“The Impossible” অ্যা পোর্টরেট অব লাভ, লাইফ এন্ড সুনামি

1370211_674621789223854_1771333690_nMovie Name: The Impossible (LO IMPOSIBLE)

Director: J. A. Bayona

Writers: Sergio G. Sánchez, María Belón (Story)

Stars: Naomi Watts, Ewan McGregor, Tom Holland, Oaklee Pendergast, Samuel Joslin.

Music:Fernando Velázquez

IDMb Rating: 7.5 (http://www.imdb.com/title/tt1649419/)

Country: Spain

 

আদর আর ভালবাসায় চলতে থাকা মুভির প্রথম ১০-১২ মিনিট যে কাউকে তার নিজের পছন্দের মানুষদের সাথে কাটানো ভাল কিছু সময়কে মনে করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু মুভির পরবর্তী ২০ মিনিট দেখে কেউ চাইবেন না তার সাথে কখনও এমন হোক। আর শেষ ঘন্টার নাটকীয়তা দেখে আমার নিজেরই ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল আমি যে মুভিটি দেখছি তা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।

হ্যাঁ, এমনই এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে ডিরেক্টর “ব্যায়োনা” তৈরী করেছেন অসাধারণ এক চলচিত্র “দ্যা ইম্পসিবল” (অরিজিনাল টাইটেল “ল ইম্পসিবল”)। ইংরেজি ভাষায় তৈরি ১১৩ মিনিটের এই স্প্যানিশ মেলোড্রামাটি তৈরী করা হয়েছে ২০০৪ সালে সুনামির আঘাতে বিভক্ত হয়ে পড়া এক পরিবারকে নিয়ে। স্ত্রী “মারিয়া বেনেট” (Naomi Watts) পেশায় একজন ডাক্তার, তার স্বামী “হেনরি” (Ewan McGregor), আর তাদের তিন ছেলে “লুকাস”(Tom Holland), “থমাস”(Oaklee Pendergast) ও “সাইমন”( Samuel Joslin)। বেশ কিছু সময় পর আবারও একসাথে জুটি হওয়া “নাওমি ওয়াটস – ইউয়ান ম্যাকগ্রেগর” ছিলেন বরাবরের মতই সাবলীল। সম্পূর্ণ মুভিতেই ক্যামেরার এবং গ্রাফিক্সের কাজ ছিল দেখার মত। লোকেশন সিলেকশনেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন পরিচালক ব্যায়োনা। আমি যদিও মিউজিক জিনিষটার প্রতি একটু দূর্বল, তবে মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কিন্তু ছিল এক কথায় অসাধারণ, অসাধারণ এবং অসাধারণ।

hlযাই হোক, এবার আসি মূল গল্পে…

ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে মারিয়া এবং তার পরিবার আসে থাইলেনন্ডের, খাউ লেক । বেশ ভাল সময় যাচ্ছিল সেখানে তাদের। রাতের বেলা সমুদ্র সৈকতে ফানুষ উড়ানো, আর চাঁদের আলোয় আলোকিত সমুদ্র, দৃশ্য গুলো দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। রাত পেরিয়ে পরদিন সকালে হোটেলের পক্ষ থেকে তারা পায় নানান রকম ক্রিসমাস উপহার। যার মধ্যে সাইমন পায় একটি লাল বল। আমি শুধু মাত্র একটি উপহারের কথাই বললাম, মুভিটি যারা দেখেছেন তারা হয়ত বুঝতে পারছেন কেন লাল বলটিকেই শুধু ফোকাস করলাম। আর যারা এখনও দেখেননি তাদের অনুরোধ করছি দয়াকরে চোখ কান খোলা রাখবেন দেখার সময়।

বাচ্চারা খেলনা পাবে কিন্তু খেলবে না, তা কি হয়? সৈকতে খেলাধূলা, আর সমুদ্রে সাঁতার কাটা, হেসে খেলে চলে যায় আরো একটি দিন। কিন্তু বিপত্তি বাধে পরবর্তী দিন (২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪), যখন মারিয়া হোটেলের পুলের পাশে বসে বই পড়ছিল, আর হেনরি তার ছেলেদের সাথে পুলে খেলছিল। ঠিক তখনই সুনামির আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সবকিছু। আলাদা হয়ে গেল পরিবারটি। মারিয়া আর লুকাস আলাদা হয়ে গেল হেনরি, থমাস আর সাইমন থেকে। শুরু হল তাদের জীবনের নতুন এক অধ্যায়।

lkবিপদ যতই বড় হোক একজন মা প্রথমে তার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে চায়। এখানেও তাই হয়েছে। ক্ষত বিক্ষত শরীর নিয়ে মা আগলে রাখতে চায় তার ছেলেকে, আর ছেলে মাকে। মুভিতে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালবাসা আমাকে সত্যিই খুব মুগ্ধ করেছে। আমি বার বার ভাবছিলাম ২০০৪ সালে লুকাস নামে একটি ছেলে সত্যিই এভাবে তার মায়ের যত্ন করেছিল!! Naomi Watts (মারিয়া) আমার অসম্ভব প্রিয় একজন অভিনেত্রী, অসাধারণ অভিনেত্রী। কিন্তু ১১-১২ বছরের Tom Holland (লুকাস) যা অভিনয় করেছে, ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এত ভাল অভিনয় করেও অস্কার না পাওয়ায় তার মনে যদি কোন আক্ষেপ থেকে থাকে তাহলে তার আক্ষেপ দেখে আমি বিন্দু মাত্রও অবাক হব না। আমি লেখার শুরুতেই বলেছিলাম আদর ভালবাসার কথা, এতক্ষনে নিশ্চয়ই আর বুঝতে বাকি থাকার কথা না আমি আসলে কার আদর-ভালবাসার কথা বুঝাতে চেয়েছিলাম। সত্যি বলতে আমি নিজেও কখনও মাকে এতটা করতে পারিনি, এই বয়সে লুকাস যা করে দেখিয়েছে। মুভিটিতে দায়িত্বশীলতাকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, ভাবতে কষ্ট হচ্ছিল বাস্তবে তা ইতিমধ্যে ঘটে গিয়েছে।

khমুভিতে লুকাস চরিত্রটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে। সে শুধু নিজেকে বা নিজের পরিবারকে নিয়েই ভেবেছে এমন নয়, বরং তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে সবাইকে। সুনামি পরবর্তী সময়ে মারিয়া যখন নিজের ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে চলতে পারেনা তখনো সে ডেনিয়েল নামের এক ৪-৫ বছরের শিশুর চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

চারিদেকে ক্ষত বিক্ষত লাশের পাহাড় আর হাজার হাজার আহত মানুষ। বাবা আর দুই ভাইয়ের আশা ছেড়ে মায়ের সেবায় মগ্ন হয়ে পড়া লুকাস সবকিছু হারিয়েও যেন হার মানতে চায় না। আশায় বুক বেধে থাকে লুকাস। প্রবল আকাক্ষা আর খুঁজে পাবার আকুলতা নিয়ে লুকাস খুঁজতে থাকে তার বাবা আর ছোট ভাইদের। অন্য দিকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবনের শেষ কিছু দিন গুনতে থাকে মারিয়ার। তবুও মনের মধ্যে চলতে থাকে সেই সুখের দিন গুলোর মত আবার পুরো পরিবার নিয়ে একসাথে ঘুরে বেরানোর আকাক্ষা। আমার লেখা পড়ে যদি ভাবেন মুভি সম্পর্কে বুঝে গেছেন তাহলে হয়তো কিছুটা ভুলই করছেন। (পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত) পুরো লেখাতে আমি শুধু মারিয়া আর লুকাসকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্ট করেছি। বাকিদের সাথে কি ঘটল? তা না হয় আপনারাই দেখে নিন। নিচে দিয়ে দিলাম আপনাদের জন্য মুভির লিঙ্ক। তবে এতকিছুর ভিড়ে লাল বলটার কথা ভুলে যাবেন না যেন।

hgsএবার আসি মুভির সমালোচনায়। মুভিতে দূর্বল দিক যদি বলতে হয় তাহলে আমি উল্লেখ করব, বলার মত পর্যাপ্ত কাহিনী পরিচালকের হয়ত ছিলনা। সুনামি আসল, সুনামি গেল, কেউ টিকে থাকতে পারল, কেউ পারল না। হয়তো তাই পরিচালক শারিরীক আর মানষিক কষ্ট গুলোকে বেশী গুরুত্ত দিয়ে তুলে ধরেছেন যেন দর্শক ধৈ্র্য না হারায়। এখানেই অবশ্য পরিচালক দিয়েছেন তার দক্ষতার পরিচয়। ব্যায়োনা এমন ভাবে কাহিনীকে তুলে ধরেছেন যে, দর্শক ধৈ্র্য হারবে দূ্রে থাক চেহারায় টেনশন আর চোখে পানি নিয়ে মুভির শেষ দেখার জন্য বসে থাকতে বাধ্য।

সব শেষে আমি এতটুকুই বলব, সুনামি সম্পর্কে কম বেশী ধারনা আমাদের সবারই আছে। তবে মুভিটা দেখার পর যেন তা আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। যারা এখনও মুভিটা দেখেন নাই, পারলে আজই দেখতে বসে যান। মুভিতে শুধু মারিয়া, হেনরি আর লুকাসই না, আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে অনেক কিউট দুইটা পিচ্ছি, সাড়ে ৭ বছরের Oaklee Pendergast (থমাস)ও ৫ বছরের Samuel Joslin (সাইমন)।

1379123_674621732557193_721341938_nপরিশেষে এটাও বলে রাখা ভাল, যদি আপনার চোখের পানি অনেক মূল্যবান হয়, তাহলে অন্য কোথাও তা নষ্ট না করে মুভিটা দেখে ফেলেন। অবশ্যই সাথে টিস্যুর বক্স নিয়ে বসা ভাল, কারন মুভি দেখতে দেখতে বেশ কয়েক বার আপনার চোখ ছলছল করে উঠতে পারে। আমি যদিও মুভি খুব ভাল বুঝি না, তবে এতটুকু নিঃসন্দেহে বলতে পারি আমার দেখা সেরা মুভি গুলোর নাম খুঁজতে গেলে প্রথম দিকেই পাওয়া যাবে দ্যা ইম্পসিবল নামের এই মুভিটি। আশা করি মুভিটা সবার ভাল লাগবে। সবার জন্য শুভ কামনা থাকল।
[ক্ষমাপ্রার্থীঃ বাংলায় লেখা ব্লগে ইংরেজি টাইটেল ব্যবহারের জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। সত্যি বলতে কখনো কখনো মনের যথাযত ভাব প্রকাশ করার জন্য বাংলার চাইতে ইংরেজি শব্দটাই সহজ হয়ে ধরা দেয় আমাদের কাছে। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, আশা করি সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। ]

লিঙ্ক_ http://thepiratebay.sx/torrent/8466287/The_Impossible_%282012%29_720p_BRrip_scOrp_sujaidr

(Visited 232 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

    মুভিলাভারসব্লগে আপনাকে স্বাগতম… চমৎকার লিখেছেন আশরাফুল ভাই… আপনার বর্ণনায় মুভিটা পুরো জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে 🙁 … চালিয়ে যান ভাই… 😛

    • Ashraful Rahat says:

      ধন্যবাদ ডন ভাই, এটা আমার লেখা প্রথম ব্লগ, আপনার ভালো লাগছে শুনে আমারও খুব ভাল লাগতেছে… 🙂

  2. নির্ঝর রুথ says:

    দারুণ রিভিউ!
    মুভিটাও অসাধারণ। আমারও প্রিয় মুভির তালিকায় এটি আছে।

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত মুভিগুলো আসলেই অনেক সুন্দর হয়। এটি আমার ভালো লাগার একটি মুভি। তা নিয়ে আপনার লেখাটি পড়ে ভালো লাগল।

  4. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    রিভিউ পড়ার সময় চোখে পানি চলে আসছে, সুন্দর করে লেখা। বিশ্লেষনগুলো আরো পরিস্কার এবং দীর্ঘ হলে আরো ভাল লাগতো… 🙂

  5. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    কীভাবে লেখেন!!! +++++

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন