‘The Fate of The Furious’ (2017) Family Never Breaks… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

8_The-Fate-of-the-Furious

 

 

 

সারা বিশ্বের কোটি কোটি অ্যাকশন প্রেমীদের কাছে ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ একটি বহুল জনপ্রিয় ও পছন্দের সিরিজের নাম। ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ হলিউডের একমাত্র স্টাবলিশড অ্যাকশন সিরিজ যেখানে নানান রকম গাড়ির ধুন্ধুমার ও নজরকাঁড়া অ্যাকশন দেখতে পাওয়া যায়। তবে এই সিরিজটি শুধু মাত্র গাড়ির রেসিং বা ভাংচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এই সিরিজটি হচ্ছে একটি ফ্যামিলিকে নিয়ে যা সেই ২০০১ সাল থেকে আজ ২০১৭, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলে আসছে। এই সিরিজের গল্পের প্রতিটি চরিত্র একে অন্যের সাথে একটি পরিবারের মত করে জড়িয়ে আছে। শুধু চরিত্র গুলোই নয়, চরিত্র গুলোয় রূপদানকারী অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যকার বন্ধনও বাস্তব জীবনে একটি ফ্যামিলিরই মত। রক্তের বন্ধন ছাড়াও যে একটি ফ্যামিলি গড়ে উঠতে পারে এবং সেই ফ্যামিলির একজনের জন্য অপর সবাই নিজের জীবনও দিয়ে দিতে পারে, ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ ফ্যামিলি হচ্ছে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

 

 

Pictures7

 

 

 

এ পর্যন্ত ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের ৮টি মুভি মুক্তি পেয়েছে এবং এই একেকটি পর্বে যোগ দিয়েছে একেকটি নতুন চরিত্র এবং এভাবে ফ্যামিলির সদস্যও আস্তে আস্তে বেড়েছে আবার এই ফ্যামিলির কিছু সদস্য হারিয়েও গেছে চির বিদায় জানিয়ে। যেমন ‘ফাস্ট ফাইভ’ মুভিতে ফ্যামিলি হারিয়েছে ‘ভিন্স’কে, ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিক্স’ মুভিতে ‘হান’ ও ‘গিজেল’কে এবং সর্বোপরি ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভিতে সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র এবং ফ্যামিলির সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ সদস্য ‘ব্রায়ান ও কনার’ এবং ‘মিয়া’কে। ‘ব্রায়ান’ চরিত্রে রূপদানকারী ‘পল ওয়াকার’ বাস্তবেই ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ ফ্যামিলি ছেড়ে কোটি কোটি ভক্তদের কাঁদিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে যার কারণে এই ফ্যামিলি তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভিতে তার চরিত্রটিকেও অসাধারণ ভাবে বিদায় জানিয়েছে যা সচারচর কোন সিরিজেই এর আগে দেখা যায়নি। ফ্যামিলির প্রতি এই ভালবাসার কারণেই ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজটি শুধু মাত্র অ্যাকশন সিরিজের গন্ডি পেরিয়ে ভক্তদের হৃদয়ের মনিকোঠায় আবগঘন ও ভালবাসার একটি স্থান অর্জন করে নিয়েছে।

 

 

 

fast8-209826

 

 

 

‘ফিউরিয়াস সেভেন’ নির্মাণের আগেই পরিকল্পনা ছিল এই সিরিজের ৮ম পর্ব নির্মাণের। কিন্তু ‘পল ওয়াকার’ এর গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর সিরিজের নতুন পরিচালক ‘জেমস ওয়ান’ খুবই চাপের মুখে পড়ে যায় ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভিটি শেষ করা নিয়ে যার কারণে মুভির কাজ পিছিয়ে যায়, কিছু দৃশ্য ও গল্পের ফিনিশিং নতুন করে লিখতে হয় এবং ‘পল ওয়াকার’ এর ছোট ভাই ‘কেলেব’ ও ‘কোডি’র সহায়তায় সিজিআই এর মাধ্যমে ‘পল ওয়াকার’ এর অসম্পুর্ণ দৃশ্য গুলো শেষ করা হয়। অবশেষে ২০১৫ সালে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুক্তি পায় ও বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙ্গে বিলিয়ন ডলার আয় করে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তরা অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানায় ‘ব্রায়ান ও কনার’ ওরফে ‘পল ওয়াকার’কে। এই মুভিটির পর ‘ভিন ডিজেল’ সিরিজের ৮ম পর্ব সম্পর্কে বলে,

 
“I was trying to keep it close to the vest throughout the release. Paul Walker used to say that [an eighth film] was guaranteed. And in some ways, when your brother guarantees something, you sometimes feel like you have to make sure it comes to pass… so if fate has it, then you’ll get this when you hear about it. [Furious 7] was for Paul, [the eighth film] is from Paul.”

 
শুরু হয় ‘ব্রায়ান ও কনার’ চরিত্রটিকে ছাড়াই সিরিজের ৮ম পর্ব ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভির কাজ এবং এই পর্বটি পরিচালনা করেন ‘দ্য ইটালিয়ান জব’, ‘ল অ্যাবাইডিং সিটিজেন’ ও ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ খ্যাত ‘এফ গ্যারি গ্রে’। এ পর্বে বরাবরের মতই ফিরে আসে সিরিজের পুর্বের পর্ব গুলোর কিছু পরিচিত মুখ এবং ফ্যামিলিতে যোগ দেয় আরো নতুন কিছু সদস্য এবং গল্পে যোগ করা হয় এক নতুন মোড় যা ঘুরিয়ে দেয় গোটা ফ্যামিলির ভবিষ্যতকে।

 

 

 

fate-furious-poster-new1

 

 

 

ট্রেলার মুক্তির পর সকলেরই এ মুভির গল্প সম্পর্কে জানা হয়ে গেছে যে ‘ব্রায়ান’ এর অবসরের পর এক নতুন ভিলেন ‘সাইফার’ এর প্ররোচনায় ‘ডমিনিক টরেটো’ তার ফ্যামিলির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে যোগ দেয় ‘সাইফার’ এর টিমের সাথে যার কারণে ‘লুক হবস’কে যেতে হয় জেলে। এদিকে ‘ডম’কে আটকাতে ও ‘সাইফার’কে দমন করতে ফিরে আসে পুর্বের পর্বের ‘মিস্টার নোবডি’ ও তার সিক্রেট অর্গানাইজেশন। ‘মিস্টার নোবডি’ ‘হবস’কে জেল থেকে ছাড়ায় সেই সাথে ছাড়ায় সিরিজের পুর্বের পর্বের ভয়ংকর ভিলেন ‘ডেকার্ড শ’কে কারণ ‘ডেকার্ড’ এর সাথে ‘সাইফার’ এর পুর্ব শত্রুতা আছে যার কারণে ‘ডেকার্ড’ রাজি হয় ‘হবস’ এর টিমের মিলে সাথে কাজ করতে। এভাবেই শত্রু মিত্র দ্বারা গঠিত হয় এক নতুন টিম ‘সাইফার’কে শেষ করে ‘ডমিনিক টরেটো’কে ফ্যামিলিতে ফেরানোর জন্য। এই ছিল ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভির সারাংশ যা সকলেরই জানা কিন্তু এই গল্পের বাহিরেও কিছু গল্প আছে যা আপনারা দেখতে পাবেন গোটা মুভিটি দেখার সময়। ‘ডমিনিক টরেটো’ কিসের প্ররোচনায় পড়ে এক নিমিষে তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলে গেল ? কি ছিল তার রহস্য ? ‘ডেকার্ড শ’ আসলে কে ? কি তার অতীত ? শেষ পর্যন্ত কি সে আসলেই ফ্যামিলির বন্ধু হিসেবে থাকে নাকি পরিণত হয় আগের মতই স্বভাবগত শত্রুতে ? ‘সাইফার’ আসলে কে ? কি তার উদ্দেশ্য ? ‘লুক হবস’ মানুষটা আসলে কেমন ? ‘ডম’ এর ফ্যামিলির প্রতি তার আসলে অনুভূতিটা কি ? সে কি ‘ডম’কে মারতে চায় নাকি সঠিক পথে ফেরাতে চায় ? এমন অনেক না জানা রহস্য লুকিয়ে আছে ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভির গল্পের অভ্যন্তরে।

 

 

 

furiousposter_0

 

 

 

প্রশ্ন হচ্ছে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এর অসাধারণ ফিনিশিং এর পর আদৌও এই পর্বটির কি কোন দরকার ছিল ? এক কথায় চোখ বন্ধ করে বলতে গেলে বলতে হবে, নাহ। কোনই দরকার ছিল না। কিন্তু মুভিটি দেখার পর বলতে হবে, হ্যা। আসলেই দরকার ছিল। কারণ এক কথায় উত্তর, ‘ফ্যামিলি’। এর আগের পর্ব গুলোতে আমরা কিছু চরিত্রদের পেয়েছি যাদের শুধু মাত্র গল্পের প্রয়োজনে বা শুধু লোক দেখানোর জন্য আনা হয়েছিল যেমন ‘ফাস্ট ফাইভ’ এর ‘এলেনা’, ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিক্স’ এর ‘ওয়েন শ’, ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এর ‘ডেকার্ড শ’ এদের আসলে কোন মোটিভ বা স্টোরী ছিল না ঐ মুভি গুলোতে। এ পর্বে এদের স্টোরী গুলোকে ডেভেলপ করা হয়েছে এবং আগের পর্ব গুলোর মত ঝুলিয়ে না রেখে এদের একটি সফল সমাপ্তি টানা হয়েছে। এবারের পর্বটি পুরোটাই ফ্যামিলিকে নিয়ে। এ পর্বে উন্মেচিত করা হয়েছে একেকটি চরিত্রের ফ্যামিলি ও তাদের পারসোনাল গল্পকে যা এর আগে কোন পর্বে কখনো করা হয়নি। এ পর্বে দেখানো হয়েছে ‘লুক হবস’ এর ফ্যামিলি, তার সেই ছোট্ট মেয়ে যাকে আমরা ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এ এক নজর দেখেছি। মেয়েটি এখন অনেক বড় হয়ে গেছে এবং বাবার মতই পুরো ব্যাড অ্যাস স্বভাব পেয়েছে। ‘লুক হবস’কে আমরা এত দিন দেখেছি শুধুই রাফ এন্ড টাফ চরিত্রে কিন্তু সে তার মেয়েকে কতটা ভালবাসে এবং মেয়ের জন্য সে যে কি করতে পারে তার এক ঝলক দর্শক দেখতে পাবে এই মুভিতে। এ পর্বে দেখানো হয়েছে ‘ডেকার্ড শ’ এর ফ্যামিলিকে, তার মা ও তার ভাইকে। ‘ডেকার্ড শ’কে আমরা আগের পর্বে পুরোটাই এক মার্সিলেস ম্যাশিন রূপে দেখেছি কিন্তু মনে রাখতে হবে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এ সে যা করেছে সেটা কিন্তু পুরোটাই সে তার ফ্যামিলি, তার একমাত্র ছোট ভাইয়ের জন্য করেছে এবং তার স্থানে থাকলে যে কেউ এমনটাই করতো। এ পর্বে আমরা দেখবো ‘ডেকার্ড শ’ আসলে অতীতে কেমন মানুষ ছিল এবং সে তার মা ও তার ভাইকে কতটা ভালবাসে ও তাদের জন্য সে আসলে কি করতে পারে। অবশেষে এ পর্বে আমরা দেখতে পাব ‘ডমিনিক টরেটো’র এক অজ্ঞাত অতীতকে যা গত ৩টি পর্বে একদমই দেখানো হয়নি। এ পর্বে আমরা দেখবো ‘ডমিনিক টরেটো’র ফ্যামিলিকে এবং সেই ফ্যামিলিকে বাঁচাতে সে কি করতে পারে তার নমুনা। একটি মানুষের জীবনে পরিবার যে কতটা বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং সেই মানুষকে কিভাবে চেঞ্জ করে দিতে পারে এবং সেই পরিবারকে বাঁচাতে সেই মানুষটি কতটা ভয়ংকর হতে পারে এই নিয়েই ছিল মূলত ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভিটি।

 

 

 

maxresdefault

 

 

 

‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের পুর্বের ৭টি পর্ব ছিল শুধুই অ্যাকশন নির্ভর এবং সেই মুভি গুলোতে সেই অ্যাকশনের পিছনে ছিল শুধু মাত্র কিছু ইশু যেমন হেইস্ট, টেররিস্ট দমন, নিজেদের সদস্যকে বাঁচানো, রিভেঞ্জ ইত্যাদী কিন্তু সেই মুভিতে ছিল না কোন যুতসই গল্প। ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভিটি সিরিজের একমাত্র মুভি যেখানে একটি যুতসই, রোমাঞ্চকর ও থ্রিলিং গল্প দেখানো হয়েছে যা পুর্বের পর্ব গুলোর সকল চরিত্রদের একই সুতোয় গেঁথে নিয়েছে। এবারের পর্বে ছিল না ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভির মত মাত্রাতিরিক্ত ও আউট অফ দ্য লজিক অ্যাকশন। মুভির অ্যাকশন ছিল বেশ পরিমিত পরিমাণে মাত্র ৪টি জায়গায় যা সকলেই ট্রেলারেই দেখেছেন। মুভির শুরুতে একটি ছোট্ট হেইস্ট অ্যাকশন যেখানে ‘ডম’ বিট্রে করে, এরপর ‘হবস’ ও ‘ডেকার্ড’ এর প্রিজন ব্রেক, এরপর রাস্তার মাঝে ‘ডম’কে গোটা টিমের গাড়ি দিয়ে আটকানোর চেষ্টা এবং সর্বোপরি মুভির শেষের ক্ল্যাইম্যাক্সে আইসবার্গে সাবমেরিন লড়াই যা ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এর ক্ল্যাইম্যাক্স এর মত মোটেই মাত্রাতিরিক্ত, দীর্ঘ ও বিরক্তিকর নয়। পরিমিত অ্যাকশন হলেও প্রতিটি অ্যাকশন মোমেন্ট গুলো ছিল শ্বাসরুদ্ধকর ও অসাধারণ। এবারের পর্বে হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট দেখানো হয়েছে বেশী যা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল, দেখানো হয়েছে পুর্বের পর্বের টেকনোলজি ‘গডস আই’ এর আরো বহুল ব্যবহার। তবে ‘সাইফার’ এর টেকনোলজি দ্বারা অটোমেটিক্যালি শহরের সকল গাড়ি কনট্রলের দৃশ্যটির কোন জবাব হবে না আর মুভির শেষে আইসবার্গের নিচ থেকে সাবমেরিনের আবির্ভাব ভেঙ্গে দিয়েছে সিরিজের পুর্বের সকল পর্বের অ্যাকশন আইডিয়াকে। এ পর্বের মূল আকর্ষন গুলোই ছিল মুভির গল্প, গল্প অনুযায়ী একেকটি চরিত্রের সারপ্রাইজিং এন্ট্রি এবং চরিত্র গুলোর ডায়লগ। হিউমার ছিল এবারের পর্বের মূল প্রাণ। প্রতিটি চরিত্রের ডায়লগ ছিল চরম মাপের হিউমেরাস যা দর্শককে চরম রূপে বিনোদিত করবে সেই সাথে অসাধারণ ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক তো আছেই। ‘মার্ভেল’ মুভি গুলোও এতটা হিউমেরাস হয় না যতটা ছিল ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’।

 

 

 

17409744_1392897104063839_562984956_n

 

 

 

‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ মুভি গুলোতে বরাবরই ‘ডমিনিক টরেটো’ চরিত্রে ‘ভিন ডিজেল’ একটু বেশীই গুরুত্ব পায় এমনকি মাঝে মাঝে তার ছায়ায় পড়ে ফিকে হয়ে যায় ‘পল ওয়াকার’ এর ‘ব্রায়ান’ চরিত্রটিও। এবারের পর্বে সেটা আর হয়নি। ‘ভিন ডিজেল’ এবার গোটা মুভি জুড়ে সেই গুরুত্ব বা স্ক্রিন টাইম পায়নি। পরিচালক ‘এফ গ্যারি গ্রে’ সকল চরিত্রের গল্প নিয়েই কাজ করেছেন যার কারণে সকলের ভাগেই পড়েছে প্রায় সমান ও ন্যায্য স্ক্রিন টাইম। ‘মিশেল রড্রিগুজ’, ‘লুডাক্রিস’, ‘নাথালি ইমানুয়েল’, ‘কার্ট রাসেল’ ও ‘এলসা পাটাকি’ তাদের চরিত্র অনুযায়ী কম বেশী সময় পেয়েছে নিজেদের মেলে ধরার এবং তারা সফল। ফাটিয়ে দিয়েছে ‘টাইরিস গিবসন’ ও নতুন সদস্য ‘স্কট ইস্টউড’। ‘টাইরিস’ ছিল এ পর্বের হিউমার কিং। সিরিজের সব থেকে বেশী ও সর্ব শ্রেষ্ঠ হিউমার দিয়েছে সে এই পর্বে বিশেষ করে ক্ল্যাইম্যাক্স আইসবাগে ‘ল্যাম্বরগিনি’ নিয়ে সে যে খেল দেখিয়েছে তা দেখে হাসতে হাসতে আমাদের জান শেষ। তার আর ‘স্কট’ এর হিউমার জুটি ছিল অন্যতম বেস্ট পার্ট এই মুভির। ভিলেন চরিত্রে ‘সাইফার’ রোলে ‘শার্লিজ থেরন’ ছিল অনন্য মাস্টারমাইন্ড। সে কোন অ্যাকশন করেনি, মারামারিও করেনি কিন্তু তার পরেও তার কথা, প্ল্যান ও অভাবনীয় টেকনোলজি দ্বারা গোটা টিমকে পুরাই নাকানি চুবানি খাইয়েছে সে। ‘শার্লিজ’ এর গলার ভয়েজটাই ছিল একদম জাত ভিলেনের মত। ‘ম্যাড ম্যাক্স-ফিউরি রোড’ মুভির পর অ্যাকশন মুভিতে যে তার ডিমান্ড বেশ বেড়ে গেছে তা ভালই বোঝা যাচ্ছে। ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভিতে ‘লুক হবস’ ওরফে ‘ডোয়াইন জনসন’/’রক’ ছিল কিছু সময়ের জন্য কিন্তু এবারের পর্বে সেই ছিল মুভির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। তার প্রিজন ব্রেকের হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট দৃশ্য গুলো ছিল এক কথায় ভয়ংকর আর আইসবার্গে তার হাত দিয়ে টর্পিডোকে ঘুরিয়ে দেবার দৃশ্যটি পুরাই ব্যাড অ্যাস। তবে আমার মতে এবারের পর্বে যে ব্যক্তিটি একাই দর্শকদের কাছ থেকে মনোযোগ, আকর্ষন ও ভালবাসা চুরি করে নিয়ে গেছে সে আর কেউ নয় ‘ডেকার্ড শ’ চরিত্রে ‘জেসন স্ট্যাঠাম’। পুরাই দুর্দান্ত বললেও অনেক কম বলা হয়ে যাবে তাকে। ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এ তাকে এতটা ভাল লাগেনি যতটা এই মুভিতে ভাল লেগেছে বিশেষ করে প্লেনের মধ্যে অ্যাকশন ও একটি ছোট বাচ্চার সাথে তার হিউমারকে আমি বলবো গোটা ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের মধ্যে সর্ব শ্রেষ্ঠ মোমেন্ট। ‘ডোয়াইন জনসন’ এর সাথে তার প্রতিটি কথাই ছিল সিরিয়াস হলেও হিউমারে ভরপুর। ওদের দুজনের জুটিটা ছিল পুরাই মারদাঙ্গা। ‘ডেকার্ড শ’ এর মা ‘ম্য্যগডালিন শ’ চরিত্রে অল্প সময়ের জন্য ‘হেলেন মিরেন’ ছিল একদম রহস্যময়ী, হিউমেরাস, ড্রামাবাজ ও নজরকাঁড়া বিশেষ করে মা ও ছেলের মধ্যকার মোমেন্টটি ছিল দারুন ড্রামাটিক ও মজার। সারপ্রাইজ হিসেবে ফিরে এসেছে ‘ফাস্ট ফাইভ’ মুভির ‘টেগো’ ও ‘রিকো’ চরিত্রে ‘টেগো ক্যালডেরন’ ও ‘ডন ওমর’ তবে এ মুভির সব থেকে বড় সারপ্রাইজ চরিত্র ছিল ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিক্স’ মুভির মূল ভিলেন ‘ওয়েন শ’ চরিত্রে ‘লুক ইভান্স’ এর পুনরাগরম। তার দুর্দান্ত এন্ট্রি দেখে হলের সবাই আমরা দাঁড়িয়ে হাত তালি ও সিটি মেরে পুরাই ফাটিয়ে ফেলেছিলাম।

 

 

 

LONDON, ENGLAND - MAY 07:  Paul Walker attends the World Premiere of 'Fast & Furious 6' at Empire Leicester Square on May 7, 2013 in London, England.  (Photo by Eamonn McCormack/WireImage)

 

 

 

‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভিটি যেমন সিরিজে যোগ করেছে কিছু নতুন চরিত্রকে তেমনি চিরতরে বিদায় জানিয়েছে পুর্বের পর্বের একটি চেনা মুখকেও। ‘টোকিও ড্রিফট’ মুভির ‘শন বসওয়েল’ চরিত্রে অভিনয়কারী ‘লুকাস ব্ল্যাক’ এর এই মুভিতে ফিরে আসার কথা ছিল কিন্তু সে শিডিউল জটিলতায় এই মুভিতে অভিনয় করতে পারেনি। তবে আশা করা যায় সে আগামী পর্বে সে ফিরে আসবে, সেই সাথে ফিরে আসবে ‘সাইফার’ চরিত্রে ‘শার্লিজ থেরন’, ‘মিস্টার নোবডি’ চরিত্রে ‘কার্ট রাসেল’ এবং যদি কপাল ভাল থাকে তবে ‘ডেকার্ড শ’ চরিত্রে ‘জেসন স্ট্যাঠাম’ ও ‘ম্যাগডালিন শ’ চরিত্রে ‘হেলেন মিরেন’। ‘পল ওয়াকার’ এর ‘ব্রায়ান’ চরিত্রটি যে হারিয়ে যায়নি তারও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে এই মুভিতে যা খুবই ভাল লেগেছে সেই সাথে মুভির শেষ দৃশ্যে ‘পল’ এর ‘ব্রায়ান’ চরিত্রের প্রতি যে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে তা দেখে আমরা হলের সবাই দাঁড়িয়ে চিল্লিয়ে হাত তালি দিয়েছি। সত্যিই এর থেকে বেস্ট ট্রিবিউট আর কিছুই হতে পারে না। গোটা মুভির গল্প, ক্যারেক্টার ও এক্সাইটমেন্ট গুলো এমন ভাবে সাজানো যে ‘ব্রায়ান’ চরিত্রটির কোন দরকারই পড়েনি ও তাকে এক মুহুর্তের জন্য মিসও করিনি যা মুভিটির একটি প্লাস পয়েন্ট কিন্তু মুভির শেষ দৃশ্যটি দেখে আবারও মন খারাপ হয়ে গেল যখন মনে পড়লো আমরা কাকে হারিয়েছি। হয়তো এই ট্রিবিউটটির জন্যই দরকার ছিল ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ মুভিটি নির্মাণের আর তার জন্য পরিচালক ‘এফ গ্যারি গ্রে’র প্রতি শ্রদ্ধায় মনটা ভরে উঠলো। ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ এ ‘জেমস ওয়ান’ যেভাবে ‘পল ওয়াকার’ এর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞলী দিয়েছিল তারই পথ ধরে পরিচালক ‘এফ গ্যারি গ্রে’ এবং ‘ভিন ডিজেল’ পুনরায় ‘পল ওয়াকার’কে করেছে সম্মানিত।

 

 

 

C7Y6ekrXwAALIs1

 

 

 

 

যে যাই বলুক আর যার কাছে যেমনই লাগুক, আমার কাছে ‘দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস’ সিরিজের সর্ব শ্রেষ্ঠ মুভি ও গল্প। এই মুভির অরিজিনাল মজা একমাত্র নেয়া সম্ভব হলে বসে সকল ফ্রেন্ডদের নিয়ে এক সাথে মুভিটি দেখলে আর সেই ফ্রেন্ডরা যদি হয় ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের জাত ভক্ত তাহলে তো কোন কথাই নেই। এই মুভিটি বাসায় বসে একা একা ব্লু-রে তে দেখার মুভি নয়। আমরা যে কি পরিমাণ এঞ্জয় করেছি, তালি দিয়েছি, সিটি মেরেছি, মন খুলে হেসেছি এই মুভিটি দেখতে গিয়ে তার কোন হিসাব নেই। আমার লাইফের সর্ব শ্রেষ্ঠ ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ এক্সপেরিয়েন্স ছিল এই মুভিটি যা আমি ‘মার্ভেল’ ও ‘ডিসি’র মুভি দেখেও কখনো পাইনি। অবশেষে ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ ফ্যামিলি কমপ্লিট হলো এই মুভির মাধ্যমে, কিভাবে কমপ্লিট হলো সেটি মুভির শেষ দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন। চাইলে এই মুভির এন্ডিং দিয়েই সিরিজটি সফল ভাবে শেষ করে দেয়া যায় কিন্তু তা হবে না কারণ সিরিজের আরো দুটি পর্ব বের হবে। ৯ম পর্ব ২০১৯ সালে এবং সর্বশেষ ও ১০ম পর্বটি ২০২১ সালে। এর পর শেষ হয়ে যাবে এই ফ্যামিলির গল্প তবে প্ল্যান চলছে ‘ডোয়াইন জনসন’ এর ‘লুক হবস’ চরিত্রটিকে নিয়ে স্পিন অফ মুভি নির্মাণের। এই মুভিটির ট্রেলারে ট্যাগলাইনে লেখা ছিল ‘Family No More’ এবং ‘Family Will Be Broken’, কিন্তু মুভির শেষ দৃশ্যটি প্রমাণ করে দিয়েছে যত যাই হোক না কেন পরিবার কখনো ভাঙ্গনের নয়। পরস্বপরের প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাসই একমাত্র পারে পরিবারকে আবার একত্রে বরাবরের মতই এক টেবিলে নিয়ে আসার। ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ ফ্যামিলি অবশেষে আমাদের শিখিয়েছে ‘Family Never Breaks’… !!!

The Fate of the Furious (2017)
The Fate of the Furious poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: F. Gary Gray
Writer: Chris Morgan, Gary Scott Thompson (based on characters created by)
Stars: Scott Eastwood, Charlize Theron, Dwayne Johnson, Vin Diesel
Runtime: 136 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Crime, Thriller
Released: 14 Apr 2017
Plot: When a mysterious woman seduces Dom into the world of crime and a betrayal of those closest to him, the crew face trials that will test them as never before.

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. দেখে আসলাম আজকে।
    এক কথায় অসাধারন।

  2. Muna Ahmed says:

    Kal k gie 45 minutes line e daray chilam.but ticket pai ni.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন