‘Star Trek Beyond’ (2016) হতাশা Beyond এক্সপেক্টেশন… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
star-trek-beyond-poster-international
আমরা সবাই ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের সাথে কম বেশী পরিচিত। মহাশূণ্যে দুর্দান্ত সব অভিযান ও ভয়ংকর ভিলেনের সাথে টক্কর সব মিলিয়ে ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজ মানেই হচ্ছে এক অন্য মাত্রার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এই সিরিজ সেই ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসছে এবং সিরিজের ১০টি মুভি রিলিজের পর ২০০৯ সালে এসে এই সিরিজ রিবুট হয়ে নতুন করে নতুন আঙ্গিকে আবার রূপালী পর্দায় এসে হাজির হয়েছে। ‘মিশন ইম্পসিবল থ্রি’ খ্যাত বিখ্যাত পরিচালক ‘জে জে আব্রামস’ এর পরিচালনায় ২০০৯ সালে সিরিজের ১১তম নতুন রিবুট ‘স্টার ট্রেক’ মুভিটি আবার এই সিরিজটিকে জীবিত করে তোলে এবং গোটা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে সর্বমোট ৩৮৫ মিলিয়ন আয় করে। অতঃপর ২০১৩ সালে ‘জে জে আব্রামস’ এর হাত ধরে আবার মহাশূণ্য কাঁপাতে হাজির হয় ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ যা পুর্ববর্তী মুভির থেকেও বেশী আয় করে (৪৬৭ মিলিয়ন) বিশাল মাপের হিট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই বছর সিরিজের ৫০ তম অ্যানিভার্সারিতে রিলিজ পেয়েছে রিবুট সিরিজের ৩য় মুভি ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ তবে পরিচালকের আসনে নেই ‘স্টার ট্রেক’ কে পুনরায় জন্মদানকারী ‘জে জে আব্রামস’, তিনি চলে গেছেন বরং ‘স্টার ওয়ার্স’ কে পুনরায় জন্ম দিতে। যার হাত ধরে ‘স্টার ট্রেক’ আবার নতুন করে বিশ্ব মাতিয়েছে, সেই ব্যক্তির হাতেই তৈরী ‘স্টার ওয়ার্স-ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’ একটুর জন্য ব্যর্থ হয়েছে ‘অ্যাভাটার’ এর রেকর্ড ভাঙ্গতে। ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ পরিচালনার আসনে আছেন ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজকে পুনরায় জন্মদানকারী ভাংচুর স্পেশ্যালিস্ট ‘জাস্টিন লিন’।
trek posters
USS এন্টারপ্রাইজ স্টারশিপের সদস্য ক্যাপ্টেন ‘জেমস টি কার্ক’, কমান্ডার ‘স্পক’, চিফ মেডিকেল অফিসার ‘লিওনার্ড ম্যাকয় বোন্স’, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ‘মন্টাগোমেরি স্কট’, ল্যাফটেন্যান্ট ‘নিয়টা উহুরা’, ল্যাফটেন্যান্ট ‘হিকারু সুলু’ এবং মেইন নেভিগেটর ‘পাভেল চেকভ’ এরা সবাই ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজে একটি পরিবারের মত। একজনকে ছাড়া কখনোই গোটা টিম চলতে পারে না। তাদের মধ্যকার বন্ডিং অত্যান্ত শক্তিশালী এবং তারা প্রত্যেকেই সমান গুরুত্বপুর্ণ বিপদ মোকাবেলা ও স্টার শিপ কন্ট্রলে। ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ এমনই এক মহাজাগতীক জার্নির গল্প যেখানে মহাশূণ্যে এক বিপজ্জনক মিশনে যাবার পথে অজানা এলিয়েন বাহিনীর আক্রমনে ধবংস হয়ে যায় এন্টারপ্রাইজ শিপ। ‘ক্যাপ্টেন কার্ক’ তার বাহিনী নিয়ে ল্যান্ড করে একটি নতুন অপরিচিত গ্রহে। অতঃপর সেই গ্রহের এক অধিবাসী এলিয়েনের সাথে মিলে তারা মুখোমুখি হয় আরেক বর্বর ভিলেনের। তারা প্ল্যান করতে থাকে সেই গ্রহ থেকে বের হবার এবং সেই ভিলেনকে থামিয়ে তার ধবংস পরিকল্পনা প্রতিহত করার। গল্পের কথা বলতে গেলে এবারের পর্বটি গত দুটির পর্বের তুলনায় যথেষ্ঠ দুর্বল। এবারের গল্পটি মোটেই স্ট্রং ও টুইস্টে ভরপুর ছিল না। গল্পটি খুবই সহজ, সরল ও সাদামাটা ভাবে এগিয়েছেন এবং গল্পটি আবারও গত দুই পর্বের মত রিভেঞ্জ স্টোরী হয়ে গেছে। এবারের মুভিটি ছিল বেশ স্লো ও মুভির কিছু কিছু অংশ ছিল বেশ বোরিং। অ্যাকশনের কথা বলতে গেলে স্পেশ্যাল ইফেক্ট গুলো অত্যান্ত চোখ ধাঁধানো ছিল বিশেষ করে মহাশূণ্যের অ্যাকশন দৃশ্য গুলো, কিন্তু অভারঅল আহামরি কিছুই ছিল না। মুভির গল্প ও চিত্রনাট্যের একটি ভাল দিক ছিল, এবারের পর্বে প্রতিটি চরিত্রকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বিশেষ করে ‘স্কট’, ‘সুলু’ ও ‘চেকভ’ চরিত্র ৩টিকে যারা গত পর্ব ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ মুভিতে ছিল শোপিসের মত। এছাড়া এবারের পর্বে ছিল যথেষ্ট হিউমারে পরিপুর্ণ যা ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ এ ছিল পুরোপুরি মিসিং।
eric_bana_nero
Star_Trek_Into_DarknessKhan_freecomputerdesktopwallpaper_1920
কিছু কিছু মুভি আছে যেখানে নায়কের থেকে ভিলেন চরিত্রগুলো দর্শককে বেশী করে টানে। দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে বসে থাকে সেই মুভির পরবর্তী পর্বের ভিলেন চরিত্রের জন্য। আমরা যদি হলিউডে চোখ রাখি তবে এমন মন কাঁড়া ভিলেনের অভাব হবে না। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ মুভির ‘জোকার’, ‘থর’ মুভির ‘লোকি’, ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ মুভির ‘ডেকার্ড শ’, ‘শার্লক’ টিভি সিরিজের ‘জিম মরিয়ার্টি’, ‘হ্যানিবল লেক্টার’, ‘ডেক্সটার’ ইত্যাদি ইত্যাদি। ২০০৯ সালের রিবুট ‘স্টার ট্রেক’ মুভির ভিলেন ‘ক্যাপ্টেন নিরো’ চরিত্রে অভিনয় করেন ‘হাল্ক’ খ্যাত বিখ্যাত অভিনেতা ‘এরিক বানা’। টাক মাথার ট্যাটু আঁকানো ভয়ঙ্কর চেহারার ‘এরিক বানা’ গোটা মুভিতে ধবংসলীলা কম করেননি। মুভির শেষে তাকে মারতে গোটা এন্টারপ্রাইজ টিমকে পুরাই নাকানি চুবানি খেতে হয়। সব মিলিয়ে ‘এরিক বানা’ অভিনীত ‘ক্যাপ্টেন নিরো’ চরিত্রটি ‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের আজীবন মনে থাকবে তার হিংস্রতার কারণে। এর পর ২০১৩ সালে ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ মুভিতে হাজির হয় এ সিরিজের সব থেকে দুধর্ষ ও ভয়ঙ্কর ভিলেন ‘খান নুনিয়ান শিং’, এবং এই চরিত্রে অভিনয় করেন বিশ্ব বিখ্যাত ‘শার্লক’ খ্যাত সুপার ট্যালেন্টেড অভিনেতা ‘বেনেডিক্ট কামবারব্যাচ’। ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ মুভিতে এই অভিনেতাটি তার মুখের এক্সপ্রেশন, শব্দের উচ্চারণ ও গলার ভয়েজ সব মিলিয়ে তার প্রতিটি মুভমেন্ট দিয়ে এমন এক ভিলেনের প্রতিকৃতি তৈরী করেন যা জয় করে নেয় কোটি কোটি ভক্তদের হৃদয়। ‘ক্যাপ্টেন নিরো’ সাজতে ‘এরিক বানা’কে টাক হতে হয়েছিল, মুখে ও মাথায় ট্যাটু একে ও নকল কান লাগিয়ে নিজের চেহারাকে ভয়ঙ্কর ও হিংস্র করে তুলতে হয়েছিল, কিন্তু ‘খান নুনিয়ান শিং’ হিসেবে ‘বেনেডিক্ট কামবারব্যাচ’ কে কোন এক্সট্রা মেক আপ নিয়ে পর্দায় আসতে হয়নি। সে তার স্বাভাবিক চেহারা, ছোট চুল, হ্যান্ডসাম লুকিং ও স্বাভাবিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়েই পর্দায় যে পরিমাণ হিংস্রতা, ষড়যন্ত্র ও ধবংলীলা দেখিয়েছে তা ‘এরিক বানা’র ‘ক্যাপ্টেন নিরো’কেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে আমার মতে এই মুভিতে পরিচালক ‘বেনেডিক্ট কামবারব্যাচ’কে ঠিক মত ব্যবহার করতে পারেননি এবং তার ‘খান’ চরিত্রটিকে খুব বেশী সুযোগ দেয়া হয়নি নিজেকে মেলে ধরতে যতটা দেয়া হয়েছিল ‘এরিক বানা’র ‘ক্যাপ্টেন নিরো’ চরিত্রটিকে।
Star-Trek-Beyond-Idris-Elba
star-trek-beyond
এখন প্রশ্ন সিরিজের ৩য় পর্বের ভিলেন কে ? একটি দীর্ঘ বিরতীর পর যখন রিবুট সিরিজের ৩য় মুভির নাম, পরিচালক ও রিলিজ ডেট ঘোষনা হল তখন থেকেই ভক্তদের মনে জল্পনা কল্পনা বাসা বাধা শুরু করলো যে এবারের পর্বের ভিলেন চরিত্রে কে থাকবে তা নিয়ে। যখন মুভির কাস্টিং প্রকাশ করা হল তখন পুর্বের পর্বের আর সকল চেনা মুখের সাথে যোগ হল একটি নতুন নাম ‘এদ্রিস এলবা’। অবশেষে, জানা গেল এবারের পর্বের ভিলেন ‘ক্রাল’ হিসেবে পর্দায় আবির্ভাব ঘটবে ‘লুথার’ খ্যাত এই শক্তিমান অভিনেতার। তারপর থেকেই অপেক্ষা এই মুভির ট্রেলারের জন্য। ‘এদ্রিস এলবা’র ভিলেন লুক ‘ক্রাল’ এক ঝলক দেখা পাবার জন্য। অবশেষে, যখন ট্রেলার প্রকাশ হল গোটা ট্রেলারটি আমি বার বার দেখেছি কিন্তু কোথাও আমার প্রিয় এই অভিনেতাকে খুঁজে পাইনি। পরে নেটে খবর পড়ে জানলাম যে এই মুভিতে ‘এদ্রিস এলবা’কে দেয়া হয়েছে এক ভিনগ্রহী এলিয়েনের মেক আপ যার ফলে ঢাকা পড়ে গেছে তার আসল চেহারা। অতঃপর যখন ট্রেলারটি আবার অন করলাম অবশেষে আমি ‘এদ্রিস এলবা’কে খুঁজে পেলাম এবং তার চেহারা দেখে আমার তখন রাগে দুঃখে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল। মনে মনে ভাবলাম মুভিতে যদি মেক আপের ঠ্যালায় অভিনেতার চেহারাই চিনতে না পারি, তবে কি দরকার এত টাকা খরচ করে এত দামী অভিনেতাকে ভাড়া করার ? মেক আপ দিয়ে যখন চেহারাই ঢেকে দিব তখন কোন এক অগা মগা বগা কে ধরে মেক আপ করিয়ে দিলেই তো হত। এভাবে আমাদের মত দর্শকদের সাথে প্রতারণা করার কি দরকার ? কেন, ‘এরিক বানা’ও তো মেক আপ নিয়েছিল কিন্তু তাতে তার চেহারা তো ঢাকা পড়ে নাই। আর ‘বেনেডিক্ট’ তো বিনা মেক আপেই মুভি কাপিয়েছে তাহলে কেন এই কাহিনীটা করতে গেল পরিচালক ? ‘এদিস এলবা’র চেহারাতো ‘এরিক বানা’ ও ‘বেনেডিক্ট’ এর থেকেও দুধর্ষ ও অনেক ভাব গম্ভীর। তাকে দেখলেই মনে হয় এই অভিনেতার জন্ম হয়েছে ভিলেন চরিত্র করার জন্য। অথচ ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ মুভিতে তার চেহারা এমন বানানো হয়েছে যে তাকে দেখতে মনে হচ্ছিল ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ মুভির কোন সি গ্রেড এলিয়েন। গোটা মুভিতে ‘এদ্রিস এলবা’র ভয়েজ ছাড়া তাকে খুঁজে পাবার কোন সম্ভাবনাই নেই। পাশাপাশি তাকে এমন এক চেহারা দেয়া হয়েছে যে, সে আর তার সাঙ্গো-পাঙ্গোদের মধ্যে থেকে কোনটা ‘ক্রাল’ সেটা খুঁজে বের করাই কনফিউশনের ব্যাপার। সবারই সেম উদ্ভট মেক আপ। গোটা মুভিতে ‘এদ্রিস এলবা’র ‘ক্রাল’ চরিত্রটির ব্যাপ্তি খুবই কম ছিল এবং এই ভিলেন যে আসলে কি চায়, তার মোটিভটাই ঠিক মত ক্লিয়ার ছিল না। পাশাপাশি মুভির শেষে এই চরিত্রটির যেভাবে অ্যাকশনের দ্বারা ফিনিশিং টানা হয়েছে তা খুবই সস্তা ও হতাশাজনক ছিল বিশেষে করে ‘ক্যাপ্টেন নিরো’ ও ‘খান নুনিয়ান শিং’ এর মত মোটেই দুধর্ষ ছিল না ‘ক্রাল’ এর ফিনিশিং।
star-trek-3-beyond-image-19
star-trek-3-beyond-image-29
আগেই বলেছি, এবারের পর্বের পরিচালনার দ্বায়িত্বে আছে ‘জাস্টিন লিন’। ‘জাস্টিন লিন’ এর মূলত কর্ম ক্ষেত্র হচ্ছে রাস্তা-ঘাট, কারণ তার কাজই হচ্ছে ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে রাস্তা-ঘাটে অগণিত গাড়ি ভাংচুর করা, তাই ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ মুভিতে তিনি এবার স্বয়ং ‘স্টার ট্রেক’ বাহিনীকেই মহাশূণ্য থেকে ভূমীতে নামিয়ে এনেছেন যেন তিনি তার মনের সুখে যানবাহন এবং এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করে ভাংচুর করতে পারেন। গোটা মুভিতে দেখা যাবে ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ স্টাইলের রক মিউজিক যা আগের দুটি পর্বের থেকে আলাদা। এমনকি মুভিতে দেখানো একটি দৃশ্যে দেখা যায় যে ‘ক্যাপ্টেন কার্ক’ ও ‘জায়লাহ’ শূণ্য থেকে লাফ দিয়ে পরস্বপর পরস্বপরের হাত ধরে টেলিপোর্ট করে যা কিনা ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিক্স’ মুভির রাস্তায় ট্যাঙ্ক এর অ্যাকশনের সময় ট্যাঙ্ক উলটে ‘লেটি’ যখন ছিটকে পড়ে তখন ‘ডম’ শূণ্যে ডাইভ দিয়ে যেভাবে ‘লেটি’কে লুফে নেয় সেই দৃশ্যটির হুবহু টুইন কপি। সব মিলিয়ে আমার মতে ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ মুভিটির নাম হওয়া উচিত ছিল ‘স্টার ট্রেক-ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’। এবারের গোটা মুভিটি একাই টেনে নিয়ে গেছে ‘ক্যাপ্টেন কার্ক’ চরিত্রের ‘ক্রিস পাইন’ তার বরাবরের মতই নানান রকম বেপরোয়া ও দুধর্ষ পরিকল্পনা নিয়ে এবং ‘লিওনার্ড ম্যাকয় বোন্স’ চরিত্রে ‘কার্ল আরবান’ তার স্বভাব সিদ্ধ হিউমার দিয়ে। বিশেষ করে ‘কার্ল আরবান’ এর ‘বোন্স’ চরিত্রের হিউমারপুর্ণ অ্যাক্টিং ছিল এই মুভির মূল প্রাণ। এই দুজন ছাড়া গোটা মুভিতে ‘স্পক’, ‘উহুরা’ এমনকি ‘ক্রাল’ চরিত্রে ‘এদ্রিস এলবা’র করার মত কিছুই ছিল না এবং তারা মোটেও দর্শকের মন কাঁড়তে পারেনি। তবে ভাল লেগেছে ‘জায়লাহ’ চরিত্রে ‘স্ট্রিট ড্যান্স টু’ ও ‘কিংসম্যান’ খ্যাত ‘সোফিয়া বউতেল্লা’কে, যদিও কিছু কিছু জায়গায় তার উদ্ভট এলিয়েনের মেক আপের কারণে তাকে চরম বাজে লেগেছে। এবারের মুভিটি দেখে বিরক্ত সৃষ্টির প্রধাণ কারণই এই সব বাজে মেক আপ। সব মিলিয়ে এবারের পর্বটি সব দিক থেকে পুর্বের দুই পর্বের সাথে তুলনা করলে সকল প্রকার প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ।
Star-Trek-Justin-Lin
‘Justin Lin’ On The Set of ‘Star Trek Beyond’
‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ মুভিটি ‘IMDb’ থেকে ৭.৩ রেটিং এবং ‘পঁচা টমেটো’ থেকে ৮৪% ফ্রেশ রেটিং পেয়ে সমালোচকদের মন জয় করেছে ঠিকই কিন্তু দর্শকেরা এবারের পর্বটিকে পুরোপুরি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। ১৮৫ মিলিয়ন বাজেটের ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ উত্তর আমেরিকায় (ডমেস্টিক বক্স অফিস) আয় করেছে হতাশাজনক মাত্র ১৫৮ মিলিয়ন ও বহিঃবিশ্বে মাত্র ১৭৯ মিলিয়ন অর্থাৎ মুভিটি দেশে ও বিদেশে দুই জায়গাতেই ফ্লপের খাতায় নাম লিখিয়েছে। মুভিটির এই ব্যর্থতার জন্য আমি দায়ী করবো একমাত্র মুভির ভিলেন চরিত্রে ‘এদ্রিস এলবা’কে চরম বাজে ও যাচ্ছে তাই ভাবে ব্যবহার করার জন্য এবং মুভিটি লাইট টোনে বানানোর জন্য। ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস’ ছিল যথেষ্ট পরিমাণে ডার্ক থিমের মুভি অথচ ‘স্টার ট্রেক বিয়ন্ড’ মুভিটি অত্যান্ত লাইট মুডের হয়ে গেছে যা সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে একদমই ম্যাচ করেনি। এই জন্য কথায় বলে বন্যেরা বনে সুন্দর, ‘জাস্টিন লিন’ রাস্তা-ঘাটে। গোটা মুভিতে ‘জে জে আব্রামস’ কে যে কি পরিমাণ মিস করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মুভির নাম ‘Beyond’ যে কেন রাখা হল, গোটা মুভিতে সেটাই বোধগম্য না। নামকরণের কোনই সার্থকতাই নেই মুভির গল্পে। যাই হোক, এবারের পর্ব ডুব খেলেও স্টুডিও এই মুভি রিলিজের আগেই ঘোষনা দিয়েছে ‘স্টার ট্রেক ফোর’ এর যেখানে ‘ক্যাপ্টেন কার্ক’ এর বাবা ‘ক্যাটেন জর্জ কার্ক’ চরিত্রটি ফিরে আসবে এবং এই চরিত্রে দেখা যাবে ‘থর’ খ্যাত ‘ক্রিস হেমসওর্থ’কে। কিন্তু একটাই আফসোস, সবাই ফিরে আসলেও ফিরে আসবে না ‘চেকভ’ চরিত্রে ‘অ্যান্টন ইয়েলচিন’ এ বছর একটি দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হবার কারণে। খুব মিস করবো ‘চেকভ’ চরিত্রটিকে। স্টুডিও বলে দিয়েছে ‘চেকভ’ চরিত্রে অন্য কাউকে দিয়ে তারা কোন রিপ্লেসমেন্ট করবে না। এখন শুধু একটিই অপেক্ষা, ‘খান নুনিয়ান শিং’ এর ফিরে আসার। কারণ এই চরিত্রটি এখনো বেঁচে আছে হাইপার স্লিপে এবং আশা করি স্টুডিও তাকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে সিরিজটিকে এবারের ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচাবে।
We Really Can’t Wait To See ‘Benedict Cumberbatch’ Again… !!!
idris-elba-1024
Star Trek Beyond (2016)
Star Trek Beyond poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Justin Lin
Writer: Simon Pegg, Doug Jung, Roberto Orci, John D. Payne, Patrick McKay, Gene Roddenberry (television series "Star Trek")
Stars: Sofia Boutella, Simon Pegg, Idris Elba, Chris Pine
Runtime: N/A
Rated: N/A
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi
Released: 22 Jul 2016
Plot: The plot is unknown at this time.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. রিভিউটা চমৎকার হয়েছে। পরিশ্রমসাধ্য ও চিন্তাদীপ্ত লেখা। (y)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন