Sin City . . . The Perfect Film Noir ! ! !
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

নাম দেখেই বুঝতে পারছেন একটি ফিল্ম নয়ির জেনারের মুভি নিয়ে লিখছি এই লেখাটি।এই জেনারটি অনেকেরই পছন্দ। এই জেনারটি অন্যান্য সব থেকে জেনার থেকে আলাদা। এই জেনারের মুভিগুলো বুঝতে পারলে খুব দারুণ লাগে আবার না বুঝতে পারলে মুভি চরম ফালতু মনে হয়। পরিচালকরা এক রকম ঝুঁকি নিয়েই এসব ফিল্ম নির্মাণ করেন। মুভিলাভার্সব্লগে অন্য ক্যাটাগরির অনেক লেখা থাকলেও ফিল্ম নয়ির নিয়ে লেখা অনেক কম, মাত্র দশটি।

অনেক সময় অনেকের রিভিউতে দেখি অনেক চমৎকার বিশ্লেষণ থাকে। মিউজিক,স্ক্রিনপ্লে ইত্যাদির জন্য তারা আলাদা করে রেট করেন। আমার জ্ঞান এখনও অতদূর পৌঁছেনি। আমার কাছে যে মুভি ভালো লাগে সেটাকে আমি দশে দশ দিয়ে দেই নির্দ্বিধায়।যেমন Shutter Island,The Dark Knight,The Dark Knight Rises,Blood Diamond ইত্যাদি।

যে মুভির জন্য আলোচনা করছি সেটার পোস্টারটা একটু দেখে নেই।

sincity3

IMDb Rating- 8.2

আমি আগেও কিছু ফিল্ম নয়ির মুভি দেখেছি। যেমনঃ The Machinist, Mulholland Dr.,The Sixth Sense,Fight Club,Taxi Driver ইত্যাদি। দুয়েকটা মুভি তো মাথার উপর দিয়ে গেছে। পরে ইন্টারনেট থেকে সাহায্য নিয়ে কাহিনী বুঝেছি। তবে যতগুলো দেখেছি তার মধ্যে Sin City একটু ব্যতিক্রম।এর প্রধান কারণ হল এর উপস্থাপনা। এ কারণেই হয়ত আমি এই মুভিকে দশে দশ দিয়েছি। এছাড়াও কাহিনীগুলোও বেশ ভালো লেগেছে। Frank Miller এর কমিক থেকে এই মুভির কাহিনিগুলো নেওয়া হয়েছে।মুভিতে কাহিনী গুলো দেখানো হয়েছে কমিক স্টাইলে। কারো কারো হয়ত পছন্দ হয়নি,কিন্তু আমার কাছে দারুণ লেগেছে।

Its a Great Dark Film Noir Movie!!!

বলতে দ্বিধা নেই এই মুভিকে আমি বলি  “The Perfect Film Noir” !! কেন?? সেটা তো বলে বুঝানো যাবে না। দেখে বুঝতে হবে। তাও আমি চেষ্টা করব ধারণা দেওয়ার।

অনেক কথা তো বললাম,এবার আসল প্রসঙ্গে আসি। এই মুভি পরিচালনা করেছেন Frank Miller , Robert Rodriguez , Quentin Tarantino । নাম শুনেই হয়ত বুঝতে পারছেন কি রকম ক্রাইম এবং ভায়োলেন্স আছে এই মুভিতে। আপনাকে হতাশ করবে এমন কিছুই এই মুভিতে নেই।

এই মুভিতে অভিনয় করেছেন Jessica Alba , Clive Owen , Rosario Dawson , Bruce Willis , Jaime King , Devon Aoki , Mickey Rourke , Benicio del Toro , Michael Madsen , Alexis Bledel , Carla Gugino , Brittany Murphy , Rutger Hauer , Elijah Wood , Nick Stahl প্রমুখ।

১২৪ মিনিটের এই মুভিটি রিলিজ পায় ২০০৫ সালের পহেলা এপ্রিলে। ৪০ মিলিয়ন বাজেটের মুভিটি আয় করেছে ১৫৮,৭৫৩,৮২০ ডলার।

এই মুভিতে আরেকটু নতুনত্ব আছে। তবে আমাদের কাছে নতুন নাও লাগতে পারে। সেটা হল মুভিতে মোট চারটি ভিন্ন কিন্তু সামান্য সম্পর্কযুক্ত কাহিনী রয়েছে।এখান থেকেই হয়ত বলিউডের Dus Kahaniyaan  অনুপ্রাণিত হয়েছে।

মুভিটি মূলত গড়ে উঠেছে Basin City কে ঘিরে। এই শহরই Sin City নামে পরিচিত। পাপের শহরে অপরাধের কোন মাত্রা নেই বললেই চলে। অপরাধ করা যেন ডাল-ভাত। অপরাধ না করাটাই যেন দোষের।অপরাধীর কোন অভাব নেই।অপরাধী হওয়াই গর্বের বিষয়। এমন কিছু অপরাধের কাহিনী (চারটি) নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মুভি।

প্রথম কাহিনীঃ  That Yellow Bastard

sin_city_2

John Hartigan একজন পুলিশ অফিসার।শুরুতেই তিনি সিনেটর Roark এর বদমাশ ,লম্পট ছেলের হাত থেকে১১ বছরের এক কোমলমতি মেয়েকে উদ্ধার করতে যান। Roark Jr. এর লালসার শিকার হওয়ার আগেই তিনি মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না।তিনি প্রতারিত ও আহত হোন।

কিভাবে ??

সেটা দেখে জানতে হবে।

আমি বাকিটুকু বলি। আহত জন এর উপর মিথ্যা মামলা করা হয়।স্বাভাবিকভাবেই তিনি মেয়েটিকে বাঁচাতে Roark Jr. কে আহত করেন। কিন্তু সিনেটর উল্টো মামলা করেন যে জন মেয়েটিকে তার বাসনার শিকার বানান এবং তার ছেলেকে আহত করেন। জোর যার মুল্য তার।পাপের শহরে ন্যায়বিচার আশা করাই অপরাধ। জনের কারাদন্ড হয়। সে যতদিন না তার পাপ স্বীকার করবে ততদিন তার কারাভোগ করতে হবে।

সামান্য শান্তির বিষয় এই যে, মেয়েটি তো সব সত্য জানে।এবং মেয়েটি তাকে মন দিয়ে ভালবাসে।এতেই জন অনেক সান্ত্বনা পায়। কিন্তু তার ভয় হল,সিনেটরের ছেলে আবার মেয়েটির উপর হামলা করতে পারে। সাক্ষী রেখে লাভ কি, এছাড়াও এই মেয়ের জন্যই সে অনেক গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। তাই জন মেয়েটিকে দূরে চলে যেতে বলেন। মেয়েটি দূরে চলে গেলেও তাকে প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখে।৮ বছর পর হঠাৎ একদিন,তার চিঠি আসা বন্ধ হয়ে যায়। জন চিন্তিত হয়ে পড়ে। মেয়েটি এতদিন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চিঠি লিখে আসছিল,ধরা পড়া কোন সম্ভাবনা নেই। বলতে ভুলে গেছি মেয়েটির নাম ন্যান্সি। ন্যান্সির কি হল তা জানার জন্যে জন জেল থেকে বেরোনোর সিদ্ধান্ত নেয়।হার মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ন্যান্সির কি হল তা না জানা পর্যন্ত তার শান্তি নেই।

শেষ পর্যন্ত কি হবে?? জন কি ন্যান্সিকে খুঁজে পাবে?? সে কি পারবে তাকে বাঁচাতে?? তার চেয়েও বড় কথা হল মেয়েটিকে তো চিনতে হবে!! তার ছবি তো সে দেখেনি!!

দ্বিতীয় কাহিনীঃ The Customer is always right

alexis-bledel-in-sin-city-wallpaper

 

একটি পেন্টহাউজের ব্যাল্কনিতে একজন মহিলা কাস্টমার দাঁড়িয়ে আছে।তার কাছে একজন পুরুষ সেল্‌সম্যান আসে। কথোপকথন শুরু হয়। লোকটি বলে সে জানে মহিলাটি কিছু একটা ব্যাপার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ,তা সে জানে না। তবে সে তাকে সাহায্য করতে পারবে।কিন্তু সে আসলে জানতে পারেনি মহিলাটি কিসের জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

কেন সে জানতে পারেনি??

এই প্রশ্নের উত্তর যখন পাবেন,তখন আর খেয়াল থাকবে না যে আপনি উত্তরটি পেয়েছেন। এমনই এক চমক অপেক্ষা করছে আপনার জন্য!!! তবে আমার এই প্রশ্নটি কষ্ট করে মনে রাখার চেষ্টা করবেন। এই কাহিনীটির দৈর্ঘ্য খুবই কম।

তৃতীয় কাহিনীঃ The Hard Goodbye

sin-city_7cdc3dfc

 

Marv কে একজন বিখ্যাত অপরাধীই বলা যায়,একটু পাগলা কিসিমের!!! কাহিনীর শুরুতেই দেখা যায় Goldie নামের দেহোপজীবিনীর সাথে সে রাত কাটায়। মাতাল সারা রাত,কোন হুঁশ নেই। সেটাই হয়েছে বিপদ। যেই গোল্ডিকে সে The Perfect Woman বলেছিল,হুঁশ আসতেই দেখে তার পারফেক্ট উম্যান মরে পড়ে আছে!! খুনী এতই নিরব ছিল সে টেরও পায় নি!!কিছুক্ষণ পরই আবার শোনা গেল সাইরেন। মড়ার উপর খাড়ার ঘা!! মার্ভ এর তো মাথা খারাপ। সে কোনমতে তখন পালিয়ে বাঁচে।

তারপর তার মাথায় ভুত চাপে,প্রতিশোধ নেওয়ার। প্রতিদিন এমন কত গোল্ডি মারা যায়,কেউ খবরও রাখে না। কিন্তু মার্ভ যে পাগলা কিসিমের!! খাল কেটে কুমির আনাই তার কাজ। সে তার শত্রুকে খুঁজতে থাকে। শত্রুকে খুঁজে পাবে,তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু শত্রুর পরিচয় জানলে আপনি অবাক হবেন এটা শিওর।এমন মানুষ সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু পাপের শহরে যেন সবই সম্ভব।

সে কি পারবে এই ভয়াবহ খুনিকে পরাস্ত করতে??

মজার বিষয় হল, সে যখন খুনিকে খুঁজে তখন আপনি দেখতে পাবেন গোল্ডিকে। জীবিত অবস্থায়। কিভাবে সম্ভব?? বলব না!!

চতুর্থ কাহিনীঃ The Big Fat Kill

sin-city-posters-sin-city-525059_484_755

শেলির এক্স-বয়ফ্রেন্ড জ্যাকি এসেছে তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে।শেলি তখন তার নতুন বয়ফ্রেন্ড Dwight কে নিয়ে ব্যস্ত।সে চায় না তারা মুখোমুখি হোক। তাহলে, বুঝতেই পারছেন!! খুন-খারাবীও হয়ে যেতে পারে।পাপের শহর!! তাই শেলি দরজা খুলে না। কিন্তু জ্যাকি তখন মাতাল এবং পাগলপ্রায়। সে দরজা ভাঙতে উদ্যত হয়। তখন শেলি Dwight কে লুকিয়ে, দরজা খুলে। তারপর জ্যাকি একা ওয়াশরুমে গেলে তখন Dwight তাকে হুমকি দেয়।তারপর জ্যাকি আর কোন ঝামেলা না করে তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে বের হয়ে যায়। তার মাথায় তখন রক্তের নেশা। এই নেশা মিটবে শুধু একজন নারীর রক্ত পেলে!! জ্যাকি তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে ওল্ড টাউনে যায়, দেহোপজীবিনীর আস্তানা। সেখানে পুলিশও ভুলে পা মাড়ায় না। Dwight বুঝতে পারে যে এখন জ্যাকিকে না থামালে সমস্যা হয়ে যাবে।তাই সে তাকে থামাতে যায়। ওল্ড টাউনের নারীরাও কম বিপজ্জনক নয়।জ্যাকি তাদের কাউকে না মারতে পারলেও, তারা ঠিকই জ্যাকির সাঙ্গ-পাঙ্গ সহ সবাইকে মারতে পারবে। Dwight যথাসময়ে না পৌঁছালে একটা সমস্যা হবেই!!! লাশ লাশ খেলা হবে!!!

Dwight কি পারবে সব ঠিক করতে???

শেষে আছে চরম এক নাটকীয়তা। আর জ্যাকির আসল পরিচয় পাওয়ার পরই কাহিনী ঘুরে যাবে অন্যদিকে। জ্যাকির আসল পরিচয় কি?? আপনি যদি মনে করেন আমি বলে দিব, তাহলে সেটা আপনার ভুল ধারণা।

সব প্রশ্নের উত্তর জানতে দেখে ফেলুন চরম এই মুভিটি। চরমতম!!!

ডাউনলোড লিঙ্কঃ

Sin City (Unrated)

Sin City (Unrated)

 

আরও খুশির খবর হল Sin City 2 আসছে এই বছরেই। যদিও এখনও শিওর না। আরেকটা চরম মুভির অপেক্ষায় রইলাম। 🙂

Sin City 2

Sin City 2

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন