‘Logan’ (2017) পর্ব ০২ – ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ নির্মিত সুপারহিরো ডেফিনিশন ব্রেকিং এক মাস্টারপিস… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

logan_2017___wallpaper__1920x1080__by_metalbr-dammag0

 

 

 

(প্রথম পর্বের পর থেকে…)

 

 

‘লোগান’ মুভিটি পরিচালনা করেছে পরিচালক ‘জেমস ম্যানগোল্ড’। এই ব্যক্তিটির সুপারহিরো মুভি নির্মাণের ব্যাপারে আলাদা একটি ভিশন আছে যা তার পরিচালিত ২০১৩ সালের ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতেই প্রকাশ পেয়েছিল। ‘এক্স-মেন’ মুভির আগের ৫টি পর্বে ‘উলভারিন’কে একজন শক্তিশালী সুপারহিরো হিসেবে দেখানো হয়েছিল কিন্তু একমাত্র ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতেই ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ ‘উলভারিন’কে নামিয়ে এনেছে একজন সাধারণ মানুষের কাতারে যাকে গুলি করলে দেহে ক্ষত হয় ও যে একজন সাধারণ মানুষের মতই মরণশীল ও মৃত্যুভয়ে কাতর। ‘উলভারিন’কে এই প্রথম আমরা দেখেছি নিজের ভালবাসার মানুষকে হারিয়ে কষ্টে ও যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে নিজেই নিজেকে শাস্তি দিতে ও ভালবাসার মানুষটির স্মৃতি তাকে সর্বদা তাড়িয়ে বেড়াতে। ‘উলভারিন’ এর মধ্যে যে ভালবাসায় ঘেরা একটি কোমল অংশ আছে, ‘উলভারিন’ও যে আর ১০জন সাধারণ মানুষেরই মত সেটা এই প্রথম ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ ঐ মুভিতে তুলে ধরেছে। ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতে ছিল না কোন ‘এক্স-মেন’ সিরিজের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সুপারভিলেন। ‘উলভারিন’কে গোটা মুভিতে লড়তে হয়েছে তার নিজের প্রবৃত্তির সাথে এবং জাপানিজ মাফিয়া গ্যাং অর্থাৎ সাধারণ মানুষের সাথে। ‘এক্স-মেন’ সিরিজের অন্যান্য সকল মুভির ক্যাটাগরি থেকে সম্পুর্ণ আলাদা ‘দ্য উলভারিন’ মুভিটি মূলত ছিল ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর সুপারহিরো ডেফিনিশন ব্রেক করার একটি সফল এক্সপেরিমেন্ট যার পুর্ণাঙ্গ রূপ আমরা দেখতে পেয়েছি ‘লোগান’ মুভিতে।

 

 

 

logan-movie-gallery-37-206335

 

 

 

‘লোগান’ মুভির গল্প আহামরি লেজেন্ডারি টাইপ কিছুই নয়। এই মুভির গল্প আমরা মুভির ট্রেলার দেখেই জেনে গেছি যে সারা জীবন ধরে একাকী কাটানো ‘লোগান’ জীবনে প্রথম একটি ছোট্ট মেয়ের সংস্পর্শে আসবে যে মেয়েটি তার কঠিন হৃদয়কে ভেঙ্গে তাকে পুনরায় ভালবাসতে শিখিয়ে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে, যার স্বাদ সে তার শত বছরের অমর জীবনে কোন দিনও পায়নি আর সেই অধ্যায়টি নাম হচ্ছে ‘ফ্যামিলি’। এই ধরণের থিমের গল্প আমরা হলিউডে ভুরিভুরি দেখেছি ‘ব্যাবিলন এডি’, ‘ম্যান অন ফায়ার’, ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’, ‘ট্রান্সপর্টার টু’, ‘সেফ’, ‘ঘোস্ট রাইডার-স্পিরিট অফ ভেঞ্জিয়েন্স’, ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’ ইত্যাদী অনেক মুভির থিম ছিল এমনই। এটি হচ্ছে সিনেমা জগতের বহুল আলোচিত ও সফল একটি ফর্মুলাটিক গল্প যেখানে কোল্ড হার্টেড মুভির নায়ককে একটি ছোট বাচ্চার সংস্পর্শে আনা হয় সেই নায়কের সারা জীবনের দুরন্ত, দুধর্ষ, বেপরোয়া ও ভরঘুরে লাইফ স্টাইলকে চেঞ্জ করতে। শিশুদের মধ্যে ভালবাসা নামক এক অন্য ধরণের অলৌকিক ক্ষমতা আছে, তারা পৃথিবীর যে কাউকে ভালবাসা দিয়ে আপন করে নিতে পারে এবং তাদের সংস্পর্শে আসলে স্বয়ং শয়তানও নিজের জীবনকে বদলে ফেলতে বাধ্য। এই ধরণের গল্প গুলো দর্শকের মনকে খুব সহজেই ছুঁয়ে যেতে পারে ও দর্শকও বেশ পছন্দ করে এ ধরণের গল্প গুলো। পৃথিবীর এমন কোন ফিল্ম ইন্ড্রাষ্ট্রি নেই যেখানে এই রকম গল্পের একটি সিঙ্গেল মুভি নির্মাণ হয়নি। এমনই একটি পরিচিত, বহুল ব্যবহার হওয়া ফর্মুলাটিক গল্পকে পূঁজি করেই ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ তার শেষ ‘উলভারিন’ মুভিটি তৈরী করেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলবো ‘লোগান’ মুভির গল্প গোটা ‘এক্স-মেন’ সিরিজের সব থেকে দুর্বল গল্প যা পুরোটাই প্রেডিক্টেবল ও যেখানে নতুন করে দেখার কিছুই নেই এবং এমন একটি ফর্মুলাটিক গল্প দিয়ে ‘উলভারিন’ চরিত্রের ইতি টেনে দেয়াটা পরিচালকের আদৌও উচিত হয়নি। ‘উলভারিন’ সিরিজের শেষ মুভি হিসেবে ‘লোগান’ আরো স্ট্রং ও আনপ্রেডিক্টেবল গল্প দাবী করে যার কারণে ‘লোগান’ মুভির ট্রেলার দেখে সকলেই উচ্ছসিত হলেও একমাত্র আমিই হতাশ হয়েছিলাম আবারও সেই একই ফর্মুলাটিক গল্প দেখতে হবে বলে।

 

 

 

james-mangold-logan-interview

 

 

 

এখন আসা যাক মূল কথায়। ‘লোগান’ যদি এতটাই দুর্বল, প্রেডিক্টেবল ও ফর্মুলাটিক গল্পের মুভি হয় তাহলে এটি কিভাবে সুপারহিরো ক্যাটাগরি থেকে এক অনন্য মাত্রায় প্রবেশ করলো? এখানেই পরিচালক ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর কৃতিত্ব। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ মূলত ‘ডেডপুল’ থিউরী অ্যাপ্লাই করেছে তার এই মুভিতে। ‘ডেডপুল’ মুভিতেও কিন্তু গল্প বলতে কিছুই ছিল না কিন্তু অসাধারণ ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট, স্ক্রিনপ্লে, রেটেড R অ্যাকশন এবং সর্বোপরি প্রধাণ মশলা হিসেবে যোগ করা হিউমার ঐ মুভিটিকে নিয়ে গেছে সাফল্যের চূড়ায়। ‘লোগান’ মুভিটিতেও একই থিউরী ব্যবহার করা হয়েছে শুধু মাত্র ‘ডেডপুল’ এর হিউমার এর স্থানে দেয়া হয়েছে চুড়ান্ত মাত্রার ইমোশন। ‘লোগান’ মুভিটি আগাগোড়াই একটি ইমোশোনাল জার্নি যা দর্শককে প্রতিটি দৃশ্যে কষ্টের চুড়ান্ত লেভেল পর্যন্ত নিয়ে যাবে। ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতে ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ ইমোশন নিয়ে খেলার যে এক্সপেরিমেন্ট শুরু করে সফল হয়েছিল সেই এক্সপেরিমেন্টের ফাইনাল ও এক্সট্রিম ডোজ দেয়া হয়েছে ‘লোগান’ মুভিতে সর্বোচ্চ রিস্ক নিয়ে কারণ ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতে ছিল একটি আনপ্রেডিক্টেবল গল্প কিন্তু ‘লোগান’ মুভিতে দেখার মত কোন গল্প না থাকায় ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ মুভির গোটা সময় জুড়ে শুধু মাত্র মুভির ক্যারেক্টার গুলোকে দিয়ে খেলা করে ইমোশন সৃষ্টি করে তার মুভিকে টেনে নিয়ে গেছে এই কারণেই সে এই মুভির নাম রেখেছে ‘লোগান’ যা দ্বারা ‘জেমস হাউলেট’ চরিত্রের ‘ওয়েপন এক্স’ সত্ত্বা ‘উলভারিন’ নয় বরং মানুষ সত্ত্বা ‘লোগান’কে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ যে কত বড় রিস্ক সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমরা ‘ক্রিস্টোফার নোলান’ এর ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজী দেখেছি যেখানে সেও একই ভাবে নির্মাণ, ইমোশন ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দ্বারা সর্ব প্রথম সুপারহিরো মুভির ডেফিনিশন ব্রেক করেছে কিন্তু তার মুভি গুলোতে ছিল একটি স্ট্রং গল্প যা তার মুভির ৭০% টেনে নিয়ে গেছে আর বাকিটা করেছে অভিনেতারা। কিন্তু ‘লোগান’ মুভিটির ১০০% টেনে নিয়ে গেছে মুভির অভিনেতারা ও ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর ভিশন। এই দিক থেকে ‘ক্রিস্টোফার নোলান’ এর থেকে শত গুণে সফল ‘জেমস ম্যানগোল্ড’।

 

 

 

1 2v21fMFSLlso8yMiADvv-g

 

 

 

আমি আমার আগের লেখাতে গল্প নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলাম যে ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভির ফাইনাল স্ক্রিপ্ট থেকে অনেক গুরুত্বপুর্ণ অংশ কেটে বাদ দিয়েছে। কিন্তু কেন সে এই কাজ করলো? এই মুভির সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ দৃশ্য ‘দ্য ওয়েস্টচেস্টার ইন্সিডেন্ট’ যা দেখানোর কথা ছিল মুভির ওপেনিং এ, সেই দৃশ্য বাদ দেবার কারণ ঐ দৃশ্যটি বেশ ফর্মুলাটিক ছিল যা হঠাৎ করে দর্শককে কনফিউজড করে দিয়ে মুভির ক্যারেক্টার গুলো থেকে তাদের মাইন্ড ডাইভার্ট করে দিত যার কারণে সে ঐ দৃশ্য বাদ দিয়েছে ও মুভির মাঝে এক ইমোশোনাল জায়গায় ঐ দৃশ্যের ইনফরমেশন তুলে ধরেছে। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ চেয়েছে তার ‘লোগান’ মুভির ওপেনিং এমন ভাবে শুরু হোক যা ইতিহাসে এ যাবৎকালে কোন সুপারহিরো মুভিতে হয়নি এবং বিলিভ মি, ঐ দৃশ্যটি কাটার ফলে এখন মুভির ওপেনিং যেভাবে আনপ্রেডিক্টেবল ভাবে শুরু হয়েছে ও ওপেনিং এ যে দৃশ্যটি দেখানো হয়েছে তা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারহিরো ওপেনিং হয়ে থাকবে। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভি থেকে ‘ভিক্টর ক্রিড’ এর ক্যারেক্টার বাদ দিয়েছে কারণ সে চায়নি পুর্বের পর্বের কোন পরিচিত চরিত্রকে পুনরায় টেনে এনে দর্শকের মনকে সেই চরিত্রের প্রতি আবিষ্ট করতে তাতে গল্পের টোন ও ইমোশন থেকে দর্শকের মনোযোগ বিঘ্ন ঘটতো এবং সর্বপরি ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভি থেকে সিরিজের অন্যতম সুপারভিলেন ‘নাথানিয়েল এসেক্স’/’মিস্টার সিনিস্টার’ চরিত্রকে বাদ দিয়েছে কারণ সে ‘লোগান’ তৈরী করতে চেয়েছে ‘দ্য উলভারিন’ এর মতই সম্পুর্ণ বাস্তবধর্মী ভাবে যেখানে কোন মিউট্যান্ট ও সুপারন্যাচারাল ও অলৌকিক কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। যার কারণে সে এই মুভিতে ‘মিস্টার সিনিস্টার’ এর বদলে মূল ভিলেন হিসেবে যোগ করেছে এক পাগলা সায়েন্টিস্ট ‘জ্যান্ডার রাইস’ ও তার গুন্ডা বাহিনী ‘দ্য রিভার্স’ এর হেড ‘ডোনাল্ড পিয়ার্স’কে যারা সবাই সাধারণ মানুষ। এই ছিল ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর ভিশন যা বাস্তবায়নে সে সম্পুর্ণ সফল।

 

 

 

Logan-Final-Trailer-Wolverine-with-X-Men-comic-1200x520

 

 

 

এখন হলিউডে ‘নিও-নয়্যার’ জনরাটা বেশ আলোচিত ও সফলতা পাচ্ছে যার একটি বাস্তব উদাহরণ ‘জন উইক’ সিরিজ। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভিতে নিও-নয়্যার ও ওয়েস্টার্ন এর এক অসাধারণ সংমিশ্রন ঘটিয়ে একটি ডার্ক এবং গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড ও টোন সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি অসাধারণ সিনেম্যাটোগ্রাফি এই সংমিশ্রনকে নিয়ে গেছে এক অনন্য মাত্রায়। ‘লোগান’ মুভিটিকে এমন ডার্ক ও গ্রে থিমের বানানোর কারণ ২০১৩ সালে ‘দ্য উলভারিন’ নির্মাণের পর ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ ২ বছর ধরে ‘মার্ভেল’ এর লাইট টোনের মুভি থিমের মধ্যে আটকে থাকার পর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চেয়েছিল যার কারণে সে ‘ক্রিশ্চিয়ান বেল’কে নিয়ে ‘দ্য ডিপ ব্লু গুড’ নামক একটি চরম মাত্রার ডার্ক টোনের ডিটেকটিভ মুভি নির্মাণের প্ল্যান শুরু করে কিন্তু শ্যুটিং শুরু হবার ১৪ দিন আগে ‘ক্রিশ্চিয়ান বেল’ তার হাটুতে ইনজুরড হয় যার কারণে সেই মুভি ক্যানসেল হয়ে যায়। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর মন ভেঙ্গে যায় মুভিটি করতে না পারার কারণে, অবশেষে সে তার ব্রোকেন হার্ট নিয়ে ‘লোগান’ এর কাজ শুরু করে ও সে ‘দ্য ডিপ ব্লু গুড’ মুভিতে যে ডার্ক টোন দিতে চেয়েও পারেনি সেগুলো সে ‘লোগান’ মুভিতে যোগ করে। সম্প্রতি ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভির ব্ল্যাক এন্ড হোয়াট কাটও বের করার চিন্তা ভাবনা করছে। ‘লোগান’ মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক একটু স্লো ও আহামরি তেমন কিছু ছিল না তবে ওপেনিং সিন ও মুভির মাঝে মাঝে কিছু কিছু দৃশ্যে ব্যবহার করা মিউজিক বেশ রিফ্রেশিং ও এনার্জেটিক ছিল। এ মুভিতে সব থেকে বড় সারপ্রাইজ হিসেবে দেখানো হয়েছে ‘X-24’ যাকে দেখলে নিশ্চিত দর্শক কিছুক্ষণ বিষ্ময়ে হা হয়ে থাকবে ও এক্সাইটমেন্টে চেয়ার থেকে লাফ দিবে। যদিও আমার জানামতে ‘X-24’ এর কোন অস্তিত্ব কমিকে নেই তবে এই মুভির গল্প অনুযায়ী হঠাৎ করে এমন একটি চরিত্রকে উদ্ভব করাটা ছিল মুভির আরেকটি দুর্বল দিক এবং এই চরিত্রের আগমণের কোন লজিকই ছিল না গল্পে। মূলত জোর করেই এই চরিত্রটাকে মুভির গল্পে ঢুকানো হয়েছে। পাশাপাশি মুভিতে ‘চার্লস’ এর চরিত্রটিকে খুব তাড়াহুড়ো করে ইতি টেনে দেয়া হয়েছে যা হঠাৎ করে দেখতে খুব দৃষ্টিকটু লেগেছে। এত বড় লেজেন্ডারী চরিত্রটির এত সাধারণ ও তাড়াহুড়ো এন্ডিং মোটেও মেনে নেয়া যায় না। মুভির অ্যাকশন গুলো অতি মাত্রায় ভয়ংকর ও বিভৎস ছিল যার কাছে ‘ডেডপুল’ও শিশু। এত রক্তাক্ত অ্যাকশন হবার কারণ এ মুভির ভিলেন গুলো সবাই মানুষ যাদের কচুকাটা করলে রক্ত তো ছিটবেই যার কারণে এই রেটেড R। মুভিটি যদি ‘এক্স-মেন’ ট্রিলজী’, ‘ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’ ও ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’ এর মত সুপারন্যাচারাল করা হত তাহলে অ্যাকশন হয়তো আরো দুর্দান্ত হত এবং রেটেড R ও লাগতো না তবে সেটা মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড ও গল্পের টোনকে বিঘ্ন ঘটাতো। ‘লোগান’ মুভিতে প্রথমবারের মত স্বশশীরে কমিকবই দেখানো হয়েছে এবং সেই কমিকবই থেকে কাহিনী নিয়ে আবার মুভির কাহিনীতে যোগ করা হয়েছে। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই প্রথম কোন কমিকবুক মুভিতে এই এক্সপেরিমেন্ট করলো এবং তার এই উদ্দ্যোগও সফল। এ মুভিতে পুর্বের ‘এক্স-মেন’ ট্রিলজী ও ‘দ্য উলভারিন’ মুভির অনেক কিছুই ডায়লগ ও জিনিসপত্রের মাধ্যমে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে পুর্বের পর্ব গুলোর সাথে এ মুভির টাইমলাইন যোগ করা হয়েছে।

 

 

 

10-Logan-Hugh-Jackman-Blazer

 

 

 

landscape-1476972414-wolverine-logan-first-trailer-xavier-sad

 

 

 

Logan-1

 

 

 

Logan-Final-Trailer-Donald-Pierce-with-FBI

 

 

 

অভিনয়ের ব্যাপারে যদি বলতে হয় তাহলে ৪ জনের নাম আসবে। ‘হিউ জ্যাকম্যান’, ‘প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’, ‘ডাফনি কিন’ ও ‘বয়েড হলব্রক’। প্রথমেই আসি ‘হিউ জ্যাকম্যান’ ও ‘প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’ এর কথায়। এই দুজনকে নিয়ে বলার মত কোন ভাষা নেই। এরা দুজন জীবনের সর্বোচ্চ ও সেরা অভিনয়টি ঢেলে দিয়েছে এই মুভিতে। গোটা মুভিতে তাদের চরিত্র দুটির মধ্যে চরম কষ্ট, যন্ত্রনা ও হতাশা কাজ করেছে ও তারা দুজনে একে অন্যকে বাঁচার আশা যুগিয়েছে যেভাবে একজন বাবা ও তার ছেলের মধ্যে সম্পর্ক থাকে। ছেলে যুগিয়েছে অসুস্থ বাবাকে শারীরির শক্তি ও বাবা যুগিয়েছে জীবন যুদ্ধে পরাজীত ছেলেকে মানসিক শক্তি। হতাশা, হিউমার, ফিলসফি, রাগ, অভিমান, গালাগালি এমন কিছু ছিল না যা তারা একে অন্যের সাথে কথোপকখনে করেনি। একটা ফ্যামিলি কেমন হয় সেটা এই দুই চরিত্রের মাঝে প্রকাশ পেয়েছে। এ বছর অস্কারে যদি এই দুটি চরিত্র বেস্ট অ্যাক্টর ও বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর এই দুই ক্যাটাগরিতে নমিনেশন না পায় তবে সেটা অনেক বড় অন্যায় হয়ে যাবে। ‘লরা’/’X-23′ চরিত্রে ‘ডাফনি কিন’ ছিল এককথায় দুর্দান্ত। এই মেয়ের চেহারায় জন্মগতই কোন কিউটনেস ভাব নেই, আছে একটা ড্যাম কেয়ার ও অ্যাংরি লুক যা ‘উলভারিন’ এর মেয়ে হিসেবে পারফেক্ট মানিয়েছে আর কিছু কিছু অ্যাকশন দৃশ্যে সে হার মানিয়েছে স্বয়ং ‘উলভারিন’কেও। ‘উলভারিন’ এর সাথে তার নির্বাক হিউমার ও খুনশুটি গুলোও আনন্দ দিয়েছে প্রচুর। মুভির একটি দৃশ্যে ড্রাইভিংরত ‘লরা’র কোলে মাথা রেখে ক্লান্ত ঘুমন্ত ‘উলভারিন’ ছিল এই মুভি অন্যতম বেস্ট ইমোশোনাল একটি মোমেন্ট। অবশেষে, মুভির ভিলেন ‘দ্য রিভার্স’ গ্রুপের হেড সাইবোর্গ হ্যান্ড ‘ডোনাল্ড পিয়ার্স’ চরিত্রে ‘বয়েড হলব্রক’, আমার দেখা গোটা ‘এক্স-মেন’ সিরিজের সব থেকে ব্যাড অ্যাস ভিলেন ছিল, এমনকি ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’ এর থেকেও। একজন সাধারণ মানুষ ও মার্সেনারি হয়েও সে যেভাবে ‘উলভারিন’ এর মত লেজেন্ডকে থ্রেট দিয়ে গোটা মুভি জুড়ে দাবড়ানী দিয়ে বেড়াইছে সেটার কোন তুলনা হবে না। ‘উলভারিন’ এর সাথে তার হিউমারে ভরপুর কথোপকথন ছিল এই মুভির অন্যতম বেস্ট এন্টারটেইনিং মোমেন্ট। ‘প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’, ‘হিউ জ্যাকম্যান’ এর মত লেজেন্ডের পাশে থেকেও ‘বয়েড হলব্রক’ ম্লান হয়ে যায়নি। সে ঠিকই তার অভিনয় দিয়ে ওদের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের জাত চিনিয়ে ছেড়েছে। এছাড়াও ‘ক্যালিবান’ চরিত্রে ‘স্টিফেন মার্চেন্ট’ ছিল হিউমারে সম্মৃদ্ধ ও এন্টারটেইনিং এবং মুভির মূল ভিলেন ‘জ্যান্ডার রাইস’ চরিত্রে ‘রিচার্ড ই গ্রান্ট’ ছিল ‘এক্স-মেন’ সিরিজের সব থেকে দুর্বল ও বিরক্তিকর ভিলেন।

 

 

 

5dc05b101812977c0f3b057f0e83769d

 

 

 

অবশেষে, ‘লোগান’ মুভির দ্বারা শেষ হয়ে গেল ‘চার্লস জেভিয়ার’ ও ‘উলভারিন’ চরিত্র দুটির। এই দুটি চরিত্রের সমাপ্তি দৃশ্য গুলো গল্প অনুযায়ী চরম মাপের দুর্বল হলেও আগাগোড়াই ছিল ইমোশনে ভরপুর যা দর্শকের চোখে নিশ্চিত পানি এনে দিবে। এ মুভির সর্বশেষ দৃশ্যটি তৈরী করা হয়েছে ১৯৮০ সালের ‘এক্স-মেন’ কমিক বইয়ের কভার থেকে ইন্সপায়ার হয়ে যা এ যাবৎকালের সুপারহিরো মুভির সর্বশ্রেষ্ঠ এন্ডিং দৃশ্য হয়ে থাকবে। মূলত ‘লোগান’ মুভিটি সব খানেই মার খেয়ে গেছে গল্পের দিক থেকে সেটা মূল থিম হোক, ‘X-24’ হোক, আর ‘চার্লস’ ও ‘উলভারিন’ এর সমাপ্তি থিম হোক কিন্তু মুভিটি এমন ভাবে ইমোশনে মুড়িয়ে তৈরী যে দর্শক বিন্দুমাত্র ভাববার অবকাশ পাবে না এই মুভির গল্প নিয়ে। মুভির শক্তিশালী ডায়লগ, ক্যারেক্টার গুলোর অভিনয়, স্ক্রিন-প্লে, সিনেম্যাটোগ্রাফি, অ্যাকশন সব কিছুই দর্শককে এমন এক সুপারহিরো দুনিয়া থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে যেখানে এ যাবৎকালে কারোরই পা পড়েনি এমনকি ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজী দর্শকদেরও নয়। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ নিজেই বলেছে যে, সে মুভির গল্পের থেকে মুভির চরিত্রের প্রতি বেশী মনোনিবেশ করেছে। সে মুভিতে কম ইনফরমেশন ও বেশী করে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ঘটিয়েছে, দৃশ্য গুলোকে সাজিয়েছে প্রতিকী রূপে। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ আরো বলেছে যে, এই মুভিতে সে প্রথম বারের মত আবিষ্কার করেছে ‘উলভারিন’ এর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভয়কে। সেটা কোন ভিলেন নয়, পৃথিবীর ধবংস নয়, নয় সেটা মৃত্যু। ‘উলভারিন’ এর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভয় হচ্ছে ভালবাসা, যা থেকে সে সর্বদা পালিয়ে বেড়ায়। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এই মুভিতে প্রথম বারের মত ‘উলভারিন’কে তার জীবনের সেই ভয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে ও ভালবাসার কাছে ‘উলভারিন’কে হার মানতে বাধ্য করেছে। ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এ মুভির প্রতিটি চরিত্রের আলাদা আলাদা গল্প, কষ্ট ও যন্ত্রনা একদম কাছ থেকে দেখিয়েছে সেটা হোক ‘উলভারিন’, হোক ‘চার্লস’ আর হোক ‘ডোনাল্ড পিয়ার্স’ যার কারণে দর্শকেরা প্রতিটি চরিত্রের ইমোশনের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পেয়েছে, তাদের কষ্ট গুলো মন থেকে অনুভব করতে পেয়েছে আর এখানেই পরিচালক ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এর কৃতিত্ব। ‘লরা’ ও ‘উলভারিন’ এর মধ্যকার যে ইমোশোনাল এন্ডিং দৃশ্যটি সাজানো হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ১৭ বছর ধরে চলতে থাকা এই শত বছর বয়সী ‘উলভারিন’ এর সাথে আমরা যেভাবে মন থেকে জুড়ে গিয়েছি, তার কষ্টকে অনভব করতে শিখেছি অবশেষে সেই চরিত্রটির সমাপ্তি দেখে একদিকে মনের মাঝে অবর্নণীয় কষ্ট পেয়েছি আবার অন্যদিকে মনের মাঝে এক অদ্ভুত প্রশান্তিও পেয়েছি এই ভেবে যে অবশেষে ‘উলভারিন’ এর শত বছরের কষ্ট ও যন্ত্রণার সমাপ্তি ঘটলো, সে সারাটি জীবন যে সুখের পিছনে ছুটে বেড়িয়েছে অবশেষে সেই সুখ ও কাংক্ষিত সমাপ্তির খোঁজ সে পেল যার কারণে তার শেষ উক্তিটিই ছিল “So, this is what it feels like”। এর থেকে সুখের অনুভুতি ও শ্রেষ্ঠ বিদায় আর কিবা হতে পারে ?

 

 

 

17201231_1422235744481523_4196035437542356681_n

 

 

 

৯৭ মিলিয়ন বাজেটের ‘লোগান’ এখন পর্যন্ত রেকর্ড ব্রেকিং আয় করছে ও অলরেডি এই মুভির আয় সহ ‘উলভারিন’ ট্রিলজীর সর্বমোট আয় বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে গেছে। সমালোচকদের কাছ থেকে পজিটিভ রিভিউ পাওয়া এই মুভি ‘পঁচা টমেটো’ থেকে ৯২% ফ্রেশ রেটিং ও ‘IMDb’ থেকে ৮.৭ রেটিং পেয়েছে। ‘বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভল’ এ ‘লোগান’ মুভির এন্ডিং দেখে ‘হিউ জ্যাকম্যান’ ও ‘প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’ দুজনেরই চোখে পানি চলে এসেছিল এবং ‘প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এটাই হবে তার ‘চার্লস জেভিয়ার’ চরিত্রের শেষ মুভি। সেও আর এই চরিত্রে ফিরে আসবে না কারণ এর থেকে বেস্ট এন্ডিং আর কিছুই হতে পারে না। অবশেষে, গল্প ছাড়াও যে শুধু মাত্র অনুভুতিকে কেন্দ্র করে একটি মাস্টারপিস মুভি বানানো যায়, ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ সেই অসাধ্য করে দেখিয়েছে। ‘ক্রিস্টোফার নোলান’ এর পরে যদি কোন শ্রেষ্ঠ সুপারহিরো মুভি মেকারের নাম ইতিহাসের পাতায় সোনার অক্ষরে লেখা থাকে তবে সে হচ্ছে এই ‘জেমস ম্যানগোল্ড’ এবং ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজী এর পর ‘লোগান’… !!!

 

 

The End… !!!

Logan (2017)
Logan poster Rating: 9.6/10 (2,303 votes)
Director: James Mangold
Writer: James Mangold (story by), Scott Frank (screenplay), James Mangold (screenplay), Michael Green (screenplay)
Stars: Hugh Jackman, Patrick Stewart, Dafne Keen, Boyd Holbrook
Runtime: 135 min
Rated: R
Genre: Action, Drama, Sci-Fi
Released: 03 Mar 2017
Plot: In the near future, a weary Logan cares for an ailing Professor X in a hide out on the Mexican border. But Logan's attempts to hide from the world and his legacy are up-ended when a young mutant arrives, being pursued by dark forces.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন