‘Doctor Strange’ (2016) ওয়েলকাম টু দ্য মাল্টিভার্স… !!!

doctor-strange-movie-imax-poster

 

 
‘মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর ১৪ তম ও ফেজ থ্রি এর ২য় মুভি ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ রিলিজ পেয়েছে কিছু দিন আগেই যা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বে তোলপাড়ের শেষ নেই। ‘ক্যাটেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার’ এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ‘মার্ভেল’ এর ফেজ থ্রি যেখানে চেঞ্জ হয়ে গেছে সকল চরিত্রদের হিসাব-নিকাশ, তারই ধারাবাহিকতায় ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর মাধ্যমে ‘মার্ভেল’ খুলে দিয়েছে মাল্টিভার্স এর দুয়ার এবং সেই সব ডায়মেনশন থেকে আরো অনেক সুপারহিরোর আগমণের সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে কেমন ছিল ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, চলুন দেখে নেয়া যাক…

 

 

 

doctor_strange_2016-HD

 

 
‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ মুভির সব থেকে হাইপ সৃষ্টি করার মূল কারণ এ মুভির কাস্টিং। ‘মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর সর্বশ্রেষ্ঠ কাস্টিং করা হয়েছে এ মুভিতে। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রে ‘শার্লক’ খ্যাত ‘বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ’ ও মুভির ভিলেন ‘ক্যাসিলিয়াস’ চরিত্রে ‘হ্যানিবল’ খ্যাত ‘ম্যাডস মিকেলসন’, এমন ব্যাড অ্যাস কাস্টিং এর আগের কোন ‘মার্ভেল’ মুভিতে দেখা যায়নি। যারা যারা ‘শার্লক’ ও ‘হ্যানিবল’ ভক্তরা আছেন, তাদের লাইফটাইম ড্রিম ছিল এই দুটি চরিত্রকে একত্রে একই পর্দায় দেখতে পাবার যা অবশেষে ‘মার্ভেল’ পূরণ করে দিয়েছে। তবে ‘বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ’ কিন্তু এত সহজেই ‘মার্ভেল’ ক্যাম্পে যোগ দেননি। তাকে গ্রুপে পাবার জন্য ‘মার্ভেল’কে বহুত কাঠ-খঁড় পোঁড়াতে হয়েছে। ২০১৪ সালে যখন সর্ব প্রথম ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ মুভির কাজ শুরু হয় ঠিক তখন থেকেই এই চরিত্রের জন্য পরিচালক ‘স্কট ডেরিকসন’ এর স্বপ্নের নায়ক ছিলেন একমাত্র ‘বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ’। জুলাই এর দিকে সারা বিশ্বের ফ্যান ও মিডিয়া তোলপাড় শুরু করে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রে ‘বেনেডিক্ট’কে পাবার জন্য নানান রকম ক্যাম্পেইন ও প্রচারের মাধ্যমে কিন্তু ২০১৪ সালের ‘সান ডিয়েগো কমিক কন ইন্টারন্যাশনাল’ এ ‘বেনেডিক্ট’ বলেন যে তিনি এই রোল গ্রহণ করতে পারবেন না কারণ তিনি এই মুহূর্তে অন্যান্য প্রজেক্টের সাথে কমিটমেন্টে আবদ্ধ। তাই ‘বেনেডিক্ট’ এই রোলটি ফিরিয়ে দেন। অতঃপর নিরুপায় হয়ে ‘মার্ভেল’ অন্যান্য সম্ভাব্য নায়কদের একটি শর্ট লিস্ট তৈরী করে যেখানে নাম ছিল ‘টম হার্ডি’, ‘জারেড লেটো’, ‘এডগার রামিরেজ’, ‘জোয়াকুইন ফিনিক্স’, ‘ইথান হক’, ‘অস্কার আইজ্যাক’, ‘ইয়ান ম্যাকগ্রেগর’, ‘ম্যাথিউ ম্যাককোনাহে’, ‘জেক গিলেনহান’, ‘কলিন ফ্যারেল’, ‘কিয়ানু রিভস’ ও ‘রায়ান গসলিং’ এর। কিন্তু কাউকেই শেষ পর্যন্ত ‘মার্ভেল’ এর মনে ধরে না ও তাদের সাথে ‘মার্ভেল’ এর টার্মস এন্ড কন্ডিশন্স মেলে না, কারণ ‘মার্ভেল’ যে শুরু থেকেই ‘বেনেডিক্ট’কে মন দিয়ে বসে আছে। তারা যতই অন্যান্য নায়কদের সাথে কথা বলুক না কেন এর মাঝখানে বারবার তারা ছুটে গিয়েছে ‘বেনেডিক্ট’ এর দুয়ারে কিন্তু বারবার তাদের নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। অবশেষে ২০১৪ সালের অক্টোবরে ‘মার্ভেল’ অনেকটা জেদের বশেই তাদের শর্ট লিস্ট ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে ‘বেনেডিক্ট’কে ভাল মত পাকড়াও করে এবং তাকে পাবার জন্য ‘মার্ভেল’ ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ মুভির গোটা প্রোডাকশন শিডিউল চেঞ্জ করে ফেলে যেন তারা ‘বেনেডিক্ট’ এর অন্যান্য প্রজেক্টের কমিটমেন্টের সাথে নিজেদের অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারে। অবশেষে ডিসেম্বরে ‘বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ’কে ফাইনালি ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ হিসেবে সারা বিশ্বের সামনে অফিশিয়ালি পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

 

 

 

mg_swinton_ancientone_comp

 

 
‘মার্ভেল’ এর এই পরিশ্রম বৃথা যায়নি। তাদের এই সিদ্ধান্তে সব থেকে খুশি হয়েছে ফ্যানেরা। এবং পর্দায় ‘বেনেডিক্ট’ও ফ্যানদের বিন্দুমাত্র নিরাশ করেননি। তিনি তার সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়েছেন এই মুভিতে যেমনটা আমরা দেখেছি ‘শার্লক’, ‘দ্য ইমিটেশন গেম’ ও ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ এ। একজন অহংকারী, জেদী, অ্যারোগেন্ট ও ইগো সম্পন্ন ধনী নিউরোসার্জন এবং সেই সাথে ‘মাস্টার অফ মিস্টিক আর্টস’ দুটি সম্পুর্ণ ভিন্নধর্মী চরিত্রে তিনি খুব সহজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এমনই এক চরিত্র যে ‘মাস্টার অফ মিস্টিক আর্টস’ হবার পরেও নিজের ‘ডক্টর’ পদবীকে নিয়ে দম্ভ করে, কারণ সে তার ডাক্তারী লাইফে অপারেশন টেবিলে কখনো কোন ভুল করেনি। তার মত দক্ষ ও স্পেশ্যালিস্ট আর কেউ নেই। রোগীদের জীবন বাঁচাতে বাঁচাতে সে নিজেকে বিধাতার সমপর্যায়ের মনে করে। অনেকটাই নাস্তিক টাইপের এই চরিত্রটির সাথে তুলনা করার মত শুধু মাত্র একটি চরিত্রই আছে যা হল ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ এর ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’ যে নিজের আত্মদম্ভের কারণে তার নামের শুরুতে ‘ক্যাপ্টেন’ ছাড়া অন্য কোন পদবী শুনতে নারাজ, তেমনি ‘ডক্টর স্টিফেন স্ট্রেঞ্জ’ ও তাকে ‘ডক্টর’ ছাড়া অন্য পদবীতে ডাকলে রেগে আগুন হয়ে উঠতে সময় নেয় না। ‘মার্ভেল’ এতদিনে তাদের নিজস্ব ‘জ্যাক স্প্যারো’কে খুঁজে পেল। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ মুভির সব থেকে বিতর্কিত বিষয় ছিল ‘দ্য এনশিয়েন্ট ওয়ান’ চরিত্রে নারী হিসেবে ‘টিলডা সুইনটন’কে কাস্টিং করায়। কমিকের ‘এনসিয়েন্ট ওয়ান’ তিব্বতিয়ান। তিব্বতের কোন অভিনেতাকে নিলে এই মুভি চায়নায় নিষিদ্ধ হবে আবার চায়নিজ অভিনেতাকে দিয়ে এই রোল করানো হলে মার্ভেলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা সমালোচনা করার ইস্যু পেয়ে যাবে কারণ চায়না আর তিব্বতের মধ্যে শত্রুতা অনেকদিনের। তিব্বতিয়ানের রোল চায়নিজ দিয়ে করানো হলে তিব্বতিয়ানরা ব্যাপারটা ভালভাবে নিবে না। তাই ‘মার্ভেল’ পুরো চরিত্রটাকেই বদলে ফেলে পাশাপাশি ‘মার্ভেল’ সম্ভবত এখানে এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে নারী চরিত্রের শক্তিকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছে যার কারণে এই চরিত্রে নারী অভিনেত্রীকে কাস্ট করার তাদের এই রিস্কি সিদ্ধান্ত। আমি কমিক পড়িনি তাই কমিকের বৃদ্ধ ‘এনশিয়েন্ট ওয়ান’ সম্পর্কে আমার কোন আইডিয়া নেই। আমি এই মুভির মাধ্যমেই ‘এনশিয়েন্ট ওয়ান’ চরিত্রের সাথে পরিচিত হয়েছি তাই আমি একেই লুফে নিয়েছি। আমরা মূলত গুরু বলতেই এ যাবত কালের সকল মুভিতে বৃদ্ধ জ্ঞানী টাইপের দাড়িওয়ালা কোন চরিত্রকে দেখে এসেছি, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ আমাদের সেই একঘেয়েমী থেকে দূর করবে। গুরুর সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে এই টাক মাথার নারী ‘এনশিয়েন্ট ওয়ান’ যার চালচলন, কথা-বার্তা, অ্যাকশন এতটাই ব্যাড অ্যাস ছিল যা হার মানিয়েছে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’কেও ও আমাদের বিন্দুমাত্র ভাবার অবকাশ দেয়নি যে এটি একটি নারী চরিত্র। ‘টিলডা সুইনটন’ এর জন্মই হয়েছে যেন এমন ফ্যান্টাসী চরিত্র গুলো করার জন্য যা আমরা এর আগে ‘নার্নিয়া’ সিরিজ ও ‘কনস্টানটিন’ মুভিতে দেখেছি। আর তাকে ছাড়া এমন চরিত্রে আর কোন নারী অভিনেতাকে মানায়ও না। এ মুভির আরো একটি নারী চরিত্র ‘ক্রিস্টিন পামার’ চরিত্রে অল্প সময়ের জন্য ‘র‍্যাচেল ম্যাকাডামস’ একদম মন ভরিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি সফল মানুষের পিছনে যে একজন নারীর সাপোর্ট থাকে, এই চরিত্রটি ঠিক তারই প্রতিফলন। অনেকের অভিযোগ, তাকে খুব কম সময়ের জন্য রাখা হয়েছে মুভিতে। তবে আমি মনে করি গল্প অনুযায়ী তার স্ক্রিন টাইম পারফেক্ট ছিল। এছাড়াও মুভিতে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর মেন্টর ‘ওং’ চরিত্রে ব্রিটিশ অভিনেতা ‘বেনেডিক্ট ওং’ ছিল অসাধারণ। সিরিয়াস মোমেন্টে সিরিয়াসনেস আবার হিউমার মোমেন্ট ‘বেনেডিক্ট’ এর সাথে তার কমিক টাইমিং ছিল পুরাই দুর্দান্ত। আর হ্যাঁ, বরাবরের মতই ক্যামিও হিসেবে আছেন লেজেন্ডারী ‘স্ট্যান লি’ যার দৃশ্যটি আপনাকে হাসতে হাসতে পেট ফাটিয়ে ফেলবে।

 

 

 

Doctor-Strange-Chiwetel-Ejiofor-Karl-Mordo-Interview

 

 

 

doctorstrange2

 

 
‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ সিরিজের প্রধাণ ভিলেন হিসেবে পরিচিত ‘কার্ল মরডো’ চরিত্রের অরিজিন দেখানো হয়েছে এই মুভিতে যে কিনা একসময় ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর মেন্টর ও বন্ধু ছিল কিন্তু নীতিগত দ্বন্দ্বের কারণে তারা একসময় একে অপরের চরম শত্রুতে পরিণত হয়। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ও ‘কার্ল মরডো’ যেন ‘এক্স-মেন’ সিরিজের ‘প্রফেসর এক্স’/’চার্লস’ ও ‘ম্যাগনিটো’/’এরিক’। এই গুরুত্বপুর্ণ চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন অস্কার জয়ী অভিনেতা ‘চিওটেল ইজিওফোর’। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ও ‘মরডো’র মাঝে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক, হিউমার, বন্ধুসুলভ আচরণ ও একে অপরের প্রতি টান দেখে ভাবতেই অনেক খারাপ লেগেছে যে এরা এক সময় নিজেদের জাত শত্রুতে পরিণত হবে, এবং তার ইঙ্গিতও মুভির শেষে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এবারের মুভির ভিলেন হিসেবে ছিল দুটি চরিত্র, ‘ক্যাসিলিয়াস’ ও ‘ডরমামু’। ‘ক্যাসিলিয়াস’ একদা ‘এনশিয়েন্ট ওয়ান’ এর সব থেকে ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিল যে কিনা ডার্ক ডায়মেনশনের গড ‘ডরমামু’র ডার্ক পাওয়ারের প্রলোভনে পড়ে নিজের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। ‘ক্যাসিলিয়াস’ এর নিজস্ব কিছু থিউরী আছে যা আপনি মানতেও পারবেন না আবার ফেলেও দিতে পারবেন না। এখানেই এই চরিত্রের শক্তিশালী বেজ তৈরী হয়েছে। এই চরিত্রটিকে একমাত্র তুলনা করা যায় ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের ‘ডার্থ ভেডার’ এর সাথে। এ যেন ‘মার্ভেল’ এরই ‘ডার্থ ভেডার’ যার চরিত্রে ভয়ংকর অভিনয় করেছেন ‘হ্যানিবল’ খ্যাত ‘ম্যাডস মিকেলসন’। তার উপস্থিতি একটু কম হলেও যতটুকু সময় সে পর্দায় ছিল ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, ‘কার্ল মরডো’ ও ‘এনশিয়েন্ট ওয়ান’ এর ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে সে। ‘ম্য্যাডস মিকেলসন’ও ‘বেনেডিক্ট’ এর মত বিখ্যাত তার বাচন ভঙ্গি, একসেন্ট, গলার ভয়েজ ও শব্দের উচ্চারণের কারণে যা তাকে বানিয়েছে ‘হ্যানিবল লেক্টার’ এর মত ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার। তাই ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর সাথে তার হিউমার পুর্ণ আলাপ গুলো ছিল এ মুভির অন্যতম বেস্ট মোমেন্ট, কিন্তু আফসোস তাকে যদি আরো বেশী সময় কথা বলানো হত কারণ গোটা মুভিতে তার সংলাপ ছিল খুবই কম। তাকে কথা কম, ভাংচুর করতে পাওয়া গেছে বেশী। তার সহযোগী হিসেবে ‘লুসিয়ান’ চরিত্রে ছিল বিখ্যাত মার্শাল আর্ট অভিজ্ঞ অভিনেতা ‘স্কট অ্যাডকিন্স’। ‘ম্যাডস’ ও ‘বেনেডিক্ট’ এর ছায়ার তলে পড়ে আমার খুবই প্রিয় এই অসাধারণ অভিনেতাটির কথা কেউ মনেই রাখেনি কিন্তু তার সাথে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর স্পিরিচুয়াল ফাইট ছিল এ মুভির অন্যতম বেস্ট অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স এবং ‘ক্যাসিলিয়াস’ এর থেকে ‘লুসিয়ান’কে মারতেই ‘ডক্টর’কে অনেক বেশী কাঠ-খঁড় পোঁড়াতে হয়েছে। অবশেষে, ‘ডরমামু’ ! মুভির শেষে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ ও ডার্ক ডায়মেনশন এর গড ‘ডরমামু’র সাথে কাটানো কয়েক মিনিট ছিল এই মুভির সর্বশ্রেষ্ঠ এন্টারটেইনিং ও শ্বাসরুদ্ধকর পার্ট। ‘ডরমামু’ এমনই এক চরিত্র যার সাথে তুলনা করা যায় ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর-রাইজ অফ সিলভার সার্ফার’ এর ভিলেন ‘গ্যালাকটাস’ এর সাথে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ‘ডরমামু’ চরিত্রটির কোন ফিজিক্যাল ফিগার নেই, শুধুই ভয়েজ আছে আর এই ভয়েজ দিয়েছে স্বয়ং ‘বেনেডিক্ট কামব্যারব্যাচ’ নিজেই। প্রথমে কথা ছিল এই চরিত্রটকে বানানো হবে এক প্রকান্ড, ভয়ংকর ও ভৌতিক ফিজিক্যাল দানব হিসেবে কিন্তু পরবর্তীতে ‘বেনেডিক্ট’ নিজেই পরিচালক ‘স্কট ডেরিকসন’ এর কাছে গিয়ে আইডিয়া দেন যে এভাবে না করে একে এক রহস্যময় ভৌতিক রিফ্লেকশন হিসেবে দেখানো হোক যার শুধু ভয়েজ শোনা যাবে এবং ‘বেনেডিক্ট’ নিজেই সেই ভয়েজ দিতে চান। ‘ডেরিকসন’ এই আইডিয়াটি দারুণ পছন্দ করেন ও শুরু হয় ‘বেনেডিক্ট’কে দিয়ে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘ডরমামু’ তৈরী ও ভয়েজ রেকর্ডিং। যারা ‘হবিট’ সিরিজ দেখেছেন তারাই জানেন ‘বেনেডিক্ট’ এর মনস্টার ভয়েজ কতটা ভয়ংকর। অবশেষে, তাদের সব ধারনা চেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে ‘বেনেডিক্ট’ এর দেয়া ‘ডরমামু’র ভয়েজ শুনলে।

 

 

 

doctor-strange-nyc

 

 
এ মুভির প্লট নিয়ে বলার কিছুই নেই। ট্রেলার দেখে, কমিক পড়ে ও অ্যানিমেশন দেখে অনেকেই মুভির গল্পের থিমটি জানেন। গল্পটি অরিজিন স্টোরী হিসেবে যথেষ্ঠ স্ট্রং ছিল তবে কেন জানি কাকতালীয় ভাবে গল্পটি ২০১১ সালের ‘রায়ান রেনল্ডস’ অভিনীত ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ এর সাথে মিলে গেছে। মুভিটি দেখতে গিয়ে অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে এসব যেন এর আগেও দেখেছি। কিসের সাথে যেন মিল আছে। এ ছাড়াও এ মুভির টাইম ট্রাভেলের যে সিন গুলো দেখানো হয়েছে তার সাথে মিল ছিল ২০১৪ সালের ‘টম ক্রুজ’ অভিনীত ‘এজ অফ টুমরো’ এর। সব মিলিয়ে এ মুভির গল্প, চরিত্র ও সিকোয়েন্সের অনেক কিছুই আপনাকে মনে করিয়ে দেবে হলিউডের অনেক বিখ্যাত মুভির চরিত্র ও গল্পের রেফারেন্স। পরিচালক ‘স্কট ডেরিকসন’ যে খুবই সুক্ষভাবে সেই সব মুভি থেকে ইন্সপায়ার হয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। তবে তাই বলে এটা মনে করার কোন অবকাশ নেই যে গল্পের থিম ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ এর সাথে মিলে গেছে বা অনেক চরিত্র ও সিকোয়েন্স কমন ছিল বলে এ মুভিতে দেখার মত কিছুই নেই। এ মুভির প্রধাণ দেখার জিনিসটিই হল প্রেজেন্টেশন। আপনাকে চেনা জিনিস গুলোই অচেনার মোড়কে মুড়িয়ে এমন ভাবে দেখানো হবে যে আপনি ভাবার কোন অবকাশই পাবেন না যে এগুলোর সাথে অন্য কিসের মিল আছে, বিশেষ করে সবার অভিনয় ও স্পেশ্যাল ইফেক্টের কথা তো না বললেই নয়। ‘হ্যারি পটার’, ‘ইনসেপসন’, ‘ইনটারস্টেলার’ এর মায়েরে বাপ করে ছেড়েছে এই মুভি। অসাধারণ থ্রি-ডি এক্সপেরিয়েন্স হবে আপনার মুভিটি দেখতে গিয়ে যা আপনি দেখেননি এর আগে। মুভির অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি দৃশ্য ছিল ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টের সিনটি যা বড় পর্দায় থ্রি-ডিতে দেখে এতটাই ভয়ংকর লাগবে যে আপনার গা শিউরে উঠতে বাধ্য। কিন্তু আফসোস, এই থ্রি-ডির অরিজিনাল মজা একমাত্র নেয়া সম্ভব আইম্যাক্স থিয়েটার বা আমেরিকার বড় বড় থ্রি-ডি হল গুলোতে। আমাদের ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ এর দুই নাম্বার থ্রি-ডিতে শুধুই দইয়ের স্বাধ দুধে মেটানো সম্ভব কিন্তু অরিজিনাল থ্রি-ডি এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া সম্ভব নয়। ভিজুয়াল ইফেক্ট ছাড়াও মুভির অন্যতম বেস্ট পার্ট ছিল মিউজিক ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর যা আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখবে এক ম্যাজিকেল দুনিয়ায়। ‘মার্ভেল’ সিরিজের মুভিগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে এই মুভিতে। মুভিতে হিউমারের বিচরণ ছিল প্রচুর পরিমাণে। এত পরিমাণে হিউমারের ছড়াছড়ি এর আগে কোন মার্ভেল মুভিতে দেখা যায়নি, এমনকি ‘অ্যান্ট ম্যান’ এও না। হলে আমরা গলা ফাটিয়ে হেসেছি হিউমার মোমেন্ট গুলোতে। কিন্তু কিছু কিছু সিরিয়াস মোমেন্টে হিউমারের ব্যবহার গোটা সিরিয়াস টোনটাই নষ্ট করে দিয়েছে যা মোটেও শোভনীয় ছিল না। আমরা হেসেছি ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়েছে, ধুর এখানে হিউমার দেয়া উচিত হয়নি। সিরিয়াস মুডিটাই নষ্ট হয়ে গেল। ডিসি ভক্তরা যারা ‘মার্ভেল’ মুভিকে হিউমারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য পঁচায়, তারা খুব ভাল মতই সুযোগ পাবে এই মুভিকে ধুয়ে দেবার।

 

 

 

doctor-strange-empire-subscribers-cover

 

 
অবশেষে, ১৬৫ মিলিয়ন বাজেটের ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ রিলিজের পর এখন পর্যন্ত ‘পঁচা টমেটো’ থেকে ৯০% ফ্রেশ রেটিং ও ‘IMDb’ থেকে ৮ রেটিং পেয়ে সমালোচকদের পুরাই মন জয় করে নিয়েছে। মুভিটির শেষে একটি মিড ক্রেডিট সিন আছে যা এ যাবত কালের ‘মার্ভেল’ সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’ এর সর্ব শ্রেষ্ঠ মিড ক্রেডিট সিন যা দেখে আমরা হলের সবাই আনন্দে চিৎকার করে হাত তালি দিয়েছি। আমি স্পয়লার দিতে চাই না, আপনারা নিজ দ্বায়িত্বে দেখে নিবেন সেটি। যদি মিস করেন তবে মনে রাখবেন আপনাদের টিকিটের টাকার ১২ আনাই মাটি। আর পোস্ট ক্রেডিট সিনে নেক্সট ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ মুভির সম্ভাব্য ভিলেনের আগমণের হিন্ট দিয়ে দেখা হয়েছে। পরিচালক ‘স্কট ডেরিকসন’ অলরেডি ২য় পর্বের আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ টু’ মুভিটিকে ‘দ্য ডার্ক নাইট’ এর মত করে তৈরী করবেন, যেখানে থাকবে কোন এক লেজেন্ডারী ভিলেন এবং গোটা মুভিটিই হবে ভিলেন কেন্দ্রীক তাই তিনি ১ম পর্বে ভিলেন ‘ক্যাসিলিয়াস’ ও ‘ডরমামু’ এর থেকে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ চরিত্রটিকে বেশী সময় দিয়ে বিল্ড আপ করেছেন যেন তিনি ২য় পর্বে সম্পুর্ণ ভিলেনের চরিত্রের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারেন যেমনটা করা হয়েছিল ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’ ও ‘দ্যা ডার্ক নাইট’ মুভিতে। ‘স্কট ডেরিকসন’ যে ‘ক্রিস্টোফার নোলান’ থেকে খুব ভাল মতই ইন্সপায়ার সেটা তো মুভির ভিজুয়াল দেখলেই বোঝা যায়, এবার ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ টু’ দেখলে আরো ভাল মত বোঝা যাবে। অবশেষে, এ মুভির মাধ্যমে পরিচয় করানো হলো ‘আই অফ আগামটো’ ওরফে ‘টাইম স্টোন’ এর। হারাধনের ৬টি ছেলে, রইলো বাকি ১, ‘সোল স্টোন’। আশা করা যায় সেটা আগামী বছর ‘থর-র‍্যাগনারক’ বা ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য গ্যালাক্সী ভলিউম টু’ তে প্রকাশিত হবে। আর ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর জার্নি এখানেই শেষ নয়, সে অলরেডি কনফার্ম হয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জারস-ইনফিনিটি ওয়ার’ মুভিতে আর এর আগেও তাকে দেখা যাবে ২০১৭ সালে ‘থর-র‍্যাগনারক’ মুভিতে ‘থর’ ও ‘লোকি’কে তাদের বাবা ‘ওডিন’কে খুঁজে বের করার জন্য সাহায্য করতে। আপাতত সেই পর্যন্ত চলতে থাকুক ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ এর স্ট্রেঞ্জ ম্যাজিক ও ‘বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ’ এর প্রত্যাশিত সাফল্য… !!!

Doctor Strange (2016)
Doctor Strange poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Scott Derrickson
Writer: Scott Derrickson (screenplay), C. Robert Cargill (screenplay), Jon Spaihts (story by), Scott Derrickson (story by), C. Robert Cargill (story by), Steve Ditko (comic book)
Stars: Rachel McAdams, Benedict Cumberbatch, Amy Landecker, Mads Mikkelsen
Runtime: 115 min
Rated: PG-13
Genre: Action, Adventure, Fantasy
Released: 04 Nov 2016
Plot: A neurosurgeon with a destroyed career sets out to repair his hands only to find himself protecting the world from inter-dimensional threats.

(Visited 1,311 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন