‘Force 2’ (2016) এসপিওনাজ জগতের এক কালো অধ্যায়… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

force-2-poster-ft-john-sonakshi-tahir-in-intense-looks-1

 

 

 

“A Dead Soldier Is A Martyr. A Dead Spy Is A Traitor”
স্পাই ও এসপিওনাজ জগতের সব থেকে বড় কঠিন সত্য হচ্ছে, যখন দেশের কোন স্পাই বিদেশে নিজের দ্বায়িত্ব পালনের সময় ধরা পড়ে তখন নিজ দেশের সরকার তাকে নিজ দেশের নাগরিক ও কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না, বরং তাকে উলটা বিশ্বাসঘাতক উপাধী দিয়ে ডিপ্লোম্যাটিক্যালি গোটা কেসটি ঘুরিয়ে নেয়। এগুলো সবই রাজনৈতিক প্রটোকল কিন্তু এই মিথ্যা অপবাদের কারণে ভেঙ্গে যায় সেই সকল নিরপরাধ মানুষের ঘর ও পরিবার যারা সারাটি জীবন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য সেবা করে গেছে কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে অন্য এক দেশের মৃত্যুদন্ড ও নিজ দেশের বিশ্বাসঘাতক উপাধী। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে এই প্রটোকল জেনে ও মেনেই তারা দেশের জন্য কাজ করতে এগিয়ে আসে।

 

 

 

28tweet6

 

 

 

সিনেমা জগতে এসপিওনাজ নিয়ে মুভি কম হয়নি। দেশী বিদেশী প্রায় অনেক মুভিতেই কম বেশী এই রাজনৈতিক প্রটোকলকে বাস্তব জগতের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর ভিতরকার কালো মুখোশ। একজন স্পাই কিভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের হয়ে দ্বায়িত্ব পালন করে ও তারও যে নিজস্ব জীবন ও অধিকার রয়েছে তা আমরা হলিউডে সত্য ঘটনা অবলম্বনে ‘স্পিলবার্গ’ নির্মিত ও ‘টম হ্যাঙ্কস’ অভিনীত ২০১৫ সালের ‘ব্রিজ অফ স্পাইস’ মুভিতে দেখেছি। এছাড়াও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কে নিয়ে বলিউডে মুভি কম হয়নি কিন্তু তার খুব কম মুভিতেই এই সত্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা ‘এক থা টাইগার’ মুভিতে কিছুটা দেখেছি ‘র’ তাদের নিজেদের এজেন্টদের স্বাধীনতাকে কিভাবে মুল্যায়ন করে, এছাড়াও ‘বিদ্যুৎ জামাল’ অভিনীত ‘কমান্ডো’ মুভিতেও দেখেছি একজন স্পাইকে বিদেশের মাটিতে ধরা পড়ার কারনে বিশ্বাসঘাতক উপাধী পেতে। কিন্তু সেই সব মুভির গল্প ও থিম ছিল আলাদা। অবশেষে বলিউড পেল এমন এক মুভি যেখানে সত্যিকার অর্থে ‘র’ এর এই কালো মুখোশ উন্মেচন করে দেশে বিদেশে দ্বায়িত্বরত সকল জীবিত ও দ্বায়িত্বপালন কালে মারা যাওয়া সকল মৃত এজেন্টদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে যার নাম ‘ফোর্স টু’।

 

 

 

force

 

 

 

 

২০১১ সালে রিলিজ পেয়েছিল ‘সুরিয়া’ ও ‘জ্যোতিকা’ অভিনীত তামিল ‘কাখা কাখা’ মুভির হিন্দী রিমেক ‘ফোর্স’, যেখানে অভিনয় করে ‘জন আব্রাহাম’ ও ‘জেনেলিয়া ডিসুজা’ এবং ভিলেন চরিত্রে অভিষেক ঘটে আরেক তামিল/তেলেগু হিরো ‘বিদ্যুৎ জামাল’ এর। মুভিটি বক্স অফিসে হিট হয়। অবশেষে এ বছর ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছে এ মুভির সিক্যুয়াল ‘ফোর্স টু’ যা প্রযোজনা করেছে ‘জন আব্রাহাম’ নিজেই তার প্রোডাকশন হাউস ‘জে এ এন্টারটেইনমেন্ট’ থেকে ও নতুন নায়িকা হিসেবে যোগ দিয়েছে ‘সোনাক্ষী সিনহা’ ও ভিলেন হিসেবে আছে ‘মার্দানী’ খ্যাত ‘তাহির রাজ ভাসিন’। চলুন দেখে নেয়া যাক সিক্যুয়াল হিসেবে ‘ফোর্স টু’ কতটুকু সফল…

 

 

 

sonakshi-sinha-force-2-poster-1

 

 

 

পুর্বের পর্বের মতই এ পর্বটিও রিভেঞ্জ স্টোরী তবে পার্থক্য হচ্ছে প্রথম পর্বের রিভেঞ্জের কারণ থেকে এ পর্বের রিভেঞ্জের কারণটি যথেষ্ঠ শক্তিশালী ও মজবুত ছিল। আগেই বলেছি মুভির গোটা থিমটিই ‘র’ এর এজেন্টদের প্রতি অন্যায় প্রটোকল সম্পর্কিত আর ‘ফোর্স’ মুভিটি যেখানে ছিল তামিল মুভির রিমেক সেখানে ‘ফোর্স টু’ সম্পূর্ণ অরিজিনাল স্টোরি যেখানে ন্যাশনাল ইশু জড়িত। প্রথম মুভিটির পটভূমী ছিল লোকাল কিন্তু এবারের পর্বটি চলে গিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে। গল্পটি দারুণ সব টুইস্ট, সাসপেন্স ও অ্যাকশনে ভরপুর ছিল। সব মিলিয়ে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বলিউডের এ যাবৎকালের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্পাই থ্রিলার হিসেবে ‘ফোর্স টু’ এর নাম সবার উপরে থাকবে। অনেকের কাছেই এবারের পর্বের গল্পটি প্রথম পর্বের মত আকর্ষন করেনি যার মূল কারণ হচ্ছে প্রথম পর্বে ছিল একটি মিষ্টি লাভ স্টোরী ও ‘জেনেলিয়া ডিসুজা’ কিন্তু এবারের পর্বটি পুরোটাই ডার্ক ও রিভেঞ্জ থিম নিয়ে বানানো যেখানে নো টাইম ফর লাভ। এখন আপনি যদি প্রথম পর্বটি থেকে ঐ লাভ স্টোরীটি বাদ দেন, তবে ‘ফোর্স’ মুভিটিতে গল্প বলতে আর কিছুই থাকবে না এবং গোটা মুভিটি আপনার ‘ফোর্স টু’ এর থেকেও বিস্বাদ লাগবে। ‘ফোর্স’ মুভিটি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল অযথা গল্প টেনে লম্বা বানানোর জন্য। এ ক্ষেত্রে ‘ফোর্স টু’ সম্পুর্ণ আলাদা। ‘ফোর্স টু’ হয়তো আপনার ‘ফোর্স’ মুভির মত ঐ লাভ স্টোরীটি দেখার জন্য বার বার রিওয়াইন্ড করে দেখতে ইচ্ছে করবে না কিন্তু আপনি প্রথম বার যতটা সময় নিয়ে মুভিটি দেখবেন আপনাকে টুইস্ট, সাসপেন্স, অ্যাকশন ও সর্বপরি অভিনয় দিয়ে চেয়ারে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করবে এ মুভিটি। আর এখানেই ‘ফোর্স টু’ এর সার্থকতা।

 

 

 

force-2-unveils-baddie-tahirs-look-1

 

 

 

অভিনয়ের কথা বলতে গেলে বলিউডে অ্যাকশন, অ্যাঙ্গার ও ডার্ক ক্যারেক্টারে ‘জন আব্রাহাম’ এর সমকক্ষ আর কেউ নেই। এ বছর ‘রকি হ্যান্ডসাম’, ‘ঢিসুম’ ও ‘ফোর্স টু’ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। বডি ফিটনেস ও ফিগারের দিক থেকেও একই কমপ্লিমেন্ট। ‘র’ এজেন্ট হিসেবে ‘সোনাক্ষী’কে একদমই মানায়নি। তাকে মোটেই অ্যাকশন ইমেজের সাথে যায় না। ‘জন’ এর সাথে তার মোটেও জমেনি। এই ক্যারেক্টারে ‘প্রিয়াঙ্কা’ বা ‘দিপিকা’ থাকলে ‘জন’ এর সাথে ক্যামিষ্ট্রি জমতো দারুন। একটি ছোট চরিত্রে ‘হলিডে’ মুভির ভিলেন ‘ফ্রেডি দারুওয়ালা’ দারুণ অভিনয় করেছে। অনেক ভাল লেগেছে তাকে পজিটিভ চরিত্রে দেখতে পেয়ে আর সর্ব শেষে যার কথা না বললেই নয়, ‘তাহির রাজ ভাসিন’ ! ‘ফোর্স’ মুভিটি কাঁপিয়েছিল এক অজ্ঞাত ভিলেন ‘বিদ্যুৎ জামাল’। সেই হিসেবে ‘ফোর্স টু’ মুভির ভিলেন কেমন হবে তার হাইপ কিন্তু থেকেই যায়। ‘বিদ্যুৎ’ এর সাথে ‘জন’ এর ফিগার ও হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট ছিল ‘ফোর্স’ মুভির মূল অ্যাকশন, কিন্তু ‘তাহির’ কোন দিক থেকেই ‘জন’ এর সাথে যায় না। না অ্যাকশনে, না ফিগারে। এই কারণে যখন ভিলেন চরিত্রে ‘তাহির’ এর নাম প্রকাশ করা হয়েছিল, আমি বেশ হতাশ হয়েছিলাম যে এবার তাহলে কোন মারদাঙ্গা হ্যান্ড টু হ্যান্ড অ্যাকশন দেখতে পাব না। কিন্তু মুভিটি দেখে আমার সব হতাশা তৃপ্তিতে বদলে গেছে। ‘তাহির’ অ্যাকশন ও ফিগারে ‘জন’ এর সাথে ম্যাচ করেনা বলেই তাকে এখানে মাস্টারমাইন্ড সাইকো ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা ছাড়িয়ে গেছে আগের পর্বের ‘বিদ্যুৎ’ এমনকি ‘মার্দানী’র ‘তাহির’ এর করা চরিত্রটিকেও। ‘জন’, সোনাক্ষী’ ও পুরো ‘র’ কে একাই নাকানী চুবানী খাইয়ে ছেড়েছে সে। অসাধারণ অভিনয়, ডার্ক সেন্স অফ হিউমার ও ইমোশন সব দিক থেকে সেই ছিল ‘ফোর্স টু’ এর মূল নায়ক যে ভিলেন হবার পরেও তার নীতির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে ‘জন’কেও। এখানেই এই চরিত্রের সার্থকতা।

 

 

 

maxresdefault

 

 

 

মুভির অ্যাকশন এর আগের পর্বের মত এতটা এক্সট্রিম ছিল না তবে সেই ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছে মুভির টুইস্ট ও সাসপেন্স গুলো। শেষ অ্যাকশন দৃশ্যেটি ভিডিও গেম স্টাইলের হ্যান্ড টু হ্যান্ড ও শ্যুটিং স্টাইলে তৈরী যা বলিউড মুভিতে এই প্রথম। খুব একটা ভালও লাগেনি আবার কিছু কিছু জায়গায় খারাপও লাগেনি। গানের অল্প ও পর্যাপ্ত ব্যবহার ভাল লেগেছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল দুর্দান্ত। সমালোচকরাও এ মুভিটির ব্যাপক প্রসংশা করেছে। তবে এ মুভির সব থেকে বেস্ট পার্ট ছিল ‘জেনেলিয়া ডিসুজা’। বলিউডে এখন হলিউডের মত সিক্যুয়ালের বাতাস লেগেছে। একটি মুভি সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে হিট হলেই সেটার সিক্যুয়াল বানানোর জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু গল্প ও প্রথম পর্বের সাথে ধারবাহিকতার কোন কিছুই সেখানে মেইনটেইন করা হচ্ছে না। যার ফলে সিক্যুয়াল গুলো হয়ে যাচ্ছে বস্তা পঁচা। বলিউডের সিক্যুয়াল মুভি গুলোর সব থেকে বড় সমস্যা সেখানে পুর্বের পর্বের সাথে কোন সম্পর্ক থাকে না। ২য় পর্ব এমন ভাবে নতুন গল্প নিয়ে শুরু হয় যেন প্রথম পর্বের কোন অস্তিত্বই নেই যার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ ‘সিংঘাম রিটার্ন্স’। ‘ফোর্স টু’ তে এই ভুল করা হয়নি। এ মুভির গল্প শুরু হয়েছে প্রথম পর্বে ‘জেনেলিয়া’ মারা যাবার ৫ বছর পর আর এখনও ‘জন’ তার স্ত্রীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং তার মৃত স্ত্রীর স্মৃতি এখনো তাকে কাঁদায় ও সে সব সময় কল্পনায় ‘জেনেলিয়া’র সাথে কথা বলে যাকে শুধু মাত্র ‘জন’ই দেখতে পায়। গোটা মুভিতে ‘জেনেলিয়া’র এমনই দুটি দৃশ্য ছিল এ মুভির সর্ব শ্রেষ্ঠ দুটি দৃশ্য যা আপনার মনকেও বিষাদে ভরিয়ে দেবে। আমার মতে এখানেই ‘ফোর্স টু’ এর সিক্যুয়াল হিসেবে সব থেকে বড় সার্থকতা… !!!

Force 2 (2016)
Force 2 poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Abhinay Deo
Writer: Jasmeet K. Reen, Parveez Sheikh
Stars: John Abraham, Sonakshi Sinha, Tahir Raj Bhasin, Adil Hussain
Runtime: N/A
Rated: N/A
Genre: Action, Crime, Thriller
Released: 18 Nov 2016
Plot: N/A

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন