‘Awarapan’ (2007) ‘এমরান হাশমী’ এর ক্যারিয়ারের সর্ব শ্রেষ্ঠ মুভি (A Tribute To ‘Emraan Hashmi’)… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

still2

 

 

 

সাল ২০০৩, মামা ‘মহেশ ভাট’ এর ‘ভিশেষ ফিল্মস’ এর হাত ধরে ‘ফুটপাথ’ মুভির মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ ‘এমরান হাশমী’ এর। মুভিটি ফ্লপ হলেও পরের বছর আবার ভাট ক্যাম্পের ‘মার্ডার’ দিয়ে প্রথম হিট উপহার দেয় সে। এই মুভির মাধ্যমে বলিউডে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয় যাকে বলে ইরোটিক থ্রিলার অতঃপর ২০০৩ থেকে ২০০৭ এ এসে ‘এমরান হাশমী’ ততদিনে ‘সিরিয়াল কিসার’ নামে নিজেকে বলিউডে খুব ভাল মতই প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তার অভিনয় করা অধিকাংশ মুভিই ছিল ফ্লপ যার মাঝে শুধু মাত্র ‘মার্ডার’, ‘কালযুগ’ ও গ্যাংস্টার’ হয়েছে হিট এবং ‘জেহের’ অ্যাবভ অ্যাভারেজ। তবুও তার ক্যারিশম্যাটিক অভিনয়, এটিচুড, বোল্ড সিন ও বিশেষ করে তার মুভির হিট গান গুলোর জন্য সে অল্প সময়েই সকলের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। ‘এমরান হাশমী’র মুভি হিট হোক বা ফ্লপ, তার মুভির গান সুপারহিট হবেই এটিই ছিল নির্ধারিত। তবে তার এই দীর্ঘ সময়ে তার ক্যারিয়ারে যে ‘সিরিয়াল কিসার’ এর তকমা লেগে গিয়েছিল সেটা থেকে সে সহজে বের হতে পারছিল না।

 

 

 

416413888

 

 

 

২০০৭ সাল, ‘এমরান হাশমী’র ৩টি মুভি মুক্তি পায়। ‘দ্য ট্রেন’, ‘গুড বয় ব্যাড বয়’ এবং সবার শেষে ভাট ক্যাম্পের ‘আওয়ারাপান’। ‘দ্য ট্রেন’ গতানুগতিক ইরোটিক থ্রিলার হলেও, ‘গুড বয় ব্যাড বয়’ এই প্রথম তার ক্যারিয়ারে একটু ভিন্ন ধারা সংযোজন করে কিন্তু এই দুটি মুভি কোনটাই বক্স অফিসে টিকতে পারে না। তবে, ‘আওয়ারাপান’ মুভিটি তার ক্যারিয়ারকে নিয়ে যায় এক অন্য লেভেলে। এই প্রথম দর্শক ও ক্রিটিকরা ‘এমরান হাশমী’কে ‘সিরিয়াল কিসার’ এর বাহিরে আবিষ্কার করে এক নতুন অবতারে যা তারা কোন দিন কল্পনাও করতে পারেনি। ‘আওয়ারাপান’ মুভিটি মূলত বিখ্যাত কোরিয়ান রিভেঞ্জ মুভি ‘এ বিটারসুইট লাইফ’ এর আনক্রেডিটেড রিমেক। এই মুভিটি পরিচালনা করে তখনকার ‘জেহের’, ‘কালযুগ’, ‘ও লামহে’ খ্যাত ‘মোহিত সুরি’। বলিউডের ইতিহাসে রিমেক মুভির সংখ্যা কম নয় বিশেষ করে কোরিয়ান মুভি থেকে। কিছু কিছু মুভি ফ্রেম টু ফ্রেম গল্প ও সিন নিয়ে রিমেক করা আবার কিছু কিছু মুভি কোরিয়ান গল্পটিকেই ভারতীয় পটভূমীতে কনভার্ট করে রিমেক করা হয়েছে কিন্তু এই দিক থেকে ‘আওয়ারাপান’ সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম। এই মুভিটি না বানানো হয়েছে ভারতীয় পটভূমীতে না এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘এ বিটারসুইট লাইফ’ এর ফ্রেম টু ফ্রেম গল্প। পরিচালক ‘মোহিত সুরি’ ‘এ বিটারসুইট লাইফ’ মুভিটির গল্পটিকে ভেঙ্গে সেখানে এক অসাধারণ মোড় সংযোজন করে মূলত ‘এ বিটারসুইট লাইফ’ এর থেকেও একটি মাস্টারপিস তৈরী করেছে। হিন্দু প্রধাণ ইন্ডিয়াতে বলিউডের ইতিহাসে খুব কম মুভিই আছে যা প্রকৃত রূপে ইসলাম ধর্মকে রূপালী পর্দাতে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করেছে। ‘মোহিত সুরি’ এই মুভির গল্পে আজকের পটভূমীতে ইসলামের এক সর্ব শ্রেষ্ঠ মহান শিক্ষাকে তুলে ধরেছে যা আজ থেকে ১৪০০ বছর পুর্বে বর্বর আরবের বুককে আলোকিত করেছিল।

 

 

 

Musical-Awarapan-HD-Wallpapers-1920x1080

 

 

 

প্রতিটি মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীণ। কেউ কারো মুখাপেক্ষী নয়। প্রাচীন আরব সমাজ যাকে আমরা ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ যুগ বলে জানি, তখন নারী, পুরুষ বিশেষ করে নারীদের ভোগের সামগ্রী হিসেবে বাজারে কেনা বেচা করা হত। সমাজে যার গায়ে বল আছে সে দুর্বলকে ধরে বন্দি করে নিজের দাস বানিয়ে নিত ও ইচ্ছা মত বাজারে বিক্রি করতো। এই সকল দাসদের কোন মুক্ত ইচ্ছা বলে কিছু ছিল না। তার মালিকের ইচ্ছাই ছিল তাদের জীবন। অতঃপর আমাদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এসে সর্ব প্রথম আরবের বুকে ইসলামের বানী দ্বারা এই অন্ধকার প্রথাকে উচ্ছেদ করে সকল মানুষকে সমান অধীকার প্রদান করে স্বাধীণ হিসেবে ঘোষনা করলেন। দাসদের করে দিলেন মুক্ত। ইসলাম যে কতটা শান্তির ধর্ম এর থেকে বড় উদাহরণ আর কিছুই হতে পারে না। তার দেখা দেখি তার সাহাবী গণেরাও বর্বর মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থে দাসদের কিনে তাদের মুক্ত করে দিতে থাকলেন। এক সময় এটিই সাহাবীদের মধ্যে একটি প্রথা হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে গেল। এখন আর মহানবী নেই, নেই সেই সাহাবী গণেরাও। ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ যুগও এখন আর নেই। যুগ এখন অনেক উন্নত ও ডিজিটাল হয়ে গেছে। ইসলামের সেই প্রসিদ্ধ দাসমুক্তকরণ প্রথাও এখন আর নেই। থাকবে কিভাবে ? এখন কি আর দাসপ্রথা আছে নাকি ? আছে, এখনো দাসপ্রথা আছে। সময়ের সাথে সাথে আরবের সেই বর্বর দাসপ্রথাও এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে যার নাম হিউম্যান ট্রাফিকিং। পৃথিবীর বুকে বিষাক্ত মাকড়শার জালের মত এই সিন্ডিকেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যাদের হাত থেকে এখনও নারী, শিশু কেউ নিরাপদ নয়। প্রতিদিন, প্রতিটি মুহুর্তে, প্রতিটি দেশে কোন না কোন নারী ও শিশু কিডন্যাপ হচ্ছেই। নারীদের বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল পতিতালয়ে ও শিশুদের হয় শরীর কেটে মুল্যবান অঙ্গ বের করে বিক্রি করা হচ্ছে ব্ল্যাক মার্কেটে নয়তো তাদের বিক্রি করা হচ্ছে মিডল ইস্টে উটের জকি হিসেবে। একবার যে নিরপরাধ মানুষগুলো এই বর্বরদের হাতে পড়ছে, তাদের বাকি জীবনে দেশের মাটিতে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়াটা নিছক স্বপ্ন হয়েই থেকে যাচ্ছে ও তাদেরকে ভোগ করতে হচ্ছে এক অভিশপ্ত জীবন যার থেকে মৃত্যুও অনেক ভাল।

 

 

 

awa8e

 

 

 

‘আওয়ারাপান’ মুভিটি এক গ্যাংস্টার ‘শিভম’ এর গল্প যে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে না। মন্দীর, মসজিদ, গীর্জা থেকে শত হাত দূরে থাকে সে। তার জীবনে আছে এক কষ্টের ইতিহাস যা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। নিজের ভালবাসার মানুষকে হারিয়ে যন্ত্রনার আগুণে দগ্ধ হয়ে পুড়তে থাকা এই মানুষটির জীবনে বেঁচে থাকার কোন স্বপ্ন, আশা ও অবলম্বন নেই। জীবনটা তার কাছে অভিশাপ স্বরুপ। নিজের অভিশপ্ত জীবনের কারাগারে সে নিজেই একজন বন্দি কয়েদী। এই কারাগার থেকে মুক্তি পাবার কোন রাস্তা তার জানা নেই। এক সময় একটি মেয়ে তার জীবনকে বদলে দেয় যে মেয়েটি নিজেই দাসত্বের কঠিন খোলশে আবদ্ধ। মেয়েটিকে দেখে ‘শিভম’ এর তার হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার মানুষটির কথা মনে পড়ে যে তাকে শিখিয়েছিল ইসলামের এক মহান শিক্ষা, দুর্বল ও বন্দিদের অত্যাচারীর হাত থেকে আজাদ করা। জীবনে যে কোন দিন আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তাকে মানেনি, এই প্রথম সে সৃষ্টিকর্তার সেই শিক্ষাকে নিজের মধ্যে ধারণ করে সেই মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয়। যে কষ্টের বন্দি জীবন থেকে সে সারাটি জীবন পালিয়ে বেড়াচ্ছিল অবশেষে সেই কষ্ট থেকে তার মুক্তি মেলে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে অত্যাচার থেকে আজাদ করার থেকে প্রবল শান্তি আর কোথাও নেই। সেই শান্তির খোঁজ অবশেষে সে খুঁজে পায়। তার আত্মা একসময় আজাদ হয়ে যায়। অতঃপর, নাস্তিক থেকে সে পরিণত হয় আস্তিকে। অবশেষে সে বুঝতে পারে পৃথিবীর বুকে যত ধর্মই থাকুক না কেন, সৃষ্টিকর্তাকে যত নামেই ডাকা হোক না কেন, ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান যতই ভিন্ন ভিন্ন হোক না কেন, সকল ধর্মের মূল মন্ত্র এক। সৃষ্টির সেবা ও দুর্বলকে সবলের দাসত্ব থেকে মুক্ত করা। আর যে সৃষ্টিকর্তার কোন বন্দি সৃষ্টিকে আজাদ করবে, সৃষ্টিকর্তাও রহমত বর্ষণ করে তার আত্মাকে কষ্টের কয়েদখানা থেকে আজাদ করে দেবে।

 

 

 

awa2d

 

 

 

‘আওয়ারাপান’ মুভিতে ‘শিভম’ চরিত্রে ‘এমরান হাশমী’র অভিনয়ের ব্যাখ্যা ও প্রসংশা করার মত কোন ভাষা আমার জানা নেই। সে এই মুভিতে যে লেভেলের ডেডিকেশন, এক্সপ্রেশন দিয়েছে ও অভিনয় করেছে তা পুরাই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া। তার বড় বড় চুল, মাসল ফিগার ও ইন্টেন্স লুক সব মিলিয়ে তাকে এই অবতারে দেখা যায়নি কখনো। আর অভিনয় নিয়ে কোন কথা হবে না। ভালবাসার মানুষের লাশ বুকে নিয়ে তার আর্তচিৎকারের দৃশ্যটি যেন আমাদেরই হৃদয়কে চিরে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। ‘তু ফির আও’ গানে কবরস্থানের দৃশ্যটি আমার দেখা বলিউডের ইতিহাসে সব থেকে করুণ ও হৃদয়বিদারক একটি দৃশ্য। ‘এমরান হাশমী’ কোন লেভেলের অভিনেতা সেটা বোঝার জন্য এই একটি দৃশ্যই যথেষ্ট। একমাত্র সেই মানুষটিই এই দৃশ্যকে কষ্ট দিয়ে উপলব্ধী করতে পারবে যে জীবনে একবার হলেও কাউকে প্রকৃত ভালবেসেছে। ‘তেরা মেরা রিশতা’ গানে সৃষ্টিকর্তার সাথে ‘শিভম’ এর যে আত্মীক সংযোগ ঘটানো হয়েছে ও সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার যেভাবে বিশ্বাস তৈরী হয়েছে তা দেখে সত্যিই বিষ্ময়ে অভিভূত হয়ে যেতে হয়। আর মুভির শেষ দৃশ্যে মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তার মুখে এক টুকরো হাসির রেখা ও কবুতরের উড়ে যাবার দৃশ্যটি সত্যিই চোখে পানি এনে দেবার মত একটি মুহুর্ত। মুভিতে ‘শিভম’ এর ভালবাসার মানুষ ‘আলিয়া’ চরিত্রে তামিল/তেলেগু নায়িকা ‘শ্রেয়া সরন’ এর অল্প সময়ের অভিনয় ছিল এক কথায় মায়াবী ও অসাধারণ। এই চরিত্রে তাকে ছাড়া আর কাউকে কল্পনাও করা সম্ভব নয়। সে পুরাই ভুবন ভোলানো অভিনয় করেছে এই মুভিতে। এছাড়াও নতুন নায়িকা ‘মৃনালিনী শর্মা’ তার জায়গায় অনেক ভাল ছিল। ভাল লেগেছে ‘সাদ রানধাবা’কে ‘এমরান’ এর বেস্ট ফ্রেন্ডের দারুণ অভিনয়ের জন্য আর ‘আশুতোষ রানা’কে নিয়ে কোন কথা হবে না। আমার আফসোস, এই মানুষটিকে বলিউড ‘নানা পাটেকর’, ‘অনুপম খের’, ‘নাসিরুদ্দিন শাহ’, ‘ওম পুরী’ এদের মত করে ব্যবহার করতে পারলো না। খুবই আন্ডাররেটেড ও অসাধারণ ট্যালেন্ডেড একজন অভিনেতা সে।

 

 

 

awa1v

 

 

 

‘আওয়ারাপান’ মুভিটির সংগীত পরিচালনা করেছে ‘প্রিতম’ ও এটি বলিউডের ইতিহাসের প্রথম মুভি যেখানে সব গুলো গান গেয়েছে পাকিস্তানী শিল্পীরা। এই মুভিতে গান গেয়েছে পাকিস্তানী ব্যান্ড ‘রোক্সান’ যার ভোকাল হচ্ছে ‘মুস্তফা জাহিদ’। এই মুভির সব গুলো গানই হৃদয় ছোঁয়া ও সুপারহিট। ‘তু ফির আও’ গানটি ভালবাসার মানুষকে হারানোর এক চরম কষ্ট ও যন্ত্রনাকে ফুটিয়ে তুলেছে, ‘তেরা মেরা রিশতা’ গানটি খুবই হাইপোথিটিক্যাল। গানটি শুনলে মনে হয় যেন এটি বলা হচ্ছে ভালবাসার মানুষকে উদ্দেশ্য করে কিন্তু মুভিটি দেখলে বোঝা যাবে এটি মূলত সৃষ্টিকর্তার সাথে বান্দার সরাসরি কথোপকখন যার লিকিরস গুলো খুবই অর্থবহ। ‘মওলা’ গানটি চমৎকার একটি গজল যা মনের মাঝে বুলিয়ে দেয় শান্তির পরশ আর ‘মাহিয়া’ গানটি একটু রকিং ধাঁচের মুড ফ্রেশ করা জন্য পারফেক্ট। সব গুলো গানই বিদেশী গানের ছায়া অবলম্বনে ‘প্রিতম’ নতুন করে রিক্রিয়েট করেছে তবে অবশ্যই অরিজিনাল গান গুলোকে ক্রেডিট প্রদান করে যা সচারচর ‘প্রিতম’ তার অন্য মুভির গানের বেলায় করে না। এ মুভির প্রতিটি দৃশ্যের ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক ছিল চরম দুর্দান্ত, ইমোশোনাল ও ওয়ান অফ দ্য বেস্ট। মুভির অ্যাকশন দৃশ্য গুলোও ছিল বেশ নজরকাড়া ও স্টাইলিশ যার কারণে ‘এমরান হাশমী’কেও এই প্রথম অ্যাকশন হিরো হিসেবে দারুণ মানিয়েছে বিশেষে করে তাকে জ্যান্ত কবর দেবার অ্যাকশন সিনটি ছিল খুবই মারদাঙ্গা টাইপের।

 

 

 

awarapan04_10x7

 

 

 

‘আওয়ারাপান’ মুভিটি বলিউডের ইতিহাসের প্রথম মুভি যা প্রযোজনা করা হয়েছে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান জয়েন্ট প্রোডাকশন মিলে। এখন পাকিস্তানে সচারচর বলিউডের মুভি রিলিজ পায় কিন্তু ২০০৭ সালের দিকে নানান পলিটিক্যাল কারণে ইন্ডিয়ান মুভি পাকিস্তানে রিলিজ হত না। এর আগে ‘সোনি মাহিওয়াল’, ‘মুঘল ই আজম’ ও ‘তাজমহল’ মুভি গুলোয় পাকিস্তানী ফ্লেভার থাকায় সেগুলো পাকিস্তানে মুক্তি পেয়েছিল কিন্তু এর পর আর কোন মুভি পাকিস্তানে মুক্তি পায়নি। অবশেষে, পাকিস্তানের সাথে জয়েন্ট প্রোডাকশন, মুভির গল্পে পাকিস্তানী ফ্লেভার ও ইসলামকে সঠিক ভাবে উপস্থাপনের কারণে ‘আওয়ারাপান’ পাকিস্তানের সেন্সর বোর্ড থেকে অনুমতি পায় ও পাকিস্তানে মুক্তি পায়। ২০০৭ সালের এক দশক আগে ‘রিশি কাপুর’ এর ‘হিনা’ মুভিটির শ্যুটিং পাকিস্তানে হয়েছিল কিন্তু এর পর আর কোন মুভিই পাকিস্তানে শ্যুট হয়নি। ‘আওয়ারাপান’ তখনকার সময়ের প্রথম বলিউড মুভি যার ক্ল্যাইম্যাক্স পাকিস্তানের লাহোরে শ্যুটিং হয়। ‘যোধপুর’, ‘ব্যাংকক’, ‘হংকং’ এ দৃশ্যায়িত মুভির প্রতিটি দৃশ্যে যেখানে নামাজ ও ইসলামী আচার-ব্যবহার দেখানো হয়েছে সেই সব দৃশ্যে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বডি ল্যাংগুয়েজ, ম্যানার যেন ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী পারফেক্ট হয় সেই জন্য সেটে সর্বক্ষণের জন্য একজন মুসলিম স্পেশ্যালিস্টকে হায়ার করে রাখা হয়েছিল যেন কোথাও কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি না ঘটে।

 

 

 

awa7m

 

 

 

মুভিটি রিলিজের আগে ‘রোক্সান’ ব্যান্ডের ভোকাল এবং ‘তু ফির আও’ ও ‘তেরা মেরা রিশতা’ গানের গায়ক পাকিস্তানী সিঙ্গার ‘মুস্তফা জাহিদ’ বলে, “এই মুভিটি সকল মুসলমানদের দেখা উচিত কারণ এখানে মুসলিম কমিউনিটির প্রকৃত রূপটি তুলে ধরা হয়েছে যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর সৃষ্টিকে আজাদ করলে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়”। ‘আওয়ারাপান’ ছিল সেই সময়ে ‘ভিশেষ ফিল্মস’ এর সব থেকে বিগ বাজেটের মুভি। এই মুভির বাজেট ছিল ১৮ কোটি। দুর্ভাগ্যবশত ভাট ক্যাম্পের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ‘আপকা সুরুর’ ও ‘আপনে’ মুভির সাথে একই দিনে এই মুভি রিলিজ দেয়া হয় যার কারণে এই বিশাল ট্রিপল ক্ল্যাশে পড়ে ‘আওয়ারাপান’ বক্স অফিসে ফ্লপ হয়। তবে, পাকিস্তানে ‘আওয়ারাপান’ ৮ কোটি রুপি আয় করে ব্যাপক হিট করে। সময়ের সাথে সাথে ক্রিটিকদের বিপুল পরিমাণ প্রসংশা ও ফ্যানদের ভালবাসায় এই মুভিটি একটি কাল্ট মুভিতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ‘মহেশ ভাট’ নিজেই স্বীকার করেছে ‘আওয়ারাপান’ মুভির ব্যর্থতার পিছনে একমাত্র কারণ ভুল ডেটে মুভিটি রিলিজ করা। তারা এই ভুল থেকে শিক্ষা পেয়েছে ও ভবিষ্যতে এমন ভুল তারা আর কখনো করবে না। ‘মহেশ ভাট’ এটাও বলেছে যে তার কাছে প্রায়ই ভক্তদের অনুরোধ আসে, ‘আওয়ারাপান’ মুভিটি পুনরায় রিলিজ, রিমেক বা এর সিক্যুয়াল নির্মাণের। কিন্তু ‘মহেশ ভাট’ জানায় যে, এই ধরণের কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। ‘এমরান হাশমী’ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালের একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলে, “আওয়ারাপান আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি মুভি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, এই মুভির পরে ৮ বছর পার হয়ে গেছে।”

 

 

 

awa11v

 

 

 

‘আওয়ারাপান’ কোন আহামরি নির্মাণের মুভি নয়। এই মুভিতে নেই কোন চরম রোমান্টিক সিন, নেই কোন ‘এমরান হাশমী’র কিসিং সিন, নেই কোন ধুন্ধুমার বিগ বাজেটের অ্যাকশন সিন, নেই কোন আইটেম সং। খুবই ন্যাচারালি তৈরী এই মুভিটির প্রতিটি দৃশ্যই খুবই অর্থবহ, প্রতিটি ডায়লগই আমাদের ভাবতে বাধ্য করে জীবনের দর্শন সম্পর্কে। ভালবাসা, আস্তিকতা, বন্ধুত্ব, বিসর্জন সব কিছুকেই এক নতুন রূপে চেনানো হয়েছে এই মুভিতে। এ মুভিতে ‘এমরান হাশমী’র এন্ট্রি সিনে খাঁচা থেকে কবুতরকে মুক্ত করে দেবার দৃশ্যটি নিরবে এক কথায় প্রতিকী রূপে আমাদের বুঝিয়ে দেয় ইসলামের সেই মহান শিক্ষাটি। কবুতরকে প্রতিকী রূপে ব্যবহার ছিল এই মুভির গল্পের বেস্ট পার্ট। এই মুভির প্রতিটি গান, গানের কথা আমাদের নিয়ে যায় এক অন্য ভুবনে। ‘শিভম’ চরিত্রের একাকীত্ব, ‘আলিয়া’ চরিত্রের পবিত্রতা, ‘রিমা’ চরিত্রের অসহায়ত্ব, ‘কবির’ চরিত্রের বন্ধুর জন্য বিসর্জন ও ‘মালিক’ চরিত্রের নিষ্ঠুরতা আমাদেরকে আমাদেরই সমাজ ও আশে পাশের মানুষ গুলোর অভ্যন্তরীণ ভাল-মন্দ সম্পর্কে উপলব্ধী করতে শেখায়। ‘আওয়ারাপান’ আমার দেখা বলিউডের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রিমেক মুভি যার সকল ক্রেডিট শুধু মাত্র প্রাপ্য ট্যালেন্ডেড ‘মোহিত সুরি’র। আফসোস, এত অসাধারণ গল্পের মুভি যখন ভারতীয় দর্শক নেয় না। এই মুভি যদি এখন রিলিজ হত তাহলে নিঃসন্দেহে সুপারহিট হত আর যদি ‘মাই নেম ইজ খান’ এর মত এই মুভিতে ‘শাহরুখ খান’ থাকতো তাহলে এটি ‘শাহরুখ’ এর লাইফে একটি সোনার মুকুটে পরিণত হত কারণ ‘মাই নেম ইজ খান’ এর মত এই মুভিতেও ইসলামকে যথাযত ভাবে দেখানো হয়েছে।

 

 

 

awarapan-hd-wallpapers-7

 

 

 

পারসোনালি আমার মোস্ট ফেবারিট অভিনেতা ৩ জন। প্রথমত ‘অজয় দেবগন’, দ্বিতীয়ত ‘এমরান হাশমী’ ও তৃতীয়ত ‘জন আব্রাহাম’। ‘খান’, ‘কাপুর’, ‘কুমার’ও আমার প্রিয় কিন্তু আমি তাদের জন্য পাগল নই। সেই কারণেই হয়তো ‘আওয়ারাপান’ আমার এ পর্যন্ত দেখা সিনেমা ইতিহাসে সর্ব শ্রেষ্ঠ প্রিয় মুভি এবং আমি এটা গর্বের সাথে সবার সামনে বলতে পারি কারণ মুভিটি আসলেই সব দিক থেকে সেরা। আমি যত বার এই মুভি দেখি, আমার স্বাদ মেটে না। ‘এমরান হাশমী’কে দেখে আমি প্রতিবারই মুগ্ধ হই। ‘শিভম’কে যেন আমি আমার নিজের মাঝেই বার বার খুঁজে পাই। ‘শিভম’ এর বলা কথা গুলো সর্বদা আমার হৃদয়ের মাঝে বাজতে থাকে বিশেষ করে এই কথাটি যা আমাকে সর্বদা বেঁচে থাকতে প্রেরণা দেয়…

 

 

“ইস ভূতকা নাম তানহাই হ্যায়। কাভি ম্যা ভি আপকি তারহা তানহাই সে ভাগা কারতা থা, ডারা কারতা থা। ফির এক দিন ম্যা উস তানহাই সে দোস্তি কারলি, অর সাব ঠিক হো গ্যায়া।”

 

 

আর যে ডায়লগটি ‘আওয়ারাপান’কে বলিউডের সকল মুভি থেকে এক অনন্য অবস্থানে পৌছে দিয়েছে, যার জন্য ‘আওয়ারাপান’ আমার সব থেকে প্রিয় মুভি…

 

 

“এক আওয়াজ হ্যায়, জো মেরে কান মে গুঞ্জতি রেহতি হ্যায়। এক চেহারা হ্যায়, জো মেরে আখো কে সামনে বার বার আ যাতা হ্যা। মেরে দিল কা সুকুন থি ভো। উসিনে কাহা থা পাঞ্চিকো আজাদ কারো, আল্লাহ কি রেহমত হোগি। আল্লাহ কি মাখলু কো আজাদ করো। উসনে কাহা থা, এক মাজলুম কো আজাদ কারনে কা মাতলাব হ্যায় সারি ইনসানিয়াত কো আজাদ কারনা। আজ মওকা মিলা হ্যায় উসকি বাত পার আমল কারনে কা। আর ম্যা ওহি কাররাহা হু।”

 

 

“মালিক সাব, জিনকি আপনে সাপনে পুরে নেহি হোতে হ্যায় না, ও দুসরো কি সাপনে পুরে কারতে হ্যায়”… !!!

 

 

‘এমরান হাশমী’র লাইফে এর পর আরো অনেক ভাল পারফরমেন্স ও মুভি এসেছে এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও আরো অনেক আসবে কিন্তু ‘আওয়ারাপান’ সর্বদাই বিবেচিত হবে তার লাইফের শ্রেষ্ঠ পারফরমেন্স ও শেষ্ঠ মুভি হিসেবে কারণ যে ব্যক্তি ‘এমরান’ এর সব থেকে বড় হেটার, সেও এই মুভি দেখলে ‘এমরান’কে ভালবেসে ফেলতে বাধ্য হবে যার কারণে নিঃসন্দেহে এই একটি মুভির কারণেই ‘এমরান হাশমী’ আমাদের সকলের হৃদয়ে আজীবন প্রিয় ও অম্লান হয়ে থাকবে… !!!

 

 

 

awa9h

Awarapan (2007)
Awarapan poster Rating: 7.2/10 (4,359 votes)
Director: Mohit Suri
Writer: Shagufta Rafique (dialogue & screenplay)
Stars: Salil Acharya, Emraan Hashmi, J. Brandon Hill, Rehan Khan
Runtime: 126 min
Rated: N/A
Genre: Action, Crime, Drama
Released: 29 Jun 2007
Plot: Brought up by a gangster named Bharat Malik, Shivam Pandit lives a faithless and reckless lifestyle, doing the bidding of his mentor - which also includes being a hit-man. Bharat does not ...

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Abu Taher says:

    apnara ajay devgan er drishyam movie niye kisu lekhben plz

  2. যত বারই মুভি টা দেখি না কেন, স্বাদ মেটে না।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন