হলিউড বক্স অফিস রিপোর্ট ২০১৬ (পর্ব ০২) – বছরের সকল ফ্লপ রিমেক/রিবুট, ভিডিও গেম মুভি, লাইভ অ্যাকশন ও ইয়ং অ্যাডাল্ট/ফ্যান্টাসী সিরিজ অ্যাডাপ্টেড মুভি সমূহের লিস্ট… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Film-Hollywood-Terbaru-2016

 

 

 

প্রতি বছরের মত গত ২০১৬ সালেও হলিউডে রিলিজ পেয়েছে বেশ কিছু ক্ল্যাসিক হিট মুভির রিমেক/রিবুট, জনপ্রিয় ভিডিও গেম ভিত্তিক মুভি, অ্যানিমেশনের লাইভ অ্যাকশন ও ইয়ং অ্যাডাল্ট/ফ্যান্টাসী সিরিজ বুক অ্যাডাপ্টেড মুভি সমূহ তবে ২০১৬ সালটি ছিল যেমন সিক্যুয়াল মুভি গুলোর জন্য একটি ডিজাস্টার ইয়ার তেমনি একই ভাবে এই ক্যাটাগরির মুভি গুলোর জন্য এই বছরটি ছিল খুবই হতাশাজনক। চলুন দেখে নেয়া যাক, ২০১৬ সালে এই সকল ক্যাটাগরির কোন কোন মুভি গুলির চরম রূপে ভরাডুবি ঘটেছে…

 

 

 

Warcraft-Movie-Background-

 

 

 

‘Warcraft’

 

 

ভিডিও গেম নিয়ে এ যাবৎকালে প্রচুর মুভি নির্মিত হয়েছে কিন্তু আফসোস, তাদের মধ্যে মাত্র হাতে গোণা কয়েকটি মুভিই সফলতার মুখ দেখতে পেরেছে এবং অধিকাংশই ভক্ত শ্রেনীদের হতাশ করে বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে যার মধ্যে এ বছর মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ারক্রাফট’ ছিল অন্যতম। বিখ্যাত ভিডিও গেম ও উপন্যাস ‘ওয়ারক্রাফট’ অবলম্বনে নির্মিত ১৬০ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে পোর ও অ্যাভারেজ রেটিং পেয়ে উত্তর আমেরিকায় (ডমেস্টিক বক্স অফিস) মাত্র ৪৭ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ হয়েছে কিন্তু নিজ দেশের দর্শকরা এই মুভিকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেও বহিঃবিশ্বর বিশেষ করে চায়নার দর্শকরা একে আপন করে নিয়েছে যার ফলে বহিঃবিশ্ব থেকে এই মুভির আয় এসেছে ৩৮৬ মিলিয়ন (চায়না থেকেই ২২০ মিলিয়ন)। যার ফলে এই মুভির গোটা বিশ্বের টোটাল আয় দাড়িয়েছে ৪৩৩ মিলিয়ন যা এই মুভিকে এনে দিয়েছে সর্ব কালের সব থেকে বেশী আয় করা ভিডিও গেম অ্যাডাপ্টেড মুভির খেতাব। মুভির ফিনিশিং এই পরবর্তী সিক্যুয়ালের আভাষ দেয়া হয়েছে এবং এই মুভির বহিঃবিশ্বের বিপুল আয়ের উপর ভিত্তি করে পরিচালক ‘ডানকান জোনস’ এর সিক্যুয়াল নির্মাণের পরিকল্পনাও শুরু করেছেন যা তৈরী হবে সিরিজের ২য় ভিডিও গেম ‘ওয়ারক্রাফট টু-টাইডস অফ ডার্কনেস’ অবলম্বনে।

 

 

 

The-Legend-of-Tarzan-Wallpapers

 

 

 

‘The Legend of Tarzan’

 

 

বিখ্যাত লেখক ‘এডগার রাইজ বারোজ’ এর লেখা উপন্যাসের সৃষ্ট চরিত্র ‘টারজান’কে নিয়ে ইতঃপুর্বে ক্ল্যাসিক মুভি, টিভি সিরিজ, অ্যানিমেশন কোন কিছুরই কোন অভাব নেই। ১৯৯৯ সালের ‘ওয়াল্ট ডিজনী’ থেকে নির্মিত অ্যানিমেশন মুভি ‘টারজান’ তো রেকর্ড সৃষ্টিকারী জনপ্রিয় মুভি। তবে দীর্ঘ দিন ধরে রূপালী পর্দা থেকে মিসিং এই জনপ্রিয় চরিত্রটিকে গত বছর ‘হ্যারি পটার’ খ্যাত পরিচালক ‘ডেভিড ইয়েটস’ পুনরায় এক নতুন আঙ্গিকে সম্পুর্ণ নতুন ভাবে রিমেক/রিবুট বা লাইভ অ্যাকশন রূপে রূপালী পর্দায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন ইতিহাসের কিছু সত্য ঘটনার রেফারেন্স ভিত্তিক গল্প ও চরিত্রের উপর বেজ করে। কিন্তু সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পাওয়া ১৮০ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভি দুর্ভাগ্য বশত ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ১২৬ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ হয়। এই মুভি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন আমার লেখা…

 
http://bioscopeblog.net/aneecque/55323

 

 

 

bfg_ver4_xlg

 

 

 

‘The BFG’

 

 

১৯৮২ সালে ব্রিটিশ উপন্যাসিক ‘রোয়াল্ড ডাহল’ এক বিশাল দৈত্য ও একটি ছোট্ট মেয়ের মধ্যকার বন্ধুত্ব নিয়ে লেখেন সাড়া জাগানো চিলড্রেন বুক ‘দ্য বিএফজি’ (‘দ্য বিগ ফ্রেন্ডলি জায়ান্ট’)। ১৯৮৯ সালে এই বই অবলম্বনে নির্মিত হয় অ্যানিমেটেড টেলিভিশন মুভি ‘দ্য বিএফজি’। অতঃপর গত বছর বিখ্যাত পরিচালক ‘স্টিফেন স্পিলবার্গ’ এর হাত ধরে ‘দ্য বিগ ফ্রেন্ডলি জায়ান্ট’ প্রথম বারের মত লাইভ অ্যাকশন রূপে রূপালী পর্দায় হাজির হয়। অসাধারণ চোখ ধাঁধানো স্পেশ্যাল ইফেক্টে ভরপুর ১৪০ বিগ মিলিয়ন বাজেটের বহুল প্রত্যাশিত এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে পজিটিভ রিভিউ পেলেও ডমেস্টিক বক্স অফিসে দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ৫৫ মিলিয়ন আয় করে পুরাই মুখ থুবড়ে পড়ে।

 

 

 

13427816_919377058170829_673881796579582196_n

 

 

 

‘Miss Peregrine’s Home for Peculiar Children’

 

 

প্রতি বছরই কিছু বুক অ্যাডাপ্টেড ইয়ং অ্যাডাল্ট বা ফ্যান্টাসী মুভি নির্মিত হয় একটি সফল সিরিজ শুরুর প্রত্যাশায় যেমনটা হয়েছিল ‘হ্যারি পটার’, ‘টোয়ালাইট’, ‘নার্নিয়া’ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’, ‘দ্য মেজ রানার’ ও ‘ডাইভারজেন্ট’ সিরিজের মত। যখন মুভিটি সফল হয় তখন পরবর্তীতে এর সিক্যুয়ালের মাধ্যমে শুরু হয় গোটা সিরিজ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম নির্মিত মুভিটি সফল হতে পারে না, যার ফলে অংকুরেই ঝরে যায় একটি নাম করা পোটেনশিয়াল বুক সিরিজ যেমনটা ঝরে গিয়েছিল ‘এরাগন’, ‘জাম্পার’, ‘ইঙ্কহার্ট’, ‘মরটাল ইন্সট্রুমেন্ট’, ‘পার্সি জ্যাকসন’, ‘সেভেন্সথ সন’ ইত্যাদী। এই বছর বিখ্যাত আমেরিকান লেখক ‘র‍্যানসম রিগস’ এর লেখা ৩টি পার্টে বিভক্ত সিরিজের প্রথম বেস্ট সেলিং ডার্ক ফ্যান্টাসী বই ‘মিস পেরিগ্রিন্স হোম ফর পিকুলিয়ার চিলড্রেন’ অবলম্বনে বিখ্যাত পরিচালক ‘টিম বার্টন’ নির্মাণ করেন একই নামের এই মুভিটি। ২ বছর পর ‘টিম বার্টন’ ফিরলেন পরিচালকের আসনে আর মুভির ক্যাটাগরিও যখন বেস্ট সেলিং নভেল বেজড ডার্ক ফ্যান্টাসী তখন তো প্রত্যাশার পারদ বেড়েই যায় কিন্তু সকল প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দুর্বল স্ক্রিপ্ট ও দুর্বল স্পেশাল ইফেক্টের ১১০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভি সমালোচকলদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ৮৭ মিলিয়ন আয় করে ডুব খেয়েছে। অর্থাৎ আরো একটি প্রত্যাশিত সিরিজের অপমৃত্যু ঘটলো।

 

 

 

ghostbusters-2016-movie-who-you-gonna-call-wallpapers-hd

 

 

 

‘Ghostbusters’

 

 

‘ঘোস্টবাস্টারস’ নামটি শোনেনি এমন বান্দা খুঁজে পাওয়া যাবে না বিশেষ করে যাদের ছোট বেলায় বিটিভিতে কার্টুন দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। এই সিরিজের প্রতি কম বেশী সকলেরই নস্টালজিয়া আছে। এই সিরিজটি নিয়ে ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে নির্মিত হয়েছিল দুটি অসাধারণ ক্ল্যাসিক মুভি ও তার সিক্যুয়াল। তার দীর্ঘ ২৭ বছর পর হঠাৎ করে মেকাররা গোটা সিরিজটি আবার পুনরায় রিবুট/রিমেক করতে চাইলো। ভাল কথা, কিন্তু ঘটনা হচ্ছে মেকারদের মাথায় কি এমন ভূত, পেত্নী নাকি জ্বীন ভর করলো যে তারা চাইলো নারী কেন্দ্রিক ‘ঘোস্টবাস্টারস’ বানাতে। এই নিয়ে ভক্ত শ্রেনীদের মাঝে জল কম ঘোলা হয়নি আবার নায়িকাদের কাস্টিং এর ক্ষেত্রে গায়ের রঙ নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। তারপরেও ১৯৮৪ সালের মূল মুভিটির হুবহু গল্প নিয়ে অসাধারণ স্পেশাল ইফেক্ট ও দারুণ হিউমার সম্মৃদ্ধ নারী কেন্দ্রিক রিমেক ও রিবুট মুভিটি নির্মিত হলো এবং সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেল। কিন্তু অতিরিক্ত আলগা মাতব্বরি করলে যা হয় আরকি, ১৪৪ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই নারী কেন্দ্রিক মুভিটি ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ১২৮ মিলিয়ন আয় করে পুরাই ডুব খেল। এই ব্যর্থতার পরেও নাকি এই মুভির সিক্যুয়ালের কাজ শুরু হয়ে গেছে যা মূলত রিমেক হবে ১৯৮৯ সালের মুভিটির গল্পের এবং তার আভাষ এই মুভির পোস্ট ক্রেডিট সিনেও দিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা আরো একটি ডিজাস্টারের…

 

 

(বাই দ্য ওয়ে, ‘জর্জ ক্লুনি’, ‘ব্রাড পিট’ ও ‘ম্যাট ডেমন’ অভিনীত ক্যাসিনো হেইস্ট গল্পের বিখ্যাত ‘ওশান্স’ সিরিজের কথা মনে আছে ? সেই সিরিজটিও নারী কেন্দ্রিক রিবুট/রিমেক হতে চলেছে ২০১৮ সালে ‘ওশান্স এইট’ নামে। এই মুভির মেকারদের উচিত ‘ঘোস্টবাস্টারস’ থেকে শিক্ষা নেয়া)

 

 

‘ঘোস্টবাস্টারস’ কার্টুন সিরিজ ও পুর্বের ২টি ক্ল্যাসিক মুভি সম্পর্কে জানতে পড়তে পারেন আমার লেখা…

 
http://bioscopeblog.net/aneecque/55377

 

 

 

Ben-Hur

 

 

 

‘Ben-Hur’

 

 

১৮৮০ সালে প্রকাশিত হয় বিখ্যাত আমেরিকান আইনজীবী ও লেখক ‘লুইস ওয়ালেস’ এর লেখা গোটা বিশ্বে সাড়া জাগানো বেস্ট সেলিং উপন্যাস ‘বেন হার-এ টেল অফ দ্য ক্রাইস্ট’ যা বিক্রির দিক থেকে পিছনে ফেলে দেয় সেই সময়ের আরেক সাড়া জাগানো বেস্ট সেলিং উপন্যাস ‘আঙ্কেল টমস কেবিন’কে। এই উপন্যাস অবলম্বনে সর্ব প্রথম ১৯২৫ সালে নির্মিত হয় সাইলেন্ট মুভি ‘বেন হার-এ টেল অফ ক্রাইস্ট’। অতঃপর ১৯৫৯ সালে ঐ মুভিটিরই রিমেক করা হয় ‘বেন-হার’ নামে যাকে ধরা হয় ইতিহাসের অন্যতম সর্ব শ্রেষ্ঠ এপিক হিসটোরিক্যাল ড্রামা হিসেবে যা সেই সময়ে ব্লকবাস্টারে পরিণত হয়েছিল ও ‘অস্কার’ এ রেকর্ড সংখ্যক ১২টি নমিনেশন পেয়ে ১১টি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল। এই রেকর্ড পরবর্তিতে ‘টাইটানিক’ ও ‘লর্ড অফ দ্য রিংস-রিটার্ন অফ দ্য কিং’ মুভি দুটি এসে ভেঙ্গে দেয়। এই হিস্টোরিক্যাল এপিক মুভিটির রিমেক করা হয় গত বছর যা পরিচালনা করেন ‘ওয়ান্টেড’ ও ‘আব্রাহাম লিঙ্কন-ভাম্পায়ার হান্টার’ খ্যাত ‘তাইমুর বেকমাম্বেটভ’। রিমেক মুভিটিতে এন্ডিং কিছুটা চেঞ্জ করে দেয়া হয়েছে। মূল গল্প ও মুভিটিতে রেসের ময়দানে ‘বেন-হার’ এর নিকট ‘মেসালা’ পরাজিত হয় ও সেখানে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যায় কিন্তু রিমেকে ‘মেসালা’ দুর্ঘটনার পর মারা যায় না বরং যীশু ক্রিস্টের ক্রশ বিদ্ধ নিজেদের চোখে দেখে ‘বেন-হার’ নিজের মধ্যে সকল রাগ, ঘৃণা ও প্রতিশোধের নেশা বিসর্জন দেয় ও এক নতুন মানুষে পরিণত হয়। সে আহত ‘মেসালা’র কাছে ফিরে যায়, তার কাছে ক্ষমা চায় ও তাকেও সে ক্ষমা করে দেয়। ‘বেন-হার’ এর এই মহানুভবতায় ‘মেসালা’র মধ্যেও পরিবর্তন আসে। সেও নিজের সব ভুল বুঝতে পেরে নিজের ভাইকে বুকে টেনে নেয়। অতঃপর দুই ভাই আবার তাদের হারানো পরিবারকে একত্রিত করে এক সাথে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। আমি মূল মুভিটি দেখিনি তবে আমার কাছে এই এন্ডিংটি অসাধারণ লেগেছে। মেকাররা মূলত এখানে মূল মুভিটির মত প্রতিশোধ নয় বরং ক্ষমার মহত্ব দেখাতে চেয়েছেন। যাই হোক, তবুও এত বড় হিসটোরিক্যাল মুভির রিমেক কোন ছেলে খেলা নয় যার পরিণাম সরূপ ১০০ মিলিয়ন বাজেটের ‘বেন-হার’ সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ ও বিপুল সমালোচিত হয়ে ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ২৬ মিলিয়ন আয় করে ডিজাস্টারে পরিণত হয়েছে।

 

 

 

Assassins-Creed-Movie-wallpaper-HD-film-2016-poster-image

 

 

 

‘Assassin’s Creed’

 

 

গত বছর ভিডিও গেম লাভারসদের জন্য সব থেকে বহুল আকাংক্ষিত মুভি ছিল ‘অ্যাসেসিনস ক্রিড’। বিশ্ব বিখ্যাত তুমুল জনপ্রিয় এই গেম অবলম্বনে নির্মিত মুভিটিতে অভিনয় করেছেন সকলের প্রিয় ‘মাইকেল ফ্যাসবেন্ডার’। কিন্তু ভিডিও গেম মুভির উপর যে অভিশাপ যুগ যুগ ধরে কাজ করছে তার থেকে ‘ওয়ারক্রাফট’ এর মত রেহাই পায়নি এই মুভিটিও। গেমারদের কথা অনুযায়ী এই মুভিটি নাকি গেমের কোন গল্প ও চরিত্রকে ফলো করেনি বরং সম্পুর্ণ নতুন এক অচেনা অরিজিনাল গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। অবশেষে ১২৫ মিলিয়ন বিগ বাজেটের এই মুভি সমালোচকদের কাছ থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ৫৩ মিলিয়ন আয় করে ফ্লপ হয়েছে। এই মুভি রিলিজের আগেই মেকাররা এর দুটি সিক্যুয়ালের ব্যাপারে প্ল্যান করে রেখেছে এখন এই মুভির ভরাডুবির পর এর সিক্যুয়াল আদৌও তৈরী হবে কিনা তা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তায়।

 

 

 

prideprejudicesmall1

 

 

 

‘Pride & Prejudice And Zombies’

 

 

১৮৮৩ সালে ইংলিশ উপন্যাসিকা ‘জেন অস্টিন’ লেখেন সারা বিশ্বে সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস’। এই উপন্যাস নিয়ে পরবর্তিতে যথাক্রমে ১৯৪০ সালে প্রথম এবং ২০০৫ সালে দ্বিতীয় বারের মত রিমেক মুভি নির্মিত হয়। এদিকে ২০০৯ সালে ‘সেথ গ্রাহাম স্মিথ’ নামক এক ব্যক্তি লেখেন ‘প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস’ এর প্যারোডি উইথ জোম্বি ফ্লেভার উপন্যাস ‘প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস এন্ড জোম্বিস’। এই ব্যক্তিটি হচ্ছেন একাধারে আমেরিকান লেখক, ডিরেক্টর, প্রডিউসার ও স্ক্রিপ্ট রাইটার’। ‘আব্রাহাম লিঙ্কন-ভাম্পায়ার হান্টার’ মুভিটি যারা যারা দেখেছেন ও পছন্দ করেছেন তাদের জানিয়ে রাখি এই মুভিটিও একটি উপন্যাস থেকেই নির্মিত যার লেখক হচ্ছেন এই ‘সেথ গ্রাহাম স্মিথ’। শুধু তাই নয়, এই ব্যক্তিটিই হচ্ছেন আপকামিং ‘দ্য লেগো ব্যাটম্যান মুভি’, ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ ও ‘বিটলজুস টু’ মুভির স্ক্রিপ্ট ও স্টোরী রাইটার। এখন দুর্ভাগ্যবশত ‘আব্রাহাম লিঙ্কন-ভাম্পায়ার হান্টার’ এর মতই মাত্র ২৮ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রিভিউ পেয়ে ডমেস্টিক বক্স অফিসে মাত্র ১০ মিলিয়ন আয় করে ডিজাস্টারের পরিণত হয়েছে।

 

 

 

এই ছিল ২০১৬ সালের সকল ব্যর্থ রিমেক/রিবুট, ভিডিও গেম মুভি, অ্যানিমেশনের লাইভ অ্যাকশন ও ইয়ং অ্যাডাল্ট/ফ্যান্টাসী সিরিজ মুভি অ্যাডাপ্টেশন সমুহ। তবে এই ক্যাটাগরির একমাত্র ২টি মুভিই গত বছর দারুণ সফলতার মুখ দেখেছে আর সেগুলো হল লাইভ অ্যাকশন মুভি ‘দ্য জঙ্গল বুক’ ও ভিডিও গেম মুভি ‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি’ এবং অ্যাভারেজ ব্যবসা করেছে রিমেক মুভি ‘পিটস ড্রাগন’। যাই হোক, ২০১৭ সালেও কম রিমেক/রিবুট, লাইভ অ্যাকশন, ভিডিও গেম মুভি, ইয়ং অ্যাডাল্ট/ফ্যান্টাসী অ্যাডাপ্টেশন সিরিজ আসছে না। একমাত্র বছর শেষেই দেখা যাবে এর মাঝে কত গুলো মুভি সফলতার মুখ দেখবে আর কত গুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। অবশেষে, ২০১৭ এর হলিউড বক্স অফিস রিপোর্ট নিয়ে দেখা হবে ২০১৮ তে। ততদিনের জন্য বিদায় এবং হ্যাপি মুভি ওয়াচিং… !!!

 

 

 

The End… !!!


এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পুরাই ফাউল একটা মুভি। টিকেটের টাকাটাই পানিতে ফালাইছি।গেম যখন মুভিতে আসে তার পরিনতি সব সময় ভাল হয় নাহ।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন