Ex Machina (2015): অঙ্গে রোবট, চেতনায় বুদ্ধিমান

ex-machina-poster-v02

AI (Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সম্পর্কে আমরা প্রথমেই কি ভাবি? কোন এক রোবট যার নিজে নিজে চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা আছে। AI নিয়ে আমাদের ধারণাগুলোকে ভিজুয়াল শেইপ দিয়েছে বিভিন্ন সময়ে করা মুভি বা টিভি শো গুলো।

ছেলেবেলায় বিটিভিতে “Team Knight Rider” দেখতাম। আধা ঘন্টা আগে টিভির সামনে হাজির হয়ে যেতাম। ৮০’র শেষের দিকে এবং ৯০’ এর শুরুর দিকে জন্ম নেয়ে বেশীরভাগ তরুণ দেখেছে এটা। এই শো’তে ব্যবহার করা গাড়ি গুলো ছিলো AI. পরবর্তীতে সিনেমায় দেখেছি The Matrix (1999) বা একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে করা Transcendence (2014). AI নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে বিস্তৃত এবং সুনিপুণ মুভি সম্ভবত স্টিভেন স্পিলবার্গের AI: Artificial Intelligent (2001)। সত্যিকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেমন হতে পারত সেটা হাতে কলমে দেখিয়েছেন স্পিলবার্গ। যাই হোক, সে ভিন্ন আলোচনা।

এখন ধরুন, কারো সাথে আপনার পরিচয় হলো। হোক না বিপরীত লিঙ্গের। পরস্পরের কথোপকথন চলল, অনুভূতি দেয়া নেয়া হলো। ভালোবেসে ফেললেন। একদিন জানতে পারলেন, সে রোবট। (oh boy, I’d love to give anything to see the look on your face :D)

আপনার হৃদয় ভাঙ্গা অথবা না ভাঙ্গার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওই AI’এর বৈশিষ্ট্য এবং আচার আচরণের নিপুণতা যার কারণে ধরা খেয়েছেন। এমন একটা বিইং বা সত্ত্বা যার নিজস্ব চিন্তাধারা আছে, নিজস্ব সিদ্ধান্ত আছে এবং যে পুরোপুরি আত্মসচেতন। কিন্তু আসলেই কী নিশ্চিত হতে পারবেন AI সম্পন্ন একটা রোবটের আদতেই এসব বিষয় আছে কিনা? হতে পারে রোবটের অনুভূতি প্রকাশ বা নিজস্ব চিন্তাধারা একটা ধোঁকাবাজি মাত্র, যা আসলে সূক্ষ্ম কোন অ্যালগরিদম অথবা কোন প্যাটার্ণ। আদতেই রোবটটার কোন কিছু অনুভব করার ক্ষমতা নেই।
আবার আপনি যদি রোবটটার প্রোগ্রামার হতেন, আপনার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয় সেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আদতেই কাজ করে কিনা তা উপলব্ধি করা। কেননা, রোবটের সকল পসিবল রেসপন্স সম্পর্কে ইতোমধ্যেই আপনার ধারণা আছে।
সুতরাং সমাধান কি? বাইরের কোন সাধারণ মানুষ দরকার এ কাজে। এমন কেউ, যে রোবটটার সম্পর্কে অবগত নয়।

“Ex Machina”র কাহিনী গড়ে উঠেছে এটি নিয়েই। পার্থক্য হচ্ছে যে মানুষটিকে AI টেস্ট করতে নিয়ে আসা হয় সে একজন ভালো মাপের প্রোগ্রামার এবং, সবকিছু জেনে শুনেই আসে। অর্থাৎ, আমাদের A.I কে এমন একজন মানুষকে কনভিন্স করতে হবে যে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল কিভাবে AI কাজ করে।

‘এক্স মাশিনা’র শুরুর দিক কিছুটা স্লো লাগতে পারে, কিন্তু পরে বোঝা যায় কাহিনীর জন্যেই দরকার ছিলো। একবার ঢুকে গেলে সময় কোনদিক দিয়ে উড়াল দিলো বুঝে উঠতে পারবেন না। সূক্ষ্ম থ্রিল আছে। দারুণ ডিরেকশন। সিনেম্যাটোগ্রাফিও চমৎকার। সিনেমার অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো, অন্য সব AI সিনেমার মত কাহিনীর এক্সট্রা ডাইভারশন নেই (যেমনটা আমরা দেখেছি বছরখানেক আগে The Machine মুভিতে)। Ex Machina মুভি পুরোটাই AI নিয়ে, ভবিষ্যত অতীত বা মানবজাতির উপর হুমকি/আশীর্বাদ ইত্যাদি নিয়ে বয়ান দেয়া হয়নি।

একমাত্র নেতিবাচক দিক হলো, মুভিতে কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়া হয়নি। অবশ্য তাতে মুভির প্লে-টাইম বেড়ে যেত এবং অতিমাত্রায় স্লো লাগতো। তাই সেগুলো গোনায় না ধরে সিনেমা উপভোগ করলে দারুণ একটা সময় কাটবে।

সর্বোপরি ভালো লাগলো Ex Machina.
দশে আট দিচ্ছি।

*** স্পয়লার ***
যারা মুভি দেখেননি, এই অংশ এড়িয়ে যান।
*******************************************

অনেকেই মুভির এন্ডিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সত্যি বলতে শুরুতে ব্যপারটা আমার কাছেও কিছুটা উদ্ভট লাগলেও, একটু ভাবতেই ধরতে পারলাম। সম্ভবত মুভিতে বোঝানো হয়েছে, AVA’র নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল। নিজের দেখা দ্বিতীয় মানুষ এবং ক্রিয়েটর থেকে পালানোর জন্য তাকে ব্যবহার করার কারণেই যে Caleb এর সাথে থাকতে হবে অথবা ঘরকন্যা করতে হবে এমন কোন কথা নেই।
আমি মানছি মুভির কাহিনী পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করলে একটা এক্সপেকটেশন আসে Caleb এবং Ava’র রসায়নও সেই পর্যায়েই পড়বে। কিন্তু এভাবে ভাবলে নিতান্তই সেন্টিমেন্টালি বিচার করা হবে। আপনার আশা-মাফিক মুভির কাহিনী চলতে থাকলে তো সমস্যা।

প্রশ্ন করতে পারেন, AVA যেটা করলো, সেটা নীতিগতভাবে ঠিক নয়। Caleb ওই রিসার্চ ল্যাবে বন্দী হয়ে গেল, এবং সম্ভবত মারাও যাবে।
একটা ব্যপার আপনাকে বুঝতে হবে – সঠিক/বেঠিক, ভুল/ঠিক, উচিৎ/অনুচিতের ধারণা মানুষের মধ্যে উদয় হয়েছে হাজার হাজার বছরের ইভোলিউশনে। বুদ্ধিমত্তার সাথে ভুল/ঠিকের কোন সম্পর্ক নেই। খুন করা অনুচিত কাজ, এই ধারণাটা উৎপত্তি হয়েছে খুব সম্ভবত প্রজাতি রক্ষার জন্যেই। অভিজ্ঞতার ফসল। যেটা Ava’র নেই। তার ক্ষেত্রে Caleb কে রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে রেখে আসার সিদ্ধান্ত ভুল নয়, আবার ঠিকও নয়। শুধুই সিদ্ধান্ত। মানুষ এবং AI দের মধ্যে পার্থক্য এইদিক দিয়ে সবসময় থাকবে। আপনি হয়ত কোন AI এর কোডিং এ কোনটা সঠিক কোনটা ভুল সেটার কোড বসিয়ে দিতে পারবেন এবং আপনার নির্মিত রোবট সেই অনুযায়ী কাজ করবে। কিন্তু নিজে থেকে যদি সিদ্ধান্ত নিতে যায়, তখন ওই AI ভুল বা সঠিকের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ পারবে না।

ভাবতে পারেন, তবে রোবটকে কোন মানুষের চিন্তাধারা দিয়ে দিলেই হয়। ভাই, তখন সেইটা সাইবর্গ হয়ে গেলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা না। যদি হিউম্যান ব্রেইনই বসায়া দেন, তাইলে আর কৃত্রিমভাবে চিন্তাভাবনা করার অর্থ কী থাকলো?

আমি Ex Machina’র শেষের দৃশ্যপট নিয়ে সন্তষ্ট। এই অংশটুকু অন্য AI মুভিগুলো থেকে নগ্নভাবে আলাদা করেছে Ex Machina কে।

Ex Machina (2015)
Ex Machina poster Rating: 8.1/10 (15625 votes)
Director: Alex Garland
Writer: Alex Garland
Stars: Domhnall Gleeson, Corey Johnson, Oscar Isaac, Alicia Vikander
Runtime: 108 min
Rated: R
Genre: Drama, Sci-Fi
Released: 10 Apr 2015
Plot: A young programmer is selected to participate in a breakthrough experiment in artificial intelligence by evaluating the human qualities of a breathtaking female A.I.

(Visited 137 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আপনারা মুসাফির সিনেমার ট্রেইলার ইউটিউব থেকে লিংক কপি করে দেন। তাহলে এর VIEWERS অনেক হবে…..দয়া করে বাংলা সিনেমার উন্নতির জন্য এইটুকু করুন।

  2. moinul Islam Sohag says:

    ফিনিসিংটা এই কারনে ঠিক আছে; কারন AvA যদি Caleb কে নিয়ে ঐ রিসার্চ সেন্টার হতে বেরিয়ে আসতো তবে তা AvA’এর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবেই দেখা দিতো। এই কারনেই AvA তার Unique AI খাটিয়ে Caleb কে সেখানেই মৃত্যু বরণের জন্য ফেলে রেখে আসে। Caleb যেনো কোনো ভাবেই বেরুতে না পারে সেজন্যই AvA শেষ মূহুর্তে রিসার্চ সেন্টারের ইলেক্ট্রিক সিস্টেমটি বন্ধ করে দেয়। আর এমন ফিনিসিং-এর জন্যই মুভিটা অনন্য হয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন