‘Daredevil’ (2003) একটি ভুল বোঝা সুপারহিরো মুভি… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Daredevil Wallpaper Wallpaper for Daredevil. Daredevil is a ...

 

 

 

২০০৮ সালে ‘মার্ভেল স্টুডিও’ নিজে থেকে তাদের চরিত্র গুলো নিয়ে ‘মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ তৈরীর আগে তাদের কমিকের চরিত্রের রাইট কিনে নিয়ে অনেক স্টুডিও বানিয়েছে অনেক মুভি যেমন ‘ইউনিভার্সাল স্টুডিও’ বানিয়েছে ‘হাল্ক’ (‘হাল্ক’ এর রাইট এখনও তাদের কাছেই), ‘রিজেন্সি এন্টারপ্রাইজ’ বানিয়েছে ‘ডেয়ারডেভিল’ ও ‘ইলেক্ট্রা’, ‘সনি’/’কলম্বিয়া পিকচার্স’ বানিয়েছে ‘স্পাইডারম্যান’ ট্রিলজী, ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডারম্যান’ সিরিজ, ‘দ্য পানিশার’, ‘পানিশার-ওয়ার জোন’, ‘ঘোস্ট রাইডার’, ‘ঘোস্ট রাইডার-স্পিরিট অফ ভেঞ্জিয়েন্স’, ‘টুয়েন্টিন্থ সেঞ্চুরী ফক্স’ বানিয়েছে ‘এক্স-মেন’ সিরিজ’, ‘উলভারিন’ সিরিজ, ‘ডেডপুল’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ সিরিজ এবং ‘নিউ লাইন সিনেমা’ বানিয়েছে ‘ব্লেড’ সিরিজ। এই সব মুভি গুলোই যে কমিক ফ্যান, ক্রিটিক ও বক্স অফিসে সমান সাফল্য লাভ করেছে এমনটা কিন্তু নয়। কিছু কিছু মুভি যথেষ্ট দুর্নামও কুড়িয়েছে।

 

 

 

daredevil_ver2_xlg

 

 

 

২০০৩ সালে ‘রিজেন্সি এন্টারপ্রাইজ’ নির্মাণ করে ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি যা মূলত ‘ডেয়ারডেভিল’ চরিত্র ও মুভির নায়ক ‘বেন অ্যাফ্লেক’ এর ক্যারিয়ারে একটি কালো দাগ হয়ে আছে। কিন্তু কেন ? কি ছিল সেই মুভিতে ? আসলেই কি এই মুভি দুর্নামের যোগ্য ? চলুন ঘুরে দেখা যাক…

 

 

‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি শুরু হয়েছে ‘ম্যাট মারডক’ এর অরিজিন গল্প নিয়ে। ‘হেলস কিচেন’ নামক শহরে বাসরত ‘ম্যাট মারডক’ এর সাথে ছোট বেলায় এক কেমিক্যাল ফ্যাক্টরীতে একটি দুর্ঘটনা ঘটে ও তখন কিছু টক্সিক কেমিক্যাল তার চোখে এসে পড়ায় সে সারা জীবনের জন্য অন্ধ হয়ে যায় কিন্তু অতিপ্রাকৃতভাবে খুলে যায় তার সিক্স সেন্স। সে সব বুঝতে পারে, শুনতে পারে, অনুভব করতে পারে। মা হারানো ‘ম্যাট’ এর বক্সার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে অনেক বড় উকিল হবে ও সমাজের মানুষের সেবা করবে কিন্তু একদিন ছেলের সামনে নিজের আদর্শকে ধরে রাখতে গিয়ে বক্সিং ম্যাচ ফিক্সিং এ রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মম ভাবে মেরে ফেলা হয়। ছোট্ট ‘ম্যাট’ রাস্তার পাশে পড়ে থাকা তার বাবার লাশের পাশে বসে কাঁদতে থাকে কিন্তু অন্ধ ‘ম্যাট’ এর তখন কিছুই করার থাকে না। অতঃপর বাবার স্বপ্ন পূরণ করে একদিন সে ঠিকই উকিলে পরিণত হয় কিন্তু সেই সাথে তার মাঝে জেগে ওঠে আরো একটি স্বত্তা যার নাম ‘ডেয়ারডেভিল’। যে সকল অপরাধীরা দিনের বেলা আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আদালত থেকে নির্দোষ হয়ে ছাড়া পেয়ে সমাজের বুকে ফিরে আসে, তাদেরকেই সে রাতের বেলা পৌছে দেয় তার নিজের ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায়। ‘ম্যাট’ ও তার বেস্ট ফ্রেন্ড ‘ফগি নেলসন’ মিলে ‘নেলসন এন্ড মারডক’ নামক একটি লিগ্যাল এজেন্সী চালায়। ‘ফগি’ ‘ম্যাট’ এর শক্তিশালী সিক্স সেন্স এর ব্যাপারে জানে কিন্তু তার ‘ডেয়ারডেভিল’ সত্ত্বার ব্যাপারে সে অজ্ঞাত। সম্পুর্ণ একাকী জীবনযাপন করা ‘ম্যাট মারডক’ কখনো তার জীবনে কাউকে জড়াতে চায় না, তার সাথে কোন মেয়ের রিলেশন দীর্ঘদিন টেকে না। তার বাবার মৃত্যু ও তার এই অভিশপ্ত জীবন সর্বদা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। প্রতি রাতে সে ‘ডেয়ারডেভিল’ সেজে অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে রক্তাক্ত, ক্ষত বিক্ষত ও ক্লান্ত অবস্থায় ঘরে ফিরে। প্রায়ই সে চার্চে গিয়ে বসে থাকে নিজের মনের শান্তির জন্য, সে চায় সব কিছু কনফেস করতে কিন্তু সেই মনোবল তার হয় না। এমনই এক সময় তার জীবনে প্রথম ভালবাসার মানুষের আগমণ ঘটে যার নাম ‘ইলেক্ট্রা’ আর শহরে দেখা দেয় ‘কিংপিন’ ও ‘বুলস আই’ নামক দুই মাস্টারমাইন্ড অপরাধীর চক্রান্ত। এক দিকে নিজের ভালবাসার মানুষকে রক্ষা ও অপরদিকে শহরকে বাঁচানো সব মিলিয়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুক্ষীণ হয় সে।

 

 

 

daredevil-2003-13-g

 

 

 

আমরা ‘মার্ভেল’ এর ২ সিজনের ‘ডেয়ারডেভিল’ টিভি সিরিজ দেখেছি যেখানে অনেক সময় ও যত্ন নিয়ে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ও স্টোরী টেলিং দেখানো হয়েছে কিন্তু ঐ ২ সিজনকেই সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে এই এক ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিতে। মুভির গল্পটি ছিল এক কথায় দারুণ ও টান টান উত্তেজনার যা ‘ডেয়ারডেভিল’ টিভি সিরিজের কোন একটি এপিসোডের থেকে কোন অংশে কম নয়। মুভির শুরুর দৃশ্যটিই ছিল পুরোপুরি আনপ্রেডিক্টেবল, দুর্দান্ত ও আমার দেখা অন্যতম সেরা সুপারহিরো স্টার্টিং সিন। গোটা মুভিটি বানানো হয়েছে একটি ডার্ক টোনে, পাশাপাশি ‘হেলস কিচেন’ শহরের সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিল খুবই নজরকাড়া। কিছু কিছু দৃশ্য ছিল খুবই মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত বিশেষ করে ‘ম্যাট’ ও ‘ইলেক্ট্রা’ যখন বৃষ্টির মধ্যে একটি বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে থাকে ও বৃষ্টির ফোটায় ‘ম্যাট’ প্রথমবারের মত ‘ইলেক্ট্রা’কে দেখতে পায় ও তাকে স্পর্শ করে সেই মুহুর্তটি আমার দেখা সুপারহিরো মুভির শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক সিন। ‘ম্যাট’ ও ‘ইলেক্ট্রা’র পরস্পর প্রথম দেখা হবার সিনটাও ছিল চরম দুর্দান্ত ও মারদাঙ্গা টাইপের। এই মুভিতে তাদের দুজনের পর্দা রসায়নই ছিল অসাধারণ যেন তারা জন্মেছেই একে অন্যের জন্য। মুভির অ্যাকশন দৃশ্য গুলো ছিল মারাত্বক, বিশেষ করে ‘ম্যাট’ ভার্সেস ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘ম্যাট’ ভার্সেস ‘বুলস আই’ এই দুই অ্যাকশন কোন অংশেই টিভি সিরিজটি থেকে কম ছিল না। টিভি সিরিজের মতই বাড়ির ছাদ জুড়ে দারুণ সব লাফ-ঝাপের সিন আছে এই মুভিতে। মুভির শেষে ‘কিংপিন’ ও ‘ডেয়ারডেভিল’ এর মধ্যে অ্যাকশন সিন গুলো ছিল সিমপ্লি দ্য বেস্ট। আর মুভির গল্পটির যেভাবে ফিনিশিং টানা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রসংশনীয়, বিশেষ করে ‘বুলস আই’ এর শেষ দৃশ্যটি ছিল বেশ চমকপ্রদ ও এন্টারটেইনিং।

 

 

 

2002_daredevil_wallpaper_002

 

 

 

Michael Clarke Duncan 2

 

 

 

3810_1.7

 

 

 

এবার আসা যাক অভিনয়ের ব্যাপারে। ‘ইলেক্ট্রা’ চরিত্রে ‘বেন অ্যাফ্লেক’ এর বউ ‘জেনিফার গার্নার’ ছিল একেবারে যাকে বলে খাপে খাপ পারফেক্ট মাপ। এমনকি তাকে টিভি সিরিজের ‘ইলেক্ট্রা’ ‘ইলোডি ইয়ং’ এর থেকেও অনেক ভাল লেগেছে। এই চরিত্রে প্রথম দিকে স্টুডিও এর চয়েজ ছিল ‘পেনেলোপি ক্রুজ’, ‘সালমা হায়েক’, ‘নাটালি পোর্টম্যান’, ‘লুসি লিউ’, ‘জেসিকা অ্যালবা’, ‘কেটি হোমস’, ‘জোলেনা ব্লালক’, ‘মিয়া মায়েস্ট্রো’ ও ‘রোনা মিত্রা’ কিন্তু সবাইকে হটিয়ে এই চরিত্রটি পেয়ে যায় ‘জেনিফার গার্নার’। ‘ফগি নেলসন’ চরিত্রে অভিনয় করেছে ‘আয়রন ম্যান’ ও ‘মোগলী’ এর স্রষ্টা সকলের প্রিয় ‘জন ফেবেরু’। যদিও সে টিভি সিরিজের ‘ফগি’র মত বেশী টাইম পায়নি তবুও কোর্টে ‘ম্যাট’ এর অনুপস্থিতিতে একা নার্ভাস অবস্থায় কেস সামলানো থেকে শুরু করে ‘ম্যাট’কে সকল কাজে হেল্প করা সব মিলিয়ে একজন পারফেক্ট ফ্রেন্ড রূপে পাওয়া গেছে তাকে। ‘ম্যাট’ এর সাথে তার হিউমার গুলোও ছিল টিভি সিরিজের থেকেও দারুণ। ‘জন ফেবেরু’ জাস্ট মন ভরিয়ে দিয়েছে। টিভি সিরিজে আমরা ‘কিংপিন’ চরিত্রে ‘ভিনসেন্ট ডিওনোফ্রিও’ এর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছি সেই হিসেবে এই মুভির ‘কিংপিন’ চরিত্রে ‘দ্য গ্রিন মাইল’ মুভির সেই বিশালদেহী কয়েদী ‘মাইকেল ক্লার্ক ডানকেন’কে তেমন মানায়নি। তাকে জাস্ট সাধারণ একজন মব বস বলে হয়েছে কিন্তু ‘কিংপিন’ ভিলেনের যে ক্যারিশম্যাটিক অভিনয় সেটা তার মধ্যে দেখা যায়নি যা দেখা গিয়েছিল ‘ভিনসেন্ট’ এর মধ্যে। তবে, ভিলেন চরিত্রে একেবারে মন প্রাণ ভরিয়ে দিয়েছে ‘বুলস আই’ চরিত্রে টাক মাথার ‘কলিন ফ্যারেল। কখনো হিউমার, কখনো হিংস্রতা, কখনো পাগলামী সব মিলিয়ে এক দুর্দান্ত প্যাকেজ ছিল এই ‘বুলস আই’। ‘এমরান হাশমী’কে বলা হয় বলিউডের ‘কলিন ফ্যারেল’, কেন বলা হয় সেটা এই মুভি দেখতে গিয়ে বুঝলাম কারণ গোটা মুভিতে আমার মনে হয়েছে আমি ‘কলিন’কে নয় বরং ‘এমরান’কে দেখছি। এছাড়াও টিভি সিরিজের গুরুত্বপুর্ণ চরিত্র ‘বেন ইউরিক’কেও দেখা গেছে শক্তিশালী চরিত্রে ও ‘ক্যারেন পেজ’কে অল্প সময়ের জন্য।

 

 

 

Ben-Affleck-Matt-Murdock

 

 

 

এবার যার কথা না বললেই নয়, সে হচ্ছে ‘বেন অ্যাফ্লেক’। ‘বেন’ এর আগে এই চরিত্র ‘ভিন ডিজেল’, ‘গায় পিয়ার্স’ ও ‘ম্যাট ডেমন’কে অফার করা হয়েছিল কিন্তু তারা সবাই চরিত্রটি ফিরিয়ে দেয়। এমনকি এই চরিত্রে ‘বেন’ এর আগে ‘কলিন ফ্যারেল’কেও ভাবা হয়েছিল। ‘বেন’ এই চরিত্রটি কেন করতে রাজি হয়েছিল তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সে বলে,
“Everybody has that one thing from childhood that they remember and that sticks with them. This story was that for me. I didn’t want someone else to do it, because I was afraid that they would go out and do it different from the comic and screw it up.”
‘ডেয়ারডেভিল’ ছিল ‘বেন’ এর প্রিয় কমিকবুক এবং এই মুভি করার আগে সে ‘ডেয়ারডেভিল’ এর প্রতিটি ইশু পড়ে শেষ করে যেন সে গল্পের সাথে মিশে গিয়ে চরিত্রটিকে সঠিক ভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারে। ‘বেন অ্যাফ্লেক’ হচ্ছে এমনই এক অভিনেতা যে নিজের মাঝে সফল ভাবে সেই সকল সুপারহিরোকে ধারণ করে নিতে পারে যাদের জীবনটা কষ্ট, যন্ত্রণা ও ট্রাজেডীতে ভরপুর সেটা ‘ডেয়ারডেভিল’ হোক আর ‘ব্যাটম্যান’। ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এ আমরা যে ‘ব্যাটম্যান’কে দেখেছি সেটি হচ্ছে মূলত এই ‘ডেয়ারডেভিল’ এরই পরিণত রূপ। ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি দেখতে গিয়ে আমার মনেই হয়নি যে আমি ‘ডেয়ারডেভিল’কে দেখছি। আমার প্রতিটি দৃশ্যে মনে হয়েছে আমি ‘ব্যাটম্যান’কে দেখছি। সেই একই কষ্ট, ট্রাজেডী, একাকীত্বের যন্ত্রণা, রাগ, অ্যাগ্রেসিভ লুক, ভালবাসার মানুষকে হারানো, বারবার ভেঙ্গে পড়ার পর পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো সব মিলিয়ে আমি বলবো ‘বেন অ্যাফ্লেক’ যদি ‘ডেয়ারডেভিল’ না করতো তবে সে কখনোই ‘ব্যাটম্যান’কে এতটা পারফেক্ট রূপে তুলে ধরতে পারতো না। এই মুভির সব থেকে বেস্ট দৃশ্যটিই হচ্ছে ‘ডেয়ারডেভিল’ রূপী ‘বেন’ এর রাতে ঘুমানোর জায়গা ও ঘুমানোর দৃশ্যটি যা আপনাকে মনে করিয়ে দিবে ‘ড্রাকুলা’ চরিত্রটির কথা। এই দৃশ্যতেই ‘বেন’ যে যন্ত্রনাদায়ক অভিনয় করেছে তা আপনাকে উপলব্ধী করতে বাধ্য করবে ‘ডেয়ারডেভিল’ নামক অন্ধ, অভিশপ্ত ও একাকী জীবনের কষ্টকে যা ‘ব্যাটম্যান’ এর জীবনের থেকেও কোন অংশে কম নয়। আমরা টিভি সিরিজের ‘ডেয়ারডেভিল’ চরিত্রে অসাধারণ অভিনেতা ‘চার্লি কক্স’কে দেখেছি, কিন্তু মুভিটি দেখার পর আমার মনে হচ্ছে ‘বেন’ এর থেকে বেস্ট ‘ডেয়ারডেভিল’ আর কেউ হতে পারবে না। একজন অন্ধ ফাইটার আবার পাশাপাশি তুখোড় উকিল এর ভূমিকায় ‘বেন’ ছিল অনন্য। ‘চার্লি কক্স’ তো জুনিয়র ব্যাচ, যে এসেছে ‘বেন’ এর অনেক পরে। সেই হিসেবে অরিজিনাল ‘ডেয়ারডেভিল’ তো হচ্ছে ‘বেন অ্যাফ্লেক’ই। মুভিতে আমরা ‘বেন’ এর ২০০৩ সালের ইয়ং লুক দেখেছি কিন্তু ‘বেন’ যদি এখন পরিণত বয়সে পুনরায় ‘ডেয়ারডেভিল’ চরিত্রে অভিনয় করতো তাহলে ‘ব্যাটম্যান’ এর মতই সে পুনরায় ইতিহাস গড়তে পারতো।

 

 

 

RgZlq

 

 

 

egXed

 

 

 

৭৮ মিলিয়ন বাজেটের ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৩ সালে রিলিজ পায় ও সেই সময়ে ‘হ্যানিবল’ মুভিটির পরে সেকেন্ড বিগেস্ট ফেব্রুয়ারী রিলিজের রেকর্ড ব্রেক করে। মুভিটি ডমেন্টিক বক্স অফিসে (উত্তর আমেরিকা) ১০২ মিলিয়ন ও সারা বিশ্ব মিলিয়ে ১৭৯ মিলিয়ন আয় করে দারুণ হিট হয়। মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পায়। তারা মুভিটির অ্যাকশন, অভিনয়, স্টোরী, সাউন্ডট্রাক এবং ভিজুয়াল স্টাইল ও স্ট্যান্টের ব্যাপক প্রসংশা করে। তবে মুভিটি সমালোচিত হয় গল্পের ড্রামাটিক প্রেজেন্টেশন ও গ্রিক ট্রাজেডীর সাথে সাদৃশ্য থাকায়। মুভিটি ‘পঁচা টমেটো থেকে ৪৪% ফ্রেশ রেটিং ও ‘IMDb’ থেকে ৫.৩ রেটিং পায়। মুভিটি ব্যাবসাসফল হবার পর ‘জেনিফার গার্নার’কে নিয়ে এর সিক্যুয়াল/স্পিন অফ ‘ইলেক্ট্রা’ মুভি মুক্তি পায় ২০০৫ সালে যেখানে ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভির পর ‘ইকেক্ট্রা’ এর কি হলো ও তার অরিজিন আসলে কি ছিল সেটা দেখানো হয়েছে। ‘ইলেক্ট্রা’ মুভিতে ‘ডেয়ারডেভিল’ সিরিজের দুই গুরুত্বপুর্ণ চরিত্র ‘স্টিক’ ও ‘দ্য হ্যান্ড’কে আনা হয়। অতঃপর, ‘জেনিফার গার্নার’ এর অভিনয় প্রসংশীত হলেও দুর্বল গল্প, ডিরেকশন, স্ক্রিন-প্লে ও ভিজুয়াল ইফেক্টের কারণে মুভিটি ক্রিটিক্যালি ও কমার্শিয়ালি চরম ফ্লপ হয়। এই মুভির ফ্লপের কারণে ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভির অন্যান্য সিক্যুয়াল প্ল্যান বাতিল হয়ে যায়।

 

 

 

daredevil_benaffleck

 

 

 

‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি নিয়ে ‘বেন অ্যাফ্লেক’ এর দুঃখ ও আফসোসের সীমা নেই। মূলত ‘ডেয়ারডেভিল’ চরিত্রটিই তাকে ইন্সপায়ার করেছিল ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্রটি করার জন্য। ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ মুভি রিলিজের আগে একটি সাক্ষাৎকারে সে বলেছিল,
“The only movie I actually regret is Daredevil. It just kills me. I love that story, that character, and the fact that it got fucked up the way it did stays with me. Maybe that’s part of the motivation to do Batman.” অতঃপর সে ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্র সম্পর্কে বলেছিল,
“If I thought the result would be another Daredevil, I’d be out there picketing myself. (laughs) Why would I make the movie if I didn’t think it was going to be good and that I can be good in it?”
আশ্চর্য্যের ব্যাপার হচ্ছে যে ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভির কারণে ‘বেন অ্যাফ্লেক’ ২০০৩ সালের সেরা বাজে অভিনেতা হিসেবে ‘র‍্যাজি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এখন আবার মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্র করে ‘বেন’ তার পুর্বের ‘ডেয়ারডেভিল’ এর দুর্নাম ঘুচিয়ে ভক্তদের মন জয় করেছে সেই চরিত্রের জন্যই কিন্তু সে আবার ২০১৬ সালের সেরা বাজে অভিনেতা হিসেবে ‘র‍্যাজি অ্যাওয়ার্ড’এ নমিনেশন পেয়েছে। সুতরাং ‘ডেয়ারডেভিল’ চরিত্রে তার অভিনয় আসলেই কতটা বাজে ছিল সেটা পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ। ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভির একটিই বাজে ব্যাপার ছিল আর তা হচ্ছে মুভিতে ‘ডেয়ারডেভিল’ ও ‘ইলেক্ট্রা’ এর কস্টিউম। তাদেরকে সুপারহিরো কস্টিউমের নামে অত্যান্ত নিম্ন মানের ও হাস্যকর লেদার জ্যাকেট পরানো হয়েছে যা তাদেরকে পরিণত করেছে জোকারে, বিশেষ করে ‘বেন’কে পরানো হয়েছে লাল কালারের মেয়েদের মত টাইট লেদার কস্টিউম ও হাস্যকর মাস্ক যা মূলত আমরা লেডী সুপারহিরোদের পরতে দেখেছি (‘ওয়াচমেন’, ‘ব্ল্যাক উইডো’)। এই একই কস্টিউম সিলেকশনের কারণেই ‘ব্যাটম্যান এন্ড রবিন’ হয়েছিল সমালোচিত। অসাধারণ কস্টিউমের ‘স্পাইডারম্যান’, ‘এক্স-মেন’, ‘ব্লেড’ ও ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ এর সমসাময়িক সময়ে তৈরী ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিতে এই ধরণের বাজে কস্টিউম ও মাস্ক ব্যবহার সত্যিই খুবই নিন্দনীয় যার কারণে ‘বেন অ্যাফ্লেক’কে পরবর্তীতে হতে হয়েছে হাসির পাত্রে।

 

 

 

907365

 

 

 

যাই হোক, ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি ব্যবসায়িক সফলতার পরেও কেন এই মুভিটি নিয়ে এত দুর্নাম সেটা বোঝার জন্য যখন আমি মুভিটি দেখলাম তখন শুধুমাত্র কস্টিউম সমস্যা ছাড়া আমার কাছে এই মুভিতে নেগেটিভ কোন কিছুই মনে হয়নি বরং আমি মুগ্ধই হয়েছি বেশী ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান’ এর পরে ‘বেন অ্যাফ্লেক’ এর ট্রাজিক অভিনয়, মারদাঙ্গা ব্লাইন্ড অ্যাকশন এবং মুভির দুর্দান্ত সিনেম্যাটোগ্রাফী, স্ক্রিন-প্লে ও টান টান উত্তেজনার গল্প দেখে। ‘মার্ভেল’ এর ঐতিহাসিক ‘ডেয়ারডেভিল’ টিভি সিরিজ দেখার পরেও এই মুভি আমাকে মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে কারণ বিস্তারিত গল্পের টিভি সিরিজটি দেখার কারণেই সংক্ষেপ গল্পের এই মুভি ও মুভির চরিত্রগুলির সাথে আমি মিশে যেতে পেরেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি যেন টিভি সিরিজেরই একটি এপিসোড দেখছি। তাই আপনারা যারা টিভি সিরিজটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ও মুভিটির দুর্নাম শুনে নাক কুচকে বসে আছেন, সাহস করে মুভিটি দেখে ফেলুন। আশা করি হতাশ হবেন না, কারণ যতটা খারাপ দুর্নাম ‘ডেয়ারডেভিল’ মুভিটি ও ‘বেন অ্যাফ্লেক’কে দেয়া হয়েছে আসলে ততটা খারাপ তারা নয়… !!!

Daredevil (2003)
Daredevil poster Rating: 5.3/10 (180,401 votes)
Director: Mark Steven Johnson
Writer: Mark Steven Johnson (screenplay)
Stars: Ben Affleck, Jennifer Garner, Colin Farrell, Michael Clarke Duncan
Runtime: 103 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Crime, Drama
Released: 14 Feb 2003
Plot: A man blinded by toxic waste which also enhanced his remaining senses fights crime as an acrobatic martial arts superhero.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন