‘The Conjuring 2’ (2016) পর্ব ০২ :- সত্য ও কল্পনার সংমিশ্রনে তৈরী এক লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা… !!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
 
 
Conjuring-2-poster
 
হলিউডে এযাবৎকালে হরর মুভি কম তৈরী হয়নি। সত্য ঘটনা হোক বা কল্পনা সব রকম হরর মুভিই আছে হলিউডে। বর্তমান সময়ে সেরা হরর মুভি মেকার বলতে যে কয়জন পরিচালকের নাম নিতে হয় তার মধ্যে প্রথম নামটিই হচ্ছে ‘জেমস ওয়ান’। তার পরিচালনায় ২০১৩ সালে মুক্তি পায় গোটা বিশ্বে সাড়া জাগানো হরর মুভি ‘দ্য কনজুরিং’ যা সারা বিশ্বে ৩১৮ মিলিয়ন আয় করে হলিউড ইতিহাসের অন্যতম সেরা আয় করা হরর মুভিতে পরিণত হয়। এ মুভিটি তৈরী করা হয় ১৯ শতকের বিখ্যাত প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর ‘ওয়ারেন’ দম্পতি ‘এড ওয়ারেন’ এবং ‘লরেন ওয়ারেন’ এর সত্যিকারের ‘পেরন ফ্যামিলি’ নামক প্যারানরমাল কেস থেকে পাশাপাশি সেখানে তাদের ‘অ্যানাবেল’ পুতুল সংক্রান্ত অন্য এক কেসের রেফারেন্সও দেয়া হয়। এই ‘অ্যানাবেল’কে নিয়ে আবার ২০১৪ সালে নির্মিত হয় ‘অ্যানাবেল’ নামক আরেক স্পিন-অফ হরর মুভি। ‘দ্য কনজুরিং’ মুভিতে ‘এড ওয়ারেন’ ও ‘লরেন ওয়ারেন’ এর ভূমিকায় অভিনয় করে যথাক্রমে ‘প্যাট্রিক উইলসন’ ও ‘ভেরা ফারমিগা’। এই মুভিটির দ্বারা ‘ওয়ারেন’ দম্পতি এখন সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। অবশেষে, এ বছর মুক্তি পেয়েছে এ সিরিজের ২য় মুভি ‘দ্য কনজুরিং টু’ যা নির্মিত হয়েছে ‘ওয়ারেন’ দম্পতির ‘এনফিল্ড পোলাটারগাইস্ট’ কেস অবলম্বনে।
 
cef20a4abdfc4155c2f6406a12df1d30
আমার লেখার প্রথম পর্বে আমি এই ‘এনফিল্ড পোল্টারগাইস্ট’ কেসের সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই কেস নিয়ে স্ট্যাডি করতে গিয়ে আমি দেখলাম যে, ‘দ্য কনজুরিং টু’ মুভিতে সত্য ঘটনার থেকে কল্পনার সংমিশ্রন ঘটানো হয়েছে সব থেকে বেশী। মুভিতে শুধু মাত্র কেসের যে মূল ঘটনা (‘পেগি’ ফ্যামিলির উপর প্যারানরমাল অ্যাটাক, পুলিশে অভিযোগ, পুলিশের সামনে প্যারানরমাল ঘটনা ঘটা, ‘জ্যানেট’ এর উপর পজেশন, ‘মুরিস গ্রস’ এর সামনে ‘জ্যানেট’ এর উপর ‘বিল উইল্কিন্স’ এর আত্মা দ্বারা পজেশন হওয়ার পর ;জ্যানেট’ এর ভয়েজ রেকর্ড করা, ‘বিল উইল্কিন্স’ এর মৃত্যুর তথ্য, হিডেন ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়া ‘জ্যানেট’ এর সাজানো নাটক, ‘আনিতা গ্রেগরি’র সমালোচনা ও কিছু নির্দিষ্ট প্যারানরমাল ঘটনা) ছাড়া বাকি যা যা দেখানো হয়েছে তার সাথে বাস্তবের কোনই সম্পর্ক নেই। ‘ওয়ারেন’ দম্পতির যা যা কার্যক্রম এ মুভিতে দেখানো হয়েছে তা বাস্তবে কখনই ঘটেনি। ‘ওয়ারেন’ দম্পতি কখনই ‘এনফিল্ড’ কেস সমাধান করেনি, ভূত-প্রেত তাড়ায়নি। বাস্তবে তারা শুধু মাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছে মাত্র, এবং চলে এসেছে। ‘এনফিল্ড পোল্টারগাইস্ট’ কেস ইতিহাসের প্যারানরমাল কেস গুলোর মধ্যে অন্যতম খুবই সমালোচিত ও কনফিউশনে ভরপুর একটি কেস, যা সত্য না মিথ্যা তা আজও কেউ ঠিক মত জানতে পারেনি। সুতরাং এই সমালোচিত ও সন্দেহে পুর্ণ কেসটিই চরম মাত্রায় কল্পনা ও নাটকীয়তায় মিশ্রন করে এই মুভিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
 
the-conjuring-2-5-1024x546
ValacConjuring2FeaturedImage
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘দ্য কনজুরিং টু’ মুভির প্রধাণ ভিলেন হিসেবে পরিচিত ‘ভালাক’ ওরফে ‘দ্য নান’ আসলে কে ? এই অশরীরীর সাথে কি ‘এনফিল্ড’ কেসের কোন সম্পর্ক আছে ? উত্তর হচ্ছে, না। ‘ভালাক’ হচ্ছে পরিচালক জেমস ওয়ান’ এর সম্পুর্ণ কল্পনা ও ‘লরেন ওয়ারেন’ এর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সৃষ্টি। এ মুভিতে ‘ভালাক’কে নিয়ে এসে বিখ্যাত ‘অ্যামিটিভ্যাল’ কেস ও ‘এনফিল্ড’ কেসের মধ্যে কাল্পনিক যোগসুত্র স্থাপন করা হয়েছে এবং এই যোগসুত্র জুড়ে দেয়া হয়েছে ‘লরেন ওয়ারেন’ এর পারসোনাল লাইফের সাথে। এখন ‘ভালাক’ এর ইতিহাস যদি আমরা দেখতে যাই, ‘ভালাক’ হচ্ছে এক প্রকার ডেমন যার বর্ণনা দেয়া হয়েছে ১৭ শতকের তান্ত্রিক ও মন্ত্রসাধকদের ‘গ্রিমৌর’ (ম্যাজিক্যাল টেক্সটবুক) এ যার নাম হচ্ছে ‘Lesser Key of Solomon’। এই বইয়ে ৭২টি শয়তানের নাম উল্লেখ আছে বিভিন্ন পদবী সহ (‘কিং’, ‘ডিউক’, ‘প্রিন্স’, ‘মারকুইস’, ‘প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘নাইট’)। এদের মধ্যে ‘ভালাক’ হচ্ছে ৬২তম শয়তান যার পদবী হচ্ছে ‘প্রেসিডেন্ট অফ হেল’। ‘ভালাক’ খুবই শক্তিশালী এক ডেমন এবং মূলত যারা তন্ত্র সাধনা করে ও ব্ল্যাক ম্যাজিক প্রাকটিস করে তারা বিভিন্ন গোপন ও লুকানো গুপ্তধনের খোঁজ পাবার জন্য ‘ভালাক’কে মন্ত্রের মাধ্যমে ডাকে। কিন্তু ‘ভালাক’ শুধু তাদেরই ডাকে সাড়া দেয় ও তাদেরই সাথে নিজের শক্তি শেয়ার করে যারা তাকে ডাকার যোগ্য। ‘ভালাক’ দেখতে কেমন তার কোন বিবরণ কোথাও নেই, তাহলে ‘দ্য কনজুরিং টু’ মুভিতে ‘ভালাক’কে নারীর রূপে একজন নানের পোশাকে কেন দেখানো হলো ? এর ক্রেডিট সম্পুর্ণ ‘জেমস ওয়ান’ এর। ‘দ্য কনজুরিং টু’ মুভির শ্যুটিং প্রায় সম্পুর্ণ শেষ কিন্তু পরিচালক ‘জেমস ওয়ান’ তখনো মুভির প্রধাণ ভিলেনের কোন ডিজাইন তৈরী করতে পারছিল না। তার মাথায় কোন আইডিয়া আসছিল না। একদিন সে ‘লরেন ওয়ারেন’ এর সাথে কথা বলার সময় ‘লরেন’ তার একটি পারসোনাল অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। একদিন ‘লরেন’কে অতিপ্রাকৃত কিছু একটা অ্যাটাক করেছিল। সেটি দেখতে ছিল ঘুর্ণনরত, ডার্ক ও মাথায় হুড/ঘোমটা দেয়া। অতঃপর সাথে সাথে ‘জেমস ওয়ান’ পেয়ে যায় তার ‘ভালাক’ এর ডিজাইন। অবশেষে, এই ডিজাইন কাজে লাগিয়ে মুভির পুনরায় রি-শট নিয়ে ‘জেমস ওয়ান’ তৈরী করে সম্পুর্ণ কাল্পনিক এক ভয়ংকর চরিত্র ‘দ্য নান’।
 
The-Conjuring-2-1-600x873
এখন কেমন ছিল এই সত্য ও কল্পনার মিশ্রনে তৈরী ‘দ্য কনজুরিং টু’ ? হলিউডের হরর মুভিতে কিছু ক্যাটাগরি আছে। কিছু কিছু মুভিতে ভয়ংকর সব প্রাণী ও জোম্বির আগমণ ঘটিয়ে বালতি বালতি স্পেশ্যাল ইফেক্ট ঢেলে দিয়ে দর্শকদের ভয় দেখানো হয়। এসব মুভিতে ভুত-প্রেত, জোম্বি সব খুব সরাসরি স্ট্রেট ফরোয়ার্ড পর্দায় উপস্থিত হয় আর আরেক রকম মুভিতে খুব সিম্পল ভাবে বাস্তবতা বজায় রেখে এক ভৌতিক পরিবেশ তৈরী করা হয়, দর্শকের উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি করা হয় এবং হঠাৎ করে পর্দায় ভয়ংকর কোন কিছুর উপস্থিতি দ্বারা দর্শকের পিলে চমকে দিয়ে ভয় পাওয়ানো হয়। এখানে সাউন্ড অনেক বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় শুধু মাত্র সাউন্ডের ঠ্যালায় দর্শক ভয় পেয়ে যায়। এই টেকনিককে বলা হয় ‘জাম্প স্কেয়ার’ যা আমরা বিখ্যাত হরর সিরিজ ‘ইনসাইডাস’ ও ‘কনজুরিং’ এ দেখি। ‘দ্য কনজুরিং টু’ মুভিটি অগণিত ‘জাম্প স্কেয়ার’ দৃশ্যে পরিপুর্ণ যার কিছু ঝলক আমরা ট্রেলারেই দেখেছি। মুভির গল্প ভাল ছিল। সিরিজের প্রথম পর্বে শুধু মাত্র ‘পেরেন’ ফ্যামিলিকে ফোকাস করে গল্প এগিয়েছিল আর এবার ‘পেগি’ ফ্যামিলির পাশাপাশি গল্প ঘুরেছে ‘লরেন ওয়ারেন’ এর পারসোনাল লাইফ ও ‘এড’ এর প্রতি তার ভালবাসা ও কেয়ারকে কেন্দ্র করে যা এবারের গল্পকে দিয়েছে এক নতুন প্রাণ। অনেকেই অভিযোগ করেছেন প্রথম পর্বের মত করে এই পর্ব এতটা ভয়ের ছিল না বা খুব একটা জমেনি। আসলে প্রথম পর্বে ভয়ের পরিবেশ ও দৃশ্য ছিল প্রচুর বেশী কিন্তু ‘জাম্প স্কেয়ার’ ছিল কম। আর এবারের পর্বে ভৌতিক পরিবেশ ও ভয়ের দৃশ্যের সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে ‘জাম্প স্কেয়ার’ দৃশ্য গুলো বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এই জন্য অনেকের কাছে এবারের পর্ব কম ভয়ের মনে হয়েছে। তবে গোটা মুভিতে ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টায় কোন কমতি ছিল না। এ মুভির ফিনিশিংটা প্রথম পর্বের মত বিশাল আয়োজনের ছিল না ও খুব একটা জমেনি তবে মুভির গল্প ও পরিবেশ অনুযায়ী মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। এবারের পর্বের অশরীরী ছিল ৩ প্রকারের। ‘বিল উইল্কিন্স’ এর প্রেতাত্মা, ‘দ্য ক্রুকড ম্যান’ এবং ‘ভালাক’ (‘দ্য নান’)। ‘দ্য ক্রুকড ম্যান’ এর ২টি দৃশ্য এ মুভির অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুই হরর মুহুর্ত। ‘বিল উইল্কিন্স’ এর প্রেতাত্মা টেনে নিয়ে গেছে গোটা মুভি তবে এ মুভির ভীতিকর দৃশ্যের প্রধাণ আকর্ষন ছিল ‘ভালাক’ ওরফে ‘দ্য নান’। তাকে খুব কম সময়ের জন্যই পর্দায় শশরীরে পাওয়া গেছে কিন্তু যতটা সময় সে ছিল দর্শকের ভয়, উত্তেজনা ও টেনশন সৃষ্টিতে কোন কমতি রাখেনি বিশেষ করে ‘লরেন’ এর সাথে তার বাড়ির স্ট্যাডি রূমে ‘ভালাক’ এর দৃশ্যটি এ মুভির অন্যতম সেরা হরর দৃশ্য। ‘ভালাক’কে যেভাবে পর্দায় উপস্থাপন করেছে ‘জেমস ওয়ান’, যে কোন মানুষের রাতের ঘুম হারাম করে দেবার জন্য যথেষ্ট এই একটি চরিত্র। এমন শক্তিশালী ভৌতিক চরিত্র প্রথম পর্বেও ছিল না। যথারীতি ‘ওয়ারেন’ দম্পতি হিসেবে ‘প্যাট্রিক উইলসন’ ও ভেরা ফারমিগা’ কাঁপিয়ে দিয়েছে তবে সব থেকে অসাধারণ অভিনয় করেছে ‘জ্যানেট’ চরিত্রে ছোট্ট ‘ম্যাডিসন উলফ’।
 
The-Conjuring-2-2-600x865
যারা যারা এ মুভির প্রতি অভিযোগ করেছেন যে এ মুভি দেখে মোটেই ভয় পাননি, আমি বলবো আপনারা এ মুভির ‘জাম্প স্কেয়ার’ গুলো উপভোগই করতে পারেননি। হরর মুভি দেখার সব থেকে বেস্ট উপায় হচ্ছে অন্ধকার হলে, বিশাল স্ক্রিনে, কান ফাটানো সাউন্ড সিস্টেমে মুভি দেখা। এই অভিজ্ঞতা যাদের নেই, তারা কোন দিনই বুঝবেন না যে ‘জাম্প স্কেয়ার’ এর মজাটা আসলে কি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি সিনেপ্লেক্সে এ মুভি দেখার সময় এ মুভিতে এমন কোন ‘জাম্প স্কেয়ার’ সিন ছিল না যা দেখে আমি ও অন্যান্য দর্শকদের পিলে চমকে ওঠেনি এবং প্রতিটি জাম্প স্কেয়ার সিন শেষে আমরা হাত তালি দিয়েছি। বিশাল স্ক্রিনে যখন আপনা্র একদম চোখের সামনে ভয়ংকর সাউন্ড ইফেক্টের মাধ্যমে হঠাৎ করে অশরীরীর আগমন ঘটবে আপনি ঠিক ততটাই ভয় পাবেন বা আপনার পিলে চমকে উঠবে যতটা বাস্তবে অশরীরী দেখলে আপনি ভয় পেতেন বা চমকাতেন, যদি আপনার মুভির প্রতি পুর্ণ মনোযোগ থাকে ও আপনি ব্রেভহার্ট না হন। আপনারা যারা যারা ঘরে বসে ১৩/১৪/১৫/১৬ ইঞ্চি মনিটরে হল প্রিন্ট ও HD-TS প্রিন্টে মুভিটি দেখছেন এবং বলছেন ফালতু মুভি আমি বলবো আপনারা আসলে কিছুই দেখেন নাই, ফিল করেন নাই। ইন্ডিয়ায় যে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ এই মুভি দেখে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে সে ঘরে বসে টিভি মনিটরে আজাইরা প্রিন্টে এই মুভি দেখে নাই। সে তামিল ভাষায় ডাব করা এই মুভি হলে গিয়ে শশরীরে দেখেছে। নিজ ভাষার ডাব থাকার কারণে তার গল্পের সাথে পুর্ণ সংযোগ ও মনোযোগ ছিল আর বৃদ্ধ মানুষদের এমনিতেই হার্ট দুর্বল হয় তাই সে ‘জাম্প স্কেয়ার’ গুলো সহ্য করতে পারেনি। আমি দেখেছি, আমি জানি কোন লেভেলের ‘জাম্প স্কেয়ার’ ও সাউন্ড ইফেক্ট আছে এই মুভিতে যা একমাত্র হলে বসেই ফিল করা সম্ভব। কিছু কিছু ‘জাম্প স্কেয়ার’ এর সাউন্ড ইফেক্ট এতটাই প্রবল ও মারাত্বক ছিল যে আমাদেরই সেটা সহ্য করতে কষ্ট হয়েছে সেখানে দুর্বল হার্টের মানুষরা কি করবে ? অনেকেই তুর্কিশ ‘ডেব্বি’ সিরিজের সাথে তুলনা করে এই মুভিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। আমি বলবো ‘ডেব্বি’ সিরিজের সাথে ‘কনজুরিং’ সিরিজের তুলনা করা সম্পুর্ণ মুর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। দুটি দুই ভাষার দুই দেশের মুভি যাদের মেকিং, টোন, প্লট এলিমেন্ট, রিলিজিয়াস ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পুর্ণ আলাদা। আপনি ‘কনজুরিং’কে তুলনা করবেন ‘ইনসাইডাস’ এর সাথে আর ‘ডেব্বি’কে তুলনা করবেন তারই মত নির্মাণের অন্য মুভির সাথে তাহলে সেটা ন্যায়সম্মত তুলনা হবে। অনেকেই যেমন ‘দ্য কনজুরিং টু’ দেখে ভয় পাননি, তেমনি আমার দেখা অনেক পাবলিক আছে যারা ‘ডেব্বি’ সিরিজ দেখে ভয় তো দূরে থাক বরং এর দুর্বল মেকিং, খারাপ সিনেম্যাটোগ্রাফি, মাত্রাতিরিক্ত রঙ এর ব্যবহার, অস্পষ্ট সাউন্ড ইত্যাদীর সমালোচনা করে ধুয়ে দিয়েছে। ভয়ের এলিমেন্ট সব হরর মুভিতেই কম বেশী থাকেই। আপনি সাহসী হলে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখেও কোন ফিল পাবেন না আর ভিতু হলে ঘরে বসে হল প্রিন্টে দেখেও ভয় পাবেন। তার মানে এই নয় যে আপনি ভয় পাচ্ছেন না বলে সেটা ভয় পাবার যোগ্য মুভি না।
 
conjuring_two_ver3
অবশেষে, সকলের সাথে একটি বিষয়ে একমত পোষন করে বলছি ‘দ্য কনজুরিং টু’ সিরিজের প্রথম পর্বের মত প্রত্যাশা পুরণ করতে পারেনি, তবে সিক্যুয়াল হিসেবে ‘ইনসাইডাস চ্যাপ্টার থ্রি’ এর মত এতটা খারাপ হয়নি। ‘দ্য নান’ চরিত্রটিই এ পর্বের যত প্রাণ জুগিয়েছে, এই চরিত্রটি না থাকলে এ মুভিতে দেখার মত কিছুই থাকতো না। মুভিটি মুক্তির পর সমালোচকদের কাছ থেকে খুবই পজেটিভ রিভিউ পেয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মুভি ‘পঁচা টমেটো থেকে ৭৯% ফ্রেশ রেটিং এবং ‘IMDb’ থেকে ৭.৯ রেটিং লাভ করেছে। ৪০ মিলিয়ন বাজেটের এই মুভি এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় (ডমেস্টিক বক্স অফিস) ৮৬ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ২৪২ মিলিয়ন আয় করে অলরেডি হিট। ‘জেমস ওয়ান’ কনফার্ম করেছে ‘দ্য কনজুরিং থ্রি’ এর এবং হিন্টস দিয়েছে পরের পর্বের গল্প ‘ওয়ারেন’ দম্পতির ১৯৮০ সালের পটভূমীর কোন কেস নিয়ে নির্মিত হবে। সেই সাথে ‘অ্যানাবেল’ এর মত এবারের পর্বেরও স্পিন-অফ মুভি আসছে ‘দ্য নান’ যেখানে দেখানো হবে ‘ভালাক’ এর অরিজিন। বাই দ্য ওয়ে, আগামী বছর ২০১৭ তে কিন্তু ‘অ্যানাবেল টু’ আসছে। সুতরাং আপনি যতই হেলাফেলা করুন না কেন ‘ওয়ারেন’ দম্পতি, ‘দ্য নান’ ও ‘অ্যানাবেল’ নিয়ে ‘দ্য কনজুরিং’ সিরিজ আপনার রাতের ঘুম হারাম করে দিতে সব সময় প্রস্তুত, আপনি প্রস্তুত তো ?
 
The-Conjuring-2-poster-2
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- যারা যারা এখনও ‘দ্য কনজুরিং টু’ দেখেননি, দয়া করে অতি উত্তেজনার বশে কোন আলতু ফালতু প্রিন্টে মুভিটি দেখবেন না। যদি সম্ভব হয় সিনেপ্লেক্সে গিয়ে দেখুন না হলে ব্লু-রে প্রিন্টের জন্য কষ্ট করে অপেক্ষা করুন। যদি ব্লু-রে প্রিন্টে ঘরে বসে দেখেন তবে অনুরোধ রইলো অন্ধকার পরিবেশে, সম্পুর্ণ একা এক রূমে, রাতের বেলা, জোরদার সাউন্ড সিস্টেমে, কানে হেড ফোন লাগিয়ে তবেই মুভিটি দেখবেন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আপনি যদি সাহসী হন তবে ভয় না পেলেও মুভিটি খুব ভাল এঞ্জয় করবেন। অবশেষে, ইতঃমধ্যে যারা মুভিটি সিনেপ্লেক্সে বা ঘরে বসে দেখেছেন কিন্তু ভয় পাননি, তারা যদি ভয় না পাবার অভিযোগ করেন তবে তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথাই বলবো, “ভাই, হয় আপনি ব্রেভহার্ট, না হয় আপনার দেখার পরিবেশ ও প্রিন্ট ঠিক ছিল না। ব্যাস, মামলা ডিসমিস”। ধন্যবাদ… !!!
 
The End… !!!

The Conjuring 2 (2016)
The Conjuring 2 poster Rating: 8.0/10 (33,330 votes)
Director: James Wan
Writer: Carey Hayes (screenplay), Chad Hayes (screenplay), James Wan (screenplay), David Leslie Johnson (screenplay), Carey Hayes (story), Chad Hayes (story), James Wan (story)
Stars: Patrick Wilson, Vera Farmiga, Madison Wolfe, Frances O'Connor
Runtime: 134 min
Rated: R
Genre: Horror, Mystery, Thriller
Released: 10 Jun 2016
Plot: Lorraine and Ed Warren travel to north London to help a single mother raising four children alone in a house plagued by malicious spirits.

এই পোস্টটিতে ১৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Shamim Hasan says:

    হে আমি আল্পআংশ দেখছি তাইতে খবর হয়ে গেছে ভাই।

  2. ফুল মুভির লিংক টা প্লিজ।

  3. HR Fatema says:

    Huh. ….!!!
    Amr kisue hoyni
    Dekhlam matro movie ta

  4. conjuring o hojom kora jay …. but dabbe 😱😱😱😱

  5. গতকাল দেখেছি, তার চেয়ে হিন্দি 1920 দেখার পর ৩-৪ মাস ভয় পেয়েছি

  6. Omar Sharif says:

    এই পরিচালক, হরর মুভির জন্যে সেরা একজন

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন