আলফ্রেড হিচককঃ একজন মাস্টার অফ সাসপেন্স আর অন্যতম সেরা পাঁচটি কাজ!!!!!

১৩ আগস্ট ১৮৯৯ সালের লেটোনস্টোন, ইসেক্স, ইংল্যান্ড। এ দিনে দম্পতি উইলিয়াম হিচকক এবং এমা জেইন এর কোল জুড়ে তাদের দ্বিতীয় ছেলে সন্তান আসল। নাম রাখলেন আলফ্রেড জোসেফ হিচকক। বাবা উইলিয়াম হিচকক শাকসবজি আর পোলট্রির ব্যবসা করতেন। মা এমা জেন হিচকক ছিলেন গৃহিণী। তার পরিবার ছিল রোমান ক্যাথলিক যদিও তার মা ছিল আইরিস বংশভূত। তাদের ছোট ছেরে ছোটবেলা থেকেই বদরাগী ছিলেন। প্রখরভাবে যুক্তিতে পারদর্শী ছিলেন। এতে সবাই খুবই বিরক্ত হত কারন এত কম বয়স থেকেই ছেলে কেন এমন হবে? তাই তাকে ভাল শাসন এ রাখা হত। একবার হল কি তার বাবা তাকে মাত্র ৫ বছর বয়সে জেলে দিলেন কারন ছেলে তার সাথে বেয়াদবি করেছে। তাকে ৫ মিনিট জেলে রাখা হয়েছিল।। পরে স্বয়ং হিচকক ই বলেছিলেন যে অল্প বয়সের এরকম অদ্ভুত পরিস্থিতিই পরবর্তীতে তার সিনেমাজুড়ে আতংক, সাসপেন্স এ ব্যাপারগুলোকে বেশি আনতে আগ্রহী করে তুলেছে কারন বুদ্ধিদীপ্ত হিচকক মাত্র ৫ মিনিটেই জেলের সংগ্রামী জীবন আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাকে পড়াশোনা করতে হয় জিসুইট ক্লাসিক স্কুল,সেলিসিয়ান এন্ড কলেজ ও সেন্ট ইগ্নেসিয়াস কলেজ এ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। বাবার মৃত্যুর পর তিনি সেন্ট ইগ্নেসিয়াস ছেড়ে তিনি চলে যান লন্ডনের কাউন্টি স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড নেভিগেশন এ।এখানেই তিনি তান শিক্ষাজীবন শেষ করেন।এরপর তার পেশাজীবন শুরু করেন। পেশাজীবন এ তিনি প্রথম কাজ নেন “হেনলি” নামক ক্যাবল কোম্পানির ড্রাফটসম্যান এবং অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইনার হিসেবে। কিন্তু তিনি এ কাজে তেমন মনোনিবেশ করতে পারছিলেন না। এ কাজ তার ভাল লাগত না।শুধুমাত্র কাজ করতে হবে মা ও ভাইকে দেখতে হবে এরুপ মনোভাব নিয়ে তিনি কাজ করতেন।কিন্তু যে বিধাতা তাকে যে পাঠিয়েছিল অন্য কিছু করার জন্য। তাই এখানে কাজ করার সময় ই হিচকক কলম তুলে নিলেন। তার মুল পেশা তার মুল স্বপ্নকে বাস্তবে বাস্তবায়ন এর শুরু হল।তিনি লিখলেন ‘গ্যাস’।

file

১৯১৯ সালে হেনলি টেলিগ্রাফ প্রতিষ্ঠিত হয় আর তার প্রথম সংকলনে প্রকাশিত হয় তার লেখা “গ্যাস”। তার প্রথম লেখাই ছিল নারী সম্প্রর্কিত। তার পরবর্তী লেখার নাম ছিল “দ্য ওমেন পার্ট” , এটাও একই সালে প্রকাশিত হয় একই পত্রিকায় । এখানে একজন স্বামী ও তার স্ত্রীর মাঝে সাংঘর্ষিক জীবনের কথা ফুটে উঠে। তিনি থামেন নি তার কলম ম্যারাথন স্প্রিড এ চলতে লাগল। তিনি লিখলেন “সরদিদ”, “এন্ড দেয়ার ওয়াজ নো রেইনবো” এর মত লেখা। তার সর্বশেষ লেখা ছিল “ফেডোরা” , যেখানে তিনি বলতে চেয়েছিলেন তার ভবিষ্যৎ স্ত্রী কেমন হবে তা নিয়ে ।

 

ছোটবেলা হতেই হিচককের স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্র। অল্প বয়স থেকেই যার ধ্যান-ধারণা এবং স্বপ্ন চলচ্চিত্রকে ঘিরে সেকি শুধুমাত্র লিখেই চুপ থাকতে পারে?? তিনি লন্ডনে ফিল্ম প্রোডাক্টশনে কাজ করা শুরু করলেন। “প্যারামাউন্ট পিকচার”র লন্ডন শাখায় তিনি টাইটেল কার্ড ডিজাইনার হিসেবে কিছুদিন কাজও করেন। এরপর তিনি “ইসলিংটন স্টুডিও”তে কাজ করেন । পরবর্তীতে টাইটেল কার্ড ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে করতে চিত্রপরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন।

 

অবশেষে ১৯২২ সালে তিনি চলচ্চিত্র নির্মানে হাত দেন। “নাম্বার ১৩” নামক নাম দিয়ে তার প্রথম চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হয়। কিন্তু তার জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রটি অদ্ভুদভাবে অসম্পূর্ণই থেকে যায়। ইতিহাস বলে আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি তার প্রথম সিনেমা শেষ করতে পারেন নি।কিন্ত কিছু মানুষ আছে যারা সারজীবন তাদের স্বপ্নকে সত্য করার স্বপ্নের পিছনে ছুটেই চলে এবং স্বপ্নকে সত্য করে। হিচকক তাদেরই একজন। পরের বছর তিনি আবার সিনেমায় হাত দিলেন। ১৯২৩ সালে “অলওয়েজ টেল ইউর ওয়াইফ” নামে পুনরায় সিনেমা বানানো শুরু করলেন কিন্ত এবার ও ব্যাটবলে হল না। থেমে যেতে থাকল তার স্বপ্ন। কিন্ত স্বপ্ন হল হিচককের। এত সহজেই তিনি হারার পাত্র না। তিনি কিছুদিনের জন্য থামলেন সময় নিলেন। ১৯২৫ সালে তিনি নির্মাণ করেন “দ্য প্লেজার গার্ডেন”। প্রথম সাফল্যের দেখা পেলেন এ চলচ্চিত্রটি ছিল ব্রিটিশ-জার্মান প্রোডাক্টশনের এবং চলচ্চিত্রটি দারুণ জনপ্রিয় হয় । এরপর হিচকককে আর তাকিয়ে থাকতে হয়নি। এরপর তিনি বিভিন্ন প্রোডাক্টশনের ব্যানারে একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে যেতে থাকেন । ১৯২৭ সালে মুক্তি পায় তার চলচ্চিত্র “দ্য লডজার” । এ বছর তিনি অন্য একটা মহৎ কাজ করে ফেলেন। বিয়ে করেন তিনি।

 

১৯২৭ এর ডিসেম্বরে তিনি বিয়ে করেন আলমা রিভিলিকে । ১৯২৯ সালে হিচকক প্রথমবারের মত সবাক সিনেমা নির্মান করেন “ব্লাকমেইল (১৯২৯)। তবে হিচকককে যে ছবিটি বানিয়ে আলোচনায় নিয়ে আসে এবং একই সাথে বাণিজ্যিক সফলতাও পান সেটি হলো দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ (১৯৩৪)। একটু সময় নিয়ে পরে আবার তিনি বানালেন “দ্য লেডি ভেনিশেস (১৯৩৮)” ও “জ্যামাইকা ইন(১৯৩৯) “ এর মত চলচ্চিত্র। এই দুইটি সিনেমা নির্মাণ এর পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে আমেরিকাতেও ।

 

১৯৪০ এর দিকে অ্যালফ্রেড হিচকক পুরো পরিবার নিয়ে হলিউডে যান। শুরু হয় তার হলিউডে চলচ্চিত্র জীবন । ডেভিডও সেলযনিকের প্রযোজনায় ড্যাফনে ডু মরিয়ের’র উপন্যাস অলম্বনে স্যার হিচকক বানান এক মাস্টারপিস “রেবেকা”। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৪০ সালে। রেবেকা তখন অস্কারের আসরে বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরষ্কার লাভ করে। এরপর ১৯৪২ সালে তিনি বানান আরেক জনপ্রিয় সিনেমা “স্যাবোটেজ” । এরপর তিনি উপহার দিতে থাকেন একের পর এক মাস্টারপিস সিনেমা। লাইফবোট (১৯৪৪),স্পেলবাউন্ড (১৯৪৫) নটোরিয়াস (১৯৪৬) রোপ (১৯৪৮), স্ট্রেন্জারস অন এ ট্রেইন (১৯৫১) ডায়াল এম ফর মার্ডার (১৯৫৪) রেয়ার উইন্ডো (১৯৫৪) ভার্টিগো (১৯৫৮) নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট (১৯৫৯) সিনেমাগুলো করে তিনি মন জয় করে নেন। তিনি এমনসব কায়দা জানতেন যাতে দর্শক বসে থাকবে উপভোগ করবে। সাসপেন্স , থ্রিলিং জিনিস কি তা দর্শকদের মাঝে তিনি দারুণভাবে ঢুকিয়ে দিতে পারতেন। এ জন্যই দ্যা গার্ডিয়ান এর চলচ্চিত্র সমালোচক ডেরেক ম্যালকম বলেছিলেন আলফ্রেড হিচকক দর্শক আর সমালোচকদের একই তালে খোঁচাতে পারতেন। চলচ্চিত্রের ভাষায় নান্দনিকতা , সাসপেন্স , থ্রিলিং এর পথপ্রদর্শকও বলা হয় তাকে । এজন্যই তাকে “দ্য মাস্টার অফ সাসপেন্স” বলা হয়।

হিচককের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল ১৯৬০ কারন এ বছর তার পরিচালিত অন্যতম মুভি মুক্তি পায় “সাইকো

images

 

এ মুভি দিয়ে তিনি সেরাদের সেরা কাতারে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন।মুভিটি যেমন ব্যাবস্যা করেছিল তেমনি পেয়েছিল দর্শকপ্রিয়তা। সবথেকে মজার বিষয় হল এ মুভিটি কীভাবে বানানো হয়েছিল তা নিয়েই হলিউড এ মুভি বানানো হয়েছিল যাতে হিচকক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন খোদ এ্যান্তনি হপকিন্স। এরপর তিনি ১৯৬৩ সালে বানান সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র দ্যা বার্ডস। তার শেষ ছবি ছিল “ফ্যামিলি প্লট (১৯৭৬)।

 

এই গ্রেট জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেেয়ছেন সেরা একশ সিনেমার মধ্যে তার করা ৫ টি সিনেমা আছে। কিন্ত তার জীবনে সেরা সিনেমা “সাইকো”।তিনি ব্রিটেনের বিখ্যাত এম্পায়ার ম্যাগাজিনের “গ্রেটেস্ট ডিরেক্টরস এভার” তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের হান্ড্রেড মোস্ট হার্ট পাউন্ডিং মুভিজ তালিকায় ৯ টি সিনেমাই হিচককের। যার মধ্যে প্রথমস্থানটি অর্জন করেছে “সাইকো।সবথেকে অবাক করার কথা হল তিনি কখনো অস্কার পান নি।। ছয় ছয় বার মনোনীত হবার পরও অস্কার কে তিনি মুঠোবন্দী করতে পারেন নি।

১৯৮০ সালে রাণী এলিজাবেথের কাছে তিনি নাইট উপাধি লাভ করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আলফ্রেড হিচকক থেকে স্যার আলফ্রেড হিচকক হয়ে যান। ১৯৮০ সালে ২৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের কার্লিফোনিয়ায় ৮০ বছর বয়সে এই কিংবদন্তী পরিচালক মারা যান।

 

এই মহান পরিচালক এর জীবন সম্পর্কে বলছিলাম চলুন হিচককের বানানো সাম্প্রতি দেখা ৫ টা মাস্টারপিস চলচ্চিত্রে সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই। 🙂

 

আলফ্রেড হিচককের কাহীনিতে নারী চরিত্র বেশি প্রাধ্যান্য পেত। হিচককের ছবিতে কমন যে ব্যাপারটি আসে সেটি হল, অপরাধী হিসেবে এমন একজনকে চিহ্নিত করা যে আসলে নিরাপরাধ। অনেক সিনেমা আছে যে প্রথম এ চরিত্রগুলো চিনিয়ে দেওয়া হয় এতে অনেক সময় যায় ফরে মাঝে মাঝে দর্শক বিরক্ত হয়ে যায় কিন্তু হিচকক এর উদ্দেশ্য ছিল দর্শককে প্রথম থেকেই গুরুত্ব দেওয়া। আর সাধারন কোন দৃশ্যকে এমনভাবে দেখানো যাতে দর্শক খুব সাধারন বিষয়কেও সিরিয়াসলি নেয়। আর এখানেই হিচকক সফলতা পেয়েছেন। একটা উদাহরন দিলে ব্যাপারটা ক্লিয়ার হবে আপনাদের কাছে। কোন সিনেমা আপনি দেখছেন ছবির মাঝে কোন এক দৃশ্যে এ নায়ক এবং অন্য কোন এক ব্যাক্তি রেস্তোরায় বসে গল্প করছে ।হঠাৎ টেবিলের নিচ থেকে একটি বোমা ফেটে গেল। তো এই গল্পের ব্যাপ্তি যদি ১০ মিনিট হয় তবে কিছুসময় পর আপনি বিরক্ত হবেন হাই তুলবেন। কিন্তু হিচকক এ দৃশ্যকে বানাবেন অন্যভাবে তিনি আগেই আপনাকে বোমা দেখাবেন তারপর লোক দুজন এসে বসবে এটা দেখে আপনার চাপা উত্তেজনা তৈরি হবে। আপনি ভাববেন কখন বোমাটি ফাটবে নাকি ফাটার আগেই লোক দুজন চলে যাবে। আপনি দেখতেই থাকবেন, এই মামুলি ব্যাপারটা যদি এখন ২০ মিনিট হয় তাও আপনি দেখবেন। হিচকক এই ব্যাপারটিকে প্রয়োগ করে মামুলি কাহীনি কেও অসামান্য করে তুলে উপস্থাপন করত।

তাই হিচকক সবসময় বলতেন,
“সারপ্রাইজ নয় সাসপেন্স”

 

আর তার সিনেমাজুরে আতঙ্ক আর থ্রিলিং তো থাকতই।

 

এখন মুভি সম্পর্কে বলছি ছোট করে।। মিনি রিভিউ বলতে পারেন 😀

1.Psycho (1960)

34bf57d8e2785d4b0e8181084a07d4f6

IMDb: 8.5

Rotten Tomatoes 96%

Cast: Anthony Perkins , Janet Leigh , Vera Miles , John Gavin.

কাহিনী: মোরিয়োন গাদাখানেক টাকা চুরি করে পালায়। পথে সে এক রাতের জন্য একটি
মোটেলে আশ্রয় নেয়। মোটেলের কর্মকর্তা নর্মান কিছু একটা আন্দাজ করে। আবার সে রাতে মোটেলে মেরিয়োন ছিলো একমাত্র অতিথি। এদিকে নর্মানের মা মেরিয়োনকে পছন্দ করল না, সে চাচ্ছিল মেরিয়োন চলে যাক। মেরিয়োন চলে যায়।চলে যাবার পর মেরিয়োনের বোন
লীলা এবং প্রেমিক স্যাম লুমিস মোটেলে আসে মেরিয়োনকে খুঁজতে। তাদের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এক কাহিনী। সর্বকালের শ্রেস্ঠ মুভির মধ্যে এ মুভিটি অনন্য।

 

 

2.Rear Window (1954)

Movie-Posters-alfred-hitchcock-34902_356_520

IMDb- 8.5

Rotten Tomatoes: 100%
Cast: Grace Kelly, James Stewart, Thelma
Ritter, Raymond Burr.

কাহীনি : প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার জেফ।এক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায় তাই তিনি বাধ্য হয়ে হুইল চেয়ার নেন। কিন্তু তার বাসা হতে বের হতে পারেন না। তাই তিনি কাজ না পেয়ে সময় কাটানোর জন্য ক্যামেরা দিয়ে প্রতিবেশীদেরর কর্মকান্ড দেখতে থাকেন। এভাবেই এক খুনের আলামত পান। তিনি তার বান্ধবীকে বলেন আবার গোয়েন্দা বন্ধুকেও বলেন কিন্ত কেউ তার কথা বিশ্বাস করেন না। তো ভাঙা পা নিয়ে ঘরে বসে কীভাবে প্রমান করবেন? আর আসলেই কি খুন হয়েছে? এ মুভিটি হিচককের সবচেয়ে থ্রিলিং মুভি। ছবিটির জন্য সেরা পরিচালক এর মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।

 

 

 

3.Vertigo(1958)

VERTIGO-MOVIE-POSTER-2

 

IMDb-8.4
Rotten Tomatoes-97%
Cast: Kim Novak, James Stewart, Barbara Bel
Geddes, Raymond Bailey, Tom Helmore.

কাহীনি :স্কটি একজন পুলিশ ডিটেক্টটিভ ।একটা দুর্ঘটনায় শারীরিক সমস্যা হয় এবং চাকরি থেকে অবসর নেয়। হাতে কোন কাজ নাই । তার বন্ধু গেভিন রিকয়েস্ট করে তার স্ত্রীকে অনুসরন করে অনুসন্ধান চালাতে কারন তার স্ত্রী এর ভেতর কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। এক রকম অনিচ্ছা স্বত্তে স্কটি রজি হয়। সে গেভিন এর স্ত্রীর পেছনে অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। অবিবাহিত স্কটি এই কাজ করতে মেয়েটির প্রতি ভয়ানক আসক্ত হয়ে পড়ে।তাকেফাঁদে ফেলতে গিয়ে নিজেই দেখে মেয়েটার প্রেমের ফাদে পড়ে গেছে । গেভিন স্ত্রী মেডোলিন হঠাৎ আত্মহত্যা করে বসে। কেন করল? কি জন্য করল।)? কেনই বা ম্যাডোলিন তাকে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করল?? পুরো গোলমেলে ব্যাপারটাকে নতুন করে সাজিয়ে মেলাতে শুরু করলেন স্কটি বেরোতে থাকে একের পর এক চমক। মুভিটি এবং হিচকক অস্কার এর জন্য মনোনীত হয়।এবং IMDb এর #Top250 এর লিস্টে মুভিটি আছে ৫০ নম্বরে।

4.Dial M for Murder (1954)

Dial_M_For_Murder

IMDb-8.2

Rotten Tomatoes-88%

Cast: Ray Milland, Grace Kelly, Robert Cummings.

কাহীনি: টনি ওয়েন্ডিস আর তার মার্গট স্বামী স্ত্রী।একসাথে লন্ডনে বাস করেন। টনি তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে বেশিরভাগ সময় বাইরেই ব্যস্ত থাকেন। এ সময় এর সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে তার স্ত্রী এক লেখক এর সাথে পরকিয়া করেন।তো এতদিন মার্গট একটি হাতব্যাগ হারিয়ে ফেলেন যাতে ছিল মার্গট এর প্রেমিক এর চিঠি।ঘটনাচক্রে ব্যাগটি টনির কাছে যায় ও সব বুঝে টনি মার্গটকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।
টনি এমন এক পরিকল্পনা করেন যাতে সাপ মরবে কিন্তু লাঠিও ভাঙবে না। কিন্তু এই অসাধারন পরিকল্পনা যায় ভেস্তে। এতে আবার টনি নতুন প্লান করতে থাকে। কিন্তু প্রথম প্ল্যান কি ছিল? কেনই বা ভেস্তে গেল। আবার টনি দ্বিতীয় কি প্ল্যান করল। এই প্ল্যানটা কি কাজে দেবে তা জানতে হলে আপনাকে টান টান উত্তেজনার এ মুভিটি দেখতে হবে।আমি গ্যারান্টি দিতে পারব ১০৫ মিনিট আপনি চোখের পলক ফেরতে ভুলে যাবেন।

5.Rebecca (1940)

Rebecca_1940_film_poster

IMDb: 8.2
Rotten Tomatoes:100%
Cast: Laurence Olivier, Joan Fontaine, George Sanders

কাহীনি:ম্যাক্সিম দে উইন্টার একজন ধনী ব্যাক্তি। তার প্রথম স্ত্রী মারা যায় নৌকা ডুবে। মারা যাবার পর তিনি একলাই জীবন যাপন করছিলেন তো এই সময়ে তার একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই প্রেম হয়ে যায়। এই মেয়ে কে? আমরা চিনব মিসেস দে উইন্টার নামে। কারন তাদের প্রনয় এরপর তারা বিয়ে করা সিদ্ধান্ত নেয়। মেয়েটির কেউ ছিল না। তাই বিয়ে করে মিসেস দে উইন্টারকে বাসায় নিয়ে আসে। কিন্ত মেয়েটি এখানে তেমন ভালভাবে থাকতে পারছিল না।একে তো জমীদারী পরিবার তার উপর মিস্টার উইন্টার সাহেব এর আগের স্ত্রী রেবেকার বেশ প্রভাব আছে। কারন অনেকেই রেবেকার সাথে তাকে মেলাতে চেস্টা করত,তুলনা করতেন।এমনকি মিস্টার উইন্টার সাহেব ও রেবেকা কে পুরোদোমে ভুলতে পারছিল না। মাঝে মাঝে সে রেবেকার কথা ভাবতেন। মেয়েটির মন ভেঙে যেতে লাগল।সে বুঝতে পারল এরকম রাজপরিবারের সে থাকতে পারবে না। এমন সময়ে ম্যনড্রেলির লেক থেকে একটি নৌকা উদ্ধার হয়। তাতে পাওয়া যায় এক নারীর লাশ।কাহীনি অন্য দিকে মোড় নিতে থাকে।মুভি কোথা থেকে কই চলে গেল তা আপনি বুঝবেন শেষ সময়ে।আর মেয়েটির কী হল তা মুভিতেই দেখে নেবেন।। সব বলে দিলে চলবে? আলফ্রেড হিচককের অসামান্য মাস্টারপিস এ মুভি। মুভিটি অস্কার পেয়েছিল আর সেরা মুভিগুলোর মধ্যে এ মুভিটি জ্বলজ্বলে স্থান নিয়ে আছে। ও বলতে ভুলে গেসিলাম এ মুভিটি হিচককের হলিউড এ প্রথম মুভি, আর মুভিটি দাফেন দ্যু মারির এর বিখ্যাত উপন্যাস রেবেকা থেকে করা।

 

এই ছিল দেখা পাচটি মাস্টারপিস।

 

হিচকক ড্রামা,মিস্ট্রি,থ্রিলার জনারকে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিলেন। তাই তার সব মুিভই দেখা যায়। উপরের পাচটি হলো তার বেস্ট মুভি।এছাড়াও আরও দেখতে পারেন স্যাবেটাজ,সাসপেশন লাইফবোট, স্পেলবাউন্ড, নটোরিয়াস, রোপ, স্ট্রেনজারস অন ও ট্রেইন, দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ, দি বার্ডস, ফ্রেনজি মুভিগুলো। হিচকক এর একটি মজার বিষয় হলো প্রায় মুভিতেই তাকে দেখা যেত কখনো ট্রেন থেকে নামছেন,কখনো রাস্তায় হাটছেন, আবার ফোনবুথ এ কথা বলছেন। একে বলা হয় হিচকক ক্যামিও।

 

আমার এ লেখাটি মুলত তাদের জন্য যারা হিচকক কে জানেন না,তার কাজ সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না। কারন আমি পরশুদিন রেবেকা দেখছিলাম তো আমার এক বন্ধু এসে বলল কি পুরান প্যাচাল দেখিস ভাল কিছ দে।আমি শুনে খুবই হতাশ হয়েছিলাম। কারন সে হিচকক কে চেনে না অথচ ভালই মুভি দেখে তাও আশা করি এই সংখ্যাটি অনেক কম। আর বড় লেখা হয়ত আপনাদের কাছে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি নি। কারন স্যার হিচকককে নিয়ে লেখায় আমি নিত্তান্ত বাচ্চা।আর যারা অনেক কস্ট করে শেষ পর্যন্ত পড়েছেন তাদের অনেক ধন্যবাদ। 🙂 আমার অনেক প্রিয় স্যার হিচকক এর একটি উক্তি দিয়ে লেখা শেষ করি।

“When an actor comes to me and wants to discuss his character, I say,”It’s in the script”. If he says, “But what’ my motivation?”, I say, “Your salary”.

(Visited 419 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আকর্ষণীয় ডিজাইনের চশমা ও সানগ্লাস ঘরে বসে পেতে চাইলে ক্লিক করুন ড্রিমারস অনলাইন শপ

    ফেসবুক পেজ থেকে বেছে নিন পছন্দের চশমা বা সানগ্লাস আর অর্ডার করুন ফেসবুক থেকেই। সরাসরি পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়। পন্য হাতে পেয়ে মুল্য পরিশোধ করুন।
    পেজটিতে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ ।

    ভিসিট করুন https://www.facebook.com/dreamersdreambd

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন