‘Wolverine’ – একবার ফিরে দেখা (From ‘X-Men’ To ‘Logan’)… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Wolverine-17

 

 

 

একজন মানুষের জীবনে সব থেকে বড় অভিশাপ হচ্ছে অমরত্য ! কেউ কেউ হয়তো অবাক হয়ে বলবেন, অমরত্ব কিভাবে অভিশাপ হয় ? এর জন্য তো মানুষ করতে পারে না এমন কিছু নেই। কিন্তু আপনি যখন অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকবেন, আপনার নিজের চোখের সামনে আপনার প্রিয় মানুষদের মৃত্যু দেখবেন, সবাইকে হারিয়ে যুগের পর যুগ একা একা জীবন যাপন করবেন, চাইলেও কাউকে ভালবাসতে পারবেন না, কাউকে আপন করে নিজের জীবনের সাথে জড়াতে পারবেন না তখন কোন একটি সময় আপনার কাছে মনে হবে এর থেকে অভিশপ্ত জীবন আর কিছুই নেই। তখন মৃত্যুর জন্য আপনি হাহাকার করবেন কিন্তু মৃত্যু আপনার কাছে ধরা দিবে না।

 

 

 

marvel_characters

 

 

 

আমরা ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত কমিক মুভি ক্যারেক্টার কম দেখিনি। ‘ব্যাটম্যান’, ‘সুপারম্যান’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘আয়রন ম্যান’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’, ‘থর’, ‘হাল্ক’, ‘এক্স-মেন’ ইত্যাদি প্রচুর সুপারহিরো ক্যারেক্টার আমাদের মনের মাঝে দাগ কেটেছে। এদের প্রতিজনেরই লাইফে কিছু গল্প আছে যা আমাদের ইন্সপায়ার করে, আনন্দ দেয় ও নিয়ে যায় এক স্বপ্নের ভুবনে। এই গল্পের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে সফলতার গল্প যা আমাদের প্রেরণা দেয়। ব্যর্থতার গল্পও যে কম নেই তা বলছি না, তবে সেগুলো তুলনাহীন ভাবে কম। এ পর্যন্ত যত সুপারহিরো চরিত্র আছে তাদের অধিকাংশই একের অধিক অভিনেতার দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন গল্পে রূপালী পর্দায় উপস্থাপিত হয়েছে তবে দীর্ঘ সময় ধরে যদি কোন চরিত্র একজন অভিনেতার দ্বারা রূপালী পর্দায় ধারাবাহিক গল্পে প্লে হয়ে থাকে তবে সর্ব প্রথমেই যে নামটি আসে সেটি হলো ‘উলভারিন’।

 

 

 

wJhZA2

 

 

 

‘এক্স-মেন’ কমিক ও মুভির সাথে আমরা সবাই কম বেশী অনেক পরিচিত। সেই ২০০০ সালে রিলিজ হয়েছিল একগাদা সুপারহিরোদের টিম নিয়ে নির্মিত মুভি ‘এক্স-মেন’, যার যাত্রা এখনো চলছে। সেই মুভিটিতে ঐ একগাদা সুপারহিরোদের মধ্যে একজন ছিল যার উপরে মুভির ফোকাস পড়েছিল সব থেকে বেশী কিন্তু তার চরিত্রটি আমাদের তথাকথিত চেনা জানা কোন সুপারহিরোর মত ছিল না। ‘উলভারিন’ নামক সেই সুপারহিরো যার অসম্ভব রকমের হিলিং পাওয়ার রয়েছে ও দেহের ভিতরে রয়েছে অ্যাডামেন্টিয়াম নামক শক্তিশালী ধাতু কিন্তু সমস্যা একটাই, তার মাথায় নেই কোন স্মৃতি। সে বেঁচে আছে যুগের পর যুগ ধরে ভবঘুরের মত মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে যার উত্তর সে জানে না। আপনারা ভাবছেন আমি লেখার শুরুতে অমরত্বকে কেন অভিশপ্ত জীবন বলে আখ্যায়িত করলাম কারণ অমরত্ব কিভাবে একটি সাধারণ জীবনকে অভিশাপে বদলে দিতে পারে তার একটি বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে ‘উলভারিন’। ‘এক্স-মেন’ সিরিজের এ পর্যন্ত নির্মিত ১০টি মুভির ৮টিতেই কোন না কোন ভাবে উঠে এসেছে ‘উলভারিন’ এর অভিশপ্ত জীবনের সেই অব্যক্ত গল্প।

 

 

 

x-men-wallpaper-10

 

 

 

‘X-Men’ (2000)

 

 

২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এক্স-মেন’ মুভিতে সর্ব প্রথম ‘উলভারিন’কে রূপালী পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে একজন স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষ হিসেবে যে জানে না নিজের জীবনের অর্থ কি। কিছু কিছু টুকরো টুকরো স্মৃতি তাকে শুধুই তাড়িয়ে বেড়ায় কিন্তু সে কোথাও স্থির হয়ে থাকতে পারে না। নিজের নামটি ছাড়া তার আর কিছুই মনে নেই আর পরিচয় হিসেবে তার একমাত্র সম্বল হচ্ছে গলায় ঝুলানো একটি নেমপ্লেট যার একপাশে খোদাই করে লেখা ‘উলভারিন’ ও অন্য পাশে তার আসল নাম ‘লোগান’। এমনই এক অবস্থায় সে যখন ‘এক্স-মেন’ গ্রুপের প্রধাণ ‘চার্লস জেভিয়ার’ এর সংস্পর্শে আসে তখন সে জীবনে প্রথম তার কাংক্ষীত প্রশ্ন গুলোর উত্তরের সন্ধান পায়। এরই মধ্যে একটি ছোট্ট মেয়ে ‘ম্যারি’ ওরফে ‘রোগ’ এর প্রতি সে আবেগী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ‘ম্যারি’কে সে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করে আগলে রাখে। এই প্রথম আমরা দেখতে পারি পাথর হৃদয় ‘উলভারিন’ এর মনের এক কোমল অংশ। কিন্তু ‘ম্যারি’ যখন আস্তে আস্তে ‘উলভারিন’ এর উপর দুর্বল হয়ে পড়ে তাকে ভালবেসে ফেলে তখন সে ‘ম্যারি’কে বুঝিয়ে তার জীবন থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে যায় তার সেই ভবঘুরে জীবনে। ‘উলভারিন’ যেন এমনই এক চরিত্র যে সকল সম্পর্কের উর্ধে, কিন্তু এদিকে তার মাঝেও ধীরে ধীরে একসময় দুর্বলতা কাজ করতে থাকে আরেক ‘এক্স-মেন’ সদস্য ‘জিন গ্রে’ এর প্রতি।

 

 

 

443554-superheroes-x2-x-men-united-wallpaper

 

 

 

‘X-Men United’ (2003)

 

 

২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া পরবর্তী মুভি ‘এক্স-মেন টু’ তে হালকা ভাবে ফোকাস করা হয় ‘উলভারিন’ এর সেই হারিয়ে যাওয়া অতিত যেখানে আমরা আইডিয়া পাই কিভাবে ও কার দ্বারা ‘লোগান’ পরিণত হয়েছে ‘উলভারিন’এ ও হারিয়েছে তার স্মৃতি। সারা জীবন ধরে সে যে মানুষটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল, যে তাকে পরিণত করেছে ‘উলভারিন’ এ, অবশেষে তার মুখোমুখি হয় সে এবং সুযোগ আসে তার প্রতিশোধ নেবার। এরই মাঝে ‘জিন গ্রে’ এর প্রতি ‘উলভারিন’ এর মনের মাঝে সৃষ্ট ভালবাসা ক্রমেই বাড়তে থাকে, ‘জিন’ও তার ভালবাসায় সাড়া দিতে থাকে। হয়তো ‘উলভারিন’ তার দীর্ঘ জীবনে এই প্রথম কোন নারীকে ভালবেসে ফেলে, যাকে নিয়ে সে স্বপ্ন দেখা শুরু করে এক নতুন জীবনের কিন্তু মুভির শেষে তার ভালবাসার মানুষটিই তার কাছ থেকে হারিয়ে যায় অনেক দূরে। ‘উলভারিন’ হয়ে যায় পুনরায় আবার একা।

 

 

 

x-men-the-last-stand-2006-poster

 

 

 

‘X-Men: The Last Stand’ (2006)

 

 

অতঃপর, ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিরিজের ৩য় পর্ব ‘এক্স-মেনঃ দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ মুভিতে যখন ‘উলভারিন’ এর সেই ভালবাসার মানুষটি এক নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে ঠিক তখনই ‘উলভারিন’ সম্মুক্ষীণ হয় জীবনের সব থেকে বড় কঠিন পরীক্ষায় কারণ সে যাকে ভালবাসতো সেই মানুষটিই আজ পরিণত হয়েছে মানব জাতির জন্য সব থেকে বড় হুমকীতে, যার নিজের প্রতি কোন নিয়ন্ত্রন নেই, নেই কোন ভালবাসাবোধ। ‘উলভারিন’ অনেক চেষ্টা করে তার ভালবাসা দিয়ে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে, এখন সময় সিদ্ধান্ত নেবার। একদিকে তার ভালবাসার মানুষ আর অন্যদিকে গোটা মানব জাতি। এ যে কি ভয়ংকর এক সিদ্ধান্ত তা আমরা মুভির শেষ দৃশ্যটি দেখলেই বুঝতে পারি। অবশেষে ‘উলভারিন’ নিরুপায় হয়ে তার নিজের হাতে নিজের ভালবাসার মানুষটিকে হত্যা করে। নিজের ভালবাসার মানুষটির লাশ কোলে নিয়ে ‘উলভারিন’ এর আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে যায় প্রকৃতি। অবশেষে শুরু হয় ‘উলভারিন’ এর অভিশাপময় জীবনের ২য় অধ্যায়।

 

 

 

2009-x_men_origins_wolverine-5

 

 

 

‘X-Men Origins: Wolverine’ (2009)

 

 

অতঃপর একটি দীর্ঘ বিরতী, যার শেষে ২০০৯ সালে আমরা পাই ‘এক্স-মেন অরিজিন্সঃ উলভারিন’ যেখানে অবশেষে ফোকাস করা হয় ১৮ শতকের ‘উলভারিন’ এর ব্যাক স্টোরীকে। ছোট্ট ‘জেমস লোগান হাউলেট’ যে কিনা ছোটবেলা থেকে যাকে বাবা বলে জেনে এসেছিল একসময় জানতে পারে যে সে তার বাবা নয় এবং তার হাতেই দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হয় তার আসল বাবার। তার পর থেকে শুরু হয় ‘লোগান’ এর পলাতক জীবন তার সৎ ভাই ‘ভিক্টর’ এর সাথে। একসময় সে ‘ভিক্টর’ এর সঙ্গ ছেড়ে দেয় ও একাকী পথ বেছে নেয় আর তখনই তার জীবনে আসে প্রথম ভালবাসা, যার সাথে সে সুখের ঘর বেধে সংসার জীবন শুরু করে। কিন্তু পরবর্তীতে ‘ভিক্টর’ এর হাতে তার ভালবাসার মানুষটি খুন হলে সে প্রতিশোধের নেশায় পরিণত হয় এক পশুতে আর এমনই সময়ে তাকে আনা হয় ‘ওয়েপন এক্স’ প্রজেক্টের আন্ডারে ও তার মাঝে জন্ম দেয়া হয় ‘উলভারিন’কে। সকলের কাছ থেকে ধোকা খেয়ে ‘উলভারিন’ যখন সবাইকে ধবংস করার লক্ষ্যে নামে তখনই সে সর্ব শেষ ধোকাটি খায় তারই ভালবাসার মানুষটির কাছ থেকে যে কিনা বেঁচে আছে ও ‘ওয়েপন এক্স’ প্রজেক্টের পিছনে তারও হাত আছে। অবশেষে, সব কিছু ধবংস করার পর সে যখন তার ভালবাসার মানুষটিকে ক্ষমা করে আবার বুকে তুলে নেয় ঠিক তখনই তার সামনে পুনরায় মৃত্যু হয় তার ভালবাসার এবং অ্যাডামেন্টিয়াম বুলেটের আঘাতে ‘উলভারিন’ হারিয়ে ফেলে তার স্মৃতি। যাকে সে জীবনের থেকেও অনেক ভালবাসতো, স্মৃতি হারিয়ে ফেলার পর সেই মানুষটির মৃতদেহটিই তার সামনে পড়ে থাকে অবহেলায়। সে চিনতেই পারে না, এই লাশটি কার। অতঃপর শুরু হয় ‘উলভারিন’ এর সেই স্মৃতিভ্রষ্ট ভবঘুরে যন্ত্রনাদায়ক জীবনের যার সমাপ্তি ঘটে ‘চার্লস জেভিয়ার’ এর সংস্পর্শে আসার পর।

 

 

 

Untitled-1

 

 

 

‘The Wolverine’ (2013)

 

 

২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য উলভারিন’ মুভিতে আমরা দেখতে পাই ‘উলভারিন’ এর পরবর্তী জীবনের ভালবাসার মানুষ ‘জিন গ্রে’ কে হারিয়ে তার জীবনের যন্ত্রনাদায়ক ২য় অধ্যায়। সে ‘এক্স-মেন’ গ্রুপ ছেড়ে একাকী নিজের পাপের প্রাশচিত্ত করার জন্য পুনরায় বেছে নেয় ভবঘুরে জীবনকে। প্রতিনিয়ত ‘জিন’ তার স্বপ্নে দেখা দিয়ে তার কষ্টকে বাড়িয়েই তোলে। এই কষ্ট থেকে বের হবার কোন পথ সে খুঁজে পায় না। এমনকি সে নিজেকে শেষ করে দিতেও পারে না, কারণ সে যে অমর। এমনই এক সময়ে ‘উলভারিন’ এর আরেক অতিত তার বর্তমানে এসে হাজির হয়। ‘উলভারিন’ তার জীবনে প্রথম বার মুখোমুখি হয় মৃত্যুর, যে মৃত্যু শত শত বছর ধরে তার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই প্রথম তার মাঝে দেখা দেয় মৃত্যুভয়। একজন অমর মানুষ যখন মরনশীলদের কাতারে এসে পড়ে তখন তাকে যে কত বড় বিপদ, ঝুকি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীন হতে হয় তা ‘উলভারিন’ এবার বুঝতে পারে। পাশাপাশি তার উপর দ্বায়িত্ব পড়ে ‘মারিকো’ নামক একটি মেয়ের জীবন বাঁচানোর যার প্রতি সে পুনরায় ‘ম্যারি/রোগ’ এর মত আবেগী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। একদিকে ‘মারিকো’র জীবন আর অন্যদিকে তার নিজের জীবন, সব মিলিয়ে ‘উলভারিন’ তার জীবনের আরেক কঠিন ও ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুক্ষীণ হয়। অবশেষে সে যখন ‘মারিকো’র জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয় তখন সে পুনরায় যেভাবে ‘ম্যারি’কে ছেড়ে চলে গিয়েছিল তেমনি ভাবে ‘মারিকো’র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে যায় আবার তার সেই একাকী জীবনে।

 

 

 

x_men_days_of_future_past_banner-wide

 

 

 

‘X-Men: Days of Future Past’ (2014)

 

 

২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এক্স-মেনঃ ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’ মুভিতে ‘উলভারিন’কে কাধে তুলে নিতে হয় তার লাইফের অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ, টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে তার পুরনো জ়ীবনে ফিরে গিয়ে ইয়ং ‘চার্লস জেভিয়ার’কে সঠিক রাস্তা দেখানো। ইয়ং ‘চার্লস’ ও ‘এরিক’কে সামলানো যে কত বড় বিপজ্জনক ও ইমপসিবল মিশন সেটা সে হাড়ে হাড়ে টের পেতে থাকে। অবশেষে সে যখন টাইম লাইন চেঞ্জ করে বর্তমানে ফিরে আসে ও তার ভালবাসার মানুষ ও সব বন্ধুদেরকে জীবিত ও হাসি খুশি দেখতে পায় তখন জীবনে প্রথম বারের মত সে একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

 

 

 

MV5BZDdjNDk0ZDEtYTIyMC00MmNlLTg4MGItMTEwNTJkZTA4N2M1XkEyXkFqcGdeQXVyMzAxMTM1MzE@._V1_

 

 

 

এই ছিল ‘উলভারিন’ এর শত বছরের অমর জীবনের ইতিহাস যার আগা গোড়াই বেদনা, কষ্ট ও হতাশায় জর্জরিত এক মহাকাব্য যা টানা ১৭ বছর ধরে আমাদের মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং অবশেষে এ বছর ২০১৭ সালে ‘লোগান’ মুভিটির মাধ্যমে এই দীর্ঘ মহাকাব্যের ইতি টানা হয়েছে। ‘উলভারিন’ এমনই এক চরিত্র যে জীবনে কোন দিনও একটু শান্তির খোঁজ পায়নি, ফ্যামিলি কাকে বলে সে জানে না, আদর-মায়া-মমতা-ভালবাসার ছোঁয়া সে কখনো পায়নি, সে জীবনে যাকেই ভালবেসে আপন করে নিতে চেয়েছে তারই মৃত্যু দেখতে হয়েছে তার নিজের চোখের সামনে যার কারণে তাকে কেউ ভালবেসে আপন করে নিতে চাইলে সে স্বেচ্ছায় দূরে সরে গেছে তার থেকে। কষ্ট ও যন্ত্রনা যাকে পরিণত করেছে একরোখা, জেদী ও পশুতে। সে তার দীর্ঘ একাকী জীবনে যত দুঃখ, দুর্দশা ও কষ্টের সম্মুক্ষীন হয়েছে তা কমিক ইতিহাসে আর কোন চরিত্রকে কখনো পেতে হয়নি এমনকি ‘ব্যাটম্যান’কেও না। একজন সুপারহিরো যে কিভাবে পদে পদে অসহায় ও ব্যর্থ হতে পারে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘উলভারিন’। সুপারহিরো শব্দটি শুনলেই আমাদের মনের মাঝে যে ‘সুপারম্যান’, ‘ব্যাটম্যান’, ‘স্পাইডারম্যান’ এর ছবি উকি দেয় যারা মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ, যাদের জীবনে আছে নিজস্ব ভালবাসার মানুষ ও সফলতার ইতিহাস তাদের থেকে কোটি কোটি দূরে অবস্থান করছে এই ‘উলভারিন’ যার জীবনের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা নয় বরং নিজের জন্য একটু সুখ ও শান্তির ছোঁয়া খুজে বের করা। ‘উলভারিন’ তার সারাটি জীবন একটু সুখের আশায় কি না করেছে, কিন্তু বিনিময়ে তাকে শুধুই পেতে হয়েছে কষ্ট ও যন্ত্রনা। অমর হবার পরেও তার জীবনটি পরিণত হয়েছে এক অভিশাপে। আর এই কারণেই সব মিলিয়ে এই চরিত্রটি বদলে দিয়েছে সুপারহিরো নামক শব্দটির তথাকথিত সংজ্ঞা… !!!

 

 

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Very thoughtful and analytical writing,,,thumbs up 👍🏻👍🏻👍🏻

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন