A Doll’s Story – ভালবাসা দিবসের একটি টিন-এজ রোমান্টিক প্রেমের গল্প

 

 

ভ্যালেন্টাইন ডে মানেই হচ্ছে নানান রকম বিখ্যাত-অখ্যাত আর্টিস্টের সমারহে নির্মিত এক গুচ্ছ রোমান্টিক নাটকসমূহ। প্রতি বছর এই দিনটি যেন প্রেমের এক মিলনমেলা, যেখানে সকল মেকাররাই তাদের সৃষ্টিকে মেলে ধরতে চান দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাদের ভালবাসার মুহুর্তগুলোকে আরো বেশী করে রঙ্গিন করে দিতে। বরাবরের মতই এ বছরে ভালবাসা দিবসে দর্শকদের বিনোদন দিতে দেখা গেছে নানান রকমের প্রেমের নাটক যার মধ্যে বেশ কিছু কাজ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ পজিটিভ রেসপন্স পাওয়া গেছে সেই সাথে টিভিতে সম্প্রচারের পাশাপাশি এবার অনলাইন প্লাটফর্মেও মুক্তি পেয়েছে বেশ কিছু ভাল ভাল ফিকশন যার মধ্যে এবারের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন কাজ ছিল পরিচালক ওয়াসিম সিতার এর নির্মিত শর্ট ফিল্ম ‘এ ডলস স্টোরী’ যেখানে অভিনয় করেছেন সুদ্বীপ ও নবাগতা মোহিনী।

 

 

 

 

আমাদের নাটক সিনেমার রোমান্টিক গল্পের একটি চিরচেনা প্যাটার্ন আছে। সব সময় নায়ক নায়িকার প্রেমে পড়বে এবং নায়িকাকে ইমপ্রেস করার জন্য নানান রকম কান্ড-কারখানা করবে এবং পরিশেষে নায়িকার মন জয় করে দুজনে এক হয়ে যাবে অর্থাৎ গল্পটি সর্বদা দেখানো হয় নায়কের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আমরা দেখতে পাই প্রেমে পড়লে একটি ছেলের কেমন ফিল হয়, সে কি কি পাগলামী করতে পারে মেয়েটির জন্য, কিভাবে সে মেয়েটিকে ইমপ্রেস করে ইত্যাদী। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কোন ছেলের প্রতি প্রেমে পড়লে একটি মেয়ের কেমন ফিল হয়? একটি মেয়েও কিন্তু পারে গোপনে একটি ছেলেকে ভালবাসতে। ছেলেটি হতে পারে তারই প্রতিবেশী কোন বড় ভাই যে হয়তো মেয়েটির প্রতি তেমন নজরই দেয় না কিন্তু মেয়েটি নানান রকম ছেলেমানুষী করতে থাকে সেই ছেলেটিকে তার মনের ভাষা বোঝানোর জন্য। কোন রোমান্টিক গল্পের প্যাটার্ন যদি হয় এমন, তবে কেমন হতে পারে সেই লাভ স্টোরী? পরিচালক ওয়াসিম সিতার তার ‘এ ডলস স্টোরী’ শর্ট ফিল্মে সেই নায়ক কেন্দ্রিক চিরচেনা রোমান্টিক গল্পের প্যাটার্ন ভেঙ্গে ঠিক এই গল্পটিই বলতে চেয়েছেন যেখানে পয়েন্ট অফ ভিউ হিসেবে দেখানো হয়েছে সদ্য প্রেমে পড়া একটি টিন-এজ মেয়ের মনের অব্যক্ত অনুভুতী গুলোকে।

 

 

 

 

মানুষের জীবনের ভালবাসার কয়েকটি বয়স আছে। কেউ কেউ কৈশরে প্রেমে পড়ে, কেউ প্রেমে পড়ে যৌবনে আবার কারো কারো মধ্য বয়সে গিয়ে প্রেমের ভুত মাথায় চাপে। তবে এত গুলো বয়সের মধ্যে একমাত্র কৈশরের প্রেমের সময়টিই মানুষের জীবনের সব থেকে মধুময় স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে আজীবন কারণ এই সময়টিতে মানুষের লজিক কম, আবেগ কাজ করে সব থেকে বেশী। এই আবেগের বশবর্তী হয়ে একটি ছেলে বা একটি মেয়ে তার ভালবাসার মানুষটিকে ইমপ্রেস করার জন্য কতই না হাস্যকর কাজ করে যা হয়তো একটি সময় মনে পড়লে হাসি পায় কিন্তু ঐ কাজ গুলোই থাকে কৈশরে প্রেমে পড়া ছেলে-মেয়েটির কাছে ভালবাসার একমাত্র সংজ্ঞা। পরিচালক এই ফিকশনটিতে এই বিষয়টিকেই মূল কেন্দ্র করে দেখিয়েছেন এমনই এক আবেগী টিন-এজ মেয়ের গল্প, যে তার ভালবাসার মানুষকে কখনো মুখ ফুটে বলতে পারে না তার ভালবাসার কথা বরং নানান রকম ছেলেমানুষী দ্বারা ইমপ্রেস করার চেষ্টা করে।

 

 

 

 

‘এ ডলস স্টোরী’ ফিকশনটির গল্প কোন আহামরি কিছু নয়। এ ধরণের কনসেপ্টের গল্প দর্শক হয়তো এর আগেও কম বেশী আরো অনেক দেখেছেন অন্যান্য নাটকে কিন্তু যে জিনিসটির কারণে কমন গল্প হওয়া সত্ত্বেও এই ফিকশনটি আলাদা ভাবে চোখে লেগেছে তা হল গল্পটির প্রেজেন্টেশন ও মেকিং। পরিচালক একটি সাধারণ গল্পকে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন চোখ ধাঁধানো সিনেম্যাটোগ্রাফি ও মন মাতানো ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের মাধ্যমে। এই ফিকশনটির সব থেকে বড় পাওয়াই হচ্ছে এর সিনেম্যাটোগ্রাফি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যা দর্শককে স্ক্রিনে ধরে রাখার জন্য অন্যতম সেরা আকর্ষণ। বিশেষ করে ফিকশনটিতে যে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যান্ত মনকাড়া যা দর্শককে পুরোপুরি রোমান্টিক ফিল এনে দিতে সক্ষম পাশাপাশি দুর্দান্ত রকমের চোখ ধাঁধানো কালার গ্রেডিং এই ফিকশনটির অন্যতম একটি সেরা অংশ।

 

 

 

 

অভিনয়ের ব্যাপারে বলতে গেলে সুদ্বীপ আগে থেকে পরীক্ষিত একজন অভিনেতা। সে অলরেডি বেশ কিছু নাটক ও পাশাপাশি ফিল্মে নজরকাড়া অভিনয় করে নিজের একটি অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে। এখানেও সে অনেক সুন্দরভাবে পরিমিত অভিনয় দ্বারা তার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। নতুন হিসেবে মোহিনী ছিল অ্যাভারেজ। তার অভিনয় ও বাচনভঙ্গির মধ্যে একটি টিন-এজ মেয়ের ছায়া খুব ভাল ভাবেই বোঝা যাচ্ছিল যা তাকে সাহায্য করেছে এই চরিত্রটির সাথে খাপ খাওয়াতে তবে মিডিয়াতে স্থায়ী হতে গেলে তার ডায়লগ ডেলিভারি ও বাচনভঙ্গির আরো উন্নতি দরকার। যদিও এই ফিকশনটিতে মোহিনীর অভিনয়ের খুঁত গুলো খুব একটা চোখে পড়েনি কারণ এখানে পরিচালক তার সিনেম্যাটোগ্রাফির জাদু ব্যবহার করে মোহিনীকে এক সত্যিকার মোহিনীরূপে তুলে ধরেছেন। ফিকশনটির বিশেষ বিশেষ কিছু মুহুর্তে মোহিনীর ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ক্যামেরায় যেভাবে অসাধারণ ভাবে ক্যাপচার করা হয়েছে তা দেখে যেকোন ছেলে বাধ্য হবে মোহিনীর প্রতি ক্রাশ খেতে।

 

 

 

 

অবশেষে, ২০ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটির গল্প ও অভিনয় আপনার পুরোপুরি মন ভরাবে কিনা জানি না কিন্তু এর মেকিং, সিনেম্যাটোগ্রাফি ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর যে আপনাকে একটি সত্যিকারের ফিল্মের স্বাদ এনে দিবে এ বিষয়ে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। অন্তত এই ভ্যালেন্টাইনের অগণিত ভাল-মন্দ কাজের ভিড়ে বেশ কিছু বিখ্যাত আর্টিস্ট ও মেকারদের ফিকশন থেকে যে ‘এ ডলস স্টোরী’ শত গুণে রিফ্রেশিং ও ইউনিক সেটা আপনারা নিজেরাই পরখ করে দেখে বুঝতে পারবেন। আর এই সব কিছুর জন্যই ক্রেডিট দিতে হয় পরিচালক ওয়াসিম সিতারকে যিনি এই ফিকশনটি এত সুনিপুণ ভাবে বানিয়েছেন। ‘এ ডলস স্টোরী’ শর্ট ফিল্মটি আপনারা দেখতে পাবেন ‘কাস্টোমাইজ ফিল্মস’ এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে…

 

 

লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=2ObhAriGJmo

 

 

 

(Visited 363 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন