‘দ্য ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ – বাংলাদেশের প্রথম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং কনসেপচুয়াল রোমান্টিক ধারাবাহিক নাটক… !!! (ঈদ স্পেশ্যাল)

 

 

 

ঈদের আমেজ কেটে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু কাটেনি ঈদের নাটকের আমেজ। এবারের ঈদে প্রচারিত হয়েছে গত কয়েক ঈদের তুলনায় বেশ কিছু মান সম্মত নাটক যা নিয়ে ইতঃমধ্যেই ফেসবুকে চলছে রিভিউ এর তোলপাড়। কিন্তু চেনা, পরিচিত ও বিখ্যাত পরিচালকদের নাটকের রিভিউয়ের ভিড়ে হারিয়ে গেছে কিছু নব্য তরুণ নির্মাতার অসাধারণ নাটক যা নিয়ে রিভিউ তো দূরে থাক, কথাই বলেনি কেউ। আজ এমনই এক নাটক নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি অপুর্ব, তাসনুভা এল্ভিন ও মিথিলা অভিনীত ‘দ্য ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’, যার পরিচালক তরুণ নির্মাতা ‘ওয়াসিম সিতার’।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ঈদের নাটকের রিভিউয়ে সর্বদাই যে নাটক গুলো ঠাই পেয়েছে সেগুলো ছিল একক সিঙ্গেল নাটক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আসেনি কোন ৬ পর্বের নাটকের গুণগান আর আসবেই বা কিভাবে, এখনকার সময়ে ৬ পর্ব বানানো যেন নির্মাতাদের একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। গল্পবিহীন কিছু নাটককে কোন রকমে বাজে একটা মেকিং করে টেনে হিঁচড়ে জোর করে ৬ পর্বে রূপান্তরিত করে বিজ্ঞাপনের ককটেল মিশিয়ে দর্শকদের ঈদের ৬ দিন ধরে জোর করে ধরে গিলানো হচ্ছে যার অধিকাংশই বিরক্তিকর গল্প, বাজে অভিনয় ও বাজে মেকিং সম্পন্ন আর দর্শকদেরও তো ঠ্যাকা পড়ে নাই ঈদের ৬ দিন ধরে বিজ্ঞাপনের অত্যাচার সহ্য করে এই অখাদ্য গিলার যার কারণে আজে বাজে ৬ পর্বের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে কিছু মানসম্মত কাজ।

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশে বিয়ে নিয়ে নাটক, টেলিফিল্ম অনেক হয়েছে সেখানে গল্পের কোন একটি অংশে প্রাধান্য পেয়েছে বিয়ের আমেজ ও দৃশ্য কিন্তু গোটা একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে নাটক, টেলিফিল্ম বা ধারাবাহিক খুব কমই হয়েছে আর কনসেপ্ট যেখানে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ সেখানে এই কনসেপ্টে জানা মতে বাংলাদেশে কোন নাটক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক এমনকি সিনেমাও এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়নি। বলিউডে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ এখন একটি কমন বিষয় যার সুচনা হয়েছিল ‘শাহেদ কাপুর’ ও ‘আলিয়া ভাট’ এর ‘শানদার’ মুভির মাধ্যমে আর অবশেষে বাংলাদেশে এই কনসেপ্টের সুচনা হলো ‘দ্য ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ নামক ৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে।

 

 

 

 

 

 

এ নাটকের গল্প অপুর্ব ও এলভিনের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ কে কেন্দ্র করে যেখানে এই দুজনের ফ্যামিলি একটি বিশাল রিসোর্টে একত্রিত হয় তাদের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষ্যে। সব কিছুই যখন সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হচ্ছিল ঠিক তখনই বিয়েতে বাগড়া দিতে চলে আসে অপুর্বর এক্স-গার্লফ্রেন্ড মিথিলা। অতঃপর নানান মজার, আবেগঘন ও মিষ্টিমধুর ঘটনার পরিশেষে বিয়েটা কি আদৌও শেষ পর্যন্ত হয়, আর হলেই বা কার সাথে হয় সেটি জানতে দেখতে হবে পুরো ধারাবাহিকটি। গল্পটি শুনে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে এটি তো ‘মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়’ মুভির গল্পের আদলে তৈরী অর্থাৎ নতুন বোতলে পুরনো মদ কিন্তু এই ধারণাটি ভুল। ঐ মুভির গল্পের সাথে এই নাটকের গল্পের কোন সম্পর্ক নেই। কনসেপ্টে হালকা মিল থাকলেও ঘটনা, দৃশ্য, মেকিং, এন্ডিং সব কিছুতেই দর্শক পাবেন নতুনত্বের ছোঁয়া। আর এখানেই এই নাটকের পরিচালকের কৃতিত্ব। অতঃপর সব শেষে স্মার্ট স্টোরী টেলিং এর মাধ্যমে বেশ ইমোশোনাল একটি এন্ডিং টানা হয়েছে নাটকটির। ৬ পর্ব বলতে যেখানে অন্য সব নাটকে অযথা দৃশ্য বাড়িয়ে নাটক টেনে লম্বা করতে দেখা যায়, সেখানে এই নাটকের প্রতিটি দৃশ্যই মনে হবে গল্পের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর এই নাটকের সব থেকে বড় প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে নাটকের মেকিং। এই নাটকে যে স্ট্যাইলের সিনেম্যাটোগ্রাফি দেখানো হয়েছে তা দর্শককে এনে দিবে সিনেমার ফ্লেভার। দৃষ্টিনন্দন লোকেশন অসাধারণ সেট ডিজাইন ও চোখ ধাঁধানো কালার গ্রেডিং এ গায়ে হলুদ, মেহেদী ও বিয়ের দৃশ্য গুলো যেন দর্শকদের চোখে জীবন্ত রূপে ধরা দিবে ও ছড়িয়ে দিবে মুগ্ধতা সেই সাথে নাটকটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও গানগুলিও অত্যান্ত শ্রুতিমধুর লাগবে দর্শকদের কাছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অভিনয়ের কথা যদি বলতে হয়, অপুর্বকে এই ধরণের চরিত্রে খুব কমই দেখা গেছে তার পুর্ববর্তী নাটকগুলোতে, সেই তুলনায় তার অভিনয় ছিল বেশ গোছানো ও মার্জিত। কোন অতিরঞ্জিত বা ওভারএকটিং ছিল না তার মাঝে। এলভিন ছিল তার মতই মোটামুটি, তবে মিথিলা একাই টেনে নিয়ে গেছে গোটা নাটকটি। দর্শক নির্ঘাত ক্রাশ নয়, বরং নতুন করে প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেই মিথিলাকে এই নাটকে দেখে। বিয়ের দৃশ্য গুলোতে দুর্দান্ত সিনেম্যাটোগ্রাফি দ্বারা মিথিলার সৌন্দয্যকে যেন শতগুণে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অপুর্বর বন্ধুর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি গোটা নাটকে খুবই স্মার্টলি হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন। আজকালকার নাটকে নায়কের বন্ধুর চরিত্র মানেই যে ছ্যাবলামো টাইপের কমেডি, তা দেখা যায়নি এই চরিত্রের মাঝে আর পাশাপাশি বোনাস হিসেবে দুই বিয়াইনসাব তৌসিফ ও সানজিদার ‘টম এন্ড জেরি’ টাইপের জুটির খুনশুটি তো আছেই, যা দর্শকদের বিনোদনের কোন কমতি রাখবে না। তবে আমার চোখে এই নাটকের বেস্ট সিন হলো মেহেদীর রাতে তৌসিফ ও মিথিলার মধ্যকার দৃশ্যটি যা একই সাথে মজার আবার মন খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

 

 

 

 

 

 

সব শেষে, এত অসাধারণ একটি নাটক যিনি তৈরী করেছেন তিনি হলেন ‘ওয়াসিম সিতার’ যিনি এর আগে ‘সেলফিবাজ’, ‘মিডিয়া গসিপ’, ‘আই এম সরি’, ‘এ বিউটিফুল ডে’ নামক বেশ কিছু মান সম্মত নাটক তৈরী করেছেন এমনকি বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব সিটকম সিরিজ ‘মিস্টার এন্ড মিসেস পাটোয়ারী’ও তারই হাতের সৃষ্টি। ৬ পর্ব যখন দর্শকদের কাছে এক বিভিষীকাময় নাম, সেখানে হঠাৎ করে এমন ২/১টি কাজ সত্যিই প্রতিদিন শত বিজ্ঞাপনের ভিড়েও দর্শকদের টিভির সামনে বসতে বাধ্য করতে যথেষ্ট। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতারা নাটকের জন্য খুব বেশী বাজেট পান না, কিন্তু তার মধ্যেই সত্যিই যাদের মধ্যে প্রকৃত নাটক বানানোর প্যাশন আছে, তারা এমন ভাবে মেকিং করেন যা দেখলে নির্ঘাত লজ্জা পেতে বাধ্য হবে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল নির্মাতারা ও সিরিয়ালখোর দর্শকেরা। আশা করি, এভাবেই দেশের তরুণ নির্মাতারা একক নাটকের সাথে সাথে ঈদের ধারাবাহিক গুলোতে মেকিং ও কনটেন্টের দিকে একটু বেশীই জোর দিবেন কারণ এখন চুইংগামের মত নাটক টেনে লম্বা করার দিন শেষ। যার নাটকে যত ভাল গল্প ও সুন্দর মেকিং থাকবে সেটি ধারাবাহিক হোক বা সিঙ্গেল, দিন শেষে শেষ হাসিটা কিন্তু তারই… !!!

 

 

 

 

 

 

‘দ্য ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ ৬ পর্বের লিঙ্কঃ-

 

পর্ব ০১ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=PtLE0FbdL3E

 

পর্ব ০২ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=fNIUpnBrsY0

 

পর্ব ০৩ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=GT6gLCiUoYg

 

পর্ব ০৪ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=X7_rll6FBAk

 

পর্ব ০৫ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=cudBjw0KJxc

 

পর্ব ০৬ ঃ https://www.youtube.com/watch?v=2W1ZUQUNOag

 

 

 

(Visited 921 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন