‘Ghostbusters’ ক্ল্যাসিক সিরিজ – Who You Gonna Call ?

chk_captcha-002

 

 

 

ছোটবেলায় আমরা যারা যারা ‘বিটিভি’তে কার্টুন দেখে বড় হয়েছি তারা কম বেশী সবাই ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ নামক কার্টুনটির সাথে পরিচিত। একদল শখের প্যারাসাইকোলজিস্ট সায়েন্টিস্ট যাদের কাজ ছিল শহরের উপদ্রব করা ভূত গুলোকে ধরে আটকে রেখে শহরের নিরাপত্তা বজায় রাখা। ভূতেদের যম এই ‘ঘোস্টবাস্টার্স’দের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল ‘স্লাইমার’ নামক এক পিচ্চি ফ্রেন্ডলি ভূত যার নানান রকম হাস্য-রসাত্বক কাজ কর্মে মেতে থাকতো প্রতিটি পর্ব। অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় ছিল এই কার্টুন সিরিজটি সেই ১৯ শতকের সময়ে যা নিয়ে পরবর্তিতে ৩টি মুভিও নির্মাণ করা হয়।

 

 

 

26774-001

 

 

 

সর্ব প্রথম ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ এর সুচনা ঘটে টিভি পর্দায় ১৯৭৫ সালে টিভি সিরিজ আকারে, তবে কোন অ্যানিমেশন নয় বরং লাইভ অ্যাকশন রূপে। ১৫টি এপিসোডের সেই টিভি সিরিজটি এতটিই জনপ্রিয় হয় যে পরবর্তিতে ১৯৮৪ ও ১৯৮৯ সালে ‘কলম্বিয়া পিকচার্স’ ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ টিভি সিরিজ অবলম্বনে ২টি মুভি নির্মাণ করে যেগুলো ব্যাপক আকারে হিট হয়। ১৯৮৪ সালের প্রথম ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ মুভির সফলতার পর ১৯৮৬ সালে টিভিতে সম্প্রচার শুরু হয় ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ নামক নতুন অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ যা মূলত বানানো হয়েছিল ১৯৭৫ সালের প্রথম লাইভ অ্যাকশন টিভি সিরিজটির চরিত্রগুলোর উপর বেজ করে। ৬৫টি এপিসোডের এই টিভি সিরিজটি সম্প্রচারিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আবার ঐ একই বছরেই সম্প্রচারিত হয়েছিল ‘দ্য রিয়েল ঘোস্টবাস্টার্স’ নামক আরেকটি নতুন অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ যা মূলত ১৯৮৪ সালের ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ মুভিটিরই চরিত্র গুলোকে নিয়ে তৈরী। মোট ৭টি সিজনের ১৪০টি এপিসোডের এই টিভি সিরিজটি সম্প্রচারিত হয়েছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ থেকে ৫ অক্টোবর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ‘দ্য রিয়েল ঘোস্টবাস্টার্স’ টিভি সিরিজ ও ১৯৮৪ সালের মুভিটির উপর বেজ করে ‘মার্ভেল কমিক’ এর আন্ডারে ১৯৮৮ সাল থেকে ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ কমিক বের হওয়া শুরু করে। অতঃপর ১৯৯৭ সালে পুনরায় টিভিতে সম্প্রচার শুরু হয় ‘এক্সট্রিম ঘোস্টবাস্টার্স’ নামক নতুন আরেকটি অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ যা ছিল ‘দ্য রিয়েল ঘোস্টবাস্টার্স’ টিভি সিরিজেরই সিক্যুয়াল। ৪০টি এপিসোডের এই টিভি সিরিজটি সম্প্রচারিত হয় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমরা ছোটবেলায় ‘বিটিভি’তে যে ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ কার্টুন দেখেছি, সেটিই ছিল এই ‘এক্সট্রিম ঘোস্টবাস্টার্স’ টিভি সিরিজটি।

 

 

 

ghostbusters_ver3_xlg-001

 

 

 

‘Ghostbusters’ (1984)

 

 

১৯৮৪ সালে সর্ব প্রথম মুক্তি পায় লাইভ অ্যাকশন ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ মুভি যার গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন সায়েন্টিস্টকে নিয়ে যাদেরকে গোটা দুনিয়া তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ‘লুজার’ হিসেবে জানে তাদের উদ্ভট ভূত নিয়ে গবেষণার কারণে। অতঃপর তারা একত্রিত হয়ে গঠণ করে ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ কোম্পানী এবং টাকার বিনিময়ে শহরের নানান বাড়ি থেকে ভূতেদের উপদ্রব দূর করে। অতঃপর মুভির নায়িকা ‘ডানা’ যে কিনা তাদের একজন ক্লায়েন্ট, তার উপর ‘জুল’ নামক এক প্রাচীন অশরীরী ভর করে এবং মানুষ ও আত্মাদের দুনিয়ার মাঝখানে যে গেট তা ভেঙ্গে দিয়ে অশরীরীদের পৃথিবীতে মুক্ত করার মাধ্যমে গোটা বিশ্বে তান্ডব সৃষ্টি করতে চায়। ‘জুল’কে একমাত্র থামাতে পারে ‘ঘোস্টবাস্টার্স’রাই, কিন্তু শহরের মেয়র তাদেরকে ফ্রড মনে করে শুরু করে তাদের বিরোধীতা। এমন কঠিন সময়ে একদিকে মেয়র, অন্যদিকে ‘জুল’ আবার ‘ডানা’কে ‘জুল’ এর পজেশন থেকে উদ্ধার সব মিলিয়ে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় ‘ঘোস্টবাস্টার্স’রা। ৪ বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেন ‘বিল মুরে’, ‘ড্যান অ্যাকরয়েড’, ‘হ্যারল্ড রামিস’ ও ‘আর্নি হাডসন’। তাদের ক্লায়েন্ট/নায়িকা ‘ডানা’র চরিত্রে অভিনয় করেন ‘অ্যালিয়েন’ সিরিজ খ্যাত ‘সিগোর্নি ওয়েভার’। বাই দ্য ওয়ে, সেই পিচ্চি ভূত ‘স্লাইমার’ এর কথা মনে আছে ? ছোট্ট একটি চরিত্রে তাকেও দেখা যায় এ মুভিতে ‘ঘোস্টবাস্টার্স’দের ভয় দেখাতে। ‘বিল মুরে’র দারুণ হিউমার, ফ্ল্যার্টিং ও ৪ বন্ধুর মজার মজার প্যারানরমাল ঘটনায় হাস্য-রসে ভরপুর মুভিটি ‘IMDb’ তে ৭.৫ রেটিং ও ‘পঁচা টমেটো’ থেকে ৯৭% ফ্রেশ রেটিং পেয়ে সমালোচকদের মন জয় করে নেয়। সেই সাথে মুভিটি ঐ বছরের ‘অস্কার’ আসরে ২টি নমিনেশন লাভ করে, ‘বেস্ট ভিজুয়াল ইফেক্টস’ (মুভিটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট গুলি এখনকার সিনেমার তুলনায় তেমন জোরালো ছিল না কারণ বুঝতেই হবে তখন ছিল ১৯৮৪ সাল। তবে ১৯৮৪ সাল হিসেবে অবশ্যই বেস্ট ছিল, না হলে ‘অস্কার’ নমিনেশন পেত না) এবং ‘বেস্ট অরিজিনাল সং’ (‘রে পার্কার জুনিয়র’ এর গাওয়া ‘Who You Gonna Call ?’ গানটি যা আমরা ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ কার্টুনের এন্ট্রিতে শুনে থাকি, গানটি সেই সময়ে তুমুল আকারে হিট হয় ও ‘Billboard Hot 100’ চার্টে টানা ৩ সপ্তাহ ১ নাম্বারে অবস্থান করে। গানটির জনপ্রিয়তা মুভিটির বক্স অফিসে এক্সট্রা ২০ মিলিয়ন যোগ করে)। মুভিটি নিয়ে আলাদা পেপারব্যাক নভেলও বের হয়। অতঃপর ৩০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি উত্তর আমেরিকায় ২৪২ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ২৯২ মিলিয়ন আয় করে ব্লকবাস্টারে পরিণত হয়।

 

 

 

Ghostbusters_ii_poster

 

 

 

‘Ghostbusters 2’ (1989)

 

 

সিরিজের প্রথম পর্ব ও ‘দ্য রিয়েল ঘোস্টবাস্টার্স’ অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজের সফলতার পর ‘কলম্বিয়া পিকচার্স’ সিরিজের ২য় পর্বের কাজ শুরু করে ও ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় ‘ঘোস্টবাস্টার্স টু’। প্রথম পর্বে ‘জুল’ এর আক্রমণের ৫ বছর পর নিউইয়র্কে এখন আর কোন ভূত-প্রেত নেই। তাই এখন আর ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ এরও কোন প্রয়োজন নেই। তাই, সেই ৪ বিজ্ঞানী/বন্ধু এখন আলাদা আলাদা নিজ নিজ কাজ/ব্যবসায় ব্যস্ত। এমন সময় নিউইয়র্ক শহরে এক নতুন ধরণের ভৌতিক থ্রেটের উদ্ভব ঘটে যার তদন্ত করতে গিয়ে ৪ বন্ধুকে আবার একত্রিত হতে হয়। কিন্তু পথমধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আইন-আদালত ও শহরের মেয়র। তাদেরকে ফ্রড ও পাগল প্রমাণের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তারা। এদিকে তদন্ত করতে গিয়ে ৪ বন্ধু জানতে পারে ‘ভিগো-দ্য কার্পেথিয়ান’ নামক এক পৌরানিক প্রেতাত্মা পৃথিবীতে নতুন করে জন্ম নিয়ে পৃথিবীকে দখল করতে চাচ্ছে আর এ জন্যে সে ভর করতে চাচ্ছে প্রথম পর্বের নায়িকা ‘ডানা’র ছোট্ট সন্তানটির উপর। একদিকে মেয়রের ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে ‘ডানা’র সন্তানের জীবন উদ্ধার ও ‘ভিগো’কে ধবংস করা সব মিলিয়ে প্রথম পর্বের থেকেও অনেক বেশী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবার ‘ঘোস্টবাস্টার্স’রা। ৪ বিজ্ঞানী চরিত্রে প্রথম পর্বের ‘বিল মুরে’, ‘ড্যান অ্যাকরয়েড’, ‘হ্যারল্ড রামিস’ ও ‘আর্নি হাডসন’ই এবং ‘ডানা’ চরিত্রে ‘সিগোর্নি ওয়েভার’ সকলেই ফিরে এসেছে। ফিরে এসেছে ‘স্লাইমার’ও ছোট্ট একটি চরিত্রে পুনরায় ‘ঘোস্টবাস্টার্স’দের জ্বালাতে। যথারীতি এ পর্বটিও ‘বিল মুরে’র হিউমার, নানান রকম হাস্য-রসাত্মক প্যারানরমাল ঘটনা, টানটান উত্তেজনা, রহস্য ও দারুণ সব অ্যাকশনে পরিপূর্ণ, বিশেষ করে ক্ল্যাইম্যাক্সে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’কে নিয়ে যে কারসাজী করা হয়েছে তা এক কথায় মাইন্ড-ব্লোয়িং। গল্পের দিক থেকে আমি প্রথম পর্বের থেকে ২য় পর্বটিকেই বেশী এগিয়ে রাখবো। এবারের পর্বের ভিলেনও যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল প্রথম পর্বের তুলনায় এবং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমি প্রথম পর্বের থেকে ২য় পর্বটিই এঞ্জয় করেছি সব থেক বেশী। এবারের পর্বটি ‘IMDb’ তে ৬.৫ রেটিং ও ‘পঁচা টমেটো’ থেকে ৫১% ফ্রেশ রেটিং পেয়ে সমালোচকদের কাছ থেকে মিক্সড রেসপন্স লাভ করেছে। মুভিটি নিয়ে আলাদা ভাবে কমিক বুক সিরিজ তৈরী ও নভেলও লেখা হয়েছে। ৩৭ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভিটি রিলিজের প্রথম ৩ দিনে সেই সময়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩ দিনের আয়ের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরী করে কিন্তু এর ঠিক ১ সপ্তাহ পরেই ‘টিম বার্টন’ এর ‘ব্যাটম্যান’ মুভি রিলিজ পেয়ে প্রথম ৩ দিনে ৪০ মিলিয়ন আয় করে ‘ঘোস্টবাস্টার্স টু’ এর এই রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। সব মিলিয়ে মুভিটি উত্তর আমেরিকায় ১০২ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ২১৫ মিলিয়ন আয় করে দারুণ হিট হয়।

(Visited 317 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন