The Color of Paradise: মাজিদ মাজিদির আরেকটি মাস্টারপিস।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

কোন অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ না করে সাধারণ মানুষদের নিয়ে কাজ করে যে অসাধারণ সব সত্য জীবনকাহিনী- অনুভূতিকে ইরানিয়ান পরিচালক মাজিদ মাজিদি সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলেন তার কোন তুলনাই হয়না । মাজিদ মাজিদি সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হোন তার ১৯৯৮ সালের মুভি ‘The Children of Heaven’ দিয়ে। মুভিটি ওই বছরের অস্কারের বিদেশী ভাষার মুভি বিভাগে মনোনীত হয়। যদিও সেরা মুভির পুরষ্কারটি যায় রবার্তো বেনিনির ইটালিয়ান মুভি ‘Life is Beautiful’ এর ঝুলিতে তবুও এই মুভি দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছিলো। এই মুভির মুক্তি পাওয়ার পরের বছরেই মুক্তি পায় মাজিদির আরেক সৃষ্টি ‘The Color of Paradise’ । পার্সিয়ান ভাষার এই মুভিটির আসল নাম  ‘Rang e Khoda’ যেটার লিটারেল ইংরেজি অর্থ করলে হয় ‘Color of God’ । অত্যন্ত সহজ সরল একটি কাহিনী কিভাবে দক্ষ অভিনয়, অসাধারণ সিনেমাটোগ্রফি আর চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর ব্যবহার দিয়ে মাস্টারপিস করা সম্ভব তা পরিচালক মাজিদি আমাদের দেখিয়ে দিলেন।

FilmArchiveParagraph45imageja colorofparadise-0014

মুভির গল্প এক অন্ধ বালক মোহাম্মদকে ঘিরে আবর্তন করে। তেহরানে এক প্রতিবন্ধী স্কুলের ছাত্র মোহাম্মদ। মুভির প্রথম অংশে আমরা দেখি গরমের তিন মাসের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোহাম্মদের বাবা তার স্কুলে আসে। পুরো মুভি জুড়েই এক অন্ধ সন্তান থাকার ব্যথা, লজ্জা আর তার ভবিষ্যৎ এর চিন্তা মোহাম্মাদ এর বাবাকে কুঁকড়ে খায়। বিপত্নীক মোহাম্মদ এর বাবা আবারও বিয়ে করতে চায় কিন্তু নিজের প্রথম ঘরের অন্ধ সন্তান তার জন্য অভিশাপ নিয়ে আসবে বলে সে মনে করে। মুভির পরবর্তী অংশে আমরা মোহাম্মদকে তার দুই বোন ও দাদীর সাথে সুন্দর ছোটো ছোট পাহাড় বেষ্টিত গ্রামে খুশি মনে ঘুরতে দেখি। প্রকৃতির সাথে মোহাম্মদ এর এক অন্য রকম বন্ধন। ফুল, পাতা, বাতাস, মিস্টি গন্ধ, পাখির ডাক যেনো সে অনুভব করতে পারে আর এর মাঝেই স্রস্টাকে খুঁজে বেড়ায়। বোনদের সাথে সে গ্রামের স্কুলে যায় আর ব্রেইল পদ্ধতিতে তাদের পড়া পাঠ করে অন্য শিক্ষার্থী আর শিক্ষককে চমকে দেয়। এরপর মুভির পরবর্তী অংশে দেখা যায়, মোহাম্মদ এর বাবা তাকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক অন্ধ কার্পেনটার এর কাছে নিয়ে যায়। তার অন্ধ ছেলের কথা জানতে পারলে কনেপক্ষ বিয়েতে রাজি নাও হতে পারে এই চিন্তায় মোহাম্মদ এর বাবা এমন কাজটি করে। কার্পেনটার মোহাম্মদকে নিজের শিষ্য হিসেবে গ্রহন করে। কার্পেন্টার এর সাথে মোহাম্মদ এর কিছু কথা চোখে পানি এনে দিয়েছিলো। মোহাম্মদ এর একটি উক্তি : ‘Our teacher says that God loves the blind more because they can’t see. But I told him if it was so, He would not make us blind so that we can’t see Him. He answered “God is not visible. He is everywhere. You can feel Him. You see Him through your fingertips.”  Now I reach out everywhere for God till the day my hands touch Him and tell Him everything, even all the secrets in my heart.’ মুভির বাকি অংশটা বলে দিয়ে এটা দেখার ইচ্ছা আমি নস্ট করতে চাই না। দেখে নিবেন।

normal the_color_of_paradise

মোহাম্মদ এর চরিত্রে অভিনয় করা মোহসেন রামাজানি বাস্তব জীবনে আসলেই দৃস্টিশক্তিহীন। এই তথ্য জানার পর ওর অভিনয় দেখে আরো মুগ্ধ হলাম। ইরানের গ্রামাঞ্চলের বিস্তৃত নানা ধরনের ফুলের বাগান, ছোটো ছোটো পাহাড়, কৃষিকাজ, সহজ সরল জীবনযাপন এর যে চিত্র মাজিদি তার মুভিতে তুলে ধরেছেন তা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। আমরা মধ্য প্রাচ্যের যে হানাহানির চিত্র পত্রপত্রিকা আর নিউজ চ্যানেলগুলোতে দেখি এই সাধারণ মানুষগুলো যেনো কখনোই এই সব এর অংশ হতে পারে না। নিজের দেশ ইরানের যে ছবি পরিচালক মাজিদি আমাদের মানসপটে এঁকে দিলেন এর চেয়ে বড় কৃতিত্ব আর কি হতে পারে।

1854 1838 1837

মুভির  ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই সুরেলা, মনে হবে যেন আপনি প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে আছেন। মুভির শেষ দৃশ্য কাঁদিয়ে ছাড়তে বাধ্য। সবাইকে মুভিটি দেখার অনুরোধ রইলো।

IMDB rating : 8.2/10

youtube download link: https://www.youtube.com/watch?v=2DvrawfJ34U
 
torrent link : http://kickassunblock.net/the-color-of-paradise-t542064.html




এই পোস্টটিতে ৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Rouf says:

    আমি মুভি দেখে খুব কম ইমোশনাল হই কিন্তু এই মুভিটা অন্য রকম। চোখের পানি আটকে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল। ছোট্ট মোহাম্মদকে যখন তার বাবা স্কুল থেকে নিতে আসে, তখন মোহাম্মদ বাবার হাত ধরে কেদে ফেলেছিল। কেন যানি পিচ্চিটার কান্না দেখে তখন নিজেরও চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আবার যখন মোহাম্মদ কারপেইন্টারের সামনে বসে হৃদয় নিংড়ানো কাদতে কাদতে কথা বলছিলো, ইচ্ছে করছিলো পর্দা থেকে যদি পিচ্চিটাকে তুলে আনতে পারতাম, তবে চুমু দিয়ে তাকে ভরিয়ে দিতাম।

  2. Rouf says:

    এখন পর্যন্ত যে বন্ধুরা এই মুভিটা দেখেন নি, তাদের জন্য বলবো যে; বৃথাই জীবনের অনেকগুলো সময় নষ্ট করলেন।

  3. ধ্রুব নীল says:

    দেখবো । ডাউনলোড হয়ে গেছে……

  4. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    মুভিটি যখন দেখেছিলাম তখন আমি এটি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। হঠাৎ করেই পেয়েছিলাম আর দেখে ভাল লেগেছিল খুব।

  5. অনিক চৌধুরী says:

    দেখতে হবে তাহলে। রিভিউ ভালো লেগেছে।

  6. মিজানুর রহমান মিজানুর রহমান says:

    dekhte hoy

  7. মেগামাইন্ড says:

    দেখতে হবে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন