টারান্টিনো সমাচার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

১৪ বছর বয়সে শখের বশে প্রথম স্ক্রিপ্ট লিখেন তিনি। হাইস্কুলের স্ক্রিপ্ট লিখতে জানা ছাত্রটির স্কুল ড্রপ-আউট হয় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই। সেই থেকেই আর পড়ালেখা এগোয়নি। এর পরেই সে ushering এর চাকুরি নেয় পর্ণ থিয়েটারে যেখানে তার কাজ ছিলো পর্ণ মুভি দেখতে আসা দর্শকদের নিজ নিজ আসন দেখিয়ে বসতে সাহায্য করা। অনেকটা আমাদের দেশের সিনেমা হলের টর্চ-লাইট দিয়ে সিট দেখিয়ে দেয়া লোকেদের মতো। চাকুরীটি যোগাড়ের জন্যে সে তার নিজের বয়স কিছুটা বাড়িয়ে বলেছিলো কারন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে ওই ধরনের থিয়েটারে চাকুরী করা ছিলো নিষিদ্ধ। অভিনয়ের প্রতি প্রগাঢ় টান অনুভব করা কিশোরটি পরবর্তিতে সেখান থেকে চলে যায় একটি থিয়েটার কোম্পানীতে অভিনয় শেখার জন্যে। অভিনয় শেখার পাশাপাশি চলতো অভিনয় চর্চা যার মধ্যে ছিলো স্টেজ এবং টিভি শোর ছোটখাটো কিছু চরিত্রে অভিনয়। পরবর্তীতে পাচ বছর ধরে তিনি চাকুরী করেন একটি ভিডিও স্টোরে যেখানে কাজ করার সময় তার কপালে তকমা এটে যায় ‘ফ্যান্টাস্টিক ভিডিও স্টোর ক্লার্ক’ এর! দীর্ঘদিন ধরে স্টোরে কাজ করতে করতে তিনি মুভি বিষয়ক এমন জ্ঞান-অর্জন করেন যার ফলে মুভি ভাড়া নিতে আসা লোকদের তিনি নির্দিষ্ট কোন মুভি দেখার জন্যে কনভিন্স করে ফেলতে পারতেন খুব সহজেই!

১৯৬৩ সালের মার্চ মাসে আমেরিকায় জন্ম নেয়া কিশোরটির পারিবারিক জীবন খুব একটা সুখের ছিলো না। ইটালিয়ান বংশোদ্ভূত বাবা এবং আইরিশ মা এর বিয়েটা টেকেনি বছরখানেকের বেশি। মায়ের সাথে বসবাস করতে থাকা বাচ্চাটির মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন ১৯৬৭ সালে যা আবারো ভেঙে যায় ১৯৭৩ সালেই। কিন্তু লাভের লাভ যা হয় তা হলো; ছোট্ট ছেলেটির মধ্যে মুভির জন্য ভালোবাসা দেখতে পায় তার সৎ বাবা। এবং সৎ বাবাই তাকে ক্রমাগত উৎসাহ দিয়ে যায় মুভি দেখার জন্যে। এমনকি তার মাও তাকে অনুমতি দেয় সেই ছোট্ট বয়সেই এডাল্ট কন্টেন্টসমৃদ্ধ মুভি দেখার। পরবর্তিতে তার মা আবারো বিয়ে করে বসেন এবং সেই বিয়েও ৮ বছরের বেশি টেকেনি! এর মধ্যেই ছোট্ট ছেলেটি আস্তে আস্তে কিশোরে পরিনত হতে থাকে।

১৯৮০ সালের সালের দিকে ১৭ বছর বয়সে কিশোরটির পরিচয় হয় লরেন্স বেন্ডার নামক এক ভদ্রলোকের যিনি তার সাথে কথা বলার পর অভিভূত হয়ে অনুরোধ করেন মুভি স্ক্রিপ্ট লেখার। সেই উৎসাহ এবং বাচ্চাকালের শখ একসাথে করে তিনি ১৯৮৭ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই যৌথভাবে লিখেন তার প্রথম প্রফেশনাল মুভি স্ক্রিপ্ট যেটিকে সিনেমায় রুপদান করেন তিনি তার নিজস্ব পরিচালনার মাধ্যমে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মুভিটির ফাইনাল রিল এডিটিংয়ের সময় প্রায় পুরোটাই আগুনে পুড়ে যায়। ১৯৯০ সালে তিনি প্রথম টাকার বিনীময়ে স্ক্রিপ্ট লিখেন। সেই কাজটিও জুটে যায় অনেকটা ভাগ্যের জোড়ে। গল্পকার ভদ্রলোক তার গল্পকে স্ক্রিনপ্লেতে রুপান্তর করার জন্যে স্ক্রিপ্ট লিখতে জানা লোক খুজছিলেন।

দিনে দিনে অনেক বেলা হয়ে গেছে। ২৯ বছর বয়সী ভদ্রলোকটির তখন দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন এবং সব স্বপ্নই মুভি নিয়ে। ভেতরের চাপা আগুন তখন স্ফুলিঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে আসাটাই মাত্র বাকি। ১৯৯২ সালে তিনি একটি মুভির স্ক্রিনপ্লে লিখেন মাত্র সাড়ে তিন সপ্তাহে। স্ক্রিপ্টটি এতোই ভালো ছিলো যে সেটাকে সিনেমায় রুপদান করার জন্যে অর্থযোগানে এসে হাজির হন তার সাথে ১৭ বছর বয়সে পরিচয় হওয়া ভদ্রলোক লরেন্স বেন্ডার। স্ক্রিপ্ট, ডিরেকশন এবং অভিনয়ে সেই সময়ে আলোড়ন তোলা মুভিটি ছিলো Reservoir Dogs! চারপাশের ক্রিটিকদের কাছ থেকে আসতে শুরু করে পজিটিভ রিভিউ। ডায়লগ বেজড, নন-লিনিয়ার ডাকাতি প্লটের মুভিটি নাড়িয়ে দিয়েছিলো সে সময়কার সিনেমা জগত যেটি পরবর্তিতে হয়ে উঠেছিলো ‘The Greatest Independent Film of all time!’ Morning shows the day আর Reservoir Dogs দেখিয়ে দিয়েছিলো Quentin Tarantino কে! Reservoir Dogs ই ঠিক করে দিয়েছিলো কেমন হতে পারে টারান্টিনোর পরবর্তী মুভিগুলো আর কী অমূল্য সম্পদ হতে যাচ্ছেন তিনি পুরো বিশ্বের সিনেমাজগতের জন্য!

ততদিনে তিনি কাজ করে ফেলেছেন My Best Friends Birthday (1987), True Romance (1993) মুভিতে। তার পেইড স্ক্রিপ্টটিও পরবর্তিতে মুভিতে রুপদান করা হয় যার নাম ছিলো From Dask Till Dawn (1996). এছাড়াও তিনি তার দ্বিতীয় পেইড স্টোরি লিখেন যার ভিত্তিতে পরবর্তিতে মুভি করা হয় Natural Born Killer (1994). এছাড়াও স্ক্রিপ্ট লিখেন Crimson Tide (1995) এবং The Rock (1996) মুভির জন্যে।

Reservoir Dogs মুভির রমরমা সাফল্যের পর তার কাছে হলিউড থেকে প্রজেক্ট আসতে শুরু করে স্রোতের মতো। কিন্তু তিনি যে হবেন ‘Greatest Film Maker of His Generation’! তাইতো সব প্রজেক্টের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চলে যান আমস্টারডামে তার পরবর্তী মুভির স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করার জন্যে। তার দ্বিতীয় মুভির নাম দিলেন Pulp Fiction!!!

Pulp Fiction (1994) কোয়ান্টিন টারান্টিনোর অনবদ্য সৃষ্টি। সর্বকালের সেরা সিনেমার মধ্যে এটি একটি। Reservoir Dogs এর মতোই মাত্রাতিরিক্ত ভায়োলেন্স, নন-লিনিয়ার স্টোরী আর ডায়লগের ব্লেন্ডে তিনি তৈরি করেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই মাস্টারপিস যা তাকে এনে দেয় Academy Award for Best Original Screenplay! একই মুভির জন্যে তিনি পেয়েছিলেন Best Director ক্যাটাগরিতে নমিনেশন যদিও দুর্ভাগ্যক্রমে তা জেতা হয় নি তার। আর সেই একই অস্কারে Pulp Fiction মুভিটি নমিনেটেড হয়েছিলো Best Picture সহ আরো পাচটি ক্যাটাগরিতে। যুগে যুগে অনেক মুভি দর্শক গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে, পেয়েছে অস্কারসহ আরো অনেক পুরস্কার। কিন্তু Pulp Fiction তৈরি হয়েছে একটিই।

Pulp Fiction এর পরে বাতাসে উড়তে থাকা টারান্টিনো কাজ করেন Four Rooms, Man From the Hollywood, Desperado আর Director’s Chair মুভিতে। ১৯৯৭ সালে তিনি নিয়ে আসেন তার তৃতীয় মুভি Jackie Brown (1997) যেটি ছিলো অন্যের কোন কাজের (Rum Punch Novel) উপর ভিত্তি করা তার প্রথম মুভি। পজিটিভ রিভিউ পাওয়া এই মুভি পূনরুদ্ধার করে সে সময়ে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত দিকে থাকা বেশ কয়েকজন অভিনেতার অভিনয় জীবন! এর পর থেকেই তিনি একে একে জন্ম দিতে থাকেন সিনেমাজগতের কালজ্বয়ী সিনেমাগুলো যার মধ্যে ছিলো Kill Bill 1 & 2 (2003, 2004), Death Proof (2007), Inglorious Basterds (2009), Django Unchained (2012), The Hateful Eight (2015)! প্রথম সিনেমার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে তার নিজস্ব মুভির সংখ্যা মাত্র আটটি যা সিনেমাজগতে জ্বলজ্বল করতে থাকা আটটি নক্ষত্র!

আটটি Indipendent Film ছাড়াও তিনি বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন Sukiyaki Western Django, Diary of the Dead, Hostel, Killshot, Hell Ride ইত্যাদি মুভিতে। জুলাই ২০১৭ তারিখে জানা গেছে যে তার পরবর্তী মুভি (৯ম মুভি) হবে ‘ম্যানসন ফ্যামিলি হত্যাকান্ডে’র উপর ভিত্তি করে যার স্ক্রিপ্ট লেখা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে যেখানে অভিনয় করবেন Leonardo DeCaprio. এছাড়াও অভিনয়ের জন্যে কথা চলছে Margot Robbie, Brad Pitt, Samuel L. Jackson, Jennifer Lawrence, Tom Cruise and Al Pacino এর সাথে। মুভিটি রিলিজ হবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে।

টারান্টিনো ট্রিভিয়া:-

ক) টারান্টিনোর প্রিয় বারোটি সিনেমা –
১) Apocalypse Now
‎২) The Bad News Bears
‎৩) Carrie,
‎৪) Dazed and Confused
‎৫) The Great Escape
‎৬) His Girl Friday
‎৭) Jaws
‎৮) Pretty Maids All in a Row
‎৯) Rolling Thunder
‎১০) Sorcerer
১১) Taxi Driver
‎১২) The Good, the Bad and the Ugly

খ) স্টোরির চেয়েও ডায়ালগ প্রায়শই বড় হয়ে ওঠে তার মুভিতে। Reservoir Dogs মুভিতে শুধু ম্যাডোনার Like a Virgin গানটি নিয়েই ডায়ালগ থাকে প্রায় ১২ মিনিট!

গ) নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিং, ভায়োলেন্স, ম্যাক্সিকান স্ট্যান্ডঅফ আর স্পেগেটি ওয়েস্টার্ন তার মুভির খুব কমন জিনিস।

ঘ) স্ল্যাং পাওয়া যাবে একেবারে সাধারন কথোপকথনের মতোই। পর্ন সিনেমা হলে কাজ করার ইফেক্ট কি না কে জানে।

ঙ) তার নির্দেশিত এবং লিখিত আটটি সিনেমা হলো-
১) Reservoir Dogs (1992)
‎২) Pulp Fiction (1994)
‎৩) Jackie Brown (1997)
‎৪) Kill Bill 1 & 2 (2003 & 2004)
‎৫) Death Proof (2007)
‎৬) Inglorious Basterda (2009)
‎৭) Django Unchained (2012)
‎৮) The Hateful Eight (2015)

চ) টারান্টিনোর মুভিগুলো এক একটি উপন্যাসের মতো। চ্যাপ্টার টু চ্যাপ্টারে ভাগ করা মুভি দেখলে দর্শকের মনে হবে তারা যেনো উপন্যাস পড়ছে। ডায়লগ প্রধান সিনেমায় এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক!

ছ) তিনি জানান ৬০ বছর বয়স হয়ে গেলে তিনি সিনেমা থেকে অবসর নিয়ে বই লেখায় ক্যারিয়ার করবেন।

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Momen Hasan says:

    if want to see great dialogue then Tarantino for you.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন