হলিউড বক্স অফিস রিপোর্ট ২০১৭ – বছরের সকল ফ্লপ সিক্যুয়াল মুভি সমূহের লিস্ট… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

 

 

অবশেষে শেষ হয়ে গেল ২০১৭। এ বছরে হলিউডে মুক্তি পেয়েছে অগণিত সিক্যুয়াল মুভি যার কিছু কিছু দর্শকদের বিপুল আনন্দ দিয়ে ঘরে তুলেছে বিশাল অংকের মুনাফা এবং বাকিগুলো দর্শকদের কাছ থেকে বর্জিত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে বক্স অফিসে। সিক্যুয়াল মুভি মানেই যে নিশ্চিত লাভ সেটা গত বছর ২০১৬ সালের মত এ বছরেও ভুল প্রমাণীত হয়েছে। যাই হোক, চলুন দেখে নেয়া যাক ২০১৭ সালের কোন কোন সিক্যুয়াল মুভি গুলো দর্শকদের হতাশ করে বক্স অফিসে ফ্লপের খাতায় নাম লিখিয়েছে…

 

 

 

 

 

 

Underworld: Blood Wars

 

 

বছরের প্রথম মাসে মুক্তি পাওয়া প্রথম সিক্যুয়াল মুভিটিই ছিল বিখ্যাত ‘আন্ডারওয়াল্ড’ সিরিজের ৫ম পর্ব ‘ব্ল্যাড ওয়ার’। আন্ডারওয়াল্ড সিরিজের প্রথম ৩টি মুভির গল্প দুর্দান্ত হলেও এর পর থেকে লেবু চিপে তিতা করার মত করে কোন রকম গল্প দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে একের পর এক মুভি। যার কারণে ৩৫ মিলিয়ন বাজেটের দুর্বল গল্প ও চিত্রনাট্যের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় (ডমেস্টিক বক্স অফিস) মাত্র ৩০ মিলিয়ন আয় করে বছরের প্রথম ফ্লপের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এত কিছুর পরেও নির্মাতারা সিরিজের ৬ষ্ট মুভির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

Resident Evil: The Final Chapter

 

 

বিখ্যাত ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেড মুভি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ মুভির কথা কম বেশী সকলেরই জানা। কারও কারও কাছে এটি খুবই বিরক্তিকর আবার কারো কারো কাছে পছন্দের একটি সিরিজ তবে যে যাই বলুক, ভিডিও গেম থেকে নির্মিত যত মুভি হয়েছে তার মধ্যে সব থেকে সফল সিরিজ হচ্ছে এই ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। এ বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পেয়েছে সিরিজের ৬ষ্ঠ ও শেষ মুভি ‘দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার’। পুর্বের পর্ব গুলোর থেকে এবারের পর্বে ছিল একটি দুর্দান্ত গল্প যার কারণে মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়েছে তবে ৪০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি উত্তর আমেরিকায় মাত্র ২৬ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ গেলেও সারা বিশ্বে আয় করেছে ৩১২ মিলিয়ন যা মুভিটিকে করেছে সিরিজের সব থেকে বেশী আয় করা মুভি এবং এই মুভির আয় যোগ করে সিরিজের ৬টি মুভির টোটাল আয় ক্রস করেছে ১ বিলিয়ন ট্রেড মার্ককে।

 

 

 

 

 

 

Diary of a Wimpy Kid: The Long Haul

 

 

‘ডায়রি অফ এ উইম্পি কিড’ একটি বিখ্যাত বুক অ্যাডাপ্টেড কমেডি সিরিজ। সেই ২০১০ সাল থেকে এই সিরিজটি চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই বছর মুক্তি পেয়েছে সিরিজের ৪র্থ মুভি ‘দ্য লং হাউল’। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবারের ২২ মিলিয়ন বাজেটের মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ২০ মিলিয়ন আয় করে সিরিজের প্রথম ফ্লপ মুভির খাতায় নাম লিখিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

T2: Trainspotting

 

 

১৯৯৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ খ্যাত পরিচালক ‘ড্যানি বয়েল’ পরিচালিত বুক অ্যাডাপ্টেড বিখ্যাত ব্ল্যাক কমেডি কাল্ট ড্রামা মুভি ‘ট্রেনস্পোটিং’ মুভিটি যা বক্স অফিসে দুর্দান্ত হিট করেছিল। তারই ২১ বছর পর ‘ড্যানি বয়েল’ তৈরী করলেন সেই মুভিরই সিক্যুয়াল পুর্বের পর্বের সকল অভিনেতা অভিনেত্রীদের পুনরায় ফিরিয়ে এনে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৮ মিলিয়ন বাজেটের এবারের মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে পজেটিভ রিভিউ পেয়েও উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে মাত্র ২ মিলিয়ন।

 

 

 

 

 

 

xXx: The Return of Xander Cage

 

 

অ্যাকশন লাভারসদের কাছে ‘ট্রিপল এক্স’ একটি প্রিয় নাম। সেই ২০০২ সালে প্রথম মুক্তি পায় ‘ভিন ডিজেল’ অভিনীত ‘ট্রিপল এক্স’ যা বক্স অফিসে দারুণ হিট হয়। এরপর ২০০৫ সালে ‘ভিন ডিজেল’কে বাদ দিয়ে তার স্থানে ‘আইস কিউব’কে নিয়ে নির্মিত হয় সিক্যুয়াল ‘ট্রিপল এক্সঃ স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ যা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় অবশেষে ১২ বছর পর ‘ভিন ডিজেল’ ফিরে এলো ‘ট্রিপল এক্স’ রোলে সাথে করে ‘আইস কিউব’, ‘ডনি ইয়েন’, ‘টনি ঝা’, ‘রুবি রোস’, ‘নিনা ডবরেভ’, ‘নেইমার’, ‘স্যামুয়েল এল জ্যাকসন’ এবং বলিউডের ‘দিপিকা পাডুকোন’কে নিয়ে। কিন্তু এত কিছুর পরেও দুর্বল গল্প, অগোছানো স্ক্রিপ্ট ও উদ্ভট অ্যাকশন সমৃদ্ধ ৮৫ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৪৪ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ গেছে। তবে মুভিটি বহিঃবিশ্বে ভাল করেছে। সারা বিশ্বে আয় করেছে ৩৪৬ মিলিয়ন যার কারণে এখন এটি ‘ট্রিপল এক্স’ ট্রিলজীর সব থেকে বেশী আয় করা মুভি আর এই কারণেই সিরিজের ৪র্থ মুভিও কনফার্ম হয়ে গেছে যেখানে ব্যাক করবে এ পর্বের সকল নায়ক নায়িকা, সম্ভবত ‘দিপিকা’ও।

 

 

 

 

 

 

Smurfs: The Lost Village

 

 

‘স্মার্ফস’ খুবই বিখ্যাত একটি শিশুতোষ কাল্পনিক প্রাণী। এদেরকে নিয়ে সেই ২০১১ সালে নির্মিত হয় লাইভ অ্যাকশন মুভি ‘দ্য স্মার্ফস’ যা বক্স অফিসে দারুণ হিট করে কিন্তু ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভির সিক্যুয়াল ‘দ্য স্মার্ফস টু’ ফ্লপ গেলে নির্মাতারা এই চরিত্রটিকে একেবারে রিবুট করে অ্যানিমেশন আকারে পর্দায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় যার কারণে ৪ বছর পর এই বছরে মুক্তি পায় ‘স্মার্ফস’ এর রিবুট অ্যানিমেশন মুভি ‘স্মার্ফসঃ দ্য লস্ট ভিলেজ’। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৬০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৪৫ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ গেছে। ‘স্মার্ফস’দের সম্ভবত আর কোন ভবিষ্যত রইলো না।

 

 

 

 

 

 

King Arthur: Legend of the Sword

 

 

‘কিং আর্থার’ একজন যুগান্তকারী লেজেন্ডের নাম। তার এবং তার তরবারীর লেজেন্ডের কথা কম বেশী সকলেরই জানা। এই লেজেন্ডারী যোদ্ধাকে নিয়ে এ যাবৎকালে প্রায় ৪১টির মত মুভি নির্মিত হয়েছে যেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ‘আর্থার’, ‘মার্লিন’, ‘ল্যাঞ্চেলট’ ইত্যাদীদের গল্প উঠে এসেছে। সর্ব শেষ ‘আর্থার’কে মুভিতে দেখা গিয়েছিল ‘ট্রান্সফর্মার্সঃ দ্য লাস্ট নাইট’ মুভিতে যেখানে ‘আর্থার’ ও ‘মার্লিন’ এর অরিজিনের মায়েরে বাপ করা হয়েছে। তবে এই বছর ‘আর্থার’কে নিয়ে পুর্ণাংগ রূপে মুভি তৈরী করেছেন ‘শার্লক হোমস’ খ্যাত বিখ্যাত পরিচালক ‘গাই রিচি’। ‘কিং আর্থারঃ লেজেন্ড অফ দ্য সোর্ড’ নামক এই মুভিটিতে তিনি কিছুটা কম্পনা ও ফ্যান্টাসীর আশ্রয় নিয়ে ‘চার্লি হানাম’কে দিয়ে ‘আর্থার’ এর রোলটি সাজিয়েছেন এমনকি ‘ডেভিড বেকহাম’ এর মত বিখ্যাত ফুটবলারকেও তিনি যোদ্ধা হিসেবে এই মুভিতে ব্যবহার করেছেন কিন্তু এতকিছুর পরেও ১৭৫ মিলিয়ন বিশাল বাজেটের এই মুভি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৩৯ মিলিয়ন আয় করে পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

The Lego Ninjago Movie

 

 

মনে আছে ? সেই ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল একটু উদ্ভট টাইপের অ্যানিমেশন মুভি ‘দ্য লেগো মুভি’। অন্যরকম অ্যানিমেশন, চরম হিউমার ও দুর্দান্ত গল্পের সেই মুভিটি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়েছিল। এই বছরে সেই মুভিরই একটি চরিত্র ‘ব্যাটম্যান’কে নিয়ে তৈরী হয় আলাদা স্পিন-অফ মুভি ‘দ্য লেগো ব্যাটম্যান মুভি’ যা বক্স অফিসে দারুণ হিট হয়। সেই সাথে একই বছরে মুক্তি পায় ‘লেগো মুভি’ সিরিজের ৩য় স্পিন-অফ মুভি ‘দ্য লেগো নিনজাগো মুভি’ যা ছিল মূলত একজন ইয়াং নিনজার গল্প। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৭০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৫৯ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ হয়।

 

 

 

 

 

 

The Mummy

 

 

এ বছর মুক্তি পেয়েছে বিখ্যাত ‘মমি’ সিরিজের ৪র্থ কিস্তি বা রিবুট মুভি ‘দ্য মমি’। ‘টম ক্রুজ’কে নিয়ে নির্মিত এই মুভিটি দিয়ে ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও ‘মার্ভেল’ ও ‘ডিসি’র মতই শুরু করতে চেয়েছিল তাদের নিজস্ব ‘ডার্ক ইউনিভার্স’ যেখানে পরবর্তিতে যোগ দিত ‘ডক্টর জেকিল’, ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’, ‘ইনভিজিবল ম্যান’, ‘ড্রাকুলা’, ‘উলফ ম্যান’ ইত্যাদী। অলরেডি ‘জনি ডেপ’ ‘ইনভিজিবল ম্যান’ রোলে, ‘হাভিয়ের বারদেম’ ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রোলে ও ‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ ‘ব্রাইড অফ ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রোলে অভিনয়ের কথা চলছে। এদিকে ‘রাসেল ক্রো’ ‘ডক্টর জেকিল’ রোলে ও ‘সোফিয়া বউতেলা’ ‘মমি’ রোলে ফিক্স হয়েই গেছে। কিন্তু এত দীর্ঘ পরিকল্পনার পরেও ১২৫ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভিটি দুর্বল গল্পের কারণে সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৮০ মিলিয়ন আয় করে চরম রূপে ডুব খেয়েছে। এই মুভি থেকে লসের পরিমাণ প্রায় ৯৫ মিলিয়ন। এই মুভির ভরাডুবির কারণে এখন ‘ডার্ক ইউনিভার্স’ এর ভবিষ্যত পুরাই অন্ধকার গেছে।

 

 

 

 

 

 

Alien: Covenant

 

 

‘অ্যালিয়েন’ সিরিজ ‘রিডলি স্কট’ এর একটি অমর সৃষ্টি। সেই ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যালিয়েন’ মুভি এবং ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেমস ক্যামেরুন’ পরিচালিত এর সিক্যুয়েল নিঃসন্দেহে ইতিহাসের দুটি মাস্টারপিস মুভি। কিন্তু পরবর্তিতে ‘ডেভিড ফিঞ্চার’ ও ‘জিন পিরি জনেট’ পরিচালিত সিরিজের ৩য় ও ৪র্থ মুভি দুটি সিরিজটিকে পুরাই ডুবিয়েছে। অতঃপর ৪র্থ মুভির ১৫ বছর পর ‘রিডলি স্কট’ আবার পুনরুদ্ধার করেন ‘অ্যালিয়েন’ সিরিজটিকে ২০১২ সালের ‘প্রমিথিউস’ মুভির মাধ্যমে। ‘অ্যালিয়েন’দের অরিজিন গল্পের ঐ মুভিটি বেশ প্রশংসিত হয় এবং ভক্তরাও আশা নিয়ে বসে থাকে পরের পর্বে ‘অ্যালিয়েন’দের না বলা সব অরিজিন রহস্য উন্মেচনের যার সূচনা হয়েছিল ‘প্রমিথিউস’ এ। কিন্তু এ বছরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রমিথিউস’ এর সিক্যুয়াল ‘অ্যালিয়েন কভেন্যান্ট’ মুভিটি সমালোচকদের মন ভরালেও হতাশ করেছে ‘অ্যালিয়েন’ ভক্তদের কারণ মুভিতে ‘অ্যালিয়েন’দের অরিজিন রহস্য উন্মেচনের থেকে ‘অ্যান্ড্রয়েড’দের মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব দেখাতেই বেশী ব্যস্ত ছিলেন ‘স্কট’ সাহেব যার কারণে ৯৭ মিলিয়ন বাজেটের মুভিটি উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৭৪ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপের খাতায় নাম লেখায়। ‘রিডলি স্কট’ ঘোষনা দিয়েছিলেন এই মুভির নেক্সট সিক্যুয়ালে ‘অ্যালিয়েন’দের বাদ দিয়ে ‘অ্যান্ড্রয়েড’দের মূল ফোকাসে রেখে তাদেরকে নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবেন। কিন্তু সম্প্রতি ‘টুয়েন্টিস্থ সেঞ্চুরী ফক্স’ ‘রিডলি স্কট’ এর এই মাতব্বরি আইডিয়ার সিক্যুয়াল ক্যানসেল করেছে আর ‘ফক্স’ এখন ‘ডিজনী’র আন্ডারে চলে আসায় হয়তো ‘অ্যালিয়েন’দের জন্য নতুন কোন ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।

 

 

 

 

 

 

The Nut Job 2: Nutty by Nature

 

 

এ বছর মুক্তি পেয়েছে ২০১৪ সালের হিট অ্যানিমেটেড মুভি ‘দ্য নাট জব’ এর সিক্যুয়াল ‘নাটি বাই নেচার’। কিছু কিছু মুভির হুদাই সিক্যুয়াল তৈরী করে নির্মাতারা শুধু মাত্র পুর্বের পর্বের সফলতাকে কাজে লাগিয়ে লাভ করার জন্য। এই মুভিটিও সম্ভবত সেই কাতারেই পড়ে। যার কারণে ৪০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ২৮ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ গেছে। ভাগ্য ভাল যে এর আর কোন সিক্যুয়াল প্ল্যান নেই।

 

 

 

 

 

 

Cars 3

 

 

অ্যানিমেশন লাভারসদের কাছে ‘কারস’ একটি পছন্দের সিরিজের নাম। মানুষদের বদলে শুধু গাড়িদের নিয়ে এক অসাধারণ দুনিয়া দেখানো হয়েছে এই সিরিজে। এই সিরিজের ২য় মুভি মুক্তি পায় ২০১১ সালে যা প্রথম পর্বের মত ভক্ত ও সমালোচকদের খুব একটা মন ভরাতে পারেনি। অতঃপর একটি দীর্ঘ বিরতী শেষে ৬ বছর পর এ বছরে ‘পিক্সার’ ও ‘ডিজনী’ নিয়ে এলো ‘কারস থ্রি’। তবে দুর্ভাগ্যবশত এবারের পর্বটি সমালোচকদের মন ভরাতে পারলেও ভরতে পারেনি প্রডিউসারের পকেট। ১৭৫ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভিটি উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে মাত্র ১৫২ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে মাত্র ৩৮৩ মিলিয়ন যা মোটেই প্রত্যাশিত সাফল্য নয় এবং এটি এখন ‘কারস’ ট্রিলজীর সব থেকে কম আয় করা মুভি।

 

 

 

 

 

 

Baywatch

 

 

যদিও ‘বেওয়াচ’ কোন সিক্যুয়াল মুভির ক্যাটাগরিতে পড়ে না, তবুও এই মুভিকে লিস্টে রাখা হলো স্পেশ্যাল অনার হিসেবে কারণ এটি ১৯ শতকের ‘বেওয়াচ’ নামক বিখ্যাত টিভি সিরিজের ফার্স্ট মুভি অ্যাডাপ্টেশন যার কারণে এই মুভিটি নিয়েও প্রত্যাশার কোন কমতি ছিল না বিশেষ করে ভিলেনের রোলে যখন বলিউডের ‘প্রিয়াংকা চোপড়া’ সেই সাথে আছে ‘ডোয়াইন জনসন’, ‘জ্যাক এফ্রন’ ও ‘আলেকজান্ড্রা দাদ্দারিও’ এর মত তারকারা। কিন্তু বিধি বাম, এই বছরটা ‘দিপিকা’ ও ‘প্রিয়াংকা’ কারোরই হলিউড ডেবুউ ভাল হল না। মাত্র ৬৯ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে মাত্র ৫৮ মিলিয়ন। মুভিটি রিলিজের সময় বলা হয়েছিল এই মুভির সিক্যুয়ালের প্ল্যান চলছে তবে এখন এত বড় ভরাডুবির পর এর সিক্যুয়ালের কোন আশাই করা যায় না।

 

 

 

 

 

 

Amityville: The Awakening

 

 

যারা নিয়মিত হরর মুভি দেখেন তাদের কাছে ‘অ্যামিটিভিল’ একটি পরিচিত নাম। ১৯৭৪ সালের ১৩ নভেম্বর আমেরিকায় নিউইয়র্কের একটি গ্রাম ‘অ্যামিটিভিল’ এ অবস্থিত একটি বাড়িতে ‘রোনাল্ড ডিফিও জুনিয়র’ নামক এক ব্যক্তি তার পরিবারের ৬ জন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে। তারপর থেকে সেই বাড়িটি হন্টেড হাউস হিসেবে পরিচিত হয়ে যায় ও সেখানে নানান রকমের প্যারানরম্যাল ঘটনা ঘটা শুরু করে। ‘অ্যামিটিভিল’ এ ঘটা এই সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৯ সালে নির্মিত হয় ‘দ্য অ্যামিটিভিল হরর’ নামক প্রথম মুভি এবং পরবর্তিতে আরো সিক্যুয়াল নির্মাণের মাধ্যমে এটি পরিণত হয় একটি বিখ্যাত হরর সিরিজে। ২০১৪ সালে নির্মিত এই সিরিজের ১০ম মুভি ‘অ্যামিটিভিলঃ দ্য অ্যাওয়াকেনিং’ মুভিটি বার বার রিলিজ ডেট স্থগিতের পর অবশেষে এ বছর মুক্তি পায়। মুভিটিকে আমেরিকায় লিমিটেড রিলিজ দেয়া হয়। মাত্র ১০টি হলে মুক্তি পেয়ে ৭ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি আয় করে মাত্র ৭৪২ ডলার। সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পাওয়া মুভিটি বহিঃবিশ্বে ইউক্রেন, সেন্ট্রাল আমেরিকা ও ফিলিপাইনে রিলিজ হয় ও সেখান থেকে সর্ব মোট আয় হয় ৭ মিলিয়ন।

 

 

 

 

 

 

Transformers: The Last Knight

 

 

লেবু বেশী চিপলে যে আসলেই তিতা হয়ে যায় তার একটি বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে এই ‘ট্রান্সফর্মার্স’ সিরিজটি। সেই ২০০৭ সাল থেকে বিখ্যাত ভাংচুর স্পেশ্যালিস্ট ‘মাইকেল বে’ জোর করেই ১০ বছর ধরে এই সিরিজটি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম ৩টি পর্ব পর্যন্ত ঠিক ছিল, অন্তত একটা দেখার মত গল্প ছিল কিন্তু ৪র্থ পর্বে এসে ‘মাইকেল বে’ গল্প খুঁজে না পেয়ে গোটা মুভি জুড়ে শুধু ভাংচুর করে গেছেন আর এবারে ৫ম পর্বে এসে তিনি জোর করে একটা গল্প ঢুকাতে গিয়ে এমন এক টাইম লাইন তৈরী করে ফেলেছেন যেখানে মূল্যহীন হয়ে গেছে আগের ৪টা মুভির গল্প। মূলত বাজে গল্প, বাজে স্ক্রিপ্ট, বাজে ডিরেকশন, বাজে অভিনয় ও বাজে অ্যাকশন, সব মিলিয়ে এই মুভি নিয়ে কথা বলতে গেলে খুব কম বলা হয়ে যাবে। আর দর্শকদেরও তো ধৈর্য্যের একটা ব্যাপার আছে যার কারণে গত ২টি মুভি বিলিয়ন ডলার আয় করার পর এবারের ২১৭ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভিটি উত্তর আমেরিকায় মাত্র ১৩০ মিলিয়ন আয় করে পুরাই ডুব খেয়েছে এবং সারা বিশ্বে আয় করেছে মাত্র ৬০৫ মিলিয়ন যা সিরিজের সর্ব নিম্ন আয়। এছাড়াও এবারের পর্বটি সিরিজের সব থেকে বাজে রেটিং পাওয়া মুভি। এ বছরের ‘র‍্যাজি অ্যাওয়ার্ড’ এও নিঃসন্দেহে বরাবরের মতই বড় একটি স্থান দখল করে রাখবে এই মুভিটি। এত কিছুর পরেও নির্মাতাদের হুশ হয়নি কারণ ২০১৮ সালে আসছে ‘বাম্বলবি’ কে নিয়ে আলাদা স্পিন অফ মুভি তবে আশার কথা হচ্ছে এই প্রথম পরিচালনায় নেই ‘মাইকেল বে’ আর ২০১৯ সালে মুক্তি পাবে সিরিজের ৬ষ্ঠ মুভি যেখানে দেখা যাবে না ‘মাইকেল বে’ ও ‘মার্ক ওয়েলবার্গ’ দুজনকেই।

 

 

 

 

 

 

Pirates of the Caribbean: Dead Men Tell No Tales

 

 

লিস্টে এই মুভিটির নাম দেখে অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন। অবাক হবার কিছুই নেই, এটাই সত্যি। ২০১১ সালে রিলিজ পাওয়া ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ সিরিজের ৪র্থ মুভিটিকে ধরা হয় ইতিহাসের সব থেকে বিগ বাজেটের মুভি (৩৭৯ মিলিয়ন)। সেই মুভিটিই বক্স অফিস থেকে আয় করেছিল বিলিয়ন ডলার। তার ৬ বছর পর এ বছরে মুক্তি পেয়েছে সিরিজের ৫ম মুভি ‘ডেড মেন টেল নো টেলস’। পরিচালনার দায়িত্বে দুজন নরওয়ের নতুন পরিচালক ‘জোয়াচিম রোনিং’ এবং ‘এসপেন স্যান্ডবার্গ’ যাদের ঝুলিতে আছে মাত্র একটি নরওয়ের সফল মুভি ‘কোন টিকি’ যা ২০১২ সালে ‘অস্কার’ নমিনেশন পেয়েছিল বেস্ট ফরেন ফিল্ম ক্যাটাগরিতে। এই নতুন অপরিপক্ক দুজন পরিচালককে এই বিখ্যাত সিরিজের দ্বায়িত্বে দেয়ার কারণে ফলাফল যা হয়েছে, তারা মুভিতে ‘অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস’ এর থেকেও দুর্দান্ত একটি গল্প সাজিয়েছে, অ্যাকশন দৃশ্য গুলো দারুণ ভাবে পরিচালনা করেছে, অন্যান্য নতুন ক্যারেক্টার গুলোকেও দারুণ ভাবে ডেভেলপ করেছে এমনকি ‘হাভিয়ের বারদেম’ এর থেকে রক্তহীম করা অভিনয় বের করে নিয়েছে কিন্তু সব থেকে বড় যে বাঁশটা তারা দিয়েছে, তা হলো ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’ চরিত্রটিকে অত্যান্ত নিম্ন ও বাজে ভাবে পর্দায় প্রেজেন্ট করিয়েছে। আগের ৪টি মুভির ধুর্ত, সাহসী, উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন, হিউমারাস ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’কে এখানে গ্যালিলিওর দুরবিন দিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না বরং পাওয়া যাবে একজন মাতাল, বোকা, ভিতু, জোকার আর গে টাইপের ক্যাপ্টেনকে। আসলে এই চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা প্রথম ৩টি পর্বের পরিচালক ‘গোর ভারবনস্কি’ ছাড়া দুনিয়ার আর কেউই ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’কে সঠিক ভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারবে না। একমাত্র ‘গোর’ সাহেবই জানেন এই চরিত্রের সাইকোলজিটা কেমন। যার কারণে ‘রব মার্শাল’ পরিচালিত ‘অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস’ এর ‘জ্যাক স্প্যারো’ও মন ভরাতে পারেনি সেই ভাবে আর ৫ম পর্বতো পুরোটাই আবর্জনা। অবশেষে, দর্শকও তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে যার কারণে ২৩০ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ১৭২ মিলিয়ন আয় করে পুরাই ডুব খেয়েছে। যদিও সারা বিশ্বে মুভিটির আয় মাত্র ৭৯৪ মিলিয়ন কিন্তু পুর্বের পর্বের বিলিয়ন ডলার আয়ের পরে এই আয় মোটেও ‘ওয়াল্ট ডিজনী’র কাছে প্রত্যাশিত সাফল্য নয় এবং এটিই এখন ‘দ্য কার্স অফ দ্য ব্ল্যাক পার্ল’ এর পর সিরিজের সব থেকে কম আয় করা মুভি। অলরেডি সিরিজের নায়ক নায়িকারা চুক্তিবদ্ধ আছে ৬ষ্ঠ মুভিটির জন্য যা ডিরেক্ট করার কথা আছে এ পর্বেরই দুই মাথামোটা পরিচালকদ্বয়ের এবং ভিলেন হিসেবে দেখা যেতে পারে ৩য় পর্বের কুখ্যাত ভিলেন ‘ডেভি জোনস’কে। অবশ্য এবারের পর্বটি বক্স অফিসে ধরা খাওয়ায় প্রডিউসার ‘জেরি ব্রুখেইমার’ বলেছেন তারা ৬ষ্ঠ পর্ব তৈরীর কাজে তখনই হাত দিবেন যদি এই মুভিটির ডিভিডি সেল ভাল ব্যবসা করে…

 

 

 

 

 

 

Blade Runner 2049

 

 

১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রিডলি স্কট’ পরিচালিত ‘ব্লেড রানার’ ছিল সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাল্ট সায়েন্স ফিকশন মুভি। মুভিটি সেই সময় দর্শকদের বোধগম্য হয়নি যার কারণে বিগ বাজেটের এই মুভিটির বক্স অফিসে বিপুল ভরাডুবি ঘটে। এরপর যুগের পর যুগ কাটতে কাটতে মুভিটি মানুষের মনে জায়গা করে নেয় যার কারণে অনেক বছর ধরেই কথা হচ্ছিল এর সিক্যুয়াল নির্মাণের আর অবশেষে এই বছর মুক্তি পায় এই মুভির সিক্যুয়াল ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’। আশা করা হয়েছিল ১৯৮২ সালের দর্শকরা তখন যা বুঝতে পারেনি এখন ২০১৭ সালে দর্শকরা তা বুঝবে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৫০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে দারুণ পজিটিভ রিভিউ পেলেও উত্তর আমেরিকায় মাত্র ৯১ মিলিয়ন আয় করে পুরাই মুখ থুবড়ে পড়ে। মুভির পরিচালক ‘ডেনিস ভিলেনেভ’ বলেছিলেন যদি এই মুভিটি হিট হয় তাহলে তারা ৩য় পর্ব নির্মাণ করবেন কিন্তু এখন বোঝাই যাচ্ছে ৩য় পর্বের আর কোন সম্ভাবনাই নেই।

 

 

 

 

 

 

Justice League

 

 

অবশেষে, বছরের সর্ব শেষ ধরা খাওয়া মুভিটি আর কেউ নয় বরং ‘ডিসি’ ও ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর বিখ্যাত ও বছরের বহুল প্রত্যাশিত মুভি ‘জাস্টিস লিগ’। এই মুভি নিয়ে বেশী কিছুই বলার নেই। সকলেই জানেন ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর চরম মাতব্বরির কঠিন ফল ভুগতে হয়েছে এই মুভিটিকে। ‘জশ হোয়েডন’কে দিয়ে রিশুট করিয়ে দৃশ্য চেঞ্জ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুভি রিলিজ দেবার তাড়াহুড়ায় সুপারম্যানের মুখের সিজি আই অসম্পুর্ণ রাখা, মুভি থেকে ‘জ্যাক স্নাইডার’ এর বিশেষ দৃশ্যগুলো কেটে ফেলা, বেশী শো পাবার লোভে মুভির দৃশ্য কেটে রানটাইম আড়াই ঘন্টা/৩ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টায় নিয়ে আসা এবং সর্বপরি ‘অ্যাকুয়াম্যান’, ‘ফ্ল্যাশ’ ও ‘সাইবোর্গ’ এর কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বা সলো মুভি ছাড়াই ‘মার্ভেল’কে টেক্কা দিতে এত দ্রুত ‘জাস্টিস লিগ’ এর মত একটি বিশাল পরিসরের মুভি তৈরী করা সব মিলিয়ে ‘জাস্টিস লিগ’ এর ভরাডুবির পিছনের ইতিহাস বলে শেষ করা যাবে না। কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজ মুভিটির এই অবস্থা যার কারণে ৩০০ মিলিয়ন বিশাল বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে উত্তর আমেরিকায় মাত্র ২২৬ মিলিয়ন আয় করে পুরাই ডুব খেয়েছে এবং সারা বিশ্বে আয় করেছে মাত্র ৬৫১ মিলিয়ন যা ‘ডিসি সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর সব থেকে কম আয় এমনকি এই মুভি কাটাতে পারেনি ‘ম্যান অফ স্টিল’কেও (৬৬৮ মিলিয়ন)। এবারের ‘র‍্যাজি অ্যাওয়ার্ড’ এ গতবারের ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এর মত এই মুভিকে ‘ট্রান্সফর্মার্স’ এর সাথে হাড্ডা হাড্ডি লড়তে দেখলেও অবাক হব না। এত কিছুর পরেও আমরা আশা করতে পারি যে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর আদৌও কোন হুশ হবে না কারণ যেখানে তারা ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ থেকেই কোন শিক্ষা নিতে পারেনি ও ‘জাস্টিস লিগ’ এর ভরাডুবির পর এখনও প্ল্যান করছে ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ বানানোর সুতরাং আর কিছুই বলার নেই। সময় মত বক্স অফিসই ন্যায্য জবাব দিয়ে দিবে…

 

 

এই ছিল ২০১৭ সালের সকল বিখ্যাত ও কুখ্যাত সিক্যুয়াল ফ্লপ মুভির লিস্ট। গত বছর ২০১৬ সাল ছিল সিক্যুয়াল মুভির জন্য ডিজাস্টার একটি ইয়ার কারণ ঐ বছরে ফ্লপ হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণ ১৩টি সিক্যুয়াল মুভি আর এই বছর সেই রেকর্ডকেও ভেঙ্গে দিয়েছে কারণ এই বছরে ফ্লপ গেছে টোটাল ১৮টি মুভি তাই ২০১৭ বলা যায় সিক্যুয়াল মুভির জন্য বিগেস্ট ডিজাস্টার ইয়ার।

 

 

এবার দেখা যাক, বছরের কোন কোন সিক্যুয়াল মুভিগুলো লাভের মুখ দেখেছে…

ব্লকবাস্টার/সুপারহিটঃ- ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’, ‘স্টার ওয়ার্সঃ দ্য লাস্ট জেডাই’, ‘ডেস্পিকেবল মি থ্রি’, ‘স্পাইডারম্যানঃ হোমকামিং’, ‘থরঃ র‍্যাগনারক’, ‘গার্ডিয়ান্স অফ দ্য গ্যালাক্সী ভলিউম টু’, ‘ওয়ান্ডার উম্যান’, ‘ইট’, ‘লোগান’, ‘জন উইক চ্যাপ্টার টু’, ‘অ্যানাবেল ক্রিয়েশন’, ‘স্পলিট’, ‘জুমানজিঃ ওয়েলকাম টু দ্য জাঙ্গাল’,

 

 

এছাড়াও ‘দ্য লেগো ব্যাটম্যান মুভি’, ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’, ‘জিগ স’, এবং ‘এ ব্যাড মমস ক্রিসমাস’ মুভি গুলো হিট/সুপারহিট হলেও আয়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি তাদের পুর্বের পর্ব গুলোকে।

 

 

প্লাস বিজনেসঃ- ‘কং-স্কাল আইল্যান্ড’, ‘ড্যাডিস হোম টু’, ‘পিচ পারফেক্ট থ্রি’ ও ‘টেয়লার পেরি’স বু টুঃ এ মেডিয়া হ্যালোইন’ মুভি ৪টি তাদের বাজেট রিকোভার করে কিছু লাভের মুখ দেখেছে।

 

 

অ্যাভারেজঃ- ‘রিংস’, ‘কিংসম্যানঃ দ্য গোল্ডেন সার্কেল’, ‘ওয়ার ফর দ্য প্ল্যানেট অফ দ্য এপস’ মুভি ৩টি কোন মতে নিজেদের বাজেট রিকোভার করে অ্যাভারেজ ব্যবসা করেছে।

 

 

যাই হোক, ২০১৮ সালেও কম সিক্যুয়াল মুভি আসছে না। একমাত্র বছর শেষেই দেখা যাবে এর মাঝে কত গুলো মুভি সফলতার মুখ দেখবে আর কত গুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। অবশেষে, ২০১৮ এর হলিউড বক্স অফিস রিপোর্ট নিয়ে দেখা হবে ২০১৯ এ। ততদিনের জন্য বিদায় এবং হ্যাপি মুভি ওয়াচিং… !!!

 

 

বিঃদ্রঃ এখানে এ সকল মুভিগুলোর শুধু মাত্র ডমেস্টিক বক্স অফিস (উত্তর আমেরিকা) এর আয় দেয়া হয়েছে। বহিঃবিশ্বের আয় দেয়া হয়নি, কারণ কোন মুভি হিট না ফ্লপ তা নির্ধারণ করা হয় উত্তর আমেরিকার আয় দেখে। কোন মুভি বহিঃবিশ্বে যতই আয় করুক না কেন, উত্তর আমেরিকায় যদি ফ্লপ হয় তবে প্রোডিউসার/ডিস্ট্রিবিউটরকে বিপুল পরিমাণে লোকসান গুণতে হয় এবং সেই মুভিকে তখন ফ্লপ হিসেবে বক্স অফিস ভারডিক্ট দেয়া হয়। মেকাররা কোন মুভির সিক্যুয়াল নির্মাণ করবে কিনা সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভর করে এই ডমেস্টিক বক্স অফিস আয়ের উপরেই।

 

 

তথ্যসুত্রেঃ http://www.boxofficemojo.com/

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন