‘Shivaay’ (2016) একজন সন্তানহারা বাবার গল্প… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

13987463_1023728677739631_2285554170614412214_o

 

 
হিন্দু ধর্মে দেব দেবীর অভাব নেই, কিন্তু তাদের মধ্যে সর্ব শক্তিমান ও প্রধাণ যদি কারো নাম নিতে হয় তবে সেক্ষেত্রে আসে ‘ত্রিমুর্তি’ এর কথা। হিন্দু ধর্মের প্রধাণ ৩ দেবতাকে একত্রে বলা হয় ‘ত্রিমুর্তি’ এবং এই ৩ জনই তাদের নিজ নিজ শক্তি দ্বারা গোটা বিশ্ব ব্রহ্মান্ড পরিচালনা করে থাকেন। এই ‘ত্রিমুর্তি’র মধ্যে সর্ব প্রথমে আছেন ‘ব্রহ্মা’ যাকে বলা হয় ‘ক্রিয়েটর’ অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা, এর পরে আছেন ‘বিষ্ণু’ যিনি হলেন ‘প্রিজারভার’ অর্থাৎ সকল সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ ইনিই করে থাকেন, এবং সর্ব শেষে আছেন ‘শিভ’ যিনি হলেন ‘ডেস্ট্রয়ার’ ও ‘ট্রান্সফর্মার’ অর্থাৎ বিশ্বজগতকে রূপান্তর ও ধবংসের দেবতা তিনি। কখনো কখনো তাকে সৃষ্টিজগতের ‘প্রটেকটর’ হিসেবেও বলা হয়। ‘শিভ’ হচ্ছেন মূলত শক্তির দেবতা।

 

 

 

Shivaay

 

 
গত বছর ২০১৬ সালের দিওয়ালীতে মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত মুভি ‘শিভায়’ যে মুভির গল্প লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ে ছিলেন বলিউডের ‘ডার্ক হর্স’ খ্যাত অভিনেতা ‘অজয় দেবগন’। ‘শিভায়’ মুভিটিতে ‘অজয় দেবগন’ দীর্ঘ ৮ বছর পর ফিরেছেন পরিচালকের আসনে। এর আগে তিনি ২০০৮ সালে প্রথম পরিচালনায় নেমেছিলেন ‘নিকোলাস স্পার্কস’ এর ‘দ্য নোটবুক’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ইউ মি অর হাম’ মুভিটিতে যেখানে অভিনয় করেছিলেন ‘কাজল’ ও তিনি নিজে। মুভিটি বক্স অফিস সফলতা না পেলেও সমালোচকদের মন জয় করেছিল। এর ৮ বছর পর ‘অজয় দেবগন’ তার ড্রিম প্রজেক্ট ‘শিভায়’ তৈরীতে নামেন। মুভিটিতে তিনি অনেক দীর্ঘ সময় ও যত্ন দিয়েছেন, বার বার লোকেশন চেঞ্জ করেছেন, সব কিছু তিনি চেয়েছেন একদম পারফেক্ট ভাবে তৈরী করতে। মুভির গল্পটাও তার নিজের লেখা। মুভিতে তিনি কোন বিখ্যাত অভিনেতা অভিনেত্রীকে নেননি। সম্পুর্ণ নতুনদের নিয়ে কাজ করেছেন। মুভিটি নিয়ে প্রচুর পরিমাণে হাইপ সৃষ্টি হয়। মুভির প্রথম ট্রেলারটিও ইউটিউবে রেকর্ড সৃষ্টি করে কিন্তু মুভিটি রিলিজের পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মুভিটি মিক্সড রিভিউ পায়। কেউ কেউ মুভিটি বেশ পছন্দ করে আবার কারো কারো কাছে মুভিটি চরম বিরক্তিকর ও দুর্বল গল্পের মনে হয়।

 

 

 

27262493854_8171f18af0_o

 

 
‘শিভায়’ মুভির সাথে হিন্দু ধর্মের দেবতা ‘শিভ’ এর গল্পের কোন সম্পর্ক নেই। মুভিটি ‘শিভ’কে নিয়ে নির্মিত নয়, মুভিটি নির্মিত ‘শিভায়’ নামক একজন মাউন্টেনারকে নিয়ে যে পূজা করে ‘শিভ’ এর এবং যার জীবনের একেকটি মোড়ে সে দেবতা ‘শিভ’ এর একেকটি অবতারে রূপান্তরিত হয়, যার কারণে মুভির নাম ‘শিভায়’। মুভিটি মূলত নির্মিত একজন বাবা ও তার মেয়েকে ঘিরে। মুভির নায়ক ‘শিভায়’ একজন মাউন্টেনার যে হিমালয়ের পাদদেশে একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করে এবং দেবতা ‘শিভ’ এর মতই গোটা পাহাড় ও পর্বত তার নখদর্পনে। সে মৃত্যুকে ভয় পায় না। সারা জীবন ধরে একাকী বাস করা ‘শিভায়’ হিমালয়ের মধ্যেই নিজের সঙ্গ খুঁজে পেতে চায়। হিমালয়কে ছেড়ে সে কোথাও যেতে চায় না। পর্বতই হচ্ছে তার সারা জীবনের সঙ্গী। কিন্তু এর মাঝেই তার একাকী জীবনে নতুন সঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয় ভালবাসা। সে তার ভালবাসার মানুষকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে কিন্তু তার সেই স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তার ভালবাসা তাকে ছেড়ে চলে যায় দূরদেশে কিন্তু তার শেষ অনুরোধে তার জন্য রেখে যায় তাদের ভালবাসার নিদর্শন তাদের ছোট্ট মেয়ে ‘গৌরা’কে। এরপর ‘শিভায়’ তার কথা বলতে না পারা বোবা ছোট্ট মেয়ে ‘গৌরা’র মাঝেই জীবনের সকল সুখ, খুশি ও আনন্দ খুঁজে নেয়। ‘গৌরা’কে সে নিজের হাতে নিজের মত করে মানুষ করে। ‘গৌরা’ও পরিনত হয় বাবার মত দক্ষ মাউন্টেনারে। ‘শিভায়’ তার মনের মাঝে যত ভালবাসা আছে সব উজাড় করে দেয় ‘গৌরা’র প্রতি। ‘শিভায়’ সকল বিপদ আপদ থেকে ‘গৌরা’কে দূরে রেখে দেবতা ‘শিভ’ এর ‘প্রটেকটর’ অবতার হয়ে স্নেহ-মায়া-মমতা দিয়ে তাকে আগলে রাখে। কিন্তু বাবা যত যাই করুক না কেন সন্তানের জীবনে সে কখনো মায়ের অভাব পূরণ করতে পারে না। একসময় ‘গৌরা’ যখন তার মায়ের সত্য জানতে পারে তখন ‘গৌরা’র ইচ্ছা পূরণ করতে ‘শিভায়’ তাকে নিয়ে যায় বুলগেরিয়াতে তার মায়ের সাথে দেখা করিয়ে দিতে আর সেখানেই ‘গৌরা’ পড়ে যায় চাইল্ড ট্রাফিকারদের কবলে। এক নতুন দেশে নিজের আদরের সন্তানকে হারিয়ে ‘শিভায়’ রূপান্তিত হয় দেবতা ‘শিভ’ এর সব থেকে ভয়ংকর অবতার ‘ডেসট্রয়ার’ এ। চাইল্ড ট্রাফিকারদেরকে স্বমূলে ধবংস করে নিজের মেয়েকে রক্ষার লক্ষে সে একা তছনছ করে দেয় গোটা বুলগেরিয়াকে। অবশেষে সে যখন তার মেয়েকে ফিরে পায় তখন সে মুখোমুখি হয় ভালবাসার আরেক কঠিন পরীক্ষায়।

 

 

 

Shivaay-Hd-Poster

 

 
‘শিভায়’ মুভির গল্প আহামরি কিছুই নয়। অনেকের কাছেই মনে হবে এমন গল্প অনেক দেখেছি। বাবার কাছ থেকে মেয়েকে অনেক মুভিতেই কেড়ে নেয়া হয়েছে এরপর বাবা মেয়েকে খুঁজে বের করে রিভেঞ্জ নিয়েছে। হলিউডে তো এ নিয়ে পুরো একটা ফ্রাঞ্চাইজ আছে যার নাম ‘টেকেন’। কিন্তু এত কিছুর পরেও ‘শিভায়’ বলিউড মুভি হিসেবে এক অন্যরকম মালকফলক। আমরা হলিউডে না যাই, ‘টেকেন’ আর ‘শিভায়’র মূল থিম এক হলেও গল্প ও ইমোশন আলাদা। ‘শিভায়’ শুধু একজন বাবার গল্প নয় এটি সারা বিশ্বের হাজার হাজার বাবার গল্প যারা তাদের জীবনে সব কিছু হারিয়ে শুধু মাত্র তাদের সন্তানের মাঝে জীবনের সবটুকু সুখ খুঁজে নিয়েছে। তাদের সন্তান স্বাভাবিক নাকি অটিস্টিক এ নিয়ে তাদের মনে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা আক্ষেপ কাজ করে না। সন্তানকে তারা মনে করে বিধাতার দেয়া সর্ব শ্রেষ্ঠ উপহার যাকে রক্ষা করার জন্য তারা গোটা পৃথিবী ধবংস করে ফেলতেও পিছপা হবে না। এমন আদরের সন্তানকে যখন চাইল্ড ট্রাফিকাররা ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তাদের আদরের সন্তানের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেয় ব্ল্যাক মার্কেটে, তাদের আদরের সন্তানকে বাধ্য করে প্রস্টিটিউশন নামক পেশায় নামতে তখন সেই বাবাদের মনের মাঝে যে কি হয় সেটা বোঝার সাধ্য কারো নেই। টাকার লোভে পশুর কাতারে নেমে যাওয়া এই সব ট্রাফিকারদের কবলে পড়ে দৈনিক হাজার হাজার শিশু হারিয়ে ফেলছে তাদের পরিবার ও স্বপ্নময় জীবনকে। শুধু বুলগেরিয়াতেই নয়, সারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা এক বিষাক্ত মাকড়শার নাম হচ্ছে এই ‘চাইল্ড ট্রাফিকিং’। এই সব কঠিন সত্য, বাস্তব ও আবেগকেই তুলে ধরা হয়েছে ‘শিভায়’ মুভিতে।

 

 

 

ajay-devgn-shivaay-7591

 

 

 

shivaay-action-scene-wallpaper

 

 

 

691547

 

 
‘শিভায়’ মুভির অন্যতম আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে মুভির অ্যাকশন ও পর্বতের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। এ মুভিটির অরিজিনাল মজা নেয়া সম্ভব একমাত্র ব্লু-রে প্রিন্টে বা হলের বিশাল স্ক্রিনে। ‘অজয় দেবগন’ পরিচালক হিসেবে মুভিটির এই দিক গুলোতে কোন ধরণের কমপ্রোমাইজ করেননি। মুভিটিকে তিনি হলিউডের কাতারে নিয়ে গেছেন। এই মুভিটিতে রাস্তায় গাড়ির যে চেজ সিন আছে এত দীর্ঘ ও দুধর্ষ অ্যাকশন সিন বলিউডের এ যাবৎকালের আর কোন মুভিতে আছে বলে আমার মনে পড়ে না। কয়েদী হয়ে ব্রিজ থেকে পড়ে যাওয়া প্রিজন বাস থেকে পালানো সিনটির সাথে তুলনা হতে পারে একমাত্র হলিউডেরই। মুভির কোন অ্যাকশনই শুধু মাত্র লোক দেখানো অ্যাকশন হিসেবে ছিল না, প্রতিটি অ্যাকশনের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে একজন বাবার তার সন্তানকে খুঁজে পাবার মরিয়া, জেদ, ভয়ংকর পরিমাণ রাগ ও সন্তান হারানোর কষ্ট যার কারণে মুভির অ্যাকশন গুলো হয়েছে এতটা মারাত্নক, বিশেষ করে মুভির শেষ অ্যাকশন দৃশ্য গুলি।

 

 

 

shivay-poster-6

 

 

 

shivay-poster-5

 

 

 

Ajay-Devgn-And-Abigail-Eames-2

 

 
মুভিতে এক গাদা নতুন মুখ ছিল। মুভির প্রধাণ দুই নায়িকা ছিল নতুন। প্রথম জন ছিল পোলিশ অভিনেত্রী ‘এরিকা কর’। গল্পের প্রয়োজনে একজন বিদেশী নায়িকা দরকার ছিল এবং সেই দিক থেকে ‘এরিকা’র গ্ল্যামারের পাশাপাশি তার অভিনয়ও অনেক নজর কাঁড়া ছিল আর দ্বিতীয় জন ছিল ‘সায়েশা সাইগাল’ যার গ্রান্ড আঙ্কেল হচ্ছেন স্বয়ং লেজেন্ড ‘দিলিপ কুমার’। ‘সায়েশা’ খুব বেশী সময় পায়নি মুভিতে তবে যতক্ষণ সে ছিল নতুন হিসেবে অনেক সুন্দর অভিনয় করেছে সে। বলিউডে যদি সে নিয়মিত হয় ও ভাল মুভিতে চান্স পায় তবে খুব জলদিই সে অনেক বড় স্টারে পরিণত হবে। তবে ‘শিভায়’ মুভিতে যে সবার মন জয় করে নিয়েছে সে হচ্ছে ছোট্ট ‘অ্যাবিগেল এমস’। ব্রিটিশ এই মেয়ে অনেক আগে থেকেই ফিল্ম ও টিভি সিরিজে অভিনয়ের সাথে জড়িত, এমনকি সে অভিনয় করেছে লেজেন্ডারি টিভি সিরিজ ‘ডক্টর হু’ তেও। ‘শিভায়’ মুভিতে ‘অ্যাবিগেল’ ছিল যেন ঠিক ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ এর ‘মুন্নি’। ‘মুন্নি’র পর অবশেষে ‘গৌরা’ চরিত্রটি একদম মন ছুঁয়ে যেতে পেরেছে। ‘মুন্নি’ যেমন একটিও সিঙ্গেল শব্দ উচ্চারণ না করেই সবার মন জয় করেছে ‘গৌরা’ও ঠিক তেমনই বরং ‘অ্যাবিগেল’কেই ‘মুন্নি’র ‘হার্শালি’র থেকে অনেক বেশী কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অভিনয় করতে হয়েছে ‘অজয় দেবগন’ এর মত অভিনেতার সাথে পাল্লা দিয়ে। বাবা ও মেয়ের ইমোশন দৃশ্য গুলোতে ‘অ্যাবিগেল’-‘অজয়’ জুটি ছিল একদম চোখে পানি এনে দেবার মত। আর একটি বিশেষ দৃশ্যে যখন মুভির ভিলেন ‘শিভায়’র পাসপোর্ট আগুনে ফেলে দেয় সেই দৃশ্যে ভিলেনের দিকে ইশারা করে ‘অ্যাবিগেল’ এর এক্সপ্রেশন ছিল পুরাই ভয়ংকর। ‘অ্যাবিগেল’ যে কোন জাতের অভিনেত্রী সেটা সে ঐ একটি দৃশ্যেই সে বুঝিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও মুভিতে অল্প সময়ের জন্য ‘বির দাস’ বেশ ভালই হিউমার দিয়েছে।

 

 

 

Ajay-Devgan-HD-Scary-Look-Image-Shivaay

 

 

 

Screen-Shot-2016-08-08-at-9.02.40-AM

 

 
এবার যার কথা না বললেই নয়, সে আর কেউ নয় স্বয়ং ‘অজয় দেবগন’। ‘শিভায়’তে তিনি যা করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না, বিশেষ করে ডিরেক্টরের আসনে বসে। এত দুর্দান্ত ডিরেকশন বলিউডের অনেক বাঘা বাঘা অ্যাকশন মুভিতেও দেখা যায় না। বিশেষ করে মুভির সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিল এক কথায় মাইন্ড ব্লোয়িং। কিছু কিছু দৃশ্যে ‘অজয়’ এর থিঙ্কিং ও শর্ট ডিভিশন এতটাই মাথা নষ্ট করার মত ছিল যে ভেবেই কুল পাওয়া যাচ্ছিল না যে কিভাবে এই শর্টটা নেয়া হলো। ‘অজয়’ যদি পরিচালনায় নিয়মিত হন তবে বলিউডের অনেক অ্যাকশন ডিরেক্টরদের ভাত মেরে দিবেন তিনি কারণ তিনি পরিচালনায় কোন কমপ্রোমাইজ করেন না। আর অভিনেতা ‘অজয় দেবগন’কে নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। বলিউডে ‘খান’, ‘কাপুর’, ‘কুমার’ ও ‘রোশন’দের ভিড়ে তিনিই একা একজন অভিনেতা যে সেই শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত বলিউডে রাজত্ব করে আসছেন। তার সমপর্যায়ের অনেক নায়কই সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে কিন্তু সময় ‘অজয়’কে করেছে আরো বেশী শক্তিমান। ‘শিভায়’ মুভিতে ‘অজয়’ তার অভিনয় স্কিলকে সর্বোচ্চ লেভেলে নিয়ে গেছেন। অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, এই মুভিতে ‘অজয়’কে গোটা সময় ধরে একটু বেশীই রাফ ও অ্যাংরি এক্সপ্রেশনে দেখা গেছে যা দেখতে ভাল লাগেনি। আমি তাদেরকে বলবো, আপনার আদরের মেয়েকে যদি কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় ও তাকে বাঁচানোর দ্বায়িত্ব যদি একা আপনার কাধে পড়ে তবে আপনি ‘অজয়’ এর থেকেও বেশী রাফ হয়ে যাবেন, এটাই মানুষের বেসিক ইন্সটিঙ্কট যা ‘অজয়’ নিখুঁত ভাবে গোটা মুভিতে নিজের মাঝে ধারণ করে গেছেন। বলিউডে ‘অজয়’কে বলা হয় একমাত্র অভিনেতা যিনি কোন কথা ছাড়া শুধুমাত্র তার চোখ দিয়ে অভিনয় করতে পারেন। ‘অজয়’ এর চোখের মনিটাই একটু অন্যরকম, এত ইন্টেন্স আই লুক বলিউডের আর কারো নেই। ‘শিভায়’ মুভিতে প্রচুর দৃশ্যে ‘অজয়’ তার এই ইন্টেন্স আই লুক দিয়ে অভিনয় করেছেন যা পুরাই গা শিউরে উঠার মত। কিছু কিছু ইমোশন দৃশ্যে ‘অজয়’ এতটাই হৃদয়বিদারক অভিনয় করেছেন, বিশেষ করে লাশ রাখা ঘরে ও মুভির শেষ দৃশ্যটিতে, আপনি যদি গল্পের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন তবে মাস্ট আপনার চোখ ভিজে উঠবে ঐ দৃশ্য গুলো দেখে। এ মুভিটি করতে গিয়ে ‘অজয়’ এমন কিছু কাজ করেছেন যা সে আগে করেননি কখনো। তিনি এই প্রথম নিজের দুই কান ফুটো করে দুল পরেছেন এবং অনস্ক্রিন লিপ কিস করেছেন, যদিও এত বয়সে ‘এরিকা কর’ এর সাথে তার কিসিং সিন গুলো ছিল বিরক্তিকর যা তাকে মোটেও মানায়নি ও দেখতেও ভাল লাগেনি। এ মুভির জন্য ‘অজয়’ তার ডান বাহুতে সাপ ও পিঠে বিশাল ত্রিশূল এর ট্যাটু আঁকিয়েছেন আর সবাই জানে তার বুকের ডান পাশে ‘শিভ’ এর একটি ছবি পার্মানেন্টলি ট্যাটু করা আছে। ‘অজয়’ যে কত বড় ‘শিভ’ ভক্ত সেটা তার এই ডেডিকেশন থেকেই বোঝা যায়।

 

 

 

Shivaay-2016-Full-HD-Movie-Free-Download-720p-BluRay-Full-HD-5

 

 

 

shivaay-movie-trishul-tattoo-in-ajay-devgan-back-hd-wallpaper

 

 
‘শিভায়’ মুভির আরো বড় একটি পাওয়া হচ্ছে মুভির মিউজিক। বিখ্যাত মিউজিক ডিরেক্টর ‘মিঠুন’ এর তৈরী ‘বলো হর হর’ গানটি ছিল রক্ত গরম করা, ‘দরখাস্ত’ গানটি ছিল রোমান্টিকতার সর্বোচ্চ লেভেল ব্রেক করা, ‘রাতে’ গানটি ছিল বাবা-মেয়ের মধ্যকার অসাধারণ খুনশুটিতে ভরপুর ও ‘কৈলাস খের’ এর গাওয়া ‘তেরে নাল ইশকা’ গানটি ছিল মনকে বিষাদে ভরিয়ে দেবার মত। মুভির প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্যে ‘বলো হর হর’ গানের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আপনাকে দিবে এক অন্য লেভেলের সাসপেন্স ও টান টান উত্তেজনা। এ মুভিতে দেখানো হয়েছে বুলগেরিয়ার বিশ্ববিখ্যাত কেভ ‘প্রহনডা’ যাকে বলা হয় ‘গডস আই’ বা ‘ঈশ্বরের চোখ’ নামে। অসাধারণ চিত্র গ্রহণের মাধ্যমে ধারণ কৃত এই ‘গডস আই’ দেখে আপনার মাস্ট চক্ষু শিহরিত হবে, তবে মুভিতে এই দৃশ্যটি দেখানো হয়েছে ভুল যায়গায়। মুভির প্লট যখন হিমালয়ে চলছিল তখন ‘গডস আই’ দেখানো হয় যা মূলত অবস্থিত বুলগেরিয়াতে। এটি ছিল এই মুভির অন্যতম বড় একটি মিস্টেক। এ ছাড়াও মুভিটি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে মুভির রানটাইম ৩ ঘন্টার জন্য। ‘অজয় দেবগন’ তার ছোট্ট গল্পটিকে টেনে বড় করে মনের মত করে এত দৃশ্য ধারণ করেছেন যে মুভির দৈর্ঘ্য দাড়িয়েছে এত বিশাল ও দর্শকরা হয়েছে বিরক্ত। মুভিটি থেকে প্রায় ১১-১২ মিনিট কেটে ফেলে তবেই রিলিজ দেয়া হয়েছে যার কারণে ট্রেলারে দেখানো আরো অনেক দুর্দান্ত অ্যাকশন সিন, ‘সায়েশা’ অভিনীত সিন ও ‘তেরে নাল ইশকা’ গানটি মুভিতে দেখা যায়নি। তবে আমার মতে যদি সেগুলো যোগ করা হত তবে মুভিটি আরো বেশী দুর্দান্ত হতে পারতো। মুভিটি দেখতে গিয়ে মনেই হয়েছে যে কিছু দৃশ্য বা ইমোশন মিসিং যা ঐ সিন কাটার জন্য হয়েছে।

 

 

 

44229-wrdbxcsygb-1477511106

 

 

 

‘শিভায়’ রিলিজ হয়েছে দিওয়ালীতে ‘করন জোহর’ এর ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’ এর সাথে ক্ল্যাশ করে। এ নিয়ে ‘অজয়’-‘করন’ এর মধ্যে জল কম ঘোলা হয়নি সেই সাথে যোগ হয়েছে ‘কামাল আর খান’ বিতর্ক। এই ক্ল্যাশে মাঝখান দিয়ে ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’ ১০০ কোটি পার করে হিট হয়েছে আর ‘শিভায়’ হারিয়েছে তার প্রত্যাশিত মার্কেট ও প্রফিট যা ‘অজয় দেবগন’ এর জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। ‘শিভায়’ মুভিটি আসলে মার খেয়ে গেছে গল্পের কারণে। বলিউডের দর্শকেরা এখনো তৈরী নয় ‘টেকেন’ টাইপের ডার্ক স্টোরী, ইন্টেন্স অ্যাকশন ও ইমোশনের জন্য যার কারণে একই বছরে প্রায় একই থিমের ‘জন আব্রাহাম’ এর ড্রিম প্রজেক্ট ‘রকি হ্যান্ডসাম’ও মার খেয়েছে বক্স অফিসে। ‘শিভায়’ মুভির সব থেকে বড় ভুল ছিল, মুভিতে কোন লেজেন্ডারী ভিলেন ছিল না। মুভির ভিলেন গুলো ছিল খুবই আহামরি ও বিদেশী। ‘অজয়’ গোটা মুভিতে নতুন মুখ নিয়ে মুভির সকল হাইলাইট নিজের উপর ফেলতে চেয়েছেন ভাল কথা, ‘এরিকা’ ও ‘সায়েশা’ অসাধারণ ছিল কিন্তু এই চিন্তা করে ভিলেন নির্বাচনেই তিনি করেছেন সব থেকে বড় ভুল। ‘অজয়’ এ মুভিতে যে মাপের হিরো, সেই হিসেবে তার সমপর্যায়ের একজন শক্তিমান ভিলেন দরকার ছিল এবং সব থেকে ভাল হত যদি সে বলিউডের পরিচিত কোন মুখ হত তাহলে। যাই হোক, দিন শেষে বক্স অফিস যাই বলুক না কেন এই মুভিটি ‘অজয়’ এর লাইফে সত্যিই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে তার অভিনয় ও পরিচালনার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে। এক কথায় কেউ যদি এখন জানতে চায় ‘অজয় দেবগন’ কাকে বলে ? বলিউডে তার অবস্থান কি ? তাকে উদ্দেশ্য করে জাস্ট একটি কথাই বলতে হবে বলিউডে ‘ব্রহ্মা’ যদি হয় ‘অমিতাভ’, ‘বিষ্ণু’ যদি হয় ‘খান’ তবে ‘শিভ’ একটাই ‘অজয় দেবগন’… !!!

 

 

 

SHIVAAY-2016-HD-MOVIE-FREE-DOWNLOAD-HD-CAM-1

Shivaay (2016)
Shivaay poster Rating: 6.7/10 (6,386 votes)
Director: Ajay Devgn
Writer: Sandeep Shrivastava (screenplay)
Stars: Ajay Devgn, Erika Kaar, Abigail Eames, Vir Das
Runtime: 169 min
Rated: NOT RATED
Genre: Action, Adventure, Drama
Released: 28 Oct 2016
Plot: Shivaay is a Himalayan mountaineer who is an innocent and yet is capable of transforming into a mean destroyer when he needs to protect his family.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন