দ্যা মার্শিয়ান : এক মানবিক সহায়তা, অসীম সাহস ও অফুরান প্রাণশক্তির গল্প।

 

মার্ক ওয়াটনি নাসার একজন উদ্ভিদবিঙ্গানী ও নভোচারী। ওয়াটনি ও তার সঙ্গীরা মঙ্গল গ্রহ এ এরিস ৩ নামক এক অভিযান এ যায়। কিন্ত প্রবল বালুঝড় এর কবলে পড়ে তাদের পৃথিবীতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। কিন্ত ফিরে আসার সময় তারা মার্ককে হারিয়ে ফেলে, মৃত ভেবে তাকে ফেলেই চলে আসে পৃথিবীতে। কিন্তু মার্ক বেঁচে যায় এবং চেতনা ফিরে নিজেকে লাল গ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে একাকী অবস্থায় আবিষ্কার করে। নেই কোন পানি নেই কোন খাবার। তাই টিকে থাকার জন্য তাঁকে কাজে লাগাতে হয় নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর প্রবল সাহসী বুদ্ধিমত্তা। তিনি সেখানে নিজের জানা প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে খাবার চাষ করতে থাকেন এবং একটি বাসস্থানও তৈরি করে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি পৃথিবীতে সংকেত পাঠানোর একটা উপায় বের করে ফেলেন এবং জানিয়ে দেন, আমি বেঁচে আছি। মঙ্গল থেকে বহু দুরে পৃথিবীতে নাসার একদল কর্মী চেস্টা করতে থাকে তাকে পৃথিবীতে ফেরত আনতে। তারা কি সফল হবে? মার্ক ওয়াটনি কি ফিরে আসতে পারবে তার নিজ বাসস্থান এ। এটুকু জানতে হলে আপনাকে মুভি দেখতেই হবে।।

martian2015-2
এ্যান্ডি ওয়েয়র এর সর্বাধিক বিক্রিত জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দ্য মার্শিয়ান’ অবলম্বনে করা হয় সায়েন্স ফিকশন মুভি ‘দ্য
মার্শিয়ান’। মার্শিয়ান মানে মঙ্গলের অধিবাসী। এখানে আদতে মার্ক ওয়াটনি মঙ্গলেরই অধিবাসী, মঙ্গলের রবিনসন ক্রুসো। মার্ক চরিত্রে অভিনয় করেছে ম্যাট ডেমন। ডেমন কে আগে থেকেই চেনার কথা কারন বর্ন সিরিজ এ দুর্দান্ত অভিনয় সকলেরই মন কেড়ে নিয়েছিল। আর মার্শিয়ান এ এর কমতি ছিল না। আসলে মার্শিয়ানে কমতি হবার কোন সুযোগ ছিল না, কারন একটু ভাল মনোযোগী অভিনয়, সাবলীল কথা বললেই মুভিটি এনজয় করার মত হয়ে যেতো। আর ডেমন তাই করেছে। যদিও অস্থির বলতে পারছি না কিন্ত তার অভিনয় চোখে পড়ার মত।

MV5BMTU5ODU1MjU2N15BMl5BanBnXkFtZTgwMzY3MDE5NTE@._V1._CR1000,0,800,1151_SX640_SY720_
আর মুভিতে চেনা লোকজন ছিল জেসিকা চ্যাস্টেইন। জেসিকার কথা শুনলেই মনে চলে আসে সেই ফর্সা মুখ খানা লাল টুকটুকে ঠোট। ওহ হাজার বছরের ক্রাস,, নাহ জেসিকা নিয়ে বল্লে মুভি নিয়া কিছু বলিতে পারতাম না।। তার থেকে জেসিকার অভিনয় নিযে বলি।। ইন্টারস্টেলার এ নোলান সাহেব তাকে নভোচারী স্যুট পড়তে দেয় নি। এতে মনেহয় অনেকটাই অাক্ষেপই ছিল তার।তাই স্কট সাহেবের দেয়া স্যুট পড়ার সুযোগকে লুফে নিয়েছে। আর প্রমান করেছে নভোচারী চরিত্রে আমিও কম যাই না। লুইস চরিত্রে কমান্ডার এর উপযুক্ত অভিনয় করেছে। যখনই পর্দায় এসেছে সাথে নিয়ে এসেছে তার সেই সুইট সুইট অভিনয়। 😀

the-martian-trailer-images-screenshots-matt-damon-jessica-chastain1
এ ছবিতে অনেক প্রিয় একজনকে আপনি পেতে পারতেন। ভিনসেন্ট কাপুর’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচালক রিডলি স্কটের প্রথম পছন্দ ছিল বলিউড এর ইরফান খান। কিন্তু সে সময় ইরফান ব্যস্ত ছিলেন ‘পিকু’র শুটিং নিয়ে। পরে তাঁর পরিবর্তে নেওয়া হয় ব্রিটিশ অভিনেতা চুয়েটেল এজিওফোরকে। আর ও ছিল মাইকেল পেনা আর বেথ জোহানসন।। এ সকলের বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ের  জন্য মুভিটিকে সেরা সাইন্স ফিকশন এর কাতারে ফেলা হচ্ছে।

martian-gallery11-gallery-image
সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ড্রিউ গডার্ড ও পরিচালনা করেছেন রিডলি স্কট। খুব চিত্রনাট্যনির্ভর মুভি না হলেও বেশ প্রভাব আছে মুভিটিতে। আর রিডলি স্কট এর পরিচালনায় যেন মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীতে চলে আসছে। সিনেমা টি সাইন্স নির্ভর হলেও আপনি এ মুভি বুঝতে পারবেন, কারন গ্রাভিটি আর ইন্টারস্টেলার এর মতন কঠিন গল্প না। আর মুভি তৈরিতে খোদ নাসা সহায়তা করেছে। তাই যে সকল বিজ্ঞান ব্যাবহার করা হয়েছে তা সম্পুর্ন বিশুদ্ধ বিজ্ঞান। কোন কল্পবিজ্ঞান নয়। কারন সব তথ্য সত্য এবং মঙ্গলে মার্ক এর পাওয়া যন্ত্র পায়, সে জিনিস নাসাই ১৯ শতকে মঙ্গলে পাঠায়। আর আছে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা। আপনি প্রথমে যে কোডিং সিস্টেম দেখবেন তাও বিজ্ঞানসম্মত।। এ বিষয় এ অনেক বলা যেতে পারে বেশি বলতে গেলে হয়ত আপনারা বলবেন বেশি সাইন্স কপচাইতেসে।তাই সাইন্স নিয়ে বেশি বলে রিভিউ জটিল করতে চাই না।

martian-reelgood

দ্য মার্শিয়ান ছবিতে দেখানো হয়েছে মঙ্গল গ্রহের আবহমণ্ডলীয় চাপ ও বালুঝড়। মহাকাশ অভিযানের কাহিনি নিয়ে  নির্মিত গ্র্যাভিটি ও ইন্টারস্টেলার সিনেমাগুলোর তুলনায় দ্য মার্শিয়ান এ ভিনগ্রহের পরিবেশের বেশ বাস্তবমুখী হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। আর মুভিং পিকচার কোম্পানি সিনেমাটির স্পেশাল এফেক্টের দায়িত্বে ছিল। তারা প্রায় ৪০০ টি এফেক্ট তৈরি করে। ক্যামেরা ধরার এ্যাঙ্গেল এ ভালরকম মনোযোগী হয়েছে তাই মুভির মেকিং সহ আবহ এর রুপ চমৎকার এসেছে।আরও একটা মজার বিষয় কি জানেন দ্য মার্শিয়ান এ যে মঙ্গল অভিযান দেখানো হয়েছে, তা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসার ভবিষ্যৎ মঙ্গলযাত্রার পরিকল্পনা অনুসারেই করা। তাই আগামী দিনগুলোর কোন একদিন এরকম অভিযান এর কথা শুনে অবাক হবেন না। এসব ইফেক্ট আর ছিল রিডলি স্কট এর পরিচালনা। রিডলি স্কট এর কাজ আমার তেমন পছন্দ হত না। কিন্ত স্কট যে কারও থেকে কম যান না তা এলিয়েন,গ্লাডিয়েটর এরপর আবার তিনি প্রমান করলেন। আমাদের কে উপহার দিলেন আরও একটি ব্লকবাস্টার সিনেমা।আর বেশি বলতে চাই না। আর ঘুরে আসুন এক অজানা মঙ্গলের অভিযান থেকে।।

Error:

(Visited 258 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মার্ক এর সঙ্গীরা তাকে ফেলে পৃথিবী আসে নি। তারা স্পেস স্টেশন এ ছিল ।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন