‘Justice League’ (2017) ট্রেলার রিলিজ, ‘ডিসি এক্সটেনডেড সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’, ফিউচার প্রেডিকশন এবং সম্ভাব্য আশংকা… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

captain-america-civil-war-director-sums-up-the-potential-problem-with-making-a-justice-league-movie-too-quickly

 

 

 

অবশেষে, সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেয়েছে বহুল আকাংক্ষিত মুভি ‘জাস্টিস লিগ’ এর ট্রেলার। ট্রেলার দেখে নিঃসন্দেহে ফ্যানদের খুশির কোন সীমা নেই আবার অনেকের কাছে অনেক কিছু মনেও হতে পারে, সে যাই হোক এবার আসা যাক আসল কথায়। ‘জাস্টিস লিগ’ হচ্ছে ‘ডিসি এক্সটেনডেড ইউনিভার্স’ এর ৫ম মুভি যেখানে ‘ডিসি’র প্রধাণ সুপারহিরোদের এই প্রথম এক সাথে মোলাকাত ঘটানো হয়েছে কোন অরিজিন মুভি ছাড়াই। আমরা ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ থেকেই দেখেছি ‘ডিসি’ প্ল্যান করছে ‘মার্ভেল’ এর সাথে টক্কর দিয়ে খুব দ্রুত ‘জাস্টিস লিগ’কে রূপালী পর্দায় এনে সুপারহিরোর বাজার দখল করতে যার কারণে ‘মার্ভেল’ যেখানে অনেক দীর্ঘ সময় ও প্ল্যান নিয়ে একেকটি অরিজিন মুভি দিয়ে সুপারহিরোদের নিজস্ব ক্যারেক্টার ও স্টোরী ডেভেলপ করেছে সেখানে ‘ডিসি’ অরিজিন মুভি বাদ দিয়ে সরাসরি টিপ-আপ মুভি তৈরী করছে যা সত্যিই একটি রিস্কি প্রজেক্ট। অনেক ফ্যানরাই ‘ডিসি’র সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছে মার্ভেল যেখানে ২০০৮ সালে তাদের ইউনিভার্স শুরু করে অবশেষে ২০১২ সালে ‘দ্য অ্যাভেঞ্জারস’ মুভি দিয়ে বিলিয়ন ডলারের মুখ দেখেছে সেখানে ‘ডিসি’ তাদের প্রথম ৩টি মুভি দিয়েই টোটাল আয় বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। সেই সকল ফ্যানবয়দেরকে আমি বলতে চাই, ‘মার্ভেল’ এর প্রথম বিলিয়ন ডলার মুভিটি ছিল টিম-আপ মুভি যেখানে ৪টি অরিজিন মুভির পরে সকল সুপারহিরোদের এক সাথে করা হয়েছে। আর ‘ডিসি’ শুরুতেই টিম-আপ মুভি বাজারে নামিয়েছে, সুতরাং লজিক অনুযায়ী ‘মার্ভেল’ যেমন ‘দ্য অ্যাভেঞ্জারস’ দিয়ে বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল তেমনি ‘ডিসি’ও ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ দিয়ে ব্লকবাস্টারের স্বাদ পেয়েছে। আর ‘ম্যান অফ স্টিল’ এর আয় কত ছিল সেটা দেখলেই বুঝবেন সলো মুভি আর টিম-আপ মুভির বাজার দরের পার্থক্য। যাই হোক, এত কিছুর বলার কারণ ‘ডিসি’ শুরু থেকেই বিজনেস পলিসীটা বেশ পাকাপোক্ত ভাবে ধরেছে যার কারণে তারা ‘মার্ভেল’ এর মত সলো মুভি না বানিয়ে বেশী টাকা আয়ের জন্য টিম-আপ মুভির তৈরীর দিকেই বেশী মনোযোগ দিয়েছে তবে এই টিম-আপ মুভির সফলতার প্ল্যাটফর্ম কিন্তু ‘মার্ভেল’ই তৈরী করে দিয়েছে তাদের ‘দ্য অ্যাভেঞ্জারস’, ‘অ্যাভেঞ্জারস-এজ অফ আল্ট্রন’ ও ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার’ দিয়ে যার স্বাদ এখন পাচ্ছে ‘ডিসি’।

 

 

 

is-this-darkseid-s-role-in-batman-vs-superman-832749

 

 

 

শুরুতেই টিপ আপ মুভি তৈরী করতে গিয়ে কিছু কিছু সমস্যা এখন ‘ডিসি’কে ফেস করতে হচ্ছে যা হচ্ছে ক্যারেক্টার ও স্টোরী ডেভেলপমেন্ট। ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর আগে ‘ম্যান অফ স্টিল’ দিয়ে ‘সুপারম্যান’কে তো স্টাবলিশ করা হয়েছে কিন্তু শূণ্য থেকে ‘ব্যাটম্যান’ ও ‘ওয়ান্ডার উম্যান’কে কোন অরিজিন ছাড়াই নিয়ে এসে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ তৈরী করা ছিল সত্যিই খুব কঠিন ও রিস্কি কাজ। আমি জানি না, এই আইডিয়াটা কার ছিল তবে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ মুভির গল্প লিখেছিল ‘আর্গো’ খ্যাত ‘ক্রিস টেরিও’ এবং সকলের পরিচিত ‘ডেভিড এস গয়ার’। এই একটি মুভির মধ্যে সংক্ষেপে ‘ব্যাটম্যান’ এর অরিজিনের আভাস দেয়া, ‘ওয়ান্ডার উম্যান’কে পরিচিত করানো, ‘সুপারম্যান’ ও ‘ব্যাটম্যান’ এর মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগানো, ‘লেক্স লুথোর’ ও ‘ডুমস ডে’কে আনা সব মিলিয়ে পরিচালক ‘জ্যাক স্নাইডার’ এর কাধে এক বিশাল বড় বোঝা ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিল এই মুভিটি যার কারণে সে মনের মত করে পারফেক্ট ভাবে এই মুভিটি তৈরী করতে গিয়ে ৪ ঘন্টার ফুটেজ শ্যুট করে এবং ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ সেখান থেকে মাত্র আড়াই ঘন্টা রিলিজ করে যা নিয়ে সমালোচনা ও অসন্তোষের শেষ নেই এবং সবাই পারলে ‘জ্যাক’কে ধুয়ে দেয়। পরে যখন ৩ ঘন্টার আল্টিমেট কাট বের হয় তখন ঠিকই বোঝা যায় ‘জ্যাক স্নাইডার’ কি মাস্টারপিস তৈরী করেছিল। ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর পলিসী হচ্ছে গল্প যাই হোক তারা আড়াই ঘন্টার বেশী সময়ের মুভি থিয়েটারে রিলিজ করে না, এতে শো এর সংখ্যা কমে যায় ও ব্যবসায় ইফেক্ট পড়ে আর ৪ ঘন্টার মুভি রিলিজের তো প্রশ্নই আসে না। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ ও ‘জ্যাক স্নাইডার’ দুজনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঠিক ও নিজ নিজ পলিসীতে বাধা। ‘অনুরাগ কাশ্যপ’ও ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ গোটা মুভি একবারে ৩১৯ মিনিট (সাড়ে ৫ ঘন্টা) শ্যুট করে এবং ২০১২ সালের ‘কানস ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’ ফেস্টিভলে পুরোটা চালায় কিন্তু এই দীর্ঘ মুভি ইন্ডিয়াতে কোন ডিস্ট্রিবিউটরই হলে চালাতে চায়নি যার কারণে এক মুভি ভেঙ্গে দুই খন্ডে রিলিজ করা। একবার ভাবুন তো, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ যদি সিন কেটে এক খন্ডে গোটা মুভি রিলিজ করা হত তাহলে এই মুভির কিছু থাকতো ? ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ও ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ এর মতই একটি মাস্টারপিস হতে পারতো যদি একে দুই খন্ডে রিলিজ করা হত। এই একই ভুল করা হয়েছে ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ মুভির ক্ষেত্রে। এমনিতেও মুভির গল্প ছিল দুর্বল তার উপর ট্রেলারে ‘জোকার’ এর সিন দেখিয়ে দর্শকের হাইপ সৃষ্টি করে তাদের মিসলেড করে সেই ‘জোকার’ এরই সিন কেটে, বাজে এডিটিং করে একটা জগাখিচুড়ী রিলিজ করে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’, যা টিপ-আপ মুভি থিউরীর কারণে ব্লকবাস্টারে পরিণত হয় ঠিকই কিন্তু সমালোচলক ও দর্শকদের হতাশ করে। ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ মুভিতে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া যায় কিন্তু ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ মুভিতে এই হস্তক্ষেপের পিছনে কোনই যুক্তি নেই।

 

 

 

jl-2-223686

 

 

 

এ বছর মুক্তি পাবে ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ এর অরিজিন সলো মুভি ও টিপ-আপ মুভি ‘জাস্টিস লিগ’। ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ মুভিতে এই চরিত্রটির একদম গোঁড়ার গল্প ও অরিজিন দেখানো হবে তাই এই মুভি নিয়ে কোন সংশয়ের অবকাশ নেই যদি না ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এর মত ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ আবারও মাতব্বরি করে কিন্তু ‘জাস্টিস লিগ’ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। ‘জাস্টিস লিগ’ কিন্তু আরো একটি ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ কারণ এই মুভির পটভূমীও বিশাল। এই মুভির আগেই ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ মুভিটি রিলিজ করাটা একটি প্লাস পয়েন্ট (যদিও এই মুভিটি রিলিজ করার দরকার ছিল ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর আগে) এবং এই কারণে দর্শকেরা ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ চরিত্রের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে কারণ তার অরিজিন সকলের জানা হয়ে যাবে কিন্তু কোন ধরণের অরিজিন ছাড়াই ‘ফ্ল্যাশ’, ‘অ্যাকুয়াম্যান’ ও ‘সাইবোর্গ’কে সরাসরি পর্দায় দেখানোটা ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর থেকেও হাজার গুণে রিস্ক ও চ্যালেঞ্জের কাজ। কেউ আবার বলে বসেন না যে ‘ফ্ল্যাশ’ টিভি সিরিজের কারণে এর অরিজিন সকলের জানা। টিভি সিরিজের ক্যারেক্টার ও গল্পের সাথে ‘ডিসি এক্সটেনডেড সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর কোন সম্পর্ক নেই। এই দুই ‘ফ্ল্যাশ’ এর অরিজিন ও গল্প সম্পুর্ণ আলাদা। তবুও যদি ‘ফ্ল্যাশ’কে ছেড়ে দেই তবে ‘অ্যাকুয়াম্যান’ ও ‘সাইবোর্গ’ হচ্ছে সম্পুর্ণ নতুন চরিত্র যাকে অধিকাংশ নন কমিক রিডাররাই চেনে না। ‘অ্যান্ট ম্যান’ ও ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ও অধিকাংশ দর্শকের কাছে অপরিচিত ছিল যার কারণে মার্ভেল এদের সলো মুভি বের করেছে। ‘অ্যাকুয়াম্যান’ এর সলো মুভি আসবে ২০১৮ সালে যা পরিচালনা করবে ‘দ্য কনজুরিং’ সিরিজ ও ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ খ্যাত ‘জেমস ওয়ান’ কিন্তু সেখানে কোন অরিজিন গল্প দেখানো হবে না। ‘জাস্টিস লিগ’ এর পর থেকে শুরু হবে গল্প। পাশাপাশি ‘সাইবোর্গ’ এর সলো মুভি আসবে ২০২০ সালে এবং সেটাও কোন অরিজিন গল্প থাকবে না, যদিও তার আগে ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ সলো মুভিতে ‘সাইবোর্গ’কে পুনরায় দেখা যাবে কিন্তু সেই মুভিও বারবার পরিচালক চেঞ্জের কারণে এখন ঝুলে গেছে ও ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ মুভিতেও ‘ফ্যাশ’ এর কোন অরিজিন গল্প থাকবে না। সব কিছুই শুরু হবে ‘জাস্টিস লিগ’ এর পর থেকে, একমাত্র সৌভাগ্যক্রমে ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ মুভিটিই ফ্ল্যাশ ব্যাক অরিজিন স্টোরী (এটা নিশ্চই ‘ব্যারি অ্যালেন’ এর কাজ, নাইলে ‘ডিসি’তো অরিজিন মুভি নিয়ে কাজ করে না)

 

 

 

justice-league-the-flash-batman-wonder-woman-12956

 

 

 

এই সব কারণে ‘জাস্টিস লিগ’ মুভিটি হয়ে গেছে ‘জ্যাক স্নাইডার’ ও ‘ডিসি’র জন্য একটি সুইসাইড বোম্ব যার পান থেকে চুন খসলেই ফলাফল ঘটবে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এর মত। যেহেতু ‘ফ্ল্যাশ’, ‘অ্যাকুয়াম্যান’ ও ‘সাইবোর্গ’ এর কোন অরিজিন মুভি আসছে না সেহেতু ‘জ্যাক স্নাইডার’ চেষ্টা করবে এই মুভিতেই এই ৩টি চরিত্রের হালকা অরিজিনের আভাস ও তাদের নিজস্ব কিছু পারসোনাল গল্প বলার যেমনটা সে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এ ‘ব্যাটম্যান’ এর অরিজিন দেখিয়েছে এবং এমনটার আভাস ‘জাস্টিস লিগ’ এর ট্রেলারেও পাওয়া গেছে। আমরা ট্রেলারে দেখেছি আন্ডার ওয়াটারে ‘অ্যাকুয়াম্যান’ এর সাম্রাজ্যের কিছু দৃশ্য ও কুইন ‘মীরা’কে যে ভুমিকায় অভিনয় করেছে ‘অ্যাম্বার হার্ড’। এছাড়াও ‘উইলিয়াম ড্যাফো’ কে দেখা যাবে ‘অ্যাকুয়াম্যান’ এর আটলান্টিয়ান অ্যাডভাইজর ‘নুইডিস ভাল্কো’ চরিত্রে। সুতরাং ‘অ্যাকুয়াম্যান’ এর কোন অরিজিন আভাস না থাকলেও তার একটি নিজস্ব গল্প সেখানে থাকবে, এই চরিত্রটি ও তার সাম্রাজ্যের সাথে প্রথম বারের মত দর্শকদের পরিচয় করানোর জন্য। আমরা ট্রেলারে এক ঝলকের জন্য দেখেছি ‘ব্যারি অ্যালেন’ এর বাবা জেলের কয়েদী ‘ডক্টর হেনরি অ্যালেন’কে যে ভূমিকায় অভিনয় করেছে ‘ওয়াচমেন’ মুভির ‘ডক্টর ম্যানহাটান’ খ্যাত ‘বিলি ক্রুডুপ’, এ ছাড়াও ‘ব্যারি’র গার্লফ্রেন্ড ‘আইরিশ ওয়েস্ট’কেও দেখা যাবে এই মুভিতে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ‘ব্যারি অ্যালেন’ ও তার বাবার বেশ ভাল মতই পারসোনাল গল্প থাকবে এই মুভিতে। অতঃপর ‘সাইবোর্গ’/’ভিক্টর স্টোন’, এ মুভিতে দেখা যাবে ‘ভিক্টর স্টোন’ এর বাবা ‘সাইলাস স্টোন’ যে কিনা ‘মাদার বক্স’ দ্বারা নিজের আহত ও মুমূর্ষ সন্তানকে তৈরী করেছে ‘সাইবোর্গ’ এ যার ব্রিফ ফুটেজ আমরা ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ মুভিতে দেখেছি। ট্রেলারের কিছু কিছু দৃশ্যে ‘ভিক্টর স্টোন’কে রক্ত মাংসের মানুষ হিসেবে দেখা গেছে এবং বাকি দৃশ্যে ‘সাইবোর্গ’ রূপে। আমি জানি না কমিক ও অ্যানিমেশনে ‘সাইবোর্গ’কে কোন রূপে দেখা গেছে, সে কি সর্বদাই ‘সাইবোর্গ’ রূপে থাকে নাকি সে মানুষের স্বাভাবিক রূপ ধরতে সক্ষম ? যদি সে সর্বদাই ‘সাইবোর্গ’ রূপে থাকে তবে আমরা আশা করতে পারি যে ‘ভিক্টর স্টোন’ ‘সাইবোর্গ’এ পরিণত হবার আগে তার কিছু অরিজিন গল্প আমরা দেখতে পাব। এ ছাড়াও ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ এর মা ‘কুইন হিপ্পোলিটা’ ও তার আমাজন বাহিনীকে দেখা যাবে ‘প্যারাডেমন’দের সাথে লড়তে, কমিশনার ‘জেমস গর্ডন’কে দেখা যাবে মুভিতে খুবই অল্প সময়ের জন্য, সেই সাথে বরাবরের মত ‘আলফ্রেড’ তো থাকছেই। ফিরে আসছে ‘লুইস লেন’, ‘মার্থা কেন্ট’ এবং সেই সাথে ‘লেক্স লুথোর’ও ফিরে আসছে। খুব সম্ভবত তাকে দেখা যাবে ‘আরখাম অ্যাসাইলাম’এ তবে এ পর্বে ফিরছে না ‘পেরি হোয়াইট’ চরিত্রে ‘লরেন্স ফিসবোর্ন’। এ মুভিতে সিরিজের সব ভয়ংকর ভিলেন ‘ডার্কসেইড’ এর আংকেল ‘স্টিফেনউলফ’ ও তার ‘প্যারাডেমন’ বাহিনী আসছে ‘লেক্স লুথোর’ এর আমন্ত্রনে পৃথিবীতে ৩টি ‘মাদার বক্স’ এর খোঁজে যার একটি আছে ‘থেমিসসিরা’ তে যা হল ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ এর বাসভূমী, আরেকটি আছে ‘অ্যাকুয়াম্যান’ এর আন্ডার ওয়াটার সাম্রাজ্য ‘আটলান্টিস’ এ এবং সর্ব শেষ ‘মাদার বক্স’টি স্বয়ং ‘সাইবোর্গ’ নিজেই কিংবা ‘ভিক্টর স্টোন’ এর বাবা ‘সাইলাস স্টোন’ এর জিম্মায় যার একটু ফুটেজ আমরা ট্রেলারে দেখেছি। ‘স্টিফেনউলফ’ চরিত্রে অভিনয় করছে ‘ঘোস্ট রাইডার-স্পিরিট অফ ভেঞ্জিয়েন্স’ ও ‘গেম অফ থ্রোনস’ খ্যাত ‘সিয়ারান হিন্ডস’ এবং সর্বশেষে ‘সুপারম্যান’ এর পুনরুত্থানের গল্প তো বাদই দিলাম। সব মিলিয়ে ‘জাস্টিস লিগ’ মুভির পটভূমী যা দাঁড়াচ্ছে তাতে আড়াই ঘন্টার মধ্যে গোটা মুভিটি দেখানো সম্ভব হবে কিনা সেটাই এখন মূল সংশয়।

 

 

 

justice_league_main

 

 

 

‘জাস্টিস লিগ’ ট্রেলার নিয়ে আমার নিজের কিছু মতামত তুলে ধরছি। নিঃসন্দেহে ‘ব্যাটম্যান’ হচ্ছে ‘ডিসি’র ‘নিক ফিউরী’, কিন্তু তার কন্ঠে বার বার বলা ‘এনিমি ইজ কামিং’ শুনতে একটু বিরক্তিই লেগেছে। আর আমার মতে ‘জাস্টিস লিগ’ মুভির সব থেকে আকর্ষনীয় পার্ট হবে কিভাবে ‘ব্রুস ওয়েন’ একা ‘আর্থার কারি’ ও ‘ভিক্টর স্টোন’কে ‘জাস্টিস লিগ’ এ অংশ নেবার জন্য কনভিন্স করে, বিশেষ করে ‘আর্থার কারি’কে কারণ তাদের পরস্পর মারদাঙ্গা মোলাকাতটিই এখন পর্যন্ত প্রচুর হাইপ সৃষ্টি করেছে সুতরাং শুধু মাত্র ‘এনিমি ইজ কামিং’ ডায়লগটি যথেষ্ট নয় তাদের কনভিন্স করার জন্য, কারণ ‘অ্যাভেঞ্জারস’ গ্রুপকেও একত্রিত করতে ‘নিক ফিউরী’কে নাকানী চুবানী খেতে হয়েছিল এবং আগে পরস্বপর মারামারি ফাটাফাটি করার পরেই মুভির শেষ দিকে এসে তারা একত্রিত হয়েছিল এখন ‘জাস্টিস লিগ’ কিভাবে গঠিত হয় সেটাই দেখার বিষয় এবং এখানেই প্রমাণ হবে ‘ডিসি’ ‘মার্ভেল’ থেকে কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে আছে। ‘জাস্টিস লিগ’ এর প্রথম ফুটেজ বের হবার পরে অনেকেই সমালোচনা করেছিল ‘ব্যাটম্যান’ এর রসিকতা দেখে। এই ট্রেলারেও ‘ব্যাটম্যান’কে দেখা গেছে ‘ব্যারি’ ও ‘গর্ডন’ এর সাথে রসিকতা করতে। এটি নিয়ে যদি কেউ আপত্তি করে তবে আমি বলবো তার মুভি সম্পর্কে কোন সেন্সই নেই। টিম-আপ মুভির প্রধাণ শর্তই থাকে শক্তিশালী ক্যারেক্টার গুলোর মধ্যকার হিউমার যা দর্শককে ক্যারেক্টারগুলোকে আপন করে নিতে সাহায্য করে বেশী এর সব থেকে বড় উদাহরণ ‘দ্য এক্সপেন্ডেবলস’ সিরিজ। টিম-আপ মুভিতে যদি সকল সুপারহিরোরা নিজেরা নিজেদের ইগো, গাম্ভিয্য দেখিয়ে মুখ গোমড়া করে বসে থাকে তাহলে সেই মুভি দেখে এসেই দর্শকরা বলবে “কি যা তা দেখে আসলাম।” এটাই হচ্ছে মুভি মেকিং পলিসি। ‘ব্যাটম্যান’ এমনই এক ক্যারেক্টার যে রসিকতা করে ঠিকই কিন্তু তার রসিকতা গুলোও থাকে হাইপোথিটিক্যাল। ‘ব্যাটম্যান’ রসিকতা করে বলে তাকে যদি কেউ ‘টনি স্টার্ক’ এর কাতারে নামিয়ে আনে তবে তার থেকে মুর্খ আর কেউ নেই। ট্রেলারে দেখানো দৃশ্যে ‘ব্যাটম্যান’ যখন নিজের সুপারপাওয়ার হিসেবে নিজেকে ধনী বলে দাবী করে এবং ‘গর্ডন’ এর প্রসংশার উত্তরে বলে যে এই সব মেলামেশা গুলো ক্ষণস্থায়ী, এগুলো মূলত রসিকতা নয়, এগুলোই হচ্ছে ‘ব্যাটম্যান’ এর ইগো ও গাম্ভিয্য কারণ ‘He Is Batman’। রসিকতার ছলে সে বুঝিয়ে দিয়েছে যে সে আসলে কি জিনিস ও তার থেকে সুপারপাওয়ারফুল অনেকে থাকলেও তার সাথে তুলনা হবে না কারো। Only He Is The Best. ‘ব্যাটম্যান’ এর হিউমারের অন্তঃনিহিত মেসেজ ধরার সামর্থ্য যদি কারো না থাকে তবে আমি তাকে বলবো ‘পোগো’ চ্যানেল দেখতে। ট্রেলারে আমার কাছে সব থেকে বাজে লেগেছে ‘সাইবোর্গ’কে। নো অফেন্স বাট আমি হতাশ। ‘সাইবোর্গ’ এর চেহারা ও দুর্বল গ্রাফিক্স দেখে আমার কাছে একে ‘রোবোকপ’, ‘আয়রন ম্যান’, ‘টার্মিনেটর’ ও ‘স্টার ওয়ার্স’ এর খিচুড়ী টাইপ কিছু একটা মনে হয়েছে বিশেষ করে ‘সাইবোর্গ’ এর চেহারায় অর্ধেক মানুষ অর্ধেক ম্যাশিনের গ্রাফিক্সটা জঘন্য লেভেলের লেগেছে। পর্দায় যখনই ‘সাইবোর্গ’ এর চেহারার ক্লোজ আপ শর্ট দেখানো হয়েছে আমার মেজাজ গেছে বিগড়ে। এ ছাড়াও ‘ফ্ল্যাশ’ এর স্যুট নিয়েও আমি হতাশ, এখন এটি যদি কমিক থেকে নেয়া হয় তাহলে আর আমার কিছু বলার নেই।

 

 

 

JusticeLeague

 

 

 

‘জাস্টিস লিগ’ এর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় আমার চোখে পড়লো যা হল মুভিটি লাইট টোনে বানানো। ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর মত ডার্ক টোনে নয়। এই বিষয়টা আমি মানতে পারলাম না। আমি ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর ডার্ক টোন চরম এঞ্জয় করেছিলাম এবং আমি মনে করি ‘জাস্টিস লিগ’ মুভিটি গল্পের ও চরিত্রগুলোর ভারিক্যির কারণে আরো বেশী ডার্ক হওয়া উচিত ছিল কিন্তু যা দেখলাম ‘জ্যাক স্নাইডার’ সম্ভবত সমালোচনার তোপে পড়ে এই মুভিটি লাইট টোনে তৈরী করেছে। ‘জ্যাক স্নাইডার’কে আমার বরাবরই জেদী, একরোখা, কনফিডেন্ট ও ঘাড়ত্যাড়া বলে মনে হয় এবং এই কারণেই সে আমার অন্যতম প্রিয় একজন নির্মাতা। সে ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না। সে ‘ম্যান অফ স্টিল’ এ যে ডেস্ট্রাকশন ও ‘সুপারম্যান’ এর হাতে ‘জড’ এর মৃত্যু দেখিয়েছে এবং ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ মুভিতে ব্রুটাল ও কিলার ‘ব্যাটম্যান’কে দেখিয়েছে তা সত্যিই অনেক বড় সাহসীকতার কাজ। সবাই যত যাই বলুক না কেন, আমি বলবো ‘ডিসি’ সঠিক মানুষটির হাতেই আছে। ‘জ্যাক স্নাইডার’ এর ভিশন অনেক শক্তিশালী কিন্তু তার হাতে পুরোপুরি ক্ষমতা নেই, সে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর হাতে বাধা যার কারণে সে তার ভিশনকে ঠিকমত ফুটিয়ে তুলতে পারে না। ‘জ্যাক’ যদি আজ ‘মার্ভেল’এ থাকতো তবে সবাই আজ তাকে মাথায় তুলে রাখতো কারণ ‘মার্ভেল’ তাদের পরিচালকদের সম্পুর্ণ স্বাধীনতা দেয় নিজেদের ভিশনকে ফুটিয়ে তোলার জন্য। আমি ভেবেছিলাম ‘জ্যাক’ সকল সমালোচনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের স্বকিয়তা বজায় রাখবে কিন্তু এখানে সে আমায় হতাশ করলো। ‘ডিসি’র মুভি যদি ‘মার্ভেল’ এর মত লাইট হয়ে যায় তাহলে আর ‘ডিসি’র মুভি দেখার মজা থাকলো কোথায় ? আমার কাছে তো ‘জাস্টিস লিগ’ এর থেকে ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ বেশী ডার্ক লেগেছে। এটা আমার মতে ঠিক হয়নি এখন বাকিরা এটাকে কেমন চোখে দেখবেন সেটা তাদের ব্যাপার। তবে যত যাই হোক, ‘জ্যাক স্নাইডার’ এর উপর আমার পুর্ণ আস্থা আছে এবং থাকবে। আমি জানি সে অরিজিন ছাড়াই এই মুভিটি একটি মাস্টারপিস হিসেবেই রূপান্তরিত করবে যদি না ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ সিন কেটে এটাকে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর থিয়েটার কাট ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ মত আবর্জনা না বানিয়ে দেয়। আমার মূল ভয় এখানেই। আমি নিশ্চিত ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এই মুভির সিন কাটবেই কারণ যে বান্দা ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর ৪ ঘন্টা শ্যুট করতে পারে সে ‘জাস্টিস লিগ’ এর কয় ঘন্টা শ্যুট করবে সেটা ভাবতেই গা শিউরে উঠতে হয় কারণ আগেই বলেছি এই মুভির ক্যারেক্টার বেশী ও পটভূমীও অনেক বড়। সুতরাং শ্যুট করা দৃশ্য থেকে আড়াই ঘন্টা কেটে বের করলে যে কি দাঁড়াবে সেটা ভাবতেই মুভিটি দেখার ইচ্ছা যাচ্ছে পালিয়ে আর ‘ডিসি এক্সটেনডেড সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর নামেই তো ‘এক্সটেনডেড’ কথাটা আছে তাই প্রতিটি মুভির সিন কেটে পরে ‘এক্সটেনডেড’ কাট বের করা যেন এখন ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর প্রথা হয়ে গেছে। আসলেই কি এটা প্রথা হয়ে গেছে কিনা সেটা ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ দেখলেই বোঝা যাবে। যদি ‘ওয়ান্ডার উম্যান’ মুভিতেও থিয়েটার কাট ও এক্সটেনডেড কাট আলাদা হয় তাহলে দর্শকেরা নিশ্চিত থাকুন, ‘জ্যাক স্নাইডার’ যতই মাস্টারপিস বানাক না কেন, ‘জাস্টিস লিগ’কে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ এর হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না… !!!

Justice League (2017)
Justice League poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Zack Snyder
Writer: Chris Terrio (screenplay), Zack Snyder (story by), Chris Terrio (story by), Bob Kane (characters), Bill Finger (characters), Joe Shuster (characters), Jerry Siegel (characters)
Stars: Amy Adams, Jason Momoa, Gal Gadot, Ben Affleck
Runtime: 180 min
Rated: N/A
Genre: Action, Adventure, Fantasy
Released: 17 Nov 2017
Plot: Fueled by his restored faith in humanity and inspired by Superman's selfless act, Bruce Wayne enlists the help of his newfound ally, Diana Prince, to face an even greater enemy.

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন