার হচ্ছে না,তখন সে তাকে ডিসমিস করার সিদ্ধান্ত নেয়।আশ্চর্যের ব্যাপার, এখনও সে তার অপরাধ কি তা জানে না। পুরো দুনিয়া জানে অথচ সে জানে না!!! এরপর সে লেনির উপদেশে টিটোরেলি নামক এক চিত্রকরের কাছে যায় সাহায্যের জন্য। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় না।

এখন কি হবে?? কারা তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করছে??তার অপরাধটা কি??

জানতে হলে দেখতে হবে এই মুভিটি।মুভিটির শুরু থেকেই সাসপেন্স।শেষ পর্যন্ত কি হল না দেখে উঠতে পারবেন না।

the-trial-poster-2

কাফকার গল্পের স্বাদ অন্যরকম। যে চেখে দেখেনি সে বুঝতে পারবে না। বলা যায় এই মুভিতে বিচারব্যবস্থার বেহাল অবস্থা ফুটে উঠেছে।বিচারের নামে যে কি হয়, তা হয়ত বিচারকরা নিজেরাই জানে না। এই হল অবস্থা!!

ইতিকথা

শেষকথা আর কি!! ডাউনলোড লিঙ্ক!! আশা করি মুভিটি আপনাদের ভালো লাগবে। মুভিটির ভালো প্রিন্ট পাওয়া একটু কষ্ট বৈকি!! যারা কাফকাকে চেনেন,তারা হয়ত মিস করবেন না। আর যারা চিনেন না,তারা পরখ করে দেখুন ভালো লাগে কিনা।

কিছুটা অবাস্তব!!নাকি??

তাহলে একটু কষ্ট করে চোখ বুলান এদিকে >>>> কাফকার ‘দ্য ট্রায়াল’ ও লিমনের গল্প <<<<

ফ্রান্‌জ কাফকা সম্পর্কে আরও দেখুন  এখানে

ডাউনলোডঃ The Trial ’63 (Torrent) & 1963 & 1993 Another Link; 720p part1 & 720p part2

[আমার লেখা যদি আরও পড়তে চান তাহলে ক্লিক করুন এখানে।]

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন