‘The X-Men Universe’ পর্ব ১ (অসমাপ্ত গল্প ও অমিমাংসিত রহস্য)

Xmen-Cast

 

 ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ইউনিভার্স ও ‘দ্য টার্মিনেটর’ ইউনিভার্স এর পর হলিউডের সব থেকে কম্পলিকেটেড সায়েন্স ফিকশন হল ‘দ্য এক্স মেন’ ইউনিভার্স। এই সিরিজ নিয়ে সকলের অনেক বেশী আগ্রহ কারণ এর গল্প এগিয়েছে ধারাবাহিক ও ফ্লাশব্যাক স্টাইলে। আর এই সিরিজে আছে সকলের সব থেকে প্রিয় চরিত্র ‘ওলভারিন’, যাকে নিয়ে আলাদা দুটি মুভিও আছে। এ সিরিজের এর মোট মুভি ৭টা, ‘ওলভারিন’ কে বাদ দিলে ৫টা। সম্প্রতি এ সিরিজের ৭ম পর্ব ‘এক্স মেন-ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’ রিলিজ হয়েছে যা বক্স অফিস সহ ‘এক্স মেন’ সিরিজের পূর্বের সকল কাহিনীর ধারা বদলে দিয়েছে। এই একটা মুভির কারণে ‘এক্স মেন’ আবার নতুন করে লেখা শুরু করা যেতে পারে।

 

 

‘এক্স মেন’ সিরিজের সব থেকে বড় আকর্ষণ হল প্রায় প্রতিটা পর্বেই কিছু না কিছু অসমাপ্ত গল্প থাকে যা পরবর্তী বা অদূর ভবিষ্যতের কোন পর্বে খোলাশা করা হয়। বিশেষ করে ‘মারভেল’ মুভি গুলোর মত এ মুভি গুলোরও আছে পোস্ট ক্রেডিট সিন, যা পরের পর্বের প্রতি আগ্রহ ও কাহিনীর প্রতি কৌতুহল দ্বিগুণ পরিমানে বাড়িয়ে দেয়।

 

 

অসমাপ্ত গল্প ও অমিমাংসিত রহস্য :-

 

 

‘X-Men’ (2000)

 

 

প্রথমেই আসা যাক প্রথম পর্বে, এ পর্বের শুরুতেই দেখা যায় ১৯৪৪ সালের পোলাল্ড, যেখানে জার্মান ক্যাম্পে একটি ছেলে তার মাকে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে ফেলে ও মাকে হারানোর কষ্টে সে দূর থেকেই এক অদ্ভুদ শক্তিতে লোহার গেটকে দুমড়ে মুচড়ে বাকিয়ে ফেলে। তারপর গল্প অন্যদিকে মোড় নেয়। গোটা মুভিতে আর সেই মা ও ছেলেকে দেখা যায় না। তারা কে ? তাদের পরিচয় কি সেটাও দর্শকদের কাছে একটা রহস্য হিসেবেই রয়ে যায়। অতঃপর দেখা যায় ‘লোগান/ওলভারিন’ কে। কিন্তু এখানেও আরেক রহস্য। সে কে, কি তার পরিচয়, তার অতীত কি, এসবের কিছুই সে জানে না। ‘প্রফেসর এক্স’ এর দ্বারা রিক্রুট হয়ে সে যোগ দেয় ‘এক্স মেন’ গ্রুপে। আর ভিলেন হিসেবে ‘ম্যাগনিটো’ তো আছেই। অবশেষে, বরাবরের মতই মুভির শেষে হিরোর জয় ও ভিলেনের পরাজয়, কিন্তু সেই যে রহস্যগুলো দর্শকদের কাছে রহস্যই রয়ে যায়।

 

 

‘X-2’ (2003)

 

 

এ পর্বে নতুন ভিলেন হিসেবে আবির্ভূত হয় ‘কর্নেল উইলিয়াম স্ট্রাইকার’, যে কিনা চায় জগতের সকল মিউট্যান্টদের বিনাশ সাধণ করতে। এই কর্নেলকে থামাতে দুই চিরশত্রু ‘প্রফেসর এক্স’ ও ‘ম্যাগনিটো’ পরস্পর হাত মেলায় ও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে যুদ্ধ ঘোষণা করে ‘কর্নেল স্ট্রাইকার’ এর বিরুদ্ধে। আর এই ‘স্ট্রাইকার’ এর মুখোমুখি হয়েই ‘লোগান’ দেখতে পায় নিজের অতীতকে এবং কিছু ফ্ল্যাশব্যাক সিনের দ্বারা দর্শকও এটা বুঝতে পারে যে আজকের এই ‘লোগান’, ‘ওলভারিন’ হয়ে উঠেছে একমাত্র ‘স্ট্রাইকার’ এর হাতেই। অতঃপর, মুভির শেষে ‘স্ট্রাইকার’কে মেরে ‘লোগান’ তার প্রতিশোধ নেয়, কিন্তু গোটা ‘এক্স মেন’ গ্রুপকে বাঁচাতে গিয়ে ‘লোগান’ ও ‘স্কট/সাইক্লোপ্স’ এর ভালবাসা ‘জিন গ্রে’ তার জীবন দিয়ে দেয়।

 

 

‘X Men-The Last Stand’ (2006)

 

 

ভাবা হয়েছিল, এটাই ‘এক্স মেন’ সিরিজের শেষ পর্ব হবে। এ পর্বে দেখা যায় এক নতুন মিউট্যান্টকে যার ডিএনএ এর মাঝে আছে সকল মিউট্যান্টদের জন্য প্রতিষেধক। আর এদিকে ২য় পর্বে মারা যাওয়া ‘জিন গ্রে’ এর ছোট বেলার কিছু ঘটনাও দেখা যায়, যখন ‘প্রফেসর এক্স’ ও ‘ম্যাগনিটো’ তাকে নিতে আসে রিক্রুট করার জন্য এবং সেখানে ‘জিন’ এর কিছু অতিকাল্পনিক ক্ষমতাও প্রকাশ পায়। কিন্তু দর্শক এক সময় নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হয় যখন দেখা যায় যে, ‘জিন গ্রে’ বেঁচে আছে এবং পূর্বের থেকেও অনেক ধ্বংসাত্বক রূপে ফিরে এসেছে যাকে থামানোর ক্ষমতা ‘প্রফেসর এক্স’ ও ‘ম্যাগনিটো’ কারোরি নেই। কিন্তু কিভাবে সে ফিরে এলো ? কিভাবে সে বেঁচে গেলো ? কোন উত্তর নেই। এক সময় ‘জিন’ এর হাতে ‘সাইক্লোপ্স’ ও ‘প্রফেসর এক্স’ মারা যায়। ‘প্রফেসর এক্স’ এর মৃত্যু সরাসরি দেখানো হলেও ‘সাইক্লোপ্স’ কিভাবে মারা যায় সেটাও আরেক রহস্য, রহস্যই রয়ে যায়। অতঃপর মুভির শেষে ‘লোগান’ এর হাতেই মৃত্যু হয় ‘জিন’ এর এবং ‘ম্যাগনিটো’কে প্রতিষেধক দিয়ে তার শক্তি নিঃশেষ করে দেয়া হয়। এ পর্বে কিছু সিনে ‘সেক্রেটারী ট্রাস্ক/বলিভার ট্রাস্ক’ চরিত্রকে দেখানো হয় যে কিনা ‘এক্স মেন-ডেজ অফ ফিউচার পাস্ট’ এ ‘সেন্টিন্যাল’ প্রজেক্টের উদ্ভাবক। এই তিনটি মুভি দেখে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘প্রফেসর এক্স’ ও ‘ম্যাগনিটো’ এখন যতই চরম শত্রু হোক না কেন, এক সময় তারা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল ও ‘প্রফেসর এক্স’ এর পা ও এক সময় সম্পূর্ণ ঠিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ কিভাবে সব কিছু বদলে গেলো ? এও এক বিরাট রহস্য। মুভির শেষ দৃশ্যে দেখা যায় যে ‘ম্যাগনিটো’ এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে ও পার্কে বসে একা একা দাবা খেলছে, হঠাৎ তার আংগুলের ইশারায় দাবার গুটি নড়তে শুরু করে, অর্থাৎ তার শক্তি ফিরে আসছে। কিন্তু কিভাবে ? প্রায় ৪/৫টা সিরিঞ্জ প্রতিষেধক প্রয়োগের পরও কিভাবে সে শক্তি ফিরে পায় ? এখানেই শেষ নয়, আবার গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া হিসেবে পোস্ট ক্রেডিট সিনে দেখা যায় যে ‘প্রফেসর এক্স’ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে ও তার ডক্টরকে হ্যালো জানাচ্ছে। How Is This Possible Man ???

 

 

‘X Men Origins-Wolverine’ (2009)

 

 

‘এক্স মেন’ নামে যে একটা সিরিজ আছে সেটা যখন প্রায় ভুলতে বসেছিলাম, ঠিক তখনি এ সিরিজের অনেক বড় এক রহস্য উন্মেচন করতে হাজির হল ‘ওলভারিন’। ‘X-2’ তে ‘ওলভারিন’ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেল এই মুভিতে। ‘লোগান’ কে ? কি তার পরিচয় ? কিভাবে সে ‘ওলভারিন’ হয়ে উঠলো ? ‘মেজর স্ট্রাইকার’ কিভাবে তাকে ‘ওলভারিন’ বানালো ? কিভাবে সে তার স্মৃতি শক্তি হারালো ? এ সব কিছুর ব্যাখা দেয়া আছে এ মুভিতে। কিন্তু এ মুভির ফিনিশিং এও আছে আরো কিছু প্রশ্ন। ‘লোগান’ কে বাঁচানোর পর তার সৎ ভাই ‘ভিক্টর’ এর কি হয় সেটার কোন খোলাশা করা হয়নি। তাকে দেখা যায় উঁচু টাওয়ার থেকে লাফ দিতে, তারপর পুরাই হাওয়া। কেউ বলবেন না যে সে আত্বহত্যা করেছে। ‘ভিক্টর’ তো মরতে পারে না। সেও ‘লোগান’ এর মত হিলিং ক্ষমতা সম্পন্ন অমর। সে যাবার আগে ‘লোগান’ কে বলে যায় যে, তারা হল ভাই ও ভাইয়েরা একে অন্যকে দেখে রাখে। অতঃপর, সে কি পালিয়ে গেলো ? কোন কিছুই ক্লিয়ার করা হয়নি। এমনকি এর পরের পর্বগুলোতেও তার সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের ফিনিশিং এমন অবহেলায় করা হবে, এটা মেনে নেয়া যায় না। এ মুভিতে তৈরী হয়েছে আরো একটা চরিত্র ‘ওয়েড উইলসন/ওয়েপন ইলেভেন/ডেডপুল’। ‘লোগান’ ও ‘ভিক্টর’ এর সাথে লড়াই এর পর পোস্ট ক্রেডিট সিনে দেখা যায় যে ‘ডেডপুল’ বেঁচে আছে। কিন্তু কিভাবে ? হয়তো এর উত্তর ২০১৬ সালে মুক্তির অপেক্ষায় ‘ডেডপুল’ একক মুভিতে পাওয়া যাবে।

 

 

‘X Men-First Class’ (2011)

 

 

‘প্রফেসর এক্স’, ‘প্রফেসর এক্স’ হয়ে ওঠার আগে সে ছিল ‘চার্লস জেভিয়ার’। ‘ম্যাগনিটো’, ‘ম্যাগনিটো’ হয়ে ওঠার আগে সে ছিল ‘এরিক লেনশার’। তারা ছিল বেস্ট ফ্রেড। এক সাথে তারা খুলেছিল ‘এক্স মেন’ দের জন্য স্কুল। রিক্রুট করেছিল পথহারা মিউট্যান্টদের। কিন্তু পরস্বপর বিপরীতমুখী নীতির কারনে সম্পর্কে ফাটল ধরে তাদের। শ্রেষ্ঠ বন্ধু থেকে পরিনত হয় তারা চরম শত্রুতে। ‘এরিক’ এর ভুলের কারনে পা হারাতে হয় ‘চার্লস’ কে। আর এটাই ‘এক্স মেন’ এর অরিজিনাল গল্প যা বিস্তারিত ভাবে উঠে এসেছে এ মুভিতে। আর হ্যাঁ… মনে আছে ‘এক্স মেন’ প্রথম পর্বের সেই প্রথম দৃশ্যের কথা ? মা ও ছেলের বিচ্ছেদের কাহিনী। সেই ছেলে আর কেউ নয়, ‘এরিক লেনশার’ ওরফে ‘ম্যাগনিটো’। এ মুভি শুরু হয়েছে ঠিক সেই দৃশ্য থেকেই। যে অসমাপ্ত গল্প একটি ধাঁধাপূর্ণ দৃশ্যের দ্বারা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে তা অবশেষে সম্পূর্ণ হল ২০১১ সালে এসে। মেকাররা কি ২০০০ সালে আগে থেকেই ভেবে রেখেছিল যে তারা ২০০৯ সালে এসে ‘এক্স মেন অরিজিন্স-ওলভারিন’ এ ‘লোগান’ এর গল্প বলবে ও ২০১১ সালে এসে ‘এক্স মেন-ফার্স্ট ক্লাস’ এ ঠিক সেই দৃশ্যের ব্যাখ্যা দিবে ও ‘এরিক’ এবং ‘চার্লস’ এর না বলা গল্প শোনাবে ? মাথায় কতটা ব্রেন থাকলে এমন একটা সুদুরপ্রসারী সিরিজ বানানো যায়, মাঝে মাঝে চিন্তা করি, কিন্তু কোন উত্তর খুজে পাই না।

 

 

‘The Wolverine’ (2013)

 

 

এটা ‘এক্স মেন অরিজিন্স-ওলভারিন’ এর সিকুয়েল নয়। বরং এটা ‘এক্স মেন-দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ পরের পর্ব। নিজের একমাত্র ভালবাসা ‘জিন গ্রে’ কে নিজ হাতে হত্যা করে ‘লোগান’ নির্বাসিত জীবন কাটানো শুরু করে এবং তখনি তার এক অতীত তার সামনে এসে হাজির হয় যা তাকে নিয়ে যায় জাপানে। এ মুভির শেষে ‘সিলভার সামুরাই’ ‘লোগান’ এর অ্যাডামেন্টিয়াম পাওয়ার কেঁড়ে নেয় ও ‘লোগান’ এর বোন ক্ল আবার ফিরে আসে যা তার শরীরে অ্যাডামেন্টিয়াম প্রয়োগের আগে ছিল। অতঃপর এ মুভির পোস্ট ক্রেডিট সিনে দেখা যায়, ‘প্রফেসর এক্স’ ও ‘ম্যাগনিটো’ পুর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছে ও ‘লোগান’ এর কাছে সাহায্য চাইছে এক নতুন শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। এই দৃশ্যটি ‘এক্স মেন-দ্য লাস্ট স্টান্ড’ এর কনফিউশনকে আরো বাড়িয়ে দেয়। কিভাবে ‘প্রফেসর এক্স’ মৃত্যু থেকে জলজ্যান্ত ফিরে এলো ? কিভাবে ‘ম্যাগনিটো’ তার শক্তি ফিরে পেলো ? হয়তো পরের পর্ব ‘এক্স মেন-ডেজ অফ দ্য ফিউচার পাস্ট’ এ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।

 

 

To Be Continued…

(Visited 286 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন