নবীন ফিল্মমেকারদের জন্য কিছু টিপস (১)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

১। প্রচুর সিনেমা দেখুন। হলিউড, বলিউড বাদ দিবেন- এগুলো দেখে কিছু শিখতে পারবেন না (ক্ষণিক মনোরঞ্জনের জন্য দেখতে পারেন- হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ার মত)।
২। ভালো সিনেমা বারবার দেখুন। প্রথম এক-দু’বার কাহিনী, ঘটনা পরম্পরা আপনাকে বুদ করে রাখবে- করার কিছু নাই, অন্য ভাষার হলে- সাব টাইটেল পড়তে পড়তে তো- বেশিরভাগ সিনই আপনার মিস হবে। সাধারণত, ৩য়বার দেখার সময় থেকে আপনার সিনেমাটিক আই ওপেন হবে। এবার নড়ে চড়ে বসুন।
৩। কাটগুলো ধরার চেষ্টা করুন, এবং juxtapose এর উপায়/ রকমফেরগুলো ধরার চেষ্টা করুন।
৪। ক্যামেরার শট সিলেকশন দেখুন। লং শট, মিড শট, ক্লোজ শট- বিভিন্ন এঙ্গেল শট এসব খেয়াল করুন।
৫। ক্যামেরা মুভমেন্ট খেয়াল করুন।
৬। ফ্রেম এর কম্পোজিশন খেয়াল করুন।
৭। লাইটের ব্যবহার খেয়াল করুন।
৮। এবারে আবার যখন সিনেমা দেখবেন, তখন উপরের ৩ থেকে ৭ পর্যন্ত বিষয়গুলো আবার খেয়াল করতে থাকুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন, কোন উদ্দেশ্যে কাটগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, বিভিন্ন শট সিলেকশনের উদ্দেশ্য কি, ক্যামেরা মুভমেন্টের উদ্দেশ্য, ফ্রেম কম্পোজিশনের উদ্দেশ্য, লাইটের উদ্দেশ্য কি। এটা বুঝার জন্য ভালো উপায় হলো, একটু চিন্তা করা যে- এসমস্ত আপনার উপর কি প্রভাব তৈরি করছে; অর্থাৎ, একটা লো এঙ্গেল শট আপনার মনের উপর কি প্রভাব তৈরি করছে, একটা ক্লোজ আপ, ক্যামেরার কোনো মুভমেন্ট আপনাকে কতখানি অভিভুত করছে- কিভাবে করছে, সেটা দিয়ে বুঝতে পারবেন। প্রতি শটই যে আপনাকে অভিভুত করবে তা নয়, কিন্তু আপনি যদি সচেতন থাকেন- তবে ক্ষণে ক্ষণেই বুঝতে পারবেন বা আপনার মনে হবে এই শটটা এমন হওয়াটাই সবচেয়ে পারফেক্ট, অন্যভাবে নিলে কিছু হতো না- সেরকম শটগুলো/ সিকোয়েন্সগুলো ভালো করে খেয়াল করুন। একটা ভালো সিনেমা যতবার দেখবেন- এমন শট/ সিকোয়েন্স ততবেশী খুজে পাবেন।
৯। কম খরচে তৈরি ভালো সিনেমাগুলো দেখার চেষ্টা বেশী করবেন। তাহলেই কেবল ডিরেক্টরের মুন্সিয়ানা বেশী করে বুঝতে পারবেন, নিজেও ফিল্ম তৈরির ব্যপারে সাহস পাবেন। (একারনেই- নবীন ফিল্ম মেকারদের জন্য হলিউড/ বলিউড এর হাই বাজেট মুভি দেখা বারন! প্রথমেই আপনার মনে হবে ফিল্ম মেকিং আপনার কর্ম নয়!!)। ইরানি মুভি, ইতালিয়ান নিও রিয়ালিস্ট, ফ্রেন্স নিউ ওয়েভ, থার্ড সিনেমা প্রভৃতি।
১০। বিভিন্ন জেনারের মাস্টারপিস মুভিগুলো পাশাপাশি দেখুন, কমপেয়ার করে করে দেখুন। আমি বলবো- সিনেমা পড়ুন (১ – ৯)। যেমন, ক্যামেরা মুভমেন্ট নিয়ে- অজুর কোন একটা সিনেমা (জিরো মুভমেন্ট- সবই প্রায় স্টিল ফ্রেম), wim wenders এর Buena Vista Social Club (পোয়েটিক মুভমেন্ট- আপনাকে সারাক্ষণ ভাসিয়ে রাখবে), আবার দামি যন্ত্রপাতি ছাড়া ক্যামেরা মুভমেন্ট এর মুভি- Handheld মুভিও দেখুন (আব্বাস কিরস্তামির হয়ার ইজ মাই ফ্রেন্ডস হাউস), সবই দেখুন। লাইট/ সাউণ্ড এর জন্য ব্রেসো দেখতে পারেন। আবার আকিরা কুরুশায়াতেও লাইটের খেলা দেখতে পারেন- রশোমনই দেখেন।
সিনেমা মানেই তো আসলে গতি, মুভমেন্ট- এই মুভমেন্ট কত প্রকারে হতে পারে সেটা খেয়াল করুন, পার্থক্যগুলো ধরার চেষ্টা করুন, কোন নির্দিষ্ট উপায়কেই একমাত্র ধরে নিবেন না- ভিন্ন ভিন্ন উপায়ের আলাদা মজা আস্বাদন করার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট শট juxtapose করে মুভমেন্ট দেখাতে পারেন যেমন, তেমনি একটা লং টেক এ ক্যামেরা মুভমেন্ট এর মধ্য দিয়ে মুভমেন্ট দেখাতে পারেন, আবার ক্যামেরা স্থির রেখে ফ্রেমের অবজেক্ট এর মুভমেন্ট দেখাতে পারেন, কিংবা ক্যামেরা- ফ্রেমের অবজেক্ট সব স্থির রেখে- কেবল লাইটের খেলার মধ্য দিয়েও আপনি মুভমেন্ট তৈরি করতে পারেন। কোনটাই অর্থহীন নয়- যদি এই মুভমেন্ট দর্শককে প্রভাবিত করতে পারে, সিকোয়েন্স এর আবেদন দর্শকের ধরতে পারে।
পাশাপাশি এইসব সিনেমাগুলো পড়ুন। ভাবুন। উপলব্ধি করুন। সাধারন দর্শক- কেবল প্রভাবিতই হয়, সিকোয়েন্সের আবেদনের সাথে একাত্ম হয়- কিন্তু সে বুঝতে পারে না বা জানেনা কিভাবে এই সিকোয়েন্সের সাথে তার নৈকট্য তৈরি হল- কোথায় কাট, কোনটা কি শট, কোন এঙ্গেলের শট – এসব সম্পর্কে সচেতন না থেকেও নৈকট্য তৈরি হতে পারে, কিন্তু আপনাকে ওই সুত্র বের করতে হবে।
১১। এবার আসুন সিনেমা তৈরিতে। … পরে লেখব…

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন